ট্রেডমার্ক (Trade Mark) কি ? ট্রেডমার্ক করার নিয়ম ২০২১

ট্রেডমার্ক (Trade Mark) কিঃ কেন ট্রেড মার্ক প্রয়োজন বা কিভাবে করবেন। ট্রেড মার্ক এর ফি কত সব তথ্য আজকের এই আর্টিকেল থেকে পাবেন। আমরা দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রয়োজনে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত পণ্য ক্রয় করে থাকি।

ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে প্যাকেটের গায়ে কোনো নিদির্ষ্ট ব্র্যান্ডের একটি স্বতন্ত্র লোগো কিংবা চিহ্ন অঙ্কিত থাকে। এই চিহ্নটিই মূলত ট্রেডমার্ক।

আপনার কোন ব্যবসায় প্রোডাক্ট থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার একটি ট্রেডমার্ক করা লাগবে কেননা বাজারে অন্যান্য প্রোডাক্ট থেকে আপনার ব্যবসা বা প্রোডাক্ট আলাদা করার জন্য ট্রেড মার্ক করা প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

ট্রেডমার্ক কি? ট্রেডমার্ক করার নিয়ম
ট্রেডমার্ক কি? ট্রেডমার্ক করার নিয়ম

আপনার প্রোডাক্ট ব্যবসার নাম দিয়ে কোন কিছু নকল করে অন্য কেউ বাজারজাত করলে সে সকল ব্যবসা বা ব্যবসার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

এছাড়াও ট্রেডমার্ক কে নিয়ে যত প্রশ্ন উত্তর আছে সকল বিষয়ে আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন। চলুন এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জেনে নেই।

ট্রেডমার্ক কি ? 

ধরুন, আপনি নিজের একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান শুরু করতে যাচ্ছেন। আপনি অবশ্যই চাইবেন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে যেন কিছুটা অনন্য বৈশিষ্ট্য সম্বলিত হয়। এ কারণে আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য একেবারে স্বতন্ত্র একটি নাম পছন্দ করলেন।

ব্যবসায়িক নীতিমালায় পরিবর্তন এর পাশাপাশি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং এর জন্য প্রয়োজন একদমই অনন্য একটি লোগো বা চিহ্ন যেটি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সব স্থানে উপস্থাপন করবে। এই লোগো কিংবা চিহ্নটি ব্যবসায়িক পরিচিতিকে বাড়িয়ে তুলবে। 

আপনার জন্য আরো পোস্ট…

বলা যায়, ট্রেডমার্ক বা ব্যবসা স্বত্ত্ব হলো এমন একটি চিহ্ন যার মাধ্যমে এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের থেকে আগত সেবা বা পণ্যকে অন্য প্রতিষ্ঠান হতে আগত সেবা বা পণ্যকে আলাদা করা যায়। সর্বপ্রথম ইতালিতে ট্রেডমার্কের ব্যবহার শুরু হয়।

সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র  চিহ্নটি সেই প্রতিষ্ঠানের কাগজ-পত্র,কার্ড,ক্যাশ মেমো,অন্যান্য সেবা এবং পণ্যের মোড়কে দেখা যায়। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক নির্দিষ্ট সময় পর নবায়ন করা যায়। 

কেন ট্রেডমার্ক করা প্রয়োজন? 

 ট্রেডমার্ক যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কিংবা ঐ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মক্ষেত্রে একমাত্র ঐ ট্রেডমার্ক  ব্যবহার করতে পারেন। 

ধরুন, আপনি যেকোনো ইউনিক নামে একটি  ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান চালু করলেন এবং ওই নামের একটা ব্র্যান্ড তৈরী হলো। সেসময় ওই নামেই অন্য একজন আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে আপনার ব্র্যান্ডের বারোটা বাজিয়ে দিলো কিংবা আপনার পরিশ্রমের ফল উক্ত ব্যক্তি ভোগ করতে শুরু করলো। 

এসব সমস্যা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ট্রেডমার্ক। এই ট্রেডমার্ক কেবল স্বত্ত্বাধিকারীর ব্যবসায়িক স্থাপনা ও পণ্যে প্রদর্শিত হতে দেখা যায়। স্বত্ত্বাধিকারী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি যেকোন পণ্যের ট্রেডমার্ক নিয়ে ব্যবহার  করলে বা বিজ্ঞাপন দিলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং পরবর্তীতে স্বত্বাধিকারী চাইলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ট্রেডমার্কের লাইসেন্স ও করা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ ট্রেডমার্কের লাইসেন্স করেন এবং এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য বিপণন করে থাকেন। লাইসেন্সকৃত ট্রেডমার্কের অবৈধ ব্যবহার, নকল পণ্য বা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ব্রান্ড পাইরেসি বলা হয়।

ট্রেডমার্কের সুবিধা কি কি?

ট্রেডমার্ক বা ব্যবসা স্বত্ত্বের বেশ কিছু সুবিধার কারণেই মূলত এটি বেশ জনপ্রিয়। ট্রেডমার্ক মূলত কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর এক মূল্যবান সম্পদ। ট্রেডমার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে স্বত্বাধিকারীরা দীর্ঘসময় ধরে তার পণ্যের উপর একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করে।

এছাড়া ট্রেডমার্ক ব্যবহারের কারণে ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরী হয় এবং এর ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠান যেকোনো ধরনের পণ্য বাজারে এনে খুব দ্রুত লাভবান হতে পারে।

অপরদিকে, ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিরূপ হতে পারে, সে সম্পর্কে ক্রেতার একটি ধারনা তৈরী হয়। এছাড়া ক্রেতা পণ্যটি সংগ্রহ করার পর নষ্ট বা ব্যবহার অযোগ্য হলে আইনগত সুবিধা লাভ করতে পারে।

ট্রেডমার্কের কারণে  বিক্রেতারা কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে। যেমন পণ্যের দাম নিয়ে অহেতুক ক্রেতার সাথে সময় নষ্ট করতে হয় না। ট্রেডমার্কের বা ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে বিক্রেতাগণ, পরিবেশক এবং ডিলারগণ শো-রুমের মাধ্যমে উক্ত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন।

ট্রেডমার্ক প্রতীক এর অর্থ কি?

ট্রেডমার্কের ধরন বোঝানোর জন্য কিছু প্রতীক ব্যবহৃত হয়। সেসব প্রতীকের বিশেষ অর্থ রয়েছে। সাধারনত R, TM, SM এই তিনটি প্রতীক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম্নে প্রতীকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ 

১) ® প্রতীকঃ ইংরেজী বর্ণ “R” কে গোল চিহ্নের ভিতরে রেখে ট্রেডমার্ক বা লোগোর পাশে কিংবা কোণায় এটি বসানো হয়। এটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ট্রেডমার্কটি যথাযথ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন ব্যতীত এটি ব্যবহার করা হলে সেটি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত। 

২) ™ প্রতীকঃ ইংরেজি বর্ন “T” এবং “M” এর সমন্বয়ে (Trade Mark) যে প্রতীকটি ব্যবহৃত হয় সেটি হলো অনিবন্ধিত পণ্যের লোগোতে ব্যবহৃত প্রতীকটি। এই প্রতীকটি নিবন্ধিত পণ্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। এটি সাধারণত ক্রেতার কাছে পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে খুব কাজে লাগে।

৩) ‍‌℠ প্রতীকঃ Service Mark বা “SM” প্রতীকটি পণ্যের মতো অনিবন্ধিত সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অনিবন্ধিত পণ্যের ক্ষেত্রে যেমন প্রতীক ব্যবহৃত হয় তেমনি অনিবন্ধিত সেবার ক্ষেত্রে ℠ প্রতীক ব্যবহৃত হয়। সেবা বলতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বিমান, হাসপাতাল পরিসেবা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়।

নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সুবিধা

কোনো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান,ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত করলে এক্ষেত্রে তারা আইনগত সুবিধা পেয়ে থাকে। সেই হিসেবে কোনো ক্রেতা বা ভোক্তা ও প্রতারণার শিকার হন না।

অনিবন্ধিত ট্রেডমার্কের অসুবিধা কি?

কোনো পণ্যের, সেবার শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা না হলে আদালতে ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত জটিলতার সৃষ্টি হলে তার প্রতিকার পাবেন না। এছাড়া ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা না হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের সুনাম বা ব্র্যান্ড ভ্যালু হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা না হলে স্বত্বাধিকারীরা তাদের অব্যাহত ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে অনিবন্ধিত ট্রেডমার্কের স্বত্ত্বাধিকারীরাও ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে আইনি পদক্ষেপ  নিতে পারেন।

এক্ষেত্রে অনিবন্ধিত স্বত্বাধিকারীরা সাধারণত নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারীদের চেয়ে কিছুটা কম আইনি সুবিধা পাবেন।

ট্রেডমার্ক সম্পর্কিত আইনসমূহ

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ট্রেডমার্ক সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণীত হয়েছে। এর মধ্যে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অধীনে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি আইনকানুন রয়েছে।

ট্রেড মার্কের দেওয়ানি আইনঃ 

২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন ৯৬ ধারার অধীনে কোন নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের লঙ্ঘন, নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক সংশ্লিষ্ট কোনো অধিকার, নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের সংশোধিত কোনো অধিকার।

এবং সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো ট্রেডমার্ক বা প্রতারণামূলকভাবে কোনো ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত হয়েছে বা হয়নি চালানো হলে যেকোনো স্বত্বাধিকারী অবশ্যই জেলা জজ আদালতে মামলা এবং অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

এই ধারায় নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত  যেকোনো ট্রেডমার্ক নিয়ম-কানুন লঙ্ঘনে উপযুক্ত সাজা,জরিমানা এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে।

ট্রেড মার্কের ফৌজদারী আইনঃ 

মিথ্যা ট্রেডমার্ক বা ট্রেডমার্কের বর্ণনা ব্যবহার, ট্রেডমার্ক জাল করা ও ট্রেডমার্ক জাল করার যন্ত্র আত্মসাৎ করা ইত্যাদি হলো দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৮২, ৪৮৩ এবং ৪৮৫ ধারার অপরাধ। এই কাজের শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ২ বছর থেকে সর্বনিম্ন ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং সেই সাথে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

ট্রেডমার্ক নকল করলে এর প্রতিকার

নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক নকল করা হলে এর জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এর জন্য জেলা জজ আদালতে মামলা করতে হয়। আবার অনিবন্ধিত ট্রেডমার্ক নকল করা হলে তবে পাসিং অফের মামলা করা যায়।

পাসিং অফ বলতে বোঝায়, অন্যের পণ্য নিজের নামে চালানো। এছাড়া মিথ্যা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করা হলে এর জন্য মহানগর বিচারক হাকিম কিংবা প্রথম শ্রেণীর বিচারকের আদালতে মামলা করা যাবে।

আরো পড়ুন…

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার জরিমানা হতে পারে। এজন্য যেকোনো ব্যক্তির ট্রেডমার্ক নির্বাচন এবং নিবন্ধনের পূর্বে উক্ত ট্রেডমার্ক অন্য কেউ  ব্যবহার করেছে কিনা সে সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে।

কপিরাইট আইন কি?

কপিরাইট অর্থ হলো লেখস্বত্ব। ধরুন, আপনি স্কিলস সম্পর্কিত কিছু লেখা নিয়ে একটি বই বের করলেন। সেই বইয়ের মুদ্রণ, পুনঃমুদ্রণ এবং প্রকাশ সম্পর্কিত সকল বিষয়েই একমাত্র আপনার অর্থাৎ লেখকের অধিকার বজায় থাকবে।

এই সংক্রান্ত আইন-কানুন সমূহ মূলত কপিরাইট হিসেবে পরিচিত। 

পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেকোনো সৃজনশীল কর্মের কপি বা পুনরুৎপাদনের, অবৈধ ব্যবহার ইত্যাদি বন্ধ রাখার জন্য যে আইন-কানুন প্রয়োগ করা হয় তাকে কপিরাইট আইন বা কপিরাইট বলা হয়।

শুধু বই নয়, যেকোনো সাহিত্য, শিল্পকর্ম, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা, চিত্রকর্ম, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, ভাস্কর্য, স্থাপত্যেকলা প্রভৃতি কপিরাইট আইনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়।

কপিরাইট কাদের মধ্যে চুক্তি?

কপিরাইট চুক্তিপত্র হলো প্রধানত প্রকাশক এবং লেখকের মধ্যকার চুক্তি। কোনো লেখক তার লেখা প্রকাশকের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে লেখক এবং প্রকাশকের মধ্যে লেখা মুদ্রণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তি হয়।

এই চুক্তিপত্রই হলো মূলত কপিরাইট চুক্তি। ১৯১২ সালে সর্বপ্রথম কপিরাইট আইন প্রণীত হয়। বাংলাদেশে ২০০০ সালে কপিরাইট আইন প্রচলিত হয় যা ২০০৫ সালে সংশোধিত হয়। প্রকৃত পক্ষে কপিরাইট চুক্তি বাজারজাতকরণের একটি জনপ্রিয় উপায়।

কপিরাইট আইন, ২০০৫ অনুযায়ী কোনো লেখক বা শিল্পীর জীবিতকালে এবং মৃত্যুর পর ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট সংরক্ষিত থাকে।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন আবেদন করার জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে তার একটি লিস্ট আমাদের এই আর্টিকেলের নিচে উল্লেখ করা হলো। সে অনুযায়ী আপনার কাগজপত্র তৈরি করে আবেদন করতে পারবেন।

১) পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফিস জমা দেওয়ার নথি

২) মনোগ্রাম সংযুক্তি (নয় কপি)

৩) মার্ক/লোগো/ডিভাইসের নাম, প্রতিরূপ অথবা বিবরণ

২) আবেদনকারীর নাম

৩) আবেদনকারীর ঠিকানা ও জাতীয়তা

৪) আবেদনকারীর পদমর্যাদা 

৫) মার্ক ব্যবহারের তারিখ (তা বাংলাদেশে ব্যবহৃত হোক কিংবা ব্যবহারের জন্য প্রস্তাবিত হোক)

৬) সাধারণ/নির্দিষ্ট মোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি), যা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তীতে নথিভুক্ত করা যায়।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধন বা রেজিষ্ট্রেশন করার নিয়ম

ধাপঃ১) ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্কের অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমটি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিংবা অনলাইনে (www.dpdt.gov.bd) এই লিংক হতে ডাউনলোড করে নিতে হবে।

নির্দিষ্ট আবেদন ফরমের মাধ্যমে মালিকানা আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি কিংবা উক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর সাহায্যে নিয়ে  আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখিত ফরমটি ডাউনলোড করে যথাযথভাবে কম্পিউটারে ৪ সেট পূরণ করে নিতে হবে।

এরপর পূরণকৃত ফরমটি নির্দিষ্ট দলিলপত্রাদি সহকারে পেটেন্ট,ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরে ( ৯১,মতিঝিল বা/এ, ঢাকা) নিচ তলায় অবস্থিত তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে জমা দিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের শাখা অফিস এর ঠিকানাঃ কক্ষ নং-২১৮, সরকারি কার্য ভবন-১, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।

তথ্য ও সেবাকেন্দ্র সঠিকভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্রের আবেদনকারীকে ক্রমিক নম্বর সহ একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দিবেন। 

এ সম্পর্কে বিস্তারিত নিম্নে বর্নিত হলোঃ 

১) ভিন্ন  ভিন্ন শ্রেণীভুক্ত পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা আবেদন করতে হবে এবং আবেদন ফরমের নির্ধারিত জায়গায় পণ্য/সেবা কোন শ্রেণীভুক্ত তা উল্লেখ করতে হবে। কোন ধরণের পণ্য বা সেবা কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত তা আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

৩) লেবেল বা মার্ক প্রমাণ সাইজের টেকসই কাগজের হতে হবে এবং আবেদনপত্রের নির্ধারিত জায়গায় আঠা দিয়ে লাগাতে হবে। মার্ক বা  লেবেল হিসেবে কোনো প্যাকেট/ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং  লেবেলের মধ্যে কোনো ধরনের ট্রেডমার্ক তা সুনির্দিষ্টভাবে (TM) চিহ্নিত করে দিতে হবে। ‍

উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া লেবেলে ®,BSTI,ISO বা অন্য কোন সংস্থার চিহ্ন রাখা যাবে না। মার্ক/লেবেল/লোগোতে বাংলা/ইংরেজী ব্যতীত অন্য যেকোনো ভাষা ব্যবহৃত হলে আবেদনপত্রের ৬নং কলামে সেটির ট্রান্সলেশন এবং ট্রান্সলিটারেশন দিতে হবে।

মার্ক/লোগোতে কোনো মানুষের ছবি ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট মানুষটির/অভিভাবকের অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।

৪) আবেদন ফরমটির ৩ নম্বর কলামে মার্কের/ লোগোর বর্ণনা বা বিবরণ দিতে হবে।

৫) আবেদন ফরমটির নির্ধারিত স্থানে পণ্য বা সেবার বিবরণ দিতে হবে।

৬) আবেদন ফরমটির ৭নম্বর কলামের (ক) অংশে ব্যক্তির নাম ও তথ্যাবলি এবং (খ) অংশে কোম্পানির নাম ও তথ্যাদি উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারী যদি কোম্পানি হয় তবে কোম্পানিটি কোন দেশের আইনে গঠিত তা উল্লেখ করতে হবে। 

৭) আবেদন ফরমটির ৭ নম্বর কলামের (গ) অংশে কোম্পানির ব্যবসার ধরণ জানাতে হবে। যেমন-প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক অথবা সেবাদানকারী ইত্যাদি।

অনলাইন থেকে আয় করা নিয়ে…

৮) আবেদন ফরমটির ৭ নম্বর কলামের (ক) অথবা (খ) অংশে আবেদনকারীর চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

৯) আবেদন ফরমটির ১০নম্বর কলামে মার্কের সুনির্দিষ্ট তারিখসহ ব্যবহারকাল উল্লেখ করতে হবে। মার্কটি ব্যবহৃত না হয়ে থাকলে উক্ত স্থানে “Proposed to be used” লিখে দিতে হবে।

১০) আবেদন ফরমটির নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর পুরো নাম, স্বাক্ষর, পদবী, ই-মেইল, মোবাইল/টেলিফোন নম্বর লিখতে হবে।

১১) আবেদনকারী ‘Priority Claim’  এর আবেদন করলে এর সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যুক্ত করতে হবে এবং আবেদনের ১১ নম্বর কলামে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

১২) যদি স্বত্বাধিকারী আইনজীবী বা তালিকাভুক্ত এজেন্ট এর মাধ্যমে আবেদনপত্র দাখিল করেন তবে মূল/সত্যায়িত GPA/PA (টিএম-১০) ফরমে যথাযথ স্ট্যাম্পসহ (GPA এর ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা এবং PA এর ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা) দিতে হবে।

১৩) আবেদন ফি রেজিস্ট্রার, ডিপিডিটি এর অনুকূলে যেকোন তফসিল ব্যাংকের মাধ্যমে অথবা পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে দাখিল করতে হবে।

১৪) আবেদন জমা দেওয়ার পূর্বে আবেদনকারী যদি চান আকাঙ্খিত মার্কটি ইতিমধ্যে কোন পণ্য/সেবার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত কিনা তা নির্দিষ্ট  ফি সহ (১০০০/-) টিম-৪ ফরমে আবেদনের মাধ্যমে দুই সপ্তাহের মধ্যে জানতে পারবে।

বিদেশী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই এজেন্ট বা আইনজীবীর সাহায্য নিতে হবে।

ধাপঃ২) আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সরবরাহকৃত সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং লোগো/মার্কটি পূর্বে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা কিংবা কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়।

যদি কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় তবে পরীক্ষক টিএমআর-১২ ফরমের মাধ্যমে তা আবেদনকারীকে অবহিত করবেন। আবেদনকারীর জবাব যদি সুস্পষ্ট হয় এবং যথাযথ বলে প্রমাণিত হয় কিংবা কোনো ত্রুটি যদি পরিলক্ষিত না হয় তবে মার্কটি জার্নালে প্রকাশের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।

ধাপঃ ৩) জার্নালে প্রকাশের অনুমতি লাভের পর নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদানের মাধ্যমে উক্ত মার্কটি জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। মার্কটি বি.জি প্রেসে মুদ্রনের জন্য টিএম-৯ ফরমে প্রেরণ করা হয়।

জার্নাল প্রকাশের পর পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যেকোনো কেউ উক্ত মার্ক বা লোগোটি যদি অনুপযুক্ত বা সাংঘর্ষিক মনে করেন তবে উক্ত ব্যক্তিটি এর জন্য মামলা করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া বা না হওয়া এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তী  কার্যক্রম এগিয়ে যায়।

জার্নালে প্রকাশের জন্য ফি ১০০০ টাকা এবং সঙ্গে ১৫% ভ্যাট প্রদান করতে হয়।

ধাপঃ৪) জার্নাল প্রকাশের পরে যদি উক্ত মার্কের বিপরীতে কোনো অভিযোগ না থাকে। অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগ ঠিক বলে প্রমাণিত না হয়। তবে আকাঙ্খিত লোগো/মার্কটি  টিএম-১১ ফরম পূরণ এবং নির্ধারিত ফি জমাকরণের মাধ্যমে ট্রেডমার্কটি নিবন্ধিত হবে এবং আবেদনকারী একটি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অর্জন করবেন।  

কেমন হতে পারে ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন ফি?

সাধারণত পণ্যের পরিমাণের উপর নির্ভর করে এই রেজিষ্ট্রেশন ফি এর ব্যাপারটি।

পণ্যের পরিমাণ-আবেদন ফি-নবায়ন ফি

১টি পণ্য- ১৫০০ টাকা- ৫০০০ টাকা

২-৪টি পণ্য- ২৫০০ টাকা- ১০০০০ টাকা

৫ এবং ততোধিক পণ্য- ৩৫০০ টাকা-১৫০০০ টাকাত

ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশনের সময়সীমা

ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকে ৭ বছরের জন্য। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার  আগেই নবায়নের আবেদন করলে ১০ বছরের জন্য নবায়ন করা যায়।

অনলাইন মার্কেটিং নিয়ে পোস্ট…

মেয়াদ পূরণের পরে চারমাসের মধ্যে বিলম্ব ফি এর মাধ্যমে টিএম-১৭ ফরমের মাধ্যমে পুনরায় আবেদন করা যাবে। ট্রেডমার্ক অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বার বার নবায়ন করা যেতে পারে। নবায়ন করা না হলে, শর্ত লঙ্ঘন করলে বা কোনো অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হতে পারে।

আমাদের শেষ কথাঃ

ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের ব্যাপারটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও যেকোনো ব্যবসা,সেবা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি একটি সুরক্ষাপত্র। তাই সকল ব্যবসায়িক মালিকানার অধিকারী ব্যক্তিকে এই বিষয় সুস্পষ্ট ধারনা রাখতে হবে এবং যথাযথভাবে নিয়মাবলি অনুযায়ী ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।

এই আর্টিকেল নিয়ে আরো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তএর খুব দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করব।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap