আউটসোর্সিং কি ? আউটসোর্সিং কিভাবে শিখবো? – বাংলা আইটি ব্লগ

আউটসোর্সিং কি? Outsourcing কি এ নিয়ে আমাদের মনে অনেক ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে। আমরা বেশিরভাগ সময় অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এই ৩ টি বিষয়কে এক কাতারে ফেলে দেই। আমরা মনে করি, যেহুতু এই তিনটি মাধ্যম থেকেই ইনকাম করা যায়। সেহুতু এসব কিছুই এক জিনিস।

তাই ভাবলাম, আউটসোর্সিং নিয়ে আমার ওয়েবসাইটে যেসব ভিজিটর আসে। তাদের একটু স্বচ্ছ ধারনা দেই। আজকের টপিকঃ আউটসোর্সিং 

আউটসোর্সিং কি?
আউটসোর্সিং কি

আউটসোর্সিং নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। তবে তার আগে অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং কে স্বল্প আকারে সংঙ্গায়িত করবো।

যেন এই আর্টিকেলের পরবর্তী টপিকগুলো আপনার বুঝতে সুবিধা হয়।

  • অনলাইন ইনকাম কি?

যখন আপনি ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন করবেন। তখন সেই উপার্জিত অর্থকে অনলাইন ইনকাম বলা যেতে পারে।

এখন আপনি এই অর্থ YouTube থেকেও ইনকাম করতে পারেন, আবার Facebook থেকেও ইনকাম করতে পারেন।

তবে এই সব গুলো বিষয়কে এক সাইডে রেখে, আমি আপাততো অনলাইন ইনকামকে ২ ভাগে ভাগ করবো। 

  1. আউটসোর্সিং এবং 
  2. ফ্রিল্যান্সিং

এখন প্রশ্ন হলো, কেন আমি অনলাইন ইনকামকে শুধুমাএ ২ ভাগে ভাগ করলাম। তাইতো?  – এই প্রশ্নের উওর পেতে হলে এই আর্টিকেলটি একটু মনযোগ সহকারে পড়ুন ৷ তাহলে বুঝে যাবেন।

তো এবার আপনি জেনে নিন, আউটসোর্সিং আসলে কি জিনিস।

আউটসোর্সিং কি? (What Is Outsourcing In Bangla)

অনেক মানুষ আছেন যারা আউসোর্সিংকে একটি মুক্তপেশা হিসেবে গন্য করে। কিন্তু এটা সত্য যে, আউটসোর্সিং কোনোভাবেই মুক্তপেশার কাতারে পরে না।

বরং মুক্তপেশায় নিয়োজিত কোনো ব্যাক্তির দ্বাড়া কোনো কাজ করিয়ে নেয়াকে বলা হয় আউটসোর্সিং। 

কথাগুলো আপনার মাথার উপর দিয়ে যেতে পারে। তাই এবার একটু উদাহরন দিয়ে বলবো। যেন আপনার বুঝতে সুবিধা হয়। 

ধরুন, আপনার একটা কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানিতে অনেক মানুষ চাকরি করে। তো প্রচারের তাগিদে আপনার কোম্পানির জন্য একজন Logo Designer এর প্রয়োজন হলো।

কিন্তু আপনার কোম্পানিতে যতো মানুষ আছে, তারা তো এই লোগো ডিজাইনের কাজটা করতে পারবে না। তখন আপনি কি করবেন? একজন ডিজাইনারকে মাসিক বেতনে আপনার কোম্পানিতে রাখবেন? এর জন্য তো আপনাকে অনেক টাকা দিতে।

আরো পড়ুন…

এবং আপনার শুধুমাএ একটি লোগোর প্রয়োজন। তাহলে শুধু শুধু মাসিক বেতন দিয়ে একটা ডিজাইনার কে আপনার কোম্পানিতে রেখেই বা লাভ কি? তাইনা!

তো আপনার টাকা এবং সময় দুটোর অপচয় রোধ করার জন্য। আপনাকে সর্বপ্রথম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে যেতে হবে। সেখান থেকে একজন ফ্রিল্যান্সারকে Hire করতে হবে।

এবং সেই ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে আপনার কোম্পানির জন্য Logo তৈরি করে নিবেন। এখানে আপনার ভূমিকা হলো, আপনি একজন আউটসোর্সার। আর যে আপনার কাজটি করে দিলো সে হলো, ফ্রিল্যান্সার।

এখন এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে যদি আমরা সংঙ্গায়িত করি। তাহলে এভাবে বলা যেতে পারে যে, “যখন আপনি কোনো কাজের জন্য আপনার কোম্পানির বাইরে থেকে স্বল্প সময়ের জন্য কাউকে Hire করবেন ৷ তখন তাকে বলা হবে আউটসোর্সিং”।

আশা করি এই সহজ ব্যাপারটা এতক্ষণে বুঝে গেছেন। এবার বলুন তো, আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্য পার্থক্য কি? 

আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে পার্থক্য?

যারা ভাবেন, আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং এক জিনিস। তাদের জন্য রয়েছে এক বালতি সমবেদনা। কারন, এই দুটোর মধ্যে যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কেন? – কারন গুলো দেখুন,

  • আউটসোর্সিং Vs ফ্রিল্যান্সিং

একজন ফ্রীল্যান্সার হতে হলে অনেক বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হয়।কিন্তুু যদি আপনি আউটসোর্সার হয়ে থাকেন,তাহলে আপনার সেরকম কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই।

শুধু তাই নয়, আরও একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। একজন ফ্রিল্যান্সার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে Active থাকে Job খোজার জন্য। অপরদিকে যদি আপনি একজন আউটসোর্সার হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি একটিভ থাকবেন Job পাবলিশ করার জন্য। 

বিষয়টা আর একটু ক্লিয়ার করি। যেমন ধরুন, আপনি একজন স্টুডেন্ট। এখন আপনি চান ঘরে বসে অনলাইনেন মাধ্যমে পার্টটাইম কাজ করে ইনকাম করবেন।

সেজন্য চিন্তা করলেন একটা কম্পিউটার কিনে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন। তারপর অনলাইনের বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে কাজ করে ইনকাম করবেন। তাহলে এখানে আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। 

অপরদিকে ধরে নিলাম, আপনার একটি আইটি কোম্পানি আছে। এখন আপনি চান সেই কোম্পানি একজন দক্ষ ডেভলপার দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে। সেজন্য আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে গেলেন।

তারপর একজন দক্ষ ডেভলপার কে খুজে নিয়ে তাকে দিয়ে নির্দিষ্ট চুক্তিতে কাজ করিয়ে নিলেন। অথ্যাৎ এখানে আপনি যেটি করলেন সেটি হলো আউটসোর্সিং।

ভেবে দেখলেন, কত বিভেদ এই দুটোর মধ্যে।এবার আমরা জানবো, কেন আপনার আউটসোর্সিং করা উচিত। 

কেন আউটসোর্সিং করা হয়?

ধরে নিলাম,আপনি আউটসোর্সিং করেন। তাহলে আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কি কি করতে পারবেন। এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

দেখুন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর ২ (দুই) টি অংশে বিভক্ত। একটি হলো বায়ার, যারা মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন জব পাবলিশ করে।

আরেকটি অংশ হলো, ফ্রিল্যান্সার, যারা মার্কেটপ্লেসে অর্থের বিনিময়ে কাজ করে থাকে।

সেদিক থেকে বিবেচনা করলে, যদি আপনি আউটসোর্সিং করেন। তাহলে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনিও একজন Buyer হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।

এখন আমাদের জেনে নেয়া উচিত, কেন আপনি আউটসোর্সিং করবেন। এতে আপনার লাভ কি। 

  • চাহিদা পূরন  

একজন আউটসোর্সার খুব সহজে তার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। ধরুন, আপনার একজন ওয়েব ডিজাইনারের প্রয়োজন। এবং আপনি এমন একটা ডিজাইনার চান, যে ডিজাইনিং সেক্টরে বেশ দক্ষতা সম্পন্ন।

যার ডিজাইন নিয়ে নিজস্ব ক্রিয়েটিভিটি আছে। আপনি এমন ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। 

  • কাজ ও সময়

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনি আপনার সময় অনুযায়ী কাজগুলো করিয়ে নিতে পারবেন। যখন আপনি মার্কেটপ্লেসে জব পাবলিশ করবেন। তখন আপনার ঠিক করা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ বুঝে নিতে পারবেন।

আবার অনেক সময় এমনও হবে, আপনি যে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করবেন। তার আগেও আপনার কাজ হাতে পেয়ে যাবেন। 

  • যাচাই-বাছাই

এখানে আপনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন। ধরুন, আপনার একটি ওয়েবসাইট ডিজাইনের প্রয়োজন।

যখন আপনি একজন দক্ষ ডিজাইনার চেয়ে মার্কেটপ্লেসে আসবেন। তখন এমনটা নয় যে, শুধুমাএ একজন ব্যাক্তি তার কাজের স্যাম্পল দিবে। বরং আপনার কাছে শ’খানেক এরও বেশি স্যাম্পল আসবে।

এরপর আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে। তারপর নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে সিলেকশন করতে পারবেন। 

  • অর্থ বিনিময় 

বিশেষ করে, এই সেক্টরে কিন্তু আপনি নিজের আপনার বস। অর্থ্যাৎ, এখানে কেউ আপনাকে বাধা দিবে, এমন কেউ এখানে থাকবে না ৷

তাই আপনার কাজ করার বিনিময়ে আপনি আসলে কি পরিমান অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত।

তা আপনি নিজে থেকেই সিলেক্ট করতে পারবেন। আর এই সিলেকশনে আপনাকে কিছু বলার মতো কেউ থাকবে না। 

যাক, একজন আউটসোর্সার হিসেবে আপনি কোন কোন কাজ গুলো করতে পারবেন। আশা করি এতোক্ষনে সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন।

আপনার জন্য আরো…

এবার চলুন আমরা জেনে নেই,যারা আউটসোর্সিং করে। তারা আসলে কি কি সুবিধা ভোগ করতে পারে। 

আউটসোর্সিং এর সুবিধা কি?

যখন আপনি আউটসোর্সিং করবেন। তখন আপনি বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আমি সেই সুবিধা গুলোকে স্টপ বাই স্টেপ আলোচনা করার চেষ্টা করবো। যেন আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারেন। 

  • জিরো নলেজ

একটু ভাবুন তো, একজন ফ্রিল্যান্সার আসলে কি করে! অনলাইন থেকে ইনকাম করার জন্য প্রথমে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে। এরপর সেই দক্ষতার জোরে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে ইনকাম করে। তাইতো?

কিন্তু যারা আউটসোর্সিং করে। ফ্রিল্যান্সারদের মতো তাদেরকে এই দক্ষতা অর্জন করার কোনো প্রয়োজন হয়না।ফ্রিল্যান্সারদের মতো আপনাকে কোনোদিন গ্রাফিক ডিজাইন বা কোডিংয়ের মতো কাজ গুলো কখনও শেখার দরকার হবেনা 

  • অর্থ অপচয় রোধ

আউটসোর্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার অর্থ অপচয় করার মতো কোনো অপশন থাকবে না। বিষয়টি একটু উদাহরন দিয়ে বলি।

ধরুন,কোনো একটি কোম্পানিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করে। কোম্পানিতে কর্মরত এই মানুষ গুলো কিন্তু মাসিক ভিওিক বেতনভুক্ত।

অর্থ্যাৎ, আপনার কোম্পানির লাভ হোক কিংবা লস হোক। সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়। বরং প্রতি মাসের শেষে তাদেরকে নির্দিষ্ট বেতন দিতেই হবে। 

কিন্তু যখন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিযুক্ত করবেন ৷ তখন আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তিভিওিক নিয়োগ দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে ১ ঘন্টার চুক্তিও করতে পারবেন, আবার ১ দিনেরও চুক্তি করতে পারবেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এখানে আপনার সুবিধা কি?

এখানে আপনার সবচেয়ে বড় একটি সুবিধা রয়েছে। কারন এখানে আপনার কোনো কাজ করার জন্য ঠিক যেটুকু সময়ের প্রয়োজন। শুধুমাত্র সেই সময়টুকু কাজ করার জন্য কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেন।

অর্থ্যাৎ আপনার কাছে কাজ থাকুক আর না থাকুক। কাউকে বাধ্যতামূলক মাসভিওিক কিংবা বছরভিওিক রাখতে হবে না। এর ফলে আপনার বাড়তি অর্থ ব্যয়ের কোনো প্রকার আশংকা থাকবে না। 

  • সময় অপচয় রোধ

আমরা সবাই জানি, যারা ফ্রিল্যান্সিং করে। তাদেরকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। রাতের পর রাত জেগে কম্পিউটারের স্কিনের সামনে বসে কাজ করতে হয়।

কিন্তু এই রাত জেগে কাজ করার প্রবনতা অনেক অংশে কমে যাবে। যদি আপনি আউটসোর্সিং এ নিযুক্ত হয়ে থাকেন।

পাশাপাশি এই সেক্টরে যেহুতু আপনার দেয়া সময় অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করবে। সেহুতু আপনার সময়ের কোনো অপচয় হবে না। 

  • চিন্তামুক্ত থাকা

আপনি জানলে অবাক হবেন যে, যারা মূলত আউটসোর্সিং করে। তারা অনেকাংশেই চিন্তা/টেনশন থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত থাকে। যেমন, যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং করেন।

তাহলে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন মার্কেট প্লেস রিসার্চ করতে হবে। কোথায় ভালো প্রজেক্টের কাজ আছে, নতুন কোনো প্রজেক্টের কাজ আসলো কিনা, যে প্রজেক্টের কাজ আসছে, সেই বায়ার ভালো কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তুু অপরদিকে আউটসোর্সারদের এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে হয় না। বরং আপনার পছন্দমতো একটি মার্কেটপ্লেস সিলেক্ট করলেন।

তারপর সেখানে একটি প্রজেক্টের কাজ পাবলিশ করবেন। ব্যাস! আপনার কাজ শুধু এটুকুই। তাই আউটসোর্সিং করলে আপনি তুলনামূলকভাবে অনেকটা চিন্তা মুক্ত থাকতে পারবেন। 

  • দক্ষ জনবল খুজে পাওয়া 

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার আপনার কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে সহজেই খুজে পাবেন ৷

কারন যখন আপনি কোনো প্রজেক্টের কাজ অনলাইন মার্কেটপ্লেসে পাবলিশ করবেন ৷

তখন অনেক ফ্রিল্যান্সার তাদের কাজের স্যাম্পল আপনাকে দিয়ে দিবে। এজন্য কোন ব্যাক্তিটি আপনার কাজের জন্য উপযুক্ত। তা আপনি সহজেই নির্ধারন করতে পারবেন। 

এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যখন আপনি এই সেক্টরে কাজ করবেন।

তখন আপনি আরও অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এবার আমরা জেনে নিবো,আসলে আউটসোর্সিং কাদের জন্য উপযুক্ত। 

কারা আউটসোর্সিং করতে পারবে?

সব কাজ কি সবাই করতে পারে? – না, এটা কখনইও সম্ভব নয়। বরং উপযুক্ত ব্যাক্তিরাই নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। ঠিক তেমনি আউটসোর্সিং এর ক্ষেএেও বিষয়টি একই রকম।

সবাই চাইলেও এই কাজটি করতে পারবে না। বরং এখানেও উপযুক্ত ব্যাক্তিরাই সর্বদা টিকে থাকতে পারবে।

তো আউটসোর্সিং করার জন্য একজন উপযুক্ত ব্যাক্তি হিসেবে আপনার মধ্যেও নির্দিষ্ট কিছু গুনাবলি থাকতে হবে। যেমন,

  • ক্রিয়েটিভিটি

দেখুন, সত্যি বলতে চুরি করা থেকে শুরু করে দেশ চালানো পর্যন্ত, সব কাজেই আপনার মধ্যে ক্রিয়েটিভিট থাকা অত্যন্ত জরুরী।

কারন পরিশ্রম তো সবাই করে, তবে সাফল্যের মুখ শুধু সেই মানুষ গুলো দেখতে পারে।

যাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। এখন আপনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আউটসোর্সিং করবেন। অথচ আপনার মধ্যে কোনো ক্রিয়েটিভিটি থাকবে না।

তা কি করে হয়! এই সেক্টরেও আপনাকে যথেষ্ট বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে।

  • মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারনা 

যেহুতু আপনার মূল কাজ হবে অনলাইন মার্কেটপ্লেস নিয়ে। সেহুতু অবশ্যই আপনার এই মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে।

কোন মার্কেটে কি ধরনের ফ্রিল্যান্সার পাওয়া যায়, কোথায ফ্রিল্যান্সারদের রেট কম, কোথায় রেট বেশি ইত্যাদি বিষয়াদি সম্পর্কে অবশ্যই ধারনা থাকতে হবে।

এছাড়া প্রত্যেকটা মার্কেটপ্লেসের আলাদা আলাদা গাইডলাইন আছে। সেগুলো সম্পর্কেও আপনার পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে। 

  • উৎকৃষ্ট পরিচালক

আউটসোর্সিং এর ক্ষেএে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনাকে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

কারন আপনি মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজের প্রজেক্ট পাবলিশ করবেন। এরপর আপনাকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আপনার কাজের জন্য কোন মানুষ গুলো উপযুক্ত, কোন মানুষ গুলো অনুপযুক্ত। এসব কিছু বিচার-বিবেচনা আপনাকেই করতে হবে৷ সেজন্য আপনাকে একজন উৎকৃষ্ট পরিচালক হতে হবে। 

অবশ্যয় পড়ুন…

আপাততো আপনার মধ্যে এইসব গুনাবলি থাকলেই যথেষ্ট। এর বাইরেও আরও কিছু বিষয় আছে। যখন আপনি কাজ করবেন।

তখন সেই বিষয়গুলো নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন। এবার আমরা জেনে নিবো, আউটসোর্সিং এর কতগুলো প্রকারভেদ আছে। এবং সেই প্রকারভেদ গুলো কি কি। 

আউটসোর্সিং কত প্রকার ও কি কি? 

সাধারনত আউটসোর্সিংকে বিভক্ত করলে, বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করা সম্ভব। তবে আমার দৃষ্টিকোন থেকে আউটসোর্সিং কে ৪ (চার) টি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,

  1. প্রফেশনাল আউটসোর্সিং 
  2. আইটি আউটসোর্সিং 
  3. ম্যানুফ্যাকচারিং আউটসোর্সিং এবং
  4. প্রজেক্ট আউটসোর্সিং 

বৈশিষ্টগত দিক থেকে এই চার ভাগে বিভক্ত করা যায়। চলুন এবার এই বিষয় গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। 

  • প্রফেশনাল আউটসোর্সিং 

একজন শিক্ষকের প্রফেশন হলো, টিচিং করা। তেমনি একজন ডক্টরের প্রফেশন হলো, রোগীর সেবা করা।

সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে বলা যায়, একজন ফ্রিল্যান্সার যে বিষয়ে দক্ষতা সম্পন্ন।

তাকে সেই বিষয়ে প্রফেশনাল বলা যেতে পারে। হতে পারে সেই ফ্রিল্যান্সারটি ওয়েব ডেভলমেন্টে দক্ষ কিংবা কন্টেন্ট রাইটিং এ দক্ষ। 

যখন আপনি আপনার কাজের জন্য সেরকম কোনো প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সারকে Hire করবেন। তখন সেটি প্রফেশনাল আউটসোর্সিং এর আওতায় পড়বে। 

  • আইটি আউটসোর্সিং 

এটি খুব সহজ, যে কেউ বুঝতে পারবেন। যদি আপনার কোনো একটি আইটি রিলেটেড কোম্পানি থাকে। তাহলে আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। 

মনে করুন, আপনার একটি কোম্পানি আছে। যেখানে আইটি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। এবং এই কাজ গুলো করার তাগিদে কম্পিউটারে বিভিন্ন তথ্য ও ডাটাবেইজ সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।

এখন সংরক্ষিত এই ডাটাবেইজ গুলো যেন হ্যাকিং অথবা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়। সেই সুরক্ষার জন্য দক্ষ ওয়েব সিকিউরিটি এক্সপার্ট কে দায়িত্ব দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

যখন আপনি এই বিষয়ে কোনো দক্ষতা সম্পন্ন ফ্রিল্যান্সারকে নিযুক্ত করবেন। তখন সেটি আইটি আউটসোর্সিং এর আওতায় পড়বে। 

  • ম্যানুফ্যাকচারিং আউটসোর্সিং

নতুন মোবাইল কেনার পর অনেক সময় মোবাইলের বক্সে একটি লেখা দেখতে পারবেন।যেমন, “Made in China, Menufacturing by Bangladesh “. এই কথাটি লেখার কারন হলো, মোবাইল যাবতীয় পার্টস গুলো চীনের তৈরি।

এবং এই পার্টস গুলো দিয়ে মোবাইল তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। 

এখন মনে করুন, আপনার একটি মোবাইল তৈরির কোম্পানি আছে। যেখানে বিভিন্ন পার্টসের সমন্বয়ে মোবাইল তৈরি করা হয়।

কিন্তুু এমন একটা সময় আসলো, যখন আপনার কোম্পানিতে তৈরিকৃত মোবাইলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেলো। 

ঠিক এই মূহুর্তে আপনার কোম্পানিকে চাপ মুক্ত রাখার জন্য। আপনার কোম্পানিতে তৈরি করা পার্টস গুলো আরেকটা কোম্পানি তে স্থানান্তর করলেন।

তারা আপনার দেয়া পার্টস গুলোর সমন্বয়ে পূর্নাঙ্গ মোবাইল তৈরি করার পর, পুনরায় আপনার কাছে পাঠিয়ে দিবে। 

এর ফলে আপনার অনেকটা সময় বেঁচে যাবে। তার পাশাপাশি আপনার কোম্পানির কর্মচারীদের উপরেও চাপ কমে যাবে।

এবং এই প্রক্রিয়াটি ম্যানুফ্যাকচারিং আউটসোর্সিং এর আওতায় পড়বে। 

  • প্রজেক্ট আউটসোর্সিং 

যখন কোনো কাজের জন্য পুরো একটি গোটা সংগঠনের প্রয়োজন হবে ৷ তখন এই কাজটাকে একটি প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবেনা।

এছাড়াও প্রজেক্টের কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট একটা সময় নির্ধারন করে দেয়া হয়। যেই সময়ের মধ্যে উক্ত কাজটি সম্পন্ন করতে হয়। 

ঠিক এই বিষয়টির সাথে মিল রেখে যখন আপনার কোনো কাজ করার জন্য, গুটিকয়েক ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে একটি সংগঠন তৈরি করবেন।

আরো পড়তে পারেন…

এবং পুরো সংগঠন কে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য কোনো কাজ সম্পন্ন করতে দিবেন। তখন তাকে বলা হবে প্রজেক্ট আউটসোর্সিং। 

এতক্ষণে আপনি জানলেন,আউটসোর্সিং কত প্রকারভেদ সম্পর্কে। এবার আমরা জানবো, যদি আপনি আউটসোর্সিং করতে চান। তাহলে আপনাকে কোন কাজ গুলো করতে হবে৷ 

আউটসোর্সিং এ কি কি কাজ করতে হয়?

আউটসোর্সিং এ ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটারগরির কাজ করা হয়ে থাকে। আপনি চাইলে যেকোনো একটি বা একের অধিক কাজ করতে পারবেন।

তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হলো, 

  1. Web Content Writing 
  2. Virtual Assistance 
  3. Link Building 
  4. Web Development 
  5. Graphic Design 
  6. Online Marketing 

একজন আউটসোর্সার মূলত এই কাজগুলোই করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো এই কাজ গুলো আসলে কি! এগুলো করার পেছনে উদ্দেশ্য কি। এবার সে সম্পর্কে স্বল্প আকারে আলোচনা করবো। 

  • Web Content Writing 

কন্টেন্ট রাইটিং হলো সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা। যেসব ব্যাক্তিরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লিখে। তাদেরকে বলা হয়, কন্টেন্ট রাইটার।

কিন্তু এখানে আউটসোর্সিং করা ব্যাক্তির সাথে একজন কন্টেন্ট রাইটারের সম্পর্ক কি? 

সম্পর্ক আছে,  যেমন ধরে নিলাম আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট আছে। আপনি সেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন টিপস & ট্রিকস নিয়ে লেখালেখি করতে চান।

কিন্তু সমস্যা হলো আপনি লিখতে পারেন না অথবা,আপনার লেখার মতো সময় নেই। এখন আপনি কি করবেন? ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিবেন? – না, ওয়েবসাইট বন্ধ করার দরকার হবে।

কারন, ঠিক এই মূহুর্তে আপনার প্রয়োজন পড়বে একজন কন্টেন্ট রাইটারের। 

এখন আপনাকে এমন একজনকে খুজে নিতে হবে। যে টাকার বিনিময়ে কন্টেন্ট লিখে থাকে। এরপর নির্দিষ্ট কিছু অর্থের বিনিময়ে সেই ব্যাক্তির কাছ থেকে কন্টেন্ট রাইটার নিতে পারবেন।

এখানে আপনার ভূমিকা হলো, যেহুতু আপনি টাকা দিয়ে একজনের কাছ থেকে কন্টেন্ট লিখে নিচ্ছেন ৷

সেহেতু আপনি একজন আউটসোর্সার। আর যে ব্যাক্তিটি আপনাকে কন্টেন্ট লিখে দিবে। সে হলো ফ্রিল্যান্সার।

  • Virtual Assistance

আমরা পারসোনাল এসিস্ট্যান্ট বা (PA) এর কথা সবাই জানি। বিওশালী ব্যক্তি কিংবা প্রয়োজন বোধে কেউ কেউ নিজের জন্য পারসোনাল এসিস্ট্যান্ট রাখে।

যদি আপনি চান, তাহলে অনলাইনের মাধ্যমেও এই কাজটি করতে পারবেন।

তবে আমরা জানি যে, যখন আপনি কাউকে এসিস্ট্যান্ট হিসেবে রাখবেন। তখন সে আপনার বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন অনলাইন এসিস্ট্যান্ট কিভাবে আপনার বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করবে? 

আমি শুরুতেই বলেছি পারসোনাল এসিস্ট্যান্ট তারাই রাখে। যারা মূলত বিওশালী কিংবা যাদের একান্তই প্রয়োজন।

এখন একজন অনলাইন এসিস্ট্যান্ট সেই মানুষ ইন্টারনেট ভিওিক যে বিষয়াদি রয়েছে। তিনি শুধুমাএ সেই সব বিষয় গুলোর দেখভাল করবে।

যেমন, আপনার ব্যাংক একাউন্টের প্রয়োজনীয় তথ্য, আপনার বিভিন্ন কর্মচারীদের অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ, আপনার ভার্চুয়াল একাউন্ট যেমন, ফেসবুক পেজ, টুইটার ইত্যাদি বিষয়াদি গুলো একজন ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট দেখভাল করবে। 

  • Link Building 

কাউকে লিংক বিউল্ডিয়ের জন্য সিলেকশন করার আগে এই জিনিসটি আসলে কি, সেটি আপনাকে জানতে হবে।

এই কাজটি আপনার তখনই দরকার হবে। যখন আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকবে। 

Link Building এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটকে গুগলের টপ Rank এ নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু এই Link Building এর কাজটা করতে খুব সময়ের ব্যায় হয়।

পাশাপাশি এই কাজটি বেশ বিরক্তিকর। তাই একজন ওয়েবসাইটের মালিকের পক্ষে এই কাজ গুলো করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। 

তাই সেই ওয়েবসাইটের মালিকেরা এই কাজটি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেয়। আর এই কাজটি করার জন্য ফ্রিল্যান্সারকে বেশ ভালো পরিমানে অর্থ প্রদান করতে হয়। 

  • Web Development 

আপনি আপনার কোম্পানির খাতিরে হোক কিংবা শখের বসে হোক,আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন।

কিন্তু ওয়েবসাইট সেই মানুষ গুলো তৈরি করতে পারে, যাদের কোডিং সম্পর্কে ধারনা আছে। অর্থ্যাৎ Html ,Css, Javascript ইত্যাদি বিষয়গুলোর মাধ্যমে নিজের পছন্দমতো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। 

এখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকেও কি এই বিষয় গুলো জানতে হবে? -না, কারন এগুলো শিখতে আপনাকে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হবে। যা সবার পক্ষে তা সম্ভব নয়। 

তবে এই কাজটি আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার দিয়ে খুব সহজেই করতে পারবেন। এর পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইট কে আরও উন্নত করার কাজটি একজন ওয়েব ডেভলপারকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নিতে পারবেন।

  • Graphic Design  

উপরে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে যদি আপনার কোনো ধারনা না থাকলেও, গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে আপনার অবশ্যই ধারনা থাকবে। এটা আমার বিশ্বাস। 

তো এই ডিজাইনিং সেক্টরের অনেকগুলো ভাগ রয়েছে। যেমন,লোগো ডিজাইন,ভেক্টর ডিজাইন,ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি। এই ডিজাইনিং সেক্টরের বিভিন্ন বিষয়গুলোর কোনো একটি যদি আপনার প্রয়োজন হয়। তাহলে সেই খুব দক্ষতার সাথে করতে পারবে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।

অর্থ্যাৎ ডিজাইন রিলেটেড যে কোনো কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সাররা সদা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।  

  • Online Marketing

মার্কেটিং কি, এই বিষয়টির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কিন্তুু অনলাইন মার্কেটিং আবার কি? এবার এই বিষয়টি সম্পর্কে একটু আলোচনা করি। 

ধরে নিন আপনার একটি কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানি তে বিভিন্ন প্রোডাক্ট রয়েছে। আপনি সেই প্রোডাক্ট গুলো বিক্রির উদ্দেশ্য প্রচার-প্রচারনা করতে চান। যেন আপনার প্রোডাক্ট গুলো বেশি বিক্রি হয়। 

এখন ভাবলেন, যেহুতু বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে থাকে। সেহুতু আপনিও অনলাইনের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টের প্রচার করতে চাচ্ছেন।

কিন্তুু কিভাবে সেই কাজটি করবেন। সেটি আপনার কাছে অজানা। তো এখন কি করবেন? 

ঠিক এই সময়ে প্রয়োজন পড়বে একজন অনলাইন মার্কেটারের। যে মূলত এই বিষয়টি জানে, কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো প্রোডাক্টের প্রচার করা যায়।

এগুলো ছাড়াও আউটসোর্সিং এ আরও বেশ কিছু কাজ করা হয়ে থাকে। যেমন,

  1. SEO
  2. Logo Design 
  3. App Development 
  4. Video editing 
  5. Photo Shoot  ইত্যাদি

আউটসোর্সিং এ যেসব কাজ করা হয়।আশা করি এতক্ষণে সে সে সম্পর্কে বুঝে গেছেন। এবার আমি কথা বলবো, কিভাবে আউটসোর্সিং শেখা যায়। 

আউটসোর্সিং কিভাবে শিখবো

প্রবাদে আছে, “শিক্ষার কোনো শেষ নেই”।এ বিষয়ে আমারও কোনো দ্বিমত নেই। তবে যদি আপনি আউটসোর্সিং পূর্নাঙ্গভাবে শিখতে চান। তাহলে আপনাকে খুব বেশি কাঠ-ঘর পোড়াতে হবে না।

কারন, এই সেক্টরটি এমন একটি সেক্টর। যেখানে আপনার শিক্ষার পরিধিটা খুবই ক্ষুদ্র।

যদি আপনার ইন্টারনেট সম্পর্কে মোটামুটি লেভের ধারনা থাকে। তাহলে আপনি সরাসরি মার্কেটপ্লেসে কিছুটা সময় ব্যয় করলেই এ সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন। 

কিন্তুু যদি আপনার অনলাইন সম্পর্কে একেবারে জিরো নলেজ থাকে। তাহলে আপনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২ টি উপায়ে আউটসোর্সিং শিখতে পারবেন। এবার এই দুটো বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।আউটসোর্সিং শেখার সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম হলো,

  • ইউটিউবের মাধ্যমে

এটা আমরা সবাই জানি, ইউটিউব এমন একটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে এমন কোনো বিষয় নেই, যে সম্পর্কে ভিডিও পাবেন না। আপনি যদি ইউটিউবে গিয়ে আউটসোর্সিং সম্পর্কে জানতে চান।

তাহলে আপনার সামনে হাজার হাজার ভিডিও চলে আসবে। সেখান থেকে আপনার যাদের ভিডিও গুলো হেল্পফুল মনে হবে। তাদের ভিডিও গুলো দেখেও আউটসোর্সিং সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবেন। 

  • ব্লগের মাধ্যমে

এমন অনেক মানুষ আছে, যারা পড়তে ভালোবাসে। তাদের জন্য অনলাইনে শেখার উপযুক্ত মাধ্যম হলো ব্লগ। আমরা যারা ব্লগার আছি, তারাও কিন্তু লিখতে এবং পড়তে ভালোবাসি।

সেজন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে, সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকি। যেন আপনাদের মতো মানুষরা অনেক কিছু অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে।

অনলাইন মার্কেটিং নিয়ে…

এখন যদি আপনি আউটসোর্সিং সম্পর্কে শিখতে চান। তাহলে গুগলে সার্চ করলে,অনেক ব্লগ দেখতে পারবেন। আপনি সেই ব্লগের টিপস & ট্রিকস গুলো ফলো করেও আউটসোর্সিং শিখে নিতে পারবেন। 

সত্যি বলতে, আউটসোর্সিং শেখার মতো তেমন কিছু নেই। তবে উপরে আলোচিত ২ টি মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই শিখতে পারবেন। তো এবার জেনে নেয়া যাক, আপনি কোন কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আউটসোর্সিং করতে পারবেন। 

আউটসোর্সিং এর ওয়েবসাইট কি কি

আউটসোর্সিং করার জন্য অনেক গুলো ওয়েবসাইট রয়েছে। এই রিলেটেড ডজন খানেক ওয়েবসাইটের লিষ্ট আপনাকে দেয়া যাবে। কিন্তুু আজকের আর্টিকেলে আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়েবসাইট সম্পর্কে আলোচনা করবো।

যেগুলো বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত। এমন কিছু গুরুর ওয়েবসাইট হলো, 

  • Freelancer.com

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত আউটসোর্সিং ওয়েবসাইট হলো, ফ্রিল্যান্সার ডট কম। আপনি জানলে অবাক হবেন, এই সাইটে রেজিস্টার করা ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও বেশি।

আপনার যে কোনো কাজের জন্য যদি ফ্রিল্যান্সারের প্রয়োজন হয়।তাহলে আপনি এই ওয়েবসাইট থেকে পেয়ে যাবেন। 

  • Fiverr.com

জনপ্রিয়তার দিক থেকে ফাইভার ডট কম কোনো অংশেই কম নয়। ফ্রিল্যান্সাররা এই ওয়েবসাইটে তাদের তৈরি করা প্রজেক্ট গুলোকে আপলোড করে রেখে দেয়।

তাই আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সারকে সহজেই এই ওয়েবসাইট থেকে খুজে নিতে পারবেন। 

  • Upwork.com

আপওয়ার্কে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের আনাগোনা যথেষ্ট রয়েছে। এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ করে আসছেন। এবং প্রতিনিয়ত নতুন ফ্রিল্যান্সাররা এখানে যোগ দিচ্ছেন।

যারা ফলে আপনার কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য, এখান থেকে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন। 

  • Guru.com

গুরু ডট কম হলো বিশ্বস্ত একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। যেখানে ডিজাইন রিলেটেড দক্ষ ফ্রিল্যান্সাররা অবস্থান করে। তাই আপনার কাছে যদি এই বিষয়ে কোনো কাজ থাকে।

তাহলে অন্যান্য ওয়েবসাইটে যাওয়ার আগে, সর্বপ্রথম এই মার্কেটে একটু ঢঁ মেরে দেখে নিবেন। 

আউটসোর্সিং করার জন্য এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে৷ তবে আমার কাছে উপরে আলোচিত এই কয়েকটি ওয়েবসাইট কে যথোপযুক্ত মনে হয়।

এবার আমাদের জাতীয় প্রশ্ন নিয়ে কথা বলবো। অর্থ্যাৎ, আপনি যে আউটসোর্সিং করবেন। এখানে কি হালাল ভাবে কাজ করতে পারবেন কি না। এবার সে বিষয়ে জেনে নেয়া যাক। 

আউটসোর্সিং কি হালাল

ইহা হালাল নাকি হারাম, তা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার উপর। কারন এখানে আপনিই সর্বেসর্বা, এখানে আপনি যা কিছু করবেন। তা আপনার নিজের ইচ্ছানুযায়ী করতে পারবেন। 

এখন আপনি যদি আউটসোর্সিং কে  অবৈধ পন্থা হিসেবে ব্যবহার করবেন ৷ তাহলে তা হারামের পর্যায়ে পড়বে। আর যদি সততার সাথে আউটসোর্সিং করেন। তাহলে সেটা হালাল বলে বিবেচিত হবে। 

আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আয় কিভাবে করব ?

কথাটা শুনতে তিতা লাগলেও, এটা সত্য যে “আউটসোর্সিং করে ইনকাম করার মতো কোনো সিস্টেম নেই”। যদি আপনার মূল উদ্দেশ্য হয় ইনকাম করা। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য পূরন করতে পারবেন। 

যেহুতু আপনি আর্টিকেলের এই পর্যন্ত চলে এসেছেন৷ সেহুতু বোনাস টিপস হিসেবে একটা উপায় বলবো। যার মাধ্যমে আউটসোর্সিং করেও ইনকাম করা সম্ভব। কি সেই টিপস!  এবার সে সম্পর্কে জানবো। 

  • বোনাস টিপস

আমি শিওর, যদি আপনি এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে থাকেন৷ তাহলে এতক্ষণে আউটসোর্সিং কি সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পেয়ে গেছেন।

এখন যদি আপনি ইনকাম করতে চান। তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রজেক্টের কাজ গুলো সর্বপ্রথম আপনার আওতায় নিতে হবে। তারপর সেই প্রজেক্ট গুলোকে নির্দিষ্ট মার্কেটপ্লেসে পাবলিশ করবেন।

কিন্তু এখানে আপনার ইনকাম কিভাবে হবে?  এটাই তো ভাবছেন, তাইনা?

এখানে আপনার ইনকাম আসবে প্রফিট বা কমিশন থেকে। যেমন, আপনি মূল কোম্পানি থেকে যদি একটি প্রজেক্টের রেট 1000$ হয়। তাহলে আপনি সেই প্রজেক্টকে মার্কেটপ্লেসে 800$-900$ এ পাবলিশ করবেন। 

এখন এই কমিশন থেকে যা আসবে। সেটিই হলো আপনার মূল ইনকাম। এর বাইরে আলাদাভাবে আউটসোর্সিং করে ইনকাম করার পদ্ধতি নেই। 

আমাদের শেষকথাঃ

আউটসোর্সিং করে দক্ষ জনবল দ্বাড়া আপনার প্রয়োজনীয় কাজগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে করে নিতে পারবেন। তবে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এই দুটো বিষয়কে কখনই এক করা উচিত নয়।

সাথে থাকুন আমাদের জনপ্রিয় ব্লগ Banglaitblog এর সাথে। আর নিত্যনতুন টিপস & ট্রিকস পেতে চাইলে অবশ্যই আপনার পারসোনাল Gmail দিয়ে Subscriber করবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap