আর্টিকেল অন পেজ এসইও করে লেখার উপায়

আর্টিকেল অন পেজ এসইও করে লেখার উপায়ঃ বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিংবা এসইও সম্পর্কে আজকাল কমবেশি সবাই ই ধারণা রাখেন । তবুও যাদের এ ব্যাপারে তেমন ধারণা নেই তাদের জন্য আজকে কথা বলব অন পেজ এসইও এবং কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হয়।

আর্টিকেল অন পেজ এসইও লেখা
আর্টিকেল অন পেজ এসইও

কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্লগ পোস্ট বা ওয়েবসাইটকে আমাদের ব্যবহৃত ওয়েব ব্রাউজারের সার্চ রেজাল্টের একদম শুরুর দিকে নিয়ে আসার জন্য যে পদ্ধতির সহায়তা নেয়া হয় সেটিকেই এসইও কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়।

আজকে আমি একটি আর্টিকেলকে খুব সহজে অন পেইজ এসইও করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। তার আগে চলুন এসইও সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক। 

এসইও কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি সেটি লেখার শুরুতেই বলেছি। এবার বলুন তো এসইও কেন করা হয় ? সহজ বাংলায় এসইও করার মাধ্যমে একটি ব্লগ/ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানো হয়।

যাতে করে ওয়েবসাইটটিতে টার্গেটেড ভিজিটর অথবা ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও এসইও করার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ওয়েবসাইটটি যেনো ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের কাছে পরিচিতি পায়। 

সাধারণত একটি ওয়েবসাইট এসইও করার মাধ্যমে যারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন তারা হচ্ছেন ব্লগাররা। বর্তমানে যারা ব্লগিং পেশার সাথে যুক্ত আছেন তারা তাদের ব্লগসাইটকে এসইও করার মাধ্যমে সাইটে প্রচুর ট্রাফিক এনে বেশ ভালো অংকের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন ।

যদি এসইও এর প্রকারভেদ নিয়ে বলতে যাই তাহলে বলা যায়, বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ওপর ভিত্তি করে এসইও এর প্রকারভেদে ভিন্নতা রয়েছে । এ প্রকারভেদগুলোর  মধ্যে অন পেজ এসইও অন্যতম । আজকের লেখায় থাকছে কিভাবে খুব সহজে একটি ওয়েবসাইটে অন পেইজ এসইও করতে পারবেন সে সম্পর্কিত বিস্তারিত গাইডলাইন।

আশা করছি যারা অন পেজ এসইও সম্পর্কে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানতে চান তারা প্রত্যেকে উপকৃত হবেন এবং কিভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন তাও জানতে পারবেন।

অন পেজ এসইও কি?

কখনো ভেবে দেখেছেন কোনো একটি টপিকে ওয়েব ব্রাউজারে সার্চ দিলে কিছু নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট কেনো সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকেই থাকে ? কিংবা এ প্রশ্নটি কী কখনো  মাথায় এসেছে যে কিছু ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের মান যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো কেনো সার্চ রেজাল্টের শুরুর দিকে থাকেনা ?

চলুন এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই অন পেইজ এসইও কী তা জেনে নেয়া যাক। সাধারণত একটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবে কিনা তা নির্ভর করে সে ওয়েবসাইটটির কন্টেন্টগুলো কতটুকু সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজড তার উপর।

অন পেজ এসইও হলো এমন একটি এসইও প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানোর উপযোগী করে তোলা হয় কিংবা এসইও এর ভাষায় অপটিমাইজ করা হয়। অনপেইজ এসইও করার মূল উদ্দেশ্যই হলো কোনো একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করতে সহায়তা করা । 

আপনার জন্য আরো…

অন পেজ এসইও কেন করতেই হবে ? 

অন পেজ এসইও একটি ওয়েবসাইট র‍্যাংক করাতে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা একটি ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে বলছি । ধরা যাক রহিমের একটি ব্লগসাইট আছে যেখানে সে নিয়মিত লাইফস্টাইল বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল লিখা-লেখি করে । সে ব্লগিংয়ে একেবারেই নতুন ।

তাই অন পেইজ এসইও সম্পর্কে পর্যাপ্ত কোনো ধারণা না থাকায় সে তার মতো করে আর্টিকেলগুলো লিখে সেগুলো তার ব্লগসাইটে প্রকাশ করে। এভাবে দুই তিন মাস অনেকগুলো আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন।

তার পর রহিম লক্ষ্য করলো তার আর্টিকেলগুলোর মান যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও তার ওয়েবসাইটটি ব্রাউজারের সার্চ রেজাল্টের ধারেকাছেও নেই এবং সে ওয়েবসাইটটি থেকে আশানুরূপ ট্রাফিকও পাচ্ছেনা।  বলতে পারবেন রহিমের ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের মান ভালো হওয়া সত্ত্বেও কেনো এমনটি হলো? 

সত্যি বলতে বর্তমানে ওয়েবসাইট এবং ভালো কন্টেন্ট এ দুটির সংখ্যাই অনেক বেশি ৷ তাই যদি অন পেইজ এসইও না করে শুধুমাত্র উন্নত মানের কন্টেন্ট তৈরি করে সেগুলো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। তাহলে কখনোই ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করবেনা এবং ওয়েবসাইটে আশানুরূপ ট্রাফিক পাওয়াও সম্ভব হবেনা। যেটি রহিমের ক্ষেত্রে হয়েছে । 

যেহেতু সে তার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলো অন পেইজ এসইও না করেই আপলোড করেছে এজন্যে তার তৈরি করা কন্টেন্টের মান ভালো হওয়া সত্ত্বেও সে আশানুরূপ ফল পায়নি । এখন বুঝতে পারছেন তো অন পেইজ এসইও কেনো করতেই হবে ? 

একটি ওয়েবসাইটে অনপেইজ এসইও করার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন সে ওয়েবসাইটটির কন্টেন্টগুলো কেমন ধরণের সেটি বুঝতে পারে। পাশাপাশি একজন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীর সার্চের সাথে সে ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলো কতটুকু সম্পর্কিত সেটিও বুঝতে পারে। 

বলা যেতে পারে অন পেজ এসইও একটি ওয়েবসাইটের মার্কেটিং এর কাজ করে। সাধারণত যারা ব্রাউজারে কোনো বিষয়ে জানার জন্য সার্চ করেন তারা সার্চ রেজাল্টের প্রথমদিকে যে ওয়েবসাইটগুলো থাকে সেগুলো থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নেন । 

যেহেতু সঠিকভাবে অনপেইজ এসইও করা হলে একটি ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টের শুরুর দিকে থাকে ; সুতরাং ব্যবহারকারীরা সহজেই সে ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। উপরন্তু তাদের সে ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলো ভালো লাগলে তারা বারবার সে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এবং নিজের ওয়েবসাইটের পরিচিতি বাড়াতে অন পেজ এসইও আপনাকে করতেই হবে ! তাই অন পেইজ এসইও করার উপায় জেনে রাখা আবশ্যক। 

অন পেজ এসইও করার উপায়

একটি ওয়েবসাইটের সার্বিক উন্নতির জন্য সাইটটিতে অন পেজ এসইও করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে এবার জেনে আসা যাক একটি ওয়েবসাইটে অন পেইজ এসইও করার উপায় সম্পর্কে। 

১। সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা এবং তা প্রয়োগ করা

অন পেজ এসইও করার উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং শুরুর দিকের একটি হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ ৷ কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য জনপ্রিয় কিছু টুল হলো গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার, উবারসাজেস্ট  ইত্যাদি। কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি সার্চ করে থাকেন সেটি বের করা হয় ৷

সুতরাং  কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে কেমন ধরণের কন্টেন্ট পাবলিশ করলে ভালো পরিমাণ অর্গানিক ট্রাফিক পাওয়া যাবে তা বোঝা যায়। তাই এ ধাপটি কোনোভাবেই বাদ দেবেননা। 

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার সময় মনে রাখবেন , একটি ওয়েবসাইট র‍্যাংক করানোর জন্য কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম হতে হয় বেশি এবং কম্পিটিশন হতে হয় কম। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার সময় অবশ্যই এ বিষয়টি মাথায় রেখে হাই সার্চ ভলিউম এবং লো কম্পিটিশনবিশিষ্ট কিওয়ার্ড বেছে নিতে হবে এবং সে কিওয়ার্ড অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। 

এক্ষেত্রে অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে। সেটি হলো কন্টেন্টে যত বেশিবার কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেন ততই ভালো । কিন্তু এটি করা মোটেও উচিত নয়। অযথা অধিকবার কন্টেন্টে কিওয়ার্ড ব্যবহার করবেননা কেননা এতে করে কন্টেন্ট ওভার অপ্টিমাইজড হয়ে যাবে যেটি মোটেও ভালো নয়।

ফোকাস কিওয়ার্ড কন্টেন্টের টাইটেলে , ভূমিকায় , মেইন কন্টেন্টে , পারমালিংকে ইত্যাদি স্থানে ব্যবহার করবেন । এতে করে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট সঠিকভাবে এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট হিসেবে অপটিমাইজড হবে । 

২ । টাইটেল ট্যাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৌশলী হওয়া

অন পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে টাইটেল ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এটি পেজ টাইটেল নামেও পরিচিত । টাইটেলের মাধ্যমে একটি কন্টেন্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাই টাইটেল ট্যাগ দেয়ার সময় সেটি যেনো কনটেন্টের  সাথে পুরোপুরি রিলেটেড হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি আপনার কন্টেন্টের ফোকাসড কিওয়ার্ডটিও যেনো টাইটেল ট্যাগে উপস্থিত থাকে এটিও মনে রাখতে হবে । অনেকেই কন্টেন্টে বড়  টাইটেল ট্যাগ ব্যবহার করেন। এটি করা উচিত নয় কারণ টাইটেল ট্যাগ যেনো আকারে খুব বেশি বড় না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে ।

যতটুকু সম্ভব অল্প শব্দ ব্যবহার করে টাইটেল ট্যাগ দেবেন। মনে রাখবেন , একটি আকর্ষণীয় টাইটেল ই পারে ওয়েবসাইট ভিজিটরদের আপনার সাইটের কন্টেন্টের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে । তাই এ ব্যাপারে যত্নশীল হতেই হবে । 

৩ । মেটা ডেসক্রিপশনের সঠিক ব্যবহার করা

অন পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে মেটা ডেসক্রিপশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । মেটা ডেসক্রিপশন হলো অল্প কথায় নিজের একটি কন্টেন্টে উল্লেখিত বিষয়গুলো তুলে ধরা যাতে করে ভিজিটররা কন্টেন্টটি পড়বেন কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

মেটা ডেসক্রিপশন মূলত কন্টেন্টের টাইটেলের নিচে দেখা যায়। মেটা ডেসক্রিপশন লেখার সময় সেটিকে এসইও ফ্রেন্ডলি করার জন্য অবশ্যই ফোকাস কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে হবে।

মনে রাখবেন যতটুকু সম্ভব অল্প কথায় গুছিয়ে মেটা ডেসক্রিপশন লিখবেন যাতে করে ভিজিটররা সহজেই বুঝতে পারে একটি কন্টেন্ট পড়লে তারা কোন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

আরো পড়ুন…

৪। হেডার ট্যাগ ব্যবহার করা

হেডার ট্যাগ হলো এমন এক প্রকার এইচটিএমএল ট্যাগ যেটি কোনো কন্টেন্টের হেডিং এবং সাবহেডিংগুলোকে মূল কন্টেন্ট থেকে আলাদা করতে সহায়তা করে । ধরুন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে একটি কন্টেন্ট লিখছেন।

এ কন্টেন্টে ডিজিটাল মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং কেন প্রয়োজন, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রকারভেদ ইত্যাদি হেডিং ব্যবহার করতে চান যাতে করে কোন হেডিংয়ের অধীনে কি কি বিষয় উল্লেখ করবেন তা সহজেই বোঝা যায়। এখন যদি হেডার ট্যাগ ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন আপনার হেডিংগুলো মূল কন্টেন্ট থেকে আলাদাভাবে বোঝা যাচ্ছে। 

হেডার ট্যাগ অন পেজ এসইও করার উপায় হিসেবে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু এ ট্যাগ ওয়েবসাইট র‍্যাংকিংয়ে সরাসরি সহায়তা না করলেও ভিজিটরদের কাছে কন্টেন্টকে আকর্ষণীয় করে তোলে । তাই চেষ্টা করবেন কন্টেন্টে হেডার ট্যাগ অবশ্যই ব্যবহার করতে । 

৫। এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল তৈরি 

বলুন তো আপনার তৈরি করা ওয়েবসাইট কন্টেন্টগুলো কাদের জন্য ? এটির উত্তর হিসেবে এক কথায় সবাই ই বলবেন যারা ওয়েবসাইট ভিজিট করেন তাদের জন্য। তাহলে আপনার তৈরি কন্টেন্ট যদি সহজবোধ্য এবং এসইও ফ্রেন্ডলি না হয় , তাহলে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করলেও সে ওয়েবসাইটে আশানুরূপ ভিজিটর কখনোই পাওয়া যাবেনা ।

তাই অন পেইজ এসইও করার ক্ষেত্রে একটি আবশ্যক ধাপ হলো এসইও ফ্রেন্ডলি সহজবোধ্য কন্টেন্ট তৈরি করা। বলা হয়ে থাকে, কন্টেন্ট ইজ দা কিং। সত্যিই তাই। যারা তাদের ওয়েবসাইটের জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি এবং সহজবোধ্য কন্টেন্ট তৈরি করেন তাদের ওয়েবসাইট খুব সহজেই ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তারা প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক পেয়ে থাকেন ।

কেননা সাধারণত যারা ব্রাউজারে কোন তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন , তারা চান যেন সে ওয়েবসাইটগুলোর কন্টেন্টগুলো সহজভাবে সাজানো থাকে। যাতে করে তারা যে তথ্যগুলো খুঁজছেন তা পেয়ে যান। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অন পেজ এসইও এর ক্ষেত্রে এসইও ফ্রেন্ডলি সহজবোধ্য কন্টেন্ট তৈরি করার গুরুত্ব অপরিসীম। 

এসইও ফ্রেন্ডলি সহজবোধ্য কন্টেন্ট তৈরির সময় অবশ্যই মাথায় রাখবেন , ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট আর অ্যাকাডেমিক রাইটিং এ দুটি এক বিষয় নয় । কাজেই ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট তৈরির সময় সবার বুঝতে সহজ হয় এমন ভাষা ব্যবহারতিকে ।

এতে ভিজিটররা খুব সহজেই কন্টেন্টের বিষয়বস্তু বুঝতে পারবেন। আবার অনেকে কন্টেন্টে খুব কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করেন। এটি করা থেকে বিরত থেকে চেষ্টা করুন সকলের কাছে পরিচিত শব্দগুলো কন্টেন্টে ব্যবহার করতে । এছাড়াও পুরো কন্টেন্টটি ছোট ছোট প্যারায় বিভক্ত করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন। ফোকাস কিওয়ার্ডটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। 

অবশ্যয় পড়ুন…

সবশেষে ভিজিটরদের কাছে কন্টেন্ট আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কন্টেন্টের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করুন যারা তারা সেটি পড়ে দেখার আগ্রহ বোধ করে । তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই কপিরাইট ফ্রি ছবি ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন, মানসম্মত কন্টেন্ট ব্যতীত অন পেইজ এসইও করে কোনোভাবেই লাভবান হতে পারবেননা। 

৬ । এসইও ফ্রেন্ডলি ইউআরএল রাখা 

এসইও ফ্রেন্ডলি ইউআরএল রাখা অন পেইজ এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ওয়েবসাইটের ইউআরএল এর এসইও ফ্রেন্ডলি করার ক্ষেত্রে ইউআরএলটিতে ফোকাস কিওয়ার্ডটি অবশ্যই ব্যবহার করবেন  । 

এছাড়াও ইউআরএল যেনো আকারে ছোট হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখবেন। কেননা আকারে ছোট ইউআরএল ভিজিটরদের জন্য মনে রাখা সহজ। পাশাপাশি যেনো অতিরিক্ত বিরামচিহ্নের ব্যবহার না থাকে সেদিকেও অবশ্যই নজর রাখতে হবে । কারণ অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন মাঝেমাঝে ভিজিটরদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়! 

৭ । ইমেইজ অল্টার টেক্সট ব্যবহার করা

ইমেইজ অল্টার টেক্সট অনেকেই কন্টেন্টে ব্যবহার করেননা। কিন্তু যারা কন্টেন্টে ইমেইজ ব্যবহার করেন তাদের জন্য অন পেজ এসইও এর এ ধাপটি অনুসরণ করা আবশ্যক । কারণ ইমেইজ অল্টার টেক্সট ব্যবহার করার মাধ্যমে যেসব ব্যবহারকারী ইমেইজ সার্চ এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তারা আপনার কন্টেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে । 

তাই কন্টেন্টের ফিচারড ইমেজ কিংবা কন্টেন্টের ভেতরকার ইমেজে অবশ্যই ইমেইজ অল্টার টেক্সট ব্যবহার করবেন। এ অল্টার টেক্সটে ফোকাস কিওয়ার্ড ও ব্যবহার করতে পারেন। 

৮। ইন্টারনাল লিংকিং করা

অন পেইজ এসইও এর ক্ষেত্রে দারুণ সহায়ক একটি ধাপ হলো ইন্টারনাল লিংকিং ৷ ওয়েবসাইটের একটি কন্টেন্টের সাথে একই ধরণের অন্যান্য সহায়ক কন্টেন্ট লিংক করে দেয়াকেই ইন্টারনাল লিংকিং বলা হয় ৷ 

ইন্টারনাল লিংকিং ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে । তাই ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট প্রকাশ করার সময় চেষ্টা করবেন অন্য একটি কন্টেন্টের সাথে ইন্টারনাল লিংকিং করে দিতে । 

৯ । মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করা 

বর্তমানে যারা ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন তাদের বড় একটি অংশই ব্রাউজিংয়ের কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন । তাই সঠিকভাবে অন পেইজ এসইও করতে আপনার ওয়েবসাইটটি যেনো মোবাইল ফ্রেন্ডলি হয় সেদিকে অবশ্যই দৃষ্টি দেবেন ৷ 

একটি ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি করার জন্য সাইটের লোডিং স্পিড যেনো ভালো হয় , কন্টেন্টে ব্যবহারকৃত ছবিগুলো যেনো যেকোনো ডিভাইসেই খুব তাড়াতাড়ি লোড হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখবেন ৷ মনে রাখবেন। ওয়েবসাইট যত বেশি মোবাইল ফ্রেন্ডলি হবে তত বেশি র‍্যাংকে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে । 

১০। কন্টেন্ট অডিট করা 

একটি ওয়েবসাইটে অন পেইজ এসইও করার উপায় গুলোর মধ্যে সর্বশেষ হলো কন্টেন্ট অডিট করা ৷ কন্টেন্ট অডিট হলো কোনো একটি ওয়েবসাইটের কন্টেন্টে ব্যবহৃত তথ্য ঠিক আছে কিনা , সে কন্টেন্ট থেকে টার্গেটেড ট্রাফিক আসছে কিনা পাশাপাশি কন্টেন্টের ধরণে কোনোরকম পরিবর্তন আনা উচিত কিনা তা খতিয়ে দেখা ।

অন পেইজ এসইও তে এ ধাপটির সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও পরোক্ষভাবে এটি ভূমিকা রাখে ৷ তাই যখনই কোন কন্টেন্ট সাইটে পাবলিশ করবেন, কন্টেন্ট অডিট করতে ভুলবেননা। 

মূলত এগুলোই ছিলো একটি ওয়েবসাইটে অন পেজ এসইও করার উপায় এবং এসইও ফ্রিন্ডলি আর্টিকেল সম্পর্কে আলোচনা । অন পেইজ এসইও করার এ অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোই কোনো ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করাতে র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে । 

তবে এটিও জেনে রাখা জরুরি যে অন পেইজ এসইও এর পুরো প্রক্রিয়াটি পরিবর্তনশীল । কেননা বিভিন্ন সময়ে এ র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরগুলোতে বিভিন্ন আপডেট দেখা যায় । তাই সবসময় এ আপডেটগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে ।

পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই

  যদি নিজের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করিয়ে টার্গেটেড ভিজিটর বা ট্রাফিক পেতে চান , তাহলে অবশ্যই অন পেইজ এসইও করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখুন সাথে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার উপায়। দেখবেন নিজের ওয়েবসাইট থেকে খুব তাড়াতাড়ি লাভবান হতে পারবেন। 

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap