ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২১

ইউটিউব থেকে আয়ঃ কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায় এই বিষয়ের সকল খুটি-নাটি এই পোস্টের মাঝে আলোচনা করব। আজকের এই ইউটিউব থেকে আয় আফর্টিকেল পড়া শেষ করলে আপনি বোঝতে পারবেন কিভাবে ইউটিউব থেকে অনলাইনে আয় করা যায়।

কি ভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়
ইউটিউব থেকে আয়

আমাদের সবার ইচ্ছা থাকে অনলাইন থেকে আয় করার আবার সেই সাথে জানার খুব ইচ্ছা হয় অনলাইন থেকে কিভাবে আয় করা যায়? হ্যা অনলাইন থেকে আয় করা যায় এবং আনলিমিটেড ইনকাম করা যায়।

তবে অনলাইন থেকে আয় করতে হলে আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। আর থাকতে হবে ধৈর্য ধৈর্য কখনো আপনি সফল হতে পারবেন না। বাংলা প্রভাতে আছে যে সবুরে মেওয়া ফলে।

ইউটিউব থেকে আয়

আপনি হয়তো শুনে অবাক হবেন যে মাত্র ৯ বছরের একটি ছেলে প্রতিমাসে লক্ষ টাকার উপর ইনকাম করে শুধুমাত্র খেলনার রিভিউ করে ইউটিউব এর মাধ্যমে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে যে রায়ান তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৭৬ কোটি  বাংলাদেশি টাকা আয় করেছেন।

হ্যাঁ এটাই সত্যি,  Rayans Worlds নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেখানে একটি ছোট বাচ্চার বিভিন্ন প্রকার খেলার রিভিউ করে এবং তার ইউটিউব থেকে আয় করার পরিমাণ লক্ষ টাকার উপরে প্রত্যেক মাসে।

আপনার জন্য আরো পোস্ট…

রায়ানের বাবা-মা ২০১৫ সালে রায়ানের ইউটিউব চ্যানেলটি খুলে দেয় এবং সেই চ্যানেলে কিছু খেলনার ভিডিও রিভিউ  করে আপলোড দেন এবং এরপরই সেই ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।

খুব অল্প সময়ের রায়ানের ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার লক্ষাধিক হয়ে যায় এবং তাদের বাবা-মা রায়ান কে বিভিন্ন প্রকার খেলা ভিডিও রিভিউ করে তারা চ্যানেলে আপলোড করতো। ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ (23 November 2020) পর্যন্ত রায়ানের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা  ২৭.২+ মিলিওন এবং মোট ভিউস  ৪৩.২ বিলিওন (23 November 2020).

এখন যতই দিন যাবে তার ভিডিওর ভিউ সাবস্ক্রাইবার এবং আয় করার পরিমাণ তত বৃদ্ধি পাবে সময়ের সাথে সাথে। এজন্যই বলি একটি ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার চেঞ্জ করে দেওয়ার মাধ্যম।

ইউটিউব থেকে আয় ২০২১

ইউটিউব থেকে ইনকাম ২০২১ঃ ইউটিউব থেকে ইনকাম করার বিষয়টি এখন অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে যা মনে করি অনলাইন থেকে আয় করার সেরা উপায় হলো ইউটিউব থেকে ইনকাম করা।

কেননা অন্যান্য আয় করার উপায় গুলা থেকে ইউটিউব থেকে আয় করা দীর্ঘস্থায়ী এবং সময়ের সাথে সাথে আপনার অনলাইন থেকে আয় করার পরিমাণ বেড়ে যাবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেল যত জনপ্রিয়তা পাবে আপনার অনলাইন থেকে আয় করার পরিমাণটা তত বৃদ্ধি পাব।

একটি ফল গাছ থেকে ফল পেতে হলে যেমন আপনার গাছটিকে পরিচর্যা করতে হয় এবং তার সাথে আপনাকে ফল আসার জন্য গাছটিকে সময় দিতে হয়। ঠিক তেমনি আপনি যদি অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজ করতে হবে তারপরই অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।

কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করা যায়

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এখন সকল কিছুর হাতের নাগালে আপনি ইচ্ছা করলে আপনার প্রায় সকল প্রয়োজনীয় কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে করতে পারবেন। প্রযুক্তির এই যুগে আপনার অফিসের কাজ ছাড়াও অন্যান্য সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ভিডিও এবং শিক্ষা জাতীয় ক্লাসগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজে ঘরে বসে করতে পারবেন।

আমাদের দৈনিক জীবনে প্রতিনিয়ত অনলাইনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য সকল কিছুর ভিডিও সবচাইতে বড় ভিডিও শেয়ারিং ফ্রি প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। এই ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মে এমন কোন ভিডিও নেই যে আপনি খুঁজে পাবেন না।

ভিউয়ারদের জন্য যেমন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব ফ্রি তেমনি ইউটিবের ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য  ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম একটি ইনকামের বড় উৎস। শুধু মাত্র ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউব থেকে অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতি মাসে ইনকাম করতেছে।

কারা ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবে?

আমি আর আপনার মত তারাও মানুষ। তারা যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারে আপনি কেন পারবেন না? আপনিও পাড়বেন তবে একটু দেরিত। দেরি বলার কারণ হলো তারা নিজেদের একটি কমুনিটি বানিয়ে নিয়েছে যার জন্য তাদের ভিডিও আপ্লোড করলেই আয় হবে।

ইউটিউব এমন একটি ফ্রি ভিডিও শেরারিং প্লাটফর্ম যেখানে ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়টরা তাদের  ক্রিয়েটিভিটির মাধ্যমে ইন্টারটেইনমেন্ট ভিডিও, তথ্যপ্রযুক্তি ভিডিও, বিভিন্ন প্রকার রেসিপি ভিডিও, লার্নিং রিলেটেড সহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা জাতীয় ভিডিও আপলোড করে দর্শকের মন জয় করে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে।

কখনো ভেবে দেখেছেন কি আমরাও চাইলে ইউটিউব থেকে তাদের মত ইনকাম করতে পারব। যদিও তাদের মত লক্ষ টাকা প্রথমে আয় করতে পারব না। তবে একটি সময় অবশ্যয় আপনি হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন তার জন্য আপনার নিয়মিত কাজ করার বিকল্প নেই।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য কি করতে হবে?

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য সর্বপ্রথম ইউটিউবে আপনার একটি চ্যানেল থাকতে হবে। ইউটিউবে আপনার চ্যানেল খোলার জন্য হাতে থাকা মোবাইল ফোনটির ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন। এবং সকল ধরনের চ্যানেল কাস্টমাইজেশন আপনার ফোনের মাধ্যমে করতে পারবেন।

তবে ভালো হয় যদি আপনার একটি ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার থাকে সেখান থেকে আপনার চ্যানেলটিকে কে খুব সহজে সুন্দরভাবে কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন। আর যদি আপনার কোনো ধরনের ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার না থাকে তাহলে আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটির মাধ্যমে আপনার ইউটিউবিং শুরু করে দিতে পারেন।

আরো পড়ুন…

ইউটিউব চ্যানেল খোলার পর অবশ্যই আপনার সেই চ্যানেলটির সুন্দর করে কাস্টমাইজ করে নিবেন এবং তারপর আপনার বানানো ভিডিও কনটেন্ট গুলো আপলোড করে দেবেন। আপলোড করার পর সেই ভিডিও গুলোতে থাম্বনেইল টাইটেল এবং ডিসক্রিপশন বক্স সুন্দর করে লিখে দিবেন।

যাতে বুঝতে পারে আপনার ভিডিও টা কি নিয়ে বানানো অথবা ভিডিওর মাধ্যমে কি বোঝাতে চাচ্ছেন। আপনার ভিডিও টাইটেলের সাথে যদি ভিডিওর কাজের মিল না থাকে তাহলে দ্বিতীয়বারের মত সেই ভিউয়ার আর আসবেনা।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়?

আমাদের মাঝে এখনো অনেকে রয়েছে যারা কিনা একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারে না। তবে আপনি যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ইউটিউবে নিজের একটি চ্যানেল থাকতে হবে তা না হলে আপনি ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না।

আপনার যদি কম্পিউটার অথবা কোনো ধরনের ল্যাপটপ না থাকে তাহলে হাতে থাকায স্মার্টফোনটির মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন। আর খুব অল্প সময়ের ভিতর একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায় এবং সম্পূর্ন ফ্রিতে এজন্য আপনাকে কোন টাকা দিতে হবে না।

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে কি কি লাগে?

আপনার নিজের জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে বেশী কিছুর প্রয়োজন হয় না। তবে ইউটিউব এ চ্যানেল খোলার আগেই কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইউটিউব তাদের অনেক পলিসি পরিবর্তন করেছে এবং কিছু কিছু বিষয়ে তারা ডাইরেক্টলি ভাবে রিকুমেন্ট করে দিয়েছে।

একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য সাধারণত নিচের জিনিসগুলোর প্রয়োজন হয়ে থাকেঃ

  • একটি স্মার্ট মোবাইল যার দ্বারা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
  • আপনি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে করতে পারেন খুলতে পারবেন।
  • আপনার নিজের একটি জিমেইল একাউন্ট।
  • আপনার মোবাইল নাম্বার।
  • ইউটিউব এর দেওয়া পলিসি প্রোগ্রাম অনুসারে চ্যানেল ক্রিয়েট করা।

Youtube চ্যানেল খুলার নিয়ম

ইউটিউব থেকে আয় করার সবার চেয়ে প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হল নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা। আমাদের অনেকেরই স্মার্টফোন রয়েছে এবং ইউটিউবে বিভিন্ন প্রকার ভিডিও দেখাদেখি করে কিন্তু অনেকে জানিনা যে কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়।

ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হলে অবশ্যই আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট লাগবে আর আপনার যদি জিমেইল একাউন্ট না থাকে তাহলে এখান থেকে একটি জিমেইল একাউন্ট ক্রিয়েট করে নিবেন। জিমেইল একাউন্ট বানানো শেষ হয়ে গেলে সরাসরি YouTube এ চলে যাবেন।

আর আপনার যদি আগে থেকে জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা থাকে তবুও আপনি YouTube চলে যান। আপনি যদি মোবাইল ফোন ইউজার হন তাহলে ক্রোম ব্রাউজারে যাবার পর আপনার ক্রমটি ডেক্সটপ মোড অন করে নিবেন। এতে করে আপনার মোবাইল ফোনে ডেস্কটপের মত ব্রাউজার দেখা যাবে যার জন্য ইউটিউব চ্যানেল খুলতে সুবিধা হবে।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়
ইউটিউব চ্যানেল

ইউটিউব এ যাওয়ার পর আপনার ব্রাউজারের ডানদিকে ওপরের করণারে Singin লেখা দেখতে পাবেন। সাইন ইন এ ক্লিক দেওয়ার পর ইউটিউব আপনার জি-মেইল অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বলবে সেখানে আপনার জিমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নেবেন।

Youtube.com এ আপনার জিমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর ডান পাশের উপরের কর্নারে একটি আইকন দেখতে পাবেন সে আইকনে ক্লিক তারপর নিচের স্ক্রীনশটএর মত দেখতে পাবেন। উপরের Icon এ ক্লিক দেওয়ার পর আপনি অনেকগুলো Menu দেখতে পাবেন সেখান থেকে Setting মেনুতে ক্লিক দিবেন।

ইউটিউব খুলার উপায়
ইউটিউব খুলার উপায়

Sitting Menu তে ক্লিক দেওয়ার পর অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন তাদের ভেতর থেকে Create a new channel এ ক্লিক দেওয়ার পর একটি ফাঁকা বক্স দেখতে পারবেন তার উপরে লেখা থাকবে To create a new channel, create a Brand Account এ ফাকা বক্সে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম লিখে Create বটনে ক্লিক দেয়ার পর আপনার চ্যানেল টি তৈরি হয়ে যাবে।

চ্যানেলটি তৈরি হওয়ার পর পুনরায় আপনি উপরের ডান দিকে কোনে Icon  এ দেয়ার পর Your Channel লেখাটি দেখতে পারবেন সেখানে ক্লিক দেওয়ার পর আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। এখান থেকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সকল কিছু দেখতে পারবেন এবং আপনার চ্যানেলের কাস্টমাইজ সব এখান থেকে করতে পারবেন।

আপনার Youtube Channel Verify করুন

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পর প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হল আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করে নিতে হবে আর ভেরিফাই করার জন্য আপনার মোবাইল নম্বরটি দরকার হবে। আপনার ইউটিউব চ্যানেল টি ভেরিফাই করার জন্য প্রথমে এই লিঙ্ক এ ক্লিক করবেন তারপর যদি ইন্ডিয়ান হন তাহলে ইন্ডিয়া সিলেক্ট করবেন আপনি যদি বাংলাদেশি হন তাহলে বাংলাদেশ সিলেক্ট করার পর আপনার মোবাইল নম্বরটি দিয়ে সাবমিট দিন।

তবে আপনার চ্যানেল ভেরিফাই করার আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যে মোবাইল নম্বরটি দিয়ে চ্যানেল ভেরিফাই করবেন সে নম্বরটি অবশ্যই যাতে আপনার সঙ্গে থাকে এবং নম্বরটি সচল অবস্থায় থাকে।

কারণ আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার জন্য ফোন নম্বার দেয়ার পর আপনার মোবাইলে একটি কনফার্মেশন এসএমএস যাবে এবং সেই এসএমএস এর ভিতর থাকবে একটা ভেরিফাই কোডটি  থাকবে যা ভেরিফাই করার জন্য সাবমিট করতে হবে। আপনার চ্যানেল টি ভেরিফাই হওয়ার পর ইউটিউব প্রতিপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দিবে যে আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই হয়ে গিয়েছে।

আরো পড়ুন…

ইউটিউব চ্যানেল কাস্টমাইজেশন

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পর সবচাইতে বড় কাজ হলো চ্যানেল কাস্টমাইজেশন কারণ আপনার চ্যানেল টি সুন্দরভাবে কাস্টমাইজ করা থাকে তাহলে আপনার চ্যানেল প্রতি আকর্ষিত হবে এবং আপনার সাবস্ক্রাইব অনেক বেড়ে যাবে।

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পর ইউটিউব ব্যানার এবং প্রোফাইল পিকচার অ্যাড করে নেবেন এবং সেইসাথে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি কি নিয়ে তৈরি সেই বিষয়ে ডিসক্রিপশন বক্সের ভিতরে সুন্দর ভাবে লিখে দেবেন।

ইউটিউব চ্যানেল কাস্টমাইজ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেননা একটা নতুন সাবস্ক্রাইবার যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেল টি ভিজিট করবে অবশ্যই আপনার ইউটিউব চ্যানেল প্রোফাইলটি দেখতে যাবে। ইউটিউব চ্যানেল প্রোফাইল দেখার পর যদি আকর্ষণীয় মনে হয় সাথে সাথে সাবস্ক্রাইব করে নিবা আর যদি ভালো না লাগে তাহলে হয়তোবা আপনাকে সাবস্ক্রাইবার টি আর ফিরে আসবেনা।

সেজন্য আপনি ইউটিউব চ্যানেলটি কাস্টমাইজ করে নেবেন এবং সুন্দর একটি ব্যানার এবং একটি প্রোফাইল পিকচার অ্যাড করে নেবেন সাথে আর বাকি অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এড করে নিবেন।

ভিডিও ইডিট এবং ভিডিও আপলোড করা

আপনি যদি একজন প্রফেশনাল বা সফল ইউটিউবার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ভিডিও কনটেন্ট এর উপর নজর রাখতে হবে। কারণ ইউটিউবে সফলতার বড় একটি উপায় হলো আপনার কন্টেন্ট এর উপর।

আপনার কনটেন্ট এর কোয়ালিটি নির্ভর করে আপনার ভিডিও এবং ভিডিও এডিটিং এর উপরে। তাই আপনি যদি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ভিডিও কোয়ালিটি ভালো রেখে ভিডিও এডিট করতে হবে।

ভিডিও এডিটিং করার একটি কারণ হলো এতে করে আপনার ভিডিওটি প্রফেশনাল কোয়ালিটি হবে এবং দেখতে আকর্ষনীয় হবে যার জন্য আপনার ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার অনেকাংশে বেড়ে যাবে। ইউটিউবের ভিডিও এডিটিং করার সাথে আপনার কোয়ালিটি এবং রেজুলেশনের ওপর নজরদারি রাখতে হবে শুধু এডিটিং করলেই হবে না।

আপনি যদি মোবাইল থেকে ইউটিউব করতে চান এবং আপনার ভিডিওগুলো যদি এডিট করতে চান তাহলে মোবাইলের জন্য কাইনমাস্টার (KineMaster App) একটি খুবই কার্যকরী। এই মোবাইল অ্যাপ দ্বারা আপনি প্রায় সকল ধরনের এডিটিং করতে পারবেন যেগুলো আপনি ছোট ছোট ভিডিও করেন।

মোবাইল দিয়ে কিভাবে ইউটিউবের জন্য ভিডিও এডিটিং করবেন এ ব্যাপারে ইউটিউবে অনেক ভিডিও টিউটোরিয়াল বাংলাতে পাবেন। আর যদি আপনি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ ইউজার হন তাহলেও আপনি সকল ধরনের এডিটিং ফিলমোরা এবং ক্যামটাসিয়া মাধ্যমে এডিটিং করতে পারবেন।

কিভাবে ভিডিও এডিট করলে প্রফেশনাল মনে হবে?

একটা ভিডিও আকর্ষণীয়ভাবে ইডিটিং করলে অনেক প্রফেশনাল মনে হবে আপনার ভিডিও যখন প্রফেশনাল মানের হবে তখন ভিডিওর প্রতি ভিউয়ারস আকর্ষিত হবে এবং আপনার ভিডিও গুলো দেখার জন্য পুনরায় আপনার ইউটিউব চ্যানেলে চলে আসবে এবং সাবস্ক্রাইব করে নিবেন।

একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন আপনার ভিডিওতে প্রফেশনাল লুক দেয়ার জন্য এডিটিং এর কোন বিকল্প নেই এডিটিং এর মাধ্যমে আপনার যেকোন ভিডিওকে প্রফেশনাল উপায় ইউটিউবে মাঝে প্রকাশ করতে পারবেন।

এডিটিং সম্পর্কে ভালো জানার জন্য ইউটিউবে অনেক ধরনের ভিডিও পাবেন সেগুলো দেখার পর আপনি নিজে নিজেই প্রফেশনালভাবে ভিডিও এডিট করতে পারবেন আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য।

ইউটিউবের ভিডিও এডিটিং এর সময় যে বিষয়গুলো প্রফেশনাল করে তুলেঃ

  • ভিডিওতে থাম্বনেইল ব্যবহার করা।
  • ভিডিওর শুরুতে আপনার চ্যানেলের ইন্ট্রো ব্যবহার করা।
  • ভিডিওর শেষে আউট্র ব্যবহার করা।
  • অবাঞ্চিত বিষয় বা ভিডিওগুলো কেটে ফেলা।
  • ভিডিওর ভিতর টেক্স ব্যবহার করা।
  • বিশেষ কিছু দেখানোর সময় ভিডিওতে মার্ক করা।
  • ভিডিও চলাকালীন হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিতে পারেন।

যে সকল ভিডিও টিউটোরিয়াল রিলেটেড অর্থাৎ ভিডিও আগে কিছু কথা বলতে চান সে সকল ভিডিও করার আগে আপনার পিছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে সবুজ কাপড় অথবা সাদা একটি কাপড় দ্বারা ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করে নিতে পারেন এতে করে আপনার ভিডিওতে উজ্জলতা বৃদ্ধি পাবে।

কথা বলার সময় অবশ্যই একটি মাইক্রোফোন ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন এতে করে আপনার সাউন্ড কোয়ালিটি বেশি হবে। আপনি চাইলে ভিডিও করার সময় অর্থাৎ টিউটোরিয়াল রিলেটেড কোন ভিডিও করার সময় আপনি যেখানে ভিডিও করবেন তার আশেপাশে কিছু লাইটিং ব্যবস্থা করতে পারেন।

আপনার ফেস ভিডিও করার আশেপাশের  লাইটের আলো থাকলে আপনার ভিডিও কোয়ালিটি অনেক ভাল ভাবে ধারন করতে পারবেন। আপনি যদি একটু ডাইরেক্ট ছাড়া অন্যান্য কোন প্রকার ভিডিও করতে চান তাহলে লাইটিং এর কোন দরকার হবে না তবে মাইক্রোফোন ব্যবহার করলে আপনার ভিডিওর সাউন্ড কোয়ালিটি অনেক বেড়ে যাবে।

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা

আমাদের একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা হয়ে গিয়েছে এবং সেই ইউটিউব চ্যানেলের ব্যানার (চ্যানেল কভার) প্রোফাইল পিকচার এবং এবাউট এ আমরা যথাযথ ভাবে সবকিছু কাস্টমাইজ করে নিয়েছে এমনকি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ভেরিফিকেশন করে নিয়েছি।

আরো পড়ুন…

শুধু আমাদের কাজ হল ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে এডিটিং করার পর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা। তবে সেই ভিডিও কনটেন্ট গুলো আপলোড করার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে তা না হলে আপনার ভিডিও ইউটিউবে কখনো র‍্যাংক করতে পারবে না।

ভিডিও আপলোড করার আগে অথবা পড়ে যে বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণঃ

ভিডিও আপলোড করার আগে অথবা আপলোড করার পর নিচের বিষয়গুলো সাথে মিলাকে অবশ্যই আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও আপলোড করবেন।

  • আপনার ভিডিও কনটেন্ট এর সাথে মিল রেখে আকর্ষণীয় ইউটিউব ভিডিও টাইটেল সেট করতে হবে।
  • আপনার ভিডিও কনটেন্ট এর সাথে মিল রেখে আকর্ষণীয় থাম্বনেইল সেট করতে হবে।
  • আপনার ভিডিও কনটেন্ট এর সাথে মিল আছে এমন কিওয়ার্ড গুলো ট্যাগের ভিতর লিখে দেওয়া।
  • ভিডিও আপলোড করার পর ভিডিও ডিসক্রিপশন বক্স আপনার ভিডিও সম্পর্কে শর্ট আকারে লিখে দেওয়া।
  • সব সময় চেষ্টা করবেন যাতে আপনার ভিডিওগুলো ৫ মিনিটের উপরে হয়।

কিভাবে ইউটিউব Content Creator হওয়া যায়?

যারা বিভিন্ন প্রকার কনটেন্ট লিখে ব্লগে পাবলিশ তাদেরকে ব্লগার বলা হয়ে থাকে। ঠিক তেমনি যারা ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করে থাকে তাদেরকে ইউটিউবার বলা হয়। আপনার মনে এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে কিভাবে ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়া যায় বা কাকে ইউটিউব কনটেন্টকে এটা বলা হয়?

 যারা ব্লগে আর্টিকেল লিখে অথবা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে তাদেরকে বলা হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলা হয়। যারা ব্লগে আর্টিকেল লিখে তাদেরকে কন্টেন ক্রিয়েটর বলা হয় আবার যারা ইউটিউবে কনটেন্ট আপলোড করে তাদেরকেও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যারা ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে তাদেরকেই ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলা হয়ে থাকে হয়ে থাকে। তবে ইউটিউব থেকে আয় করার মূল বিষয় হল আপনার ইউটিউবে কাজ করার মন মানসিকতা এবং ধৈর্যধারণ। ধৈর্য এবং মন মানসিকতা না থাকলে আপনি কখনই কোন কাজে সফল হতে পারবেন না।

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

তো এখন আমরা জেনে গেছি দিয়ে কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয় এবং ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার পর কিভাবে কাস্টমাইজ করতে হয়। এখন আমরা জানবো যে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করা যায়। ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করলেই হয় না সেখানে ভিডিও আপলোড করতে হবে যদি আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান।

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে প্রথমত আপনার ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড দিতে হবে এবং অবশ্যই সেই ভিডিওগুলো ইন্টারেস্টিং হতে হবে তাহলে খুব দ্রুত আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভাইরাল হয়ে যাবে। আর আপনার ভিডিওগুলো যদি ভাইরাল হয়ে যায় তাহলে আপনার ভিউ এবং সাবস্ক্রাইব অনেকাংশে বেড়ে যাবে যা গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার একটি উপায় পূর্ণ হয়ে যাবে।

ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যাবে?

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তারপরে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। আজকে ইউটিউব চ্যানেল খুলে সাত দিন পরে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে চান তাহলে  অনলাইন ইনকাম আপনার জন্য না।

আপনি যদি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে চান তাহলে সর্বনিম্ন ৮০০০ টাকা অর্থাৎ সর্বনিম্ন ১০০ ডলার থেকে আনলিমিটেড অ্যামাউন্ট পর্যন্ত ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন আর এই এমাউন্ট ডিপেন্ড করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের উপর।

একজন সফল ইউটিউবার হতে গেলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যখন ইউটিউব থেকে আয় করার সকল শর্ত পূরণ করে ফেলবেন তখন আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

মূলত আপনি দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। আরে দুটি পদ্ধতি আপনি একসাথে অবলম্বন করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

  • প্রথমতঃ গুগল এডসেন্স থেকে আয়।
  • দ্বিতীয়তঃ অন্যান্য মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয়।

আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য গুগল এডসেন্স সর্বপ্রথম টার্গেট হতে হবে। গুগোল এর সকল পলিসি ফিলাপ হওয়ার পর গুগল এ্যাডসেন্স এপ্লাই করার মাধ্যমে আপনি এই ভিডিওগুলো মাঝখান থেকে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স ছাড়া আপনি যদি আয় করতে চান তাহলে বিভিন্ন প্রকার রেফারেল লিংক, স্পনসর্শিপ লিংক এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে পারবেন।

তবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার সবচাইতে বড় শর্ত হল অবশ্যই আপনার ইউটিউব চ্যানেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের সাবস্ক্রাইবার এবং ভিউ থাকতে হবে তা না হলে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন না।

Google Adsense দিয়ে ইউটিউব থেকে আয়

গুগল এডসেন্স নিয়ে অনেকের অনেক রকম প্রশ্ন রয়েছে বিশেষ করে যারা নতুন ইউটিউব শুরু করে এবং গুগল এডসেন্স থেকে আয় করতে চাই।

গুগল এডসেন্স ছাড়াও কিভাবে আয় করা যায় এসকল নানা প্রশ্ন করে থাকে তাদের জন্য সকল প্রশ্নের উত্তরে পোস্টের মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করব আশা করছি।

আমার পরিচিত এমন কয়জন রয়েছে যারা কয়েক বছর থেকেই ইউটিউবিং করছে এবং তাদেরকে যখন বলা হয় ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করছেন তখন তারা হেসে বলে দেই খুব একটা বেশি হয় না।

তবে ৩০-৫০ হাজারের উপরেই ইনকাম হয়ে থাকে প্রতি মাসে শুধু গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে।

Google Adsense কি?

গুগল এডসেন্স হচ্ছে গুগলের এমন একটি সার্ভিস যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার বিজ্ঞাপন ইউটিউব ভিডিও এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা হয়। আরও সহজভাবে বলা যায়, আপনি হয়তো অনেক সময় বিভিন্ন প্রকার ওয়েবসাইট/ব্লগ এবং ইউটিউব ভিডিও দেখার সময় বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন।

বিজ্ঞাপন গুলো দেখতে পাবেন ব্লগ অথবা ওয়েবসাইট এর মাঝখানে অথবা যে কোন অংশে ব্যানার আকারে অথবা ভিডিও আকারে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করানো হয় আর এই বিজ্ঞাপনগুলো ওকে গুগল এডসেন্স বলা হয়।

অন্য ভাবে বলা যায়, গুগোল অ্যাডসেন্স এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার বিষয়ে বা প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের জন্য গুগলকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে থাকে। ওদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার পর গুগল তাদের গুগল এডসেন্স সার্ভিস দ্বারা পাবলিশারদের ব্লগ অথবা ইউটিউব এর ভিতরে প্রোডাক্টগুলোর বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

আর সেই বিজ্ঞাপন গুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে সেই অর্থগুলো গুগল অ্যাডসেন্স পাবলিশারদের প্রদান করা হয় আর বাকি অংশগুলো গুগল নিয়ে থাকে।

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন যখন ইউটিউবে কোন ভিডিও প্লে করবেন ভিডিও শুরুর আগে অথবা মাঝখানে অথবা ভিডিও শেষের দিকে কোনো না কোনো ধরনের ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।

আর এই সকল বিজ্ঞাপনগুলো গুগলের একটি অংশ যার নাম গুগল এডসেন্স। বর্তমান সময়ে যারা ইউটিউব এবং ব্লগ/ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে চায় তাদের মেইন টার্গেট থাকে গুগল এডসেন্স।

Google Adsens দিয়ে ইউটিউব থেকে আয় করতে কি কি লাগবে?

আমাদের আজকে আর্টিকেলটি মূলত ইউটিউবে ফেসবুক থেকে আয় করার ব্যাপারে তাই গুগল এডসেন্স দিয়ে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করবেন সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

গুগল এডসেন্স এর দ্বারা ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে প্রথমে আপনাকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে (Youtube partner program) যুক্ত হওয়া লাগবে। তবে এখানে যুক্ত হতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে তা না হলে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম যুক্ত হতে পারবেন না।

Youtube partner program এ যুক্ত হওয়ার শর্ত সমূহঃ

  • আপনার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে এবং সেই চ্যানেলে সর্বনিম্ন ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকা লাগবে এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। আর শর্তটা আপনার পিছনের এক বছরের ভিতর পূরণ করতে হবে।
  • যেদিন ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হতে চাইবেন সেইদিন থেকে আগের এক বছরের ভিতর আপনার চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম পূরণ করতে হবে।
  • আপনার একটি অরজিনাল জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে এবং সে জিমেইল অ্যাকাউন্ট অবশ্যই ভেরিফাই করে নিবেন।
  • আপনার ইউটিউব চ্যানেলের অবশ্যই কপিরাইটমুক্ত ভিডিও থাকতে হবে অর্থাৎ আপনার নিজের বানানো ভিডিও কনটেন্ট থাকতে হবে।
  • কোন ধরনের অ্যাডাল্ট ভিডিও অর্থাৎ যে ভিডিওগুলো ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম  পলিসির বাইরে বাইরে পড়ে সেসকল ভিডিও আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড থাকলে আপনি মনিটাইজেশন পাবেন না।

সর্বশেষঃ সর্বশেষ স্টেপে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে মনিটাইজেশন অপশনে গিয়ে আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন এর জন্য এপ্লাই করে নিবেন।

মনিটাইজেশনের যখন এপ্লাই করবেন তখন অবশ্যই আপনার সঠিক ডাটা প্রদান করুন অর্থাৎ আপনার নাম ঠিকানা সঠিক ভাবে প্রদান করে তারপরও মনিটাইজেশন এর জন্য এপ্লাই করবেন।

আর অবশ্যই  Youtube এর প্রাইভেসি পলিসি পেজ পড়ে নিবেন তা নাহলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল যেকোনো সময় ইউটিউব এডসেন্স প্রোগ্রাম থেকে বাদ হয়ে যেতে পারে।

ইউটিউব মনিটাইজেশন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে এই লিংক থেকে পড়ে নিন; ইউটিউব মনিটাইজেশন ২০২১

Google Adsense থেকে কিভাবে টাকা নিব ?

আমরা কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলাম যখন ইউটিউব পাটনার প্রোগ্রাম অর্থাৎ গুগোল অ্যাডসেন্সে মনিটাইজেশন এর জন্য এপ্লাই করবেন সেই সময় আপনার সঠিক তথ্য প্রদান করবে। কেননা গুগল এডসেন্স আপনার সেই নাম-ঠিকানা তে চিঠি প্রেরণ করবে ভেরিফিকেশনের জন্য।

গুগল এ্যাডসেন্স এপ্লাই করার পর আপনার ইউটিউব চ্যানেলকে যদি এক অ্যাপ্রভাল দিয়ে দেয় তাহলে আপনার ভিডিওর মাঝে আপনি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে পারবেন। আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সময় ভিউয়ার যখন সে সকল বিজ্ঞাপনে ক্লিক দিবে তখন আপনার এডসেন্স একাউন্টে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্ত হতে থাকবে।

আর যখন আপনার এডসেন্স একাউন্টে ১০ ডলার হয়ে যাবে তখন গুগল কর্তৃপক্ষ আপনার সেই নাম-ঠিকানা তে একটি পিন নাম্বার চিঠির মাধ্যমে প্রেরণ করবে ভেরিফিকেশনের জন্য। সে চিঠিটি থাকা পিন নম্বরটি আপনি গুগোল অ্যাডসেন্সে একটি জায়গা পাবেন সেখানে আপনার পিন নম্বরটি দিয়ে ভেরিফাই তে ক্লিক করলে একাউন্ট ভেরিফাইড হয়ে যাবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার গুগল এডসেন্স এর একাউন্টি ভেরিফাই হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি টাকা তুলতে পারবেন না। আপনার একাউন্টি ভেরিফাই হয়ে গেলে আপনার যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ইউটিউবে এডসেন্স একাউন্ট এর সাথে যুক্ত করে দিবেন।

গুগল এডসেন্স থেকে পেমেন্ট নিতে হলে সর্বনিম্ন আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্টে ১০০ ডলার থাকতে হবে। গুগল অ্যাডসেন্সের টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে প্রত্যেক মাসে ২১ তারিখের পর পাঠিয়ে দিয়ে থাকে।

Google Adsens দিয়ে ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা যাবে?

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইউটিউব চ্যানেল দ্বারা কত টাকা আয় করা যাবে এটা নির্দিষ্ট বলা যায় না। ইউটিউব থেকে গুগল এডসেন্স দ্বারা কত টাকা আয় করা যাবে এটা সম্পূর্ণ ডিপেন্ড করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের অ্যাক্টিভিটি এবং ক্লিকের উপর।

আপনার ভিডিও টাইটেল অথবা টপিকের উপর নির্ভর করে CPC নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আপনার ভিডিও দেখা অবস্থায় বিজ্ঞাপনগুলোতে যত ক্লিক পড়বে সে অনুযায়ী আপনার গুগোল অ্যাডসেন্সে টাকা যোগ হতে থাকবে।

আপনার CPC যত বেশি থাকবে আপনার ক্লিকের পরিমাণের টাকা তত বেশি থাকবে। তবে বেশিরভাগ সিপিসির পরিমাণ আমাদের দেশ থেকে ইউরোপ আমেরিকা কান্ট্রিতে পরিমাণ বেশি থাকে।

Google Adsens থেকে আয় করার পরিমাণ

আমি আগেই বলেছি বলেছি Google Adsens থেকে আয় করার জন্য নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ আপনি সর্বনিম্ন প্রত্যেক মাসে ১০০ ডলার থেকে শুরু করে আপনি আনলিমিটেড এমন পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

এর জন্য আপনাকে গুগলের কাছে টাকা দিতে হবে না আপনি সর্বনিম্ন ১০০ ডলার হলে প্রত্যেক মাসে পেমেন্ট নিতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ যত হবে তত পরিমাণ আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন।

ইউটিউবে ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়?

ইউটিউবে যারা নতুন তারা প্রশ্ন করে ১০০০ ভিউতে গুগল এডসেন্স কত টাকা দেয়? অর্থাৎ আমার ভিডিওটি যদি ১০০০ ভিউ হয় তাহলে আমি কত টাকা আয় করতে পারবো।

একটা কথা না বললেই নয় ইউটিউব কখনোই আপনার ভিডিওর ভিউ নির্ধারণ করে টাকা দেয় না। আপনাকে টাকা দিবে আপনার ভিডিওটি দেখার সময় বিজ্ঞাপনে কতটি ক্লিক পড়েছে সে হিসেব অনুযায়ী।

আপনার ইউটিউব ভিডিওতে যদি লক্ষ লক্ষ ভিউ হয় তবুও আপনি কোন টাকা পাবেন না যদি না আপনার সেই সকল ভিডিওতে কোন বিজ্ঞাপন দেখা না যায় অর্থাৎ আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হলে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে আপনি সে অনুযায়ী টাকা পাবেন।

তবে গুগল এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য বিভিন্ন সিপিসি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকা কান্ট্রি গুলোর সাথে আমাদের দেশগুলোর সিপিসি কখনোই সমান থাকবে না সেই দেশ গুলাতে সবসময় বেশি CPC থাকবে।

ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে মার্কেটিং করে আয়

ইতিপূর্বে আমরা বলেছি যে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য দুটি মাধ্যম রয়েছে একটি হলো গুগল এডসেন্স আর অন্যটি হলো মার্কেটিং করে আয়

আর্টিকেল এর উপরে আমরা আলোচনা করেছি কিভাবে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন এবং কি কি মাধ্যম ব্যবহার করলে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে খুব সহজে এপ্রোভাল পেয়ে যাবেন।

এখন জানা যাক কিভাবে ইউটিউব থেকে গুগল এডসেন্স ছাড়াও অন্যান্য মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করা যায়।

নিজের প্রোডাক্ট রিভিউ করে আয়

গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি আপনি নিজের প্রডাক্ট রিভিউ করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার চ্যানেল যখন একটু বড় হয়ে যাবে বিশেষ করে বেশি সাবস্ক্রাইবার সে সময় আপনি নিজের প্রডাক্ট রিভিউ করে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন Content Creator ইউটিউব এর মাধ্যমে মার্কেটিং করে আয় করতেছে। আপনি যদি একজন ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন তাহলে আপনিও ইউটিউব চ্যানেলের দ্বারা মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন।

মনে করুন আপনার একটি বাইসাইকেলের দোকান রয়েছে সেখান থেকে আপনি বিভিন্ন রকমের বাইসাইকেল বিক্রি করেন এবং বাইসাইকেলের বিভিন্ন প্রকার যন্ত্রাংশ সামগ্রী বিক্রি করে থাকেন। ইউটিউব মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে হলে আপনার দোকানে যে সকল সাইকেল রয়েছে সে সকল সাইকেল সুন্দর একটি ভিডিও বানাবেন।

আপনার সাইকেলটির সুন্দর করে একটি ভিডিও তৈরি করবেন অর্থাৎ সাইকেলের প্রাইস কত কিভাবে চলে , সাইকেলের যন্ত্রাংশ গুলো কিরকম মজবুত এবং এ বিষয়ে সমস্ত বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও বানাবেন।

সাথে ভিডিওতে আরো বলে দিবেন যে সাইকেলটি যদি কেউ অর্ডার করে কিনতে চাই কিভাবে অর্ডার করবে এ নিয়ে বিস্তারিত বলে দেবেন।

এতে করে আপনার ভিউয়ার সহজেই বুঝে যাবে কিভাবে সাইকেল টি কিনতে হবে এবং সাইকেলটি প্রাইস কিরকম। আর এভাবেই আপনি ইউটিউব মার্কেটিং এর মাধ্যমে নিজের পণ্য দ্রব্য সামগ্রীর রিভিউ মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইউটিউব থেকে ইনকাম

পৃথিবীর মানুষ প্রতিনিয়ত উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে আর উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসের প্রতি মানুষ বেশি ঝুঁকছে। এখন মানুষজন প্রায় সকল ধরনের কাজকর্ম অনলাইনের মাধ্যমে সেরে নিয়েছে এমনকি তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো অনলাইনে ভিতর থেকে খুব সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে করা যায়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে আমরা যা বুঝি কোন দ্রব্য বা পণ্যের প্রচার প্রমোশন চালিয়েছে দ্রব্য বা পণ্য ক্রয়ের ক্রেতাকে খুঁজে বের করে তার কাছে সেল করা কে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে?

সাধারণভাবে বলতে গেলে বলা যায় এফিলিয়েটেড মার্কেটিং হল সেই জিনিস যা আপনার বিক্রির উপর নির্ভর করে আপনার আয় হবে অর্থাৎ কমিশন ভিত্তিক আয়।

আরও সহজভাবে বলা যায় এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি বিজনেস আইডিয়া যেখানে আপনার নিজের কোন প্রডাক্ট লাগবে না। আপনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট দ্রব্যগুলো প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিক্রি করে দিবেন সেই অনুযায়ী আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি কমিশন প্রদান করা হবে।

কিভাবে ইউটিউবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হয়?

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে করতে পারেন। তবে আজকে আমাদের আর্টিকেলর বিষয় হলো কিভাবে ইউটিউব থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করা যায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের এখন অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস অর্থাৎ ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেনা। প্রথমত আপনি যে কোম্পানির আন্ডারে এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সে কোম্পানি অর্থাৎ ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

আপনি যে বিষয়ে অর্থাৎ যে প্রোডাক্টটি নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান সেই প্রোডাক্ট নিয়ে আপনি একটি রিভিউ ভিডিও বানিয়ে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষকে কেনার জন্য উৎসাহ করতে পারেন।

প্রোডাক্ট এর ভালো দিক খারাপ দিক এবং কেন কিনবে এই বিষয়ে বিস্তারিত  ভিডিওটি বানিয়ে ফেলতে পারেন এবং এডিট করার পর আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দেবেন।

এতে করে সেই প্রোডাক্টটি বিস্তারিত জানা যাবে এবং আপনার ভিউয়ার প্রোডাক্টটি ক্রয় করলে আপনি সেই সেই প্রোডাক্টের জন্য দিয়া কমিশনটি পেয়ে যাবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

আপনি যখন কোন প্রোডাক্টের রিভিউ অর্থাৎ ভিডিও করে ইউটিউব আপলোড দিবেন এবং ভিডিও নিচে অর্থাৎ ডেসক্রিপশন বক্সে আপনার এফিলিয়েট প্রোডাক্টটির ক্রয় করার লিংকটি শেয়ার করে দিবেন।

এবং ভিডিওতে বলে দেবেন যে এই প্রোডাক্টটি কিনতে চাইলে আমার ডেসক্রিপশন বক্সে দেওয়া লিঙ্ক থেকে ক্রয় করে নিতে পারেন। কেউ যখন আপনার এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তখন আপনার সেই প্রোডাক্টের কমিশন আপনার একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে।

Sponsorship প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়

ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে স্পনসর্শিপ প্রোগ্রাম থেকে আয় করতে পারবেন। অনেক কোম্পানির রয়েছে যারা তাদের পণ্যসামগ্রী গুলো আপনার ইউটিউব চ্যানেল দ্বারা রিভিউ ভিডিও বানিয়ে চুক্তির মাধ্যমে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে বলবে। আর তাদের প্রোডাক্ট এবং কোম্পানির প্রচার প্রমোশন করার জন্য আপনার সাথে চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।

সহজভাবে বলা যায়, আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যদি কোন টেকনোলজি বিষয়ে ভিডিও আপলোড করে থাকেন এবং আপনার ইউটিউব চ্যানেলের একটিভিটি ভালো হয়। তাহলে সে সকল কোম্পানিগুলো তাদের প্রোডাক্ট হিসেবে মোবাইল ল্যাপটপ অথবা ল্যাপটপ যন্ত্রাংশগুলোর ভিডিও রিভিউ করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করতে বলবে এজন্য আপনাকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থের চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে।

আর এই ভাবে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে গুগল এডসেন্স এর পাশাপাশি স্পনসর্শিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

ইউটিউবের ট্রাফিক থেকে আয়

আপনি ইচ্ছা করলে ইউটিউবের ট্রাফিক দিয়ে ব্লগের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। সাধারণভাবে বলা যায় আপনার যদি একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ইউটিউব চ্যানেল থাকে। আপনি সেই স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ নিয়ে একটি ব্লগ সাইট খুলতে পারেন এবং আপনার ভিডিওর ডেসক্রিপশন বক্সে সেই ওয়েবসাইটের লিংক প্রোভাইড করে দেবেন।

এতে করে আপনার ইউটিউবে ভিজিটর ভিডিও দেখার পাশাপাশি আপনার ব্লগ সাইটের আর্টিকেলও ভিজিট করবে এবং গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করতে করতে পারবেন।

তবে ব্লগ সাইট থেকে আয় করার জন্য অবশ্যই আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্টিকেল থাকতে হবে এবং গুগোল অ্যাডসেন্সে থেকে অ্যাপ্রভাল নিয়ে গুগোল বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন।

আরো পড়ুন…

কিভাবে ইউটিউব ভিডিও র‍্যাংক করতে হয়?

আপনার ইউটিউব ভিডিওর ভিউ বাড়ানোর জন্য অবশ্যই ভালোভাবে এসিও করে নিতে হবে আপনার ভিডিও আপলোড করার সময়। আপনার ভিডিওতে কোয়ালিটি এবং রেজুলেশন ঠিক থাকা সত্ত্বেও যদি ভিডিওটিতে আশানুরূপ ফল না পেয়ে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে প্রপার এসইও করা হয়নি।

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো প্রপার ভাবে এসইও করে আপলোড করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার ভিডিওগুলো ভিডিও এবং সাবস্ক্রাইবার বেড়ে যাবে। আমরা এসইও বলতে শুধুমাত্র গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝি আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন বর্তমান সময়ে গুগোল এর পাশাপাশি ইউটিউবে তাদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু খুঁজে থাকে।
ওয়েবসাইট বা ব্লগের এসইও এবং ইউটিউব ভিডিওর ব্যাপারে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা উপায় কাজ করতে হয়। ওয়েবসাইট বা ব্লগের এসইও করা যতটা সময় লাগতে পারে তার থেকে খুব অল্প সময়ের মাঝে আপনার ইউটিউব ভিডিওর প্রপার এসইও করতে পারবেন।

ভিডিওর সঠিক টাইটেল লেখা

কখনো ভুল টাইটেল ব্যবহার করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও কনটেন্ট আপডেট দিবেন না। আপনার ইউটিউবে ভিডিও কনটেন্ট এর সাথে মিল আছে এমন কোন টাইটেল ব্যবহার করেন ভিউয়ার সহজেই বুঝতে পারে আপনার ভিডিও টা কি নিয়ে তৈরি।

অবশ্যই চেষ্টা করবেন কোন আকর্ষণীয় টাইটেল ব্যবহার করা যা আপনার ভিডিও কনটেন্ট এর সাথে মিল আছে । আপনার যদি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ভিডিও আপলোড করে থাকেন তাহলে অবশ্যই কখনো বাংলা সিনেমার ছবির গান অথবা অন্যান্য টাইটেল দিয়ে আপনার ভিডিও টাইটেল ব্যবহার করবেন না।

ভিডিও ডিসক্রিপশন বর্ণনা করা

আপনার ভিডিও টাইটেল এবং ভিডিওর পাশাপাশি ডিসক্রিপশন বক্সের তথ্যসমূহ গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ইউটিউব এর ভিডিও কি নিয়ে কথা বলেছেন এবং কি কি শিখতে পাবেন এ বিষয়ে ইউটিউবে ডেসক্রিপশন বক্সে ছোট করে লিখে দিবেন।

ভিডিও ডিসক্রিপশন ইউটিউবের এসইও জন্য কার্যকরী কেননা এখানে অনেক ধরনের ইনফরমেশন থাকে যা গুগোল খুব সহজে আপনার ইউটিউবে ডিসক্রিপশন বক্স থেকে ক্রল করে নিবে। ভিডিওর পাশাপাশি অবশ্যই আপনার ডিসক্রিপশন বক্স এ কোন না কোন কিছু লিখে দিবেন যাতে তারা খুব সহজে আপনার ভিডিও সম্পর্কে ইনফরমেশন পেয়ে যায়।

ভিডিওতে আকর্ষণীয় Thumbnail দেওয়া

ইউটিউব ভিডিও এসইও জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউটিউব ভিডিওতে থাম্বনেইল তৈরি করা। সুন্দর একটি থাম্বনেইল ব্যবহার কারণে আপনার ইউটিউব এর ভিডিওর ভিউয়ার্স অনেকাংশে বেড়ে যাবে এবং সাবস্ক্রাইব করে যাবে।

আপনার ইউটিউব ভিডিও চ্যানেলের থাম্বনেইলে প্রমাণ করে দেয় আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি কি রকম হবে এবং কোন বিষয় নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে তাই থাম্বনেইল প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দিতে হিবে।

ভিডিওতে ট্যাগ ব্যবহার করা

অনেক ইউটিউব ভিডিওতে ট্যাগ ব্যবহারের খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেয় না কিন্তু একটা ভিডিও ইউটিউবে র‍্যাংক করার জন্য ট্যাগগুলো অনেক কার্যকরীভাবে ফলাফল প্রদর্শন করে। সে জন্য এক নিয়ে যখন এর ভিডিও আপলোড করবেন আপনার টাইটেলের সাথে হয়তবা আপনার ভিডিওর সাথে মিল রেখে দশ-বারোটি আপনার ভিডিওর নিচে দেখ ফাংশনে দিয়ে দেবেন।

আপনার ভিডিওর মেইন টাইটেল এর পাশাপাশি ট্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।  ইউটিউব ট্যাগ এমন একটি বিষয়ট আপনার মেইন টাইটেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন প্রকার  টাইটেল হিসেবে কাজ করে।

নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা

আপনার ইউটিউবে ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর জন্য অবশ্যই নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে আপনার ভিডিওটা রেজুলেশন এবং কোয়ালিটি ভাল থাকেন কেননা কোয়ালিটি ভালো না থাকলে কোন ভিউয়ার আপনার ভিডিওটা সম্পূর্ণ দেখতে চাইবে না।

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো র‍্যাংক করতে চান তাহলে ভিডিওতে আকর্ষণীয় টাইটেল যা ভিডিও সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ফিচার ইমেজ যাকে থাম্বনেইল বলা হয় অবশ্যই দিতে হবে এবং ডেসক্রিপশন বক্সে সেই ভিডিও সম্পর্কে আপনার ভিডিও সম্পর্কে লিখে দিবেন।

 

আরো পড়ুন 

  • Android apps দিয়ে টাকা আয় করুন
  • মোবাইল দিয়ে অনলাইন টাকা কিভাবে আয় করবেন ?
  • ব্লগ কি এবং ব্লগ বানিয়ে কিভাবে অনলাইন আয় করা যায়

আমার শেষ কথা,

আমাদের আজকে আর্টিকেলটি পড়ার পর হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে কোন কোন উপায় ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন এবং কত টাকা আয় করতে পারবেন কিভাবে করতে পারবেন।

এরপরও যদি আপনাদের মনে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এর মাধ্যমে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন। আমরা আপনার কমেন্টে অতি মূল্যবান সহকারে দেখার পর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। আর এই আর্টিকেলটি যদি ভালো লাগে থাকে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন যাতে আপনার বন্ধুরাও এতে উপকৃত হয়।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap