গ্রাফিক ডিজাইন কি ? কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন ?

গ্রাফিক ডিজাইন কি ? : গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে যদি আপনার, অ-আ-ক-খ জ্ঞানটুকুও না থাকে। তারপরও আপনি আজকের এই আর্টিকেল থেকে। গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কিত যাবতীয় প্রশ্নের উওর পেয়ে যাবেন।

আসলে গ্রাফিক ডিজাইন কি? কেন গ্রাফিক ডিজাইন করবেন? কিভাবে শিখবেন এবং ভবিষ্যতে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা কেমন থাকবে? গ্রাফিক ডিজাইন থেকে কিভাবে আয় করব বা কোথায় করব ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

গ্রাফিক ডিজাইন কি
গ্রাফিক ডিজাইন কি

তবে শুরুতেই আমরা জেনে নিবো, গ্রাফিক ডিজাইন আসলে কাদের জন্য উপযুক্ত। 

গ্রাফিক ডিজাইন কাদের জন্য?

দেখুন, আমাদের সবার ভেতরেই কোনো না কোনো প্রতিভা থাকে। কেউ ভালো খেলতে পারে, আবার কেউ ভালো লিখতে পারে। ঠিক তেমনি আপনার মধ্যে যদি আঁকি-বুঁকির প্রতিভা থাকে।

তাহলে গ্রাফিক সেক্টরে আপনাকে স্বাগতম। কারন আপনার এই প্রতিভার জোরে, গ্রাফিক সেক্টরে অনেকদুর পর্যন্ত যেতে পারবেন।

বর্তমানে অনলাইন সেক্টরে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা আকাশচুম্বী। পানির বোতল থেকে শুরু করে, সিনেমার দৃশ্য পর্যন্ত। সবখানেই রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইনের বিপুল চাহিদা। 

যদি আপনি নিজেকে একজন দক্ষ ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। তাহলে, গ্রাফিক ডিজাইনিং করে, নিজের একটা শক্তপোক্ত ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। তবে প্রশ্ন হলো, শুধু অঙ্কনের/আঁকাআঁকির প্রতিভা থাকলেই কি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হওয়া সম্ভব? 

উওরে বলবো, না! যদি কারো মধ্যে শুধু অঙ্কনের প্রতিভা থাকলেই সে ডিজাইনার হতো। তাহলে অলিতে গলিতে গ্রাফিক ডিজাইনার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতো। শুধু অঙ্কনের প্রতিভা নয়।

বরং আপনার ডিজাইনিংয়ের বিষয়ে যথেষ্ট ক্রিয়েটিভিটি থাকতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যদি আপনার ডিজাইনের ভাষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেন। তাহলে একটা মানসম্মত ক্যারিয়ার আপনার সাফল্যের দরজায় এসে কড়া নাড়বে।

সবসময় মনে রাখতে হবে, ডিজাইনিং হলো একটি ভাষা। ডিজাইনের এই ভাষাকে আপনি যতোটা ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। আপনি ঠিক ততোটাই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবেন।

আর যখন আপনি এই পর্যন্ত আসতে পারবেন। তখন আপনি নিজেকে একজন দক্ষ ডিজাইনার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন। 

গ্রাফিক ডিজাইন কি ?

আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছে। যারা মনে করে শুধু Logo, Vector, illusions কে গ্রাফিক ডিজাইন মনে করে। কিন্তু আদতে তা নয়। এগুলো হলো গ্রাফিক সেক্টরের কিছু অংশ মাএ। অপরদিকে গ্রাফিক ডিজাইন হলো বৃহৎ একটি প্ল্যাটফর্ম।

গ্রাফিক ও ডিজাইন- এই শব্দ দুটোকে যদি আমরা আলাদা করি। তাহলে গ্রাফিক এর অর্থ হলো, কালার (Colour) এর সংমিশ্রন। আর ডিজাইন (Design) এর অর্থ হলো নকশা।

যদি সংঙ্গায়িত করি, তাহলে এর অর্থ দাড়াবে, অসংখ্য কালারের সংমিশ্রণে কোনো দৃশ্যমান চিএের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তাকে বলা হয় গ্রাফিক ডিজাইন। 

আর যখন কোনো ব্যক্তি,তার ডিজাইন শিল্পকে পূর্নাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। তখন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় গ্রাফিক ডিজাইনার।

কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন ?

বর্তমানে অনলাইনে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জব আছে। যেমন, Web Design, SEO, App Development, Graphic Design সহো অনেক। এখন প্রশ্ন হলো, এতো ক্যাটাগরির JOB থাকতে। মানুষ কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবে? 

তাহলে শুনুন, Freelancing Market গুলোতে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে, যারা Graphics এর কাজ করে। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। 

এগুলো গল্প নয়, সত্যি। কারন গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন সবখানেই একটি ১০ টাকা দামের বিস্কুটের প্যাকেট থেকে শুরু করে, কোটি টাকার সিনেমার VFX পর্যন্ত৷ সবখানেই গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন।

হয়তবা আপনার মনে হতে পারে। আজকের দিনে না হয় গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যত যদি এই কাজের চাহিদা কমে যায়,তখন? 

অনলাইনে আয় করার উপায়…

যদি এমনটা ভেবে থাকেন, তাহলে শুনুন। ভবিষ্যত আমরা কেউ দেখতে পারিনা। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। যতোদিন অনলাইন মার্কেটপ্লেস থাকবে। ততোদিন গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদাও সমানভাবে বৃদ্ধি পাবে। 

একজন গ্রাফিক ডিজাইনারদের ডিমান্ড কিরকম। তা অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো তে, একটু ঢু মেরে আসলেই বুঝতে পারবেন।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে কি লাগে?

গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে আপনার মধ্যে বেশ কিছু গুনাবলি থাকতে হবে। চলুন সে বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। 

১| অদম্য ইচ্ছাঃ যদি আপনি নিজেকে একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাহলে আপনার মধ্যে ডিজাইন শেখার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে। হয়তবা শুরুর দিকে আপনার ডিজাইনিং বিষয়টাকে অনেক পানসে মনে হতে পারে।

ডিজাইন রিলেটেড সফটওয়্যার এবং টুলসগুলো অনেক কঠিন মনে হতে পারে। তাই বলে হাল ছাড়লে হবে না। আপনাকে “গ্রাফিক শিখতেই হবে, যেভাবেই হোক”- এমন ইচ্ছা আপনার মনের মধ্যে রাখতে হবে। 

২। কালার সিলেকশনঃ সত্যি কথা বলতে, যদি আপনি নিজেকে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তুলতে চান।তাহলে আপনাকে কালার (Colour) সিলেকশনে বেশ দক্ষ হতে হবে। কেননা, কোনো একটি ডিজাইনকে ফুটিয়ে তুলতে হলে, অবশ্যই সেই ডিজাইনের মধ্যে উপযুক্ত Colour প্রদান করতে হবে।

তবে আপনার মধ্যে যদি কালার ব্লাইন্ড জাতীয় কোনো সমস্যা থাকে। তাহলে আপনাকে এই সেক্টরে কাজ করতে হলে, বেশ সমস্যর সম্মুখীন হতে হবে।

৩। ক্রিয়েটিভিটিঃ ডিজাইনিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো,ক্রিয়েটিভিটি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজাইন এর মধ্যে নতুনত্ব আনার মতো দক্ষতা থাকতে হবে। হয়তবা, বর্তমানে যে ডিজাইন গুলোর বিপুল চাহিদা থাকবে।

ভবিষ্যতে সেই ডিজাইনের চাহিদা নাও থাকতে পারে। সেজন্য একজন ডিজাইনার হিসেবে আপনার মধ্য ক্রিয়েটিভিটি থাকা অত্যন্ত জরুরী। 

৪। উপযুক্ত ডিভাইসঃ আপনি গ্রাফিক ডিজাইন করবেন। অথচ আপনার ডিভাইস (Device) থাকবে না। তা কি করে হয়? সেজন্য আপনার কাছে খুব ভালো মানের একটি কম্পিউটার/ল্যাপটপ থাকতে হবে।যেখানে আপনি Graphic Design রিলেটেড যাবতীয় সফটওয়্যার গুলোকে পরিচালনা করবেন।

গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য কেমন ল্যাপটপ/কম্পিউটার ভালো হবে৷ সে সম্পর্কে এই আর্টিকেলের শেষের দিকে আলোচনা করবো।

৫। প্রয়োজনীয় টুলসঃ অনলাইন হোক,কিংবা অফলাইন। ডিজাইন রিলেটেড অনেক সফটওয়্যার Available রয়েছে। আপনার কাছে উপযুক্ত ডিভাইস থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সফটওয়্যার রয়েছে। সেগুলো আপনার কাছে অবশ্যই থাকতে হবে।

গ্রাফিক ডিজাইনে কি কি শিখা লাগে ?

গ্রাফিক ডিজাইনের কি কি শিখতে হবে। হয়তবা এমনটা বলা আমাদের ভুল হবে৷ আসলে আপনি ডিজাইনিং এর কোন জায়গা থেকে শেখা শুরু করতে চান। সেটিই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়। এমনটা হওয়া স্বাভাবিক যে,আপনি হয়তবা লোগো ডিজাইন দিয়ে শেখা শুরু করলেন।

অপরদিকে কেউ ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন দিয়ে শেখা শুরু করলো। আপনার ডিজাইনিং শিক্ষাটা যেখান থেকেই শুরু হোক না কেন। বর্তমানে সময়ে টিকে থাকতে হলে, আপনাকে নিচে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবশ্যই! অবশ্যই!! যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নিচে যতোগুলো বিষয় আলোচনা করবো। সেগুলোর সবকিছুই আপনাকে শিখতে হবে। কিন্তু এটা সত্য, আলোচিত এই বিষয়গুলোর মধ্যে, আপনি যতোগুলো বিষয় নিজের আয়ওে আনতে পারবেন। আপনার Designing Skills ততো বেশি স্ট্রং হবে।

তো চলুন, এবার জেনে নেয়া যাক। আসলে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে হলে৷ আপনাকে কোন কোন বিষয় গুলো সম্পর্কে  শিখতে হবে।

১। ব্যাকগ্রাউন্ট রিমুভঃ গ্রাফিক ডিজাইনের সবচেয়ে সহজ কাজ হলো কোনো পিকচার থেকে Background Remove করা। সদ্য ডিজাইনার হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষের শুরুটা হয় এই কাজটি দিয়ে। তাই যেহেতু আপনিও বিগেনার লেভেলের হয়ে থাকেন।তাহলে আপনাকেও ছোট কাজ থেকে শুরু করে ডিজাইন জগতে পদার্পন করা উচিত। 

২। লোগো ডিজাইনঃ কোনো ব্যক্তি যখন একটি কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানের শুরু করে। তখন সবাই চায়, তার কোম্পানিটা যেন একটি Brand এ পরিনত হয়। আর বর্তমান সময় অনুযায়ী, কোম্পানির সাথে সাথে একটা আর্কষনীয় লোগো খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।

তাই যতোই সময় যাচ্ছে, ততোই লোগো ডিজাইন এর চাহিদা ক্রমশ বেড়েই চলেছে৷ তাই যদি আপনি এখনও গ্রাফিক ডিজাইন শিখছেন বা শেখা শুরু করবেন৷ তাহলে প্রথমে লোগো ডিজাইন দিয়ে শুরু করাটা উওম হবে। 

৩। ভিজিটিং কার্ড ডিজাইনঃ আপনি জানলে অবাক হবেন। বর্তমান সময়ে মানুষ নিজের পরিচিতি প্রদানের জন্য। ভিজিটিং কার্ডের ব্যবহার করে থাকে। তাই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এর চাহিদাও বেড়েছে দ্বিগুন হারে।

সেজন্য লোগো ডিজাইনের পাশাপাশি ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন সম্পর্কে আপনার ধারনা রাখতে হবে। 

৪। পোষ্টার ডিজাইনঃ লোগো এবং ভিজিটিং কার্ড ডিজাইনের পাশাপাশি পোষ্টার ডিজাইন সম্পর্কেও আপনার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সিনেমার পোষ্টার থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা পর্যন্ত। সবখানেই পোষ্টার ডিজাইনের প্রয়োজন রয়েছে। 

৫। ভেক্টর আইকন ডিজাইনঃ যখন আপনার গ্রাফিক ডিজাইন সেক্টরে একটু মোটামুটি ধারনা থাকবে। তখন আপনি Vector Icon ডিজাইন শেখা উচিত।এই ভেক্টর আইকন গুলো আপনি অনলাইনের বিভিন্ন মার্কেটে সেল করে। প্রচুর পরিমান অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

৬। কার্টুন পেট্রিয়টঃ কোনো মানুষের পিকচার কিংবা অন্য কোনো পিকচারকে Cartoon এ রুপান্তরিত করাকে বলা হয়, Cartoon Patriot. যদি আপনি গ্রাফিক ডিজাইনের এই কাজটি খুব দক্ষতার সাথে করতে পারেন। তাহলে Buyers – রা  আপনাকে ভালে এমাউন্টে কাজ করার জন্য অফার করবে। 

৭। ওয়েবসাইট ডিজাইনঃ হয়তোবা আপনার মনে হতে পারে, এই কাজটা তো একজন ওয়েব ডিজাইনার করবে। তাহলে এখানে গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন হবে কেন? তাহলে শুনুন, Web Designer কোডিং করে একটি ওয়ানডে তৈরি করে, এটা সত্য।

কিন্তু কোডিং করার আগে সেই ওয়েবসাইটের ডিজাইন কিরকম হবে। সেটা নির্ধারন করে দেয় একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।অর্থ্যাৎ এখানেও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৮। মোবাইল এপস ডিজাইনঃ হাতে স্মার্টফোন নেই,বর্তমান সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর একটি স্মার্টফোন থাকলে বিভিন্ন ধরনের Third Party Apps ব্যবহার করতে হয়। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত এই এপস গুলো দেখতে কিরকম হবে, এপসের মেনু কোথায় থাকবে, কোন কালার (Colour) হবে।

এসব কিছু করে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।প্রতিনিয়ত অসংখ্য এপস পাবলিশ হয়ে থাকে। তাই যদি আপনার মোবাইল এপস ডিজাইনে দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। 

৯। ইউএক্স/ইউআই ডিজাইনঃ গ্রাফিক সেক্টরের অন্যান্য কাজের চেয়ে। সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড রয়েছে একজন Ux/Ui ডিজাইনারের। Buyers- রা এই কাজের জন্য একজন ডিজানারকে প্রচুর পরিমানে অর্থ প্রদান করে। যদি গ্রাফিক সেক্টরে নিজের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে চান। তাহলে অবশ্যই Ux/Ui Design সম্পর্কে দক্ষ হতে হবে। 

গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে কত দিন লাগে ?

এটা Conmon একটা প্রশ্ন। যারা গ্রাফিক সেক্টরে একেবারে নতুন। তাদের সবার মনে একবার হলেও এই প্রশ্নটি জেগে থাকে। যে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে মোট কতদিন সময় লাগবে। এবার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে সর্বমোট কতদিন লাগবে। সেটি আসলে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয় কারন, যে কোনো একটি কাজ শিখতে যদি আপনার ১ মাস লাগে। সেই কাজটি শিখতে আমার ২ মাস ও লাগতে পারে। কারন সবার ধারন ক্ষমতা বা শেখার ইচ্ছাশক্তি একরকম নয়।

তবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে আপনার সঠিক কত বছর লাগবে তা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও। আনুমানিক একটা নির্দিষ্ট সময় বের করা সম্ভব।

যেমন, আপনি যদি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিখতে চান। তাহলে আপনাকে কমপক্ষে ৪ বছর মেয়াদী কোর্স করতে হবে। যেখানে ডিজাইন সম্পর্কিত যাবতীয় হাতে কলমে শিখতে পারবেন।

অপরদিকে আপনি যদি নিজের চেষ্টায় গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে চান। তাহলে আপনার কতবছর সময় লাগবে, সেটি সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার উপর। তবে আপনি যদি মনোযোগ সহকারে শেখার চেষ্টা করেন। তাহলে ২ বছরের মধ্যে নিজেকে Improve করতে পারবেন।

আর যদি আপনার শেখার আগ্রহ কম থাকে। তাহলে স্যরি বস, আপনার জন্য গ্রাফিক ডিজাইন Suitable না। 

কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন?

গ্রাফিক ডিজাইন শেখার অনেকগুল মাধ্যম রয়েছে। তবে আমার দৃষ্টিকোন থেকে আপনি ২ ভাবে শিখতে পারবেন। যেমন,

  • কোর্স করার মাধ্যমে 
  • নিজের প্রচেষ্টায় /বিনামূল্যে 

চলন, কিভাবে আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন৷ সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

কোর্স করে গ্রাফিক ডিজাইন শিখুনঃ ডিজাইন শেখার উপযুক্ত মাধ্যম হলো, “কোর্স করা”। অফলাইন হোক কিংবা অনলাইন, আপনি কোর্স করে খুব সহজভাবে ডিজাইন সম্পর্কিত খুটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে শিখতে পারবেন। 

তবে কোর্স করে তো ডিজাইন শিখবেন। কিন্তু কোন কোর্সগুলো করবেন। সেটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা কোর্স রয়েছে ২ ধরনের। 

  • Paid Course
  • Free Course

একজন বিগেনার হিসেবে আপনার কোন কোর্সটি করা উচিত ৷ সে সম্পর্কে একটু পরে বলবো। তার আগে জেনে নেই যে পেইড কোর্সের সুবিধা ও অসুবিধা কি। এবং ফ্রী কোর্সের সুবিধা ও অসুবিধা কি। 

পেইড কোর্সঃ যেসব কোর্স অনলাইন কিংবা অফলাইনে টাকার বিনিময়ে কিনতে হয়। সেগুলোকে পেইড/প্রিমিয়াম কোর্স বলা হয়। যদি আপনি Paid Course করেন। তাহলে বেশ কিছু সুবিধা পাবেন। যেমন,

  • সহজ টিউটোরিয়ালঃ হ্যাঁ! এটা সত্যি। যদি আপনি ডিজাইন শেখার জন্য Paid Course কিনে থাকেন। তাহলে আপনাকে খুব সহজ Tutorial গুলো দেওয়া হবে। যাতে করে আপনার বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয়।
  • সাপোর্টঃ সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রিমিয়াম কোর্সগুলোতে সবসময় এডমিনের সাপোর্ট পাবেন। টিউটোরিয়াল দেখতে দেখতে যদি কোথাও বুঝতে না পারেন। তাহলে সরাসরি এডমিনকে প্রশ্ন করলে। তারা আপনার সমস্যার সমাধান করবে। 
  • টুলস/প্যাকঃ যেহুতু আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন। সেহুতু আপনার কাজ করার সময় বিভিন্ন ধরনের টুলসের প্রয়োজন হতে পারে। যখন আপনি প্রিমিয়াম কোর্স কিনবেন। তখন এই প্রয়োজনীয় টুলসগুলো সাপোর্ট টিম থেকে পেয়ে যাবেন। 

এগুলো হলো, প্রিমিয়াম কোর্সের সুবিধা। কিন্তু এর বিপরীতে বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন,

আরো পড়তে পারেন…

 

  • মানি প্রবলমেঃ দেখুন আমার সবার আর্থিক অবস্থা কিন্তু এক নয়। তাছাড়া যখন আমরা Learning Position এ থাকি। তখন আমাদের পরিবার থেকেও খুব একটা সাপোর্ট দেয় না। তাই আর্থিক সংকটের কারনে অনেকেই প্রিমিয়াম কোর্স কিনতে পারে না। 
  • কোর্স অফ বাটপারঃ বর্তমানে Real Life এর মতো অনলাইন সেক্টরেও কিন্তু চোর/বাটপারে ভরপুর। এমন অনেকেই আছে, কোর্স সেল করার জন্য যা কিছু করার দরকার। তার সবকিছুই করে।
  • বস্তাপঁচা টিউটোরিয়াল দিয়ে সাধারন পাবলিকদের টাকা মেরে দেয়াই তাদের মুল উদ্দেশ্যে। তাই যার কাছ থেকে কোর্স কিনবেন।তাদেরকে আগে ভালোভাবে জানবেন। নাহলে অর্থ ও শ্রম দুটোই জলে মিশে যাবে। 

যদি আপনি সাবধানতার সহিত প্রিমিয়াম কোর্স কিনে থাকেন। তাহলে অসুবিধার চেয়ে সুবিধা বেশি পাবেন। চলুন এবার জেনে নেই, Free Course এর সুবিধা ও অসুবিধা কি।

  • ফ্রী কোর্সের সুবিধাঃ যেহুতু ফ্রী কোর্স, সেহেতু এই টিউটোরিয়াল গুলো পেতে। আপনাকে কোনো প্রকার অর্থ ব্যয় করতে হবে না। 
  • ফ্রী কোর্সের অসুবিধাঃ সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, এই টিউটোরিয়াল গুলো সংগ্রহ করার জন্য। আপনাকে যথেষ্ট শ্রম দিতে হবে। কেননা,অনেক সময় আপনি টিউটোরিয়াল ডাউনলোড করবেন ঠিকি।
  • কিন্তু পরবর্তীতে টিউটোরিয়াল Follow করার সময় সেগুলো যথেস্ট ইনফরমেটিভ নাও হতে পারে। তাই Informative Tutorial পেতে হলে। আপনাকে বেশ শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হবে। 

যাক, এতোক্ষনে Course করে কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন। সে সম্পর্কে বুঝে গেছেন। এবার জেনে নেয়া যাক, কিভাবে অর্থ অপচয় না করে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন। 

কিভাবে বিনামূল্যে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন?

দেখুন, আপনি বিনামূল্যে ডিজাইন শিখছেন। সেটা বড় কথা নয়৷ আপনার ভিতরে ডিজাইন শেখার আগ্রহের পরিমান কতটুকু রয়েছে। সেটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কেননা বিনামূল্যে যে কোনো বিষয়ে শেখার জন্য অনেক সোর্স Google এবং YouTube এ আছে। প্রয়োজন শুধু সেই সোর্স গুলোকে খুজে বের করা। 

যদি আপনি বিনামূল্যে ডিজাইন শিখতে চান। তাহলে সর্বপ্রথম ইউটিউব কে প্রাধান্য দিতে হবে। কারন, ইউটিউবে গ্রাফিক রিলেটেড অনেক YT Channel আছে। যেখানে অনেক ইনফরমেটিভ Tips & Tricks শেয়ার করা হয়ে থাকে। 

প্রথম ধাপে আপনি গ্রাফিক রিলেটেড ইউটিউব চ্যানেল গুলোকে খুজে নিবেন। এরপরে আপনি প্রত্যেকটা চ্যানেলের ভিডিওগুলো একটু-আধটু করে দেখবেন। দেখার পরে আপনার কাজ হবে ফিল্টারিং করা। 

অর্থ্যাৎ, যেসব চ্যানেলের ভিডিও দেখার পর আপনার কাছে Useful মনে হবে। সেই সব চ্যানেল গুলোর একটা লিষ্ট তৈরি করবেন। এবং তাদের আপলোড করা টিউটোরিয়াল গুলো ফলো করবেন। তাদের করা ডিজাইনগুলো দেখে দেখে নিজেও সেরকম ডিজাইন করার চেষ্টা করবেন।

ডিজাইন শিখতে কি কি সফটওয়্যার দরকার পড়ে?

গ্রাফিক ডিজাইন শেখার জন্য, অনেক সফটওয়্যার available আছে। তার মধ্যে সবার সুপরিচিত এবং কাছের সফটওয়্যার হলো, Photoshop. সদ্য ডিজাইনার হিসেবে পা দেওয়া মানুষগুল সর্বপ্রথম পরিচিত হয় এই সফটওয়ারের সাথে। এটি মূলত Adobe কোম্পানির একটি প্রোডাক্ট।

আর Adobe- র প্রোডাক্ট মানেই অন্যকিছু। সেটা তো আমরা সবাই জানি। 

কিন্তু সমস্যা হলো,  Adobe Photoshop একটি পিক্সেল বেজ সফটওয়্যার। তাছাড়া এই সফটওয়্যারটি গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য হলেও। এর মূল কাজ হলো Photo Editing করা। যেমন,ম্যানুপুলেশন। 

সেজন্য আপনাকে ভেক্টর বেজ সফটওয়্যার দিয়ে গ্রাফিক ডিজাইনের জার্নিটা শুরু করা উচিত। আর পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় Vector base Software হলো Adobe Illustrator. এই সফটওয়্যারটি ও Adobe কোম্পানির একটি প্রোডাক্ট।

তবে কোম্পানি এক হলেও, এই ২ টা সফটওয়্যারের কাজ কিন্তু আলাদা। আর গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য উপযুক্ত সফটওয়্যার হলো,  Adobe illustrator. এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু সফটওয়্যার আছে। যেগুলো আপনার ডিজাইন স্কিলকে অনেকগুন বাড়িয়ে দিবে। যেমন,

  • CorelDRAW Graphics Suite 2019
  • Xara Designer Pro X
  • GIMP
  • Gravit Designer
  • Visme
  • Vectr
  • Colorcinch
  • Inkscape
  • Design Wizard 

উপরে আলোচিত সব গুলো সফটওয়্যার সাধারণত গ্রাফিক ডিজাইনের কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি একাধারে সবগুলো Software এ কাজ করবেন। যদি এমনটা করেন, তাহলে আপনার প্রচুর সময় ব্যয় হবে।

তবে আপনার ডিজাইনকে Improve করার জন্য প্রত্যেকটা সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারনা রাখা উচিত। যেন প্রয়োজন অনুসারে সেগুলোকে ব্যবহার করতে পারেন 

গ্রাফিক ডিজাইনার দেড় বর্তমান চাহিদা কেমন?

গ্রাফিক ডিজাইন হোক কিংবা ওয়েব ডিজাইন হোক। সবকিছুর ই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু দক্ষ ডিজাইনারের। যদি আপনার মাঝে ক্রিয়েটিভিটি থাকে।

যদি আপনি দক্ষ ডিজাইনার হয়ে থাকেন। তাহলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনার দাপট সর্বদাই বিরাজমান থাকবে।

কারণ, সবখানেই গ্রাফিকের যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য আমি শুরুতেই বলেছি, ১০ টাকা দামের বিস্কুটের প্যাকেট থেকে শুরু করে কোটি টাকার সিনেমার VFX পর্যন্ত। সবখানেই গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন হয় ।

আর যদি আপনার মনে এরকম প্রশ্ন জাগে যে, গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা না হয় বর্তমানে আকাশচুম্বী। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি এই সেক্টরের চাহিদা কমে যায়। তখন কি হবে?

এই প্রশ্নের উওরে আমি বলবো,মানুষ যতোদিন সৌখিন থাকবে। ঠিক ততোদিন ডিজানের চাহিদাও সমানতালে বাড়তেই থাকবে। কারন ডিজাইন বিষয়টি হলো সৌখিন। আর এ সৌখিনতা যতোদিন মানুষের মধ্যে থাকবে। গ্রাফিক ডিজাইনের দাপটও  ঠিক ততোদিন থাকবে।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখে কত টাকা আয় করা যেতে পারে ?

চলুন, এবার আসা যাক মূল বিষয়ে। আসলে আপনি যে এতো কষ্ট করে গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন। এরপরে একজন দক্ষ ডিজাইনার হবেন।কিন্তু একজন ডিজাইনার হওয়ার আপনি আসলে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন?

আপনি কত টাকা ইনকাম করবেন। সে বিষয়ে একটু পরে আসি।তার আগে আমাকে একটা প্রশ্নের উওর দিন। যে একজন দক্ষ ডিজাইনার হওয়ার পরে আপনি আসলে কত টাকা ইনকাম করতে চান? হাজার-হাজার টাকা,নাকি লক্ষ-লক্ষ টাকা?

দেখুন, আমি এই আর্টিকেলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডিজাইনার শব্দের পূর্বে দক্ষ শব্দটির ব্যবহার করেছি। এখানে দক্ষ শব্দটির ব্যবহার করার মূল কারন হলো। আপনাকে ডিজাইন সংবলিত বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এই অভিজ্ঞতার সাথে যখন আপনার ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে। কোনো ডিজাইনের মধ্যে নতুন মাএা যুক্ত করতে পারবেন। ঠিক তখনি আপনি হয়ে উঠবেন একজন দক্ষ ডিজাইনার। 

তো এবার ফিরে আসি মুল টপিকে। আপনি যদি গ্রাফিক রিলেটেড মার্কেটপ্লেস গুলো Research করেন। তাহলে বায়াররা ছোট ছোট কাজের জন্য একজন ডিজাইনার কে কি পরিমান Pay করে। তা দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। 

সামান্য লোগো ডিজাইনের জন্য 100$-200$ পর্যন্ত অফার করা হয়। এছাড়াও যখন আপনি Ux/Ui Designer হতে পারবেন। তখন আপনাকে প্রতিটা কাজের জন্য 200$-500$ পর্যন্ত হায়ার করবে। 

সেদিক থেকে বিবেচনা করলে বলা যাবে,একজন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করে। আপনি প্রতি মাসে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন। 

কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখে আয় করবেন?

এবার আসা যাক ফাইনাল টাস্কে। আপনি এতোক্ষনে জানলেন, কিভাবে একজন দক্ষ ডিজাইনার হওয়া যায়, কোন কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। এবং প্রতি মাসে কত টাকা ইনকাম করা যায়।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন শিখে কিভাবে বা কোথায় আয় করবেন? এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

আপনার জন্য আরো…

যখন আপনার ক্রিয়েটিভিটি কে কাজে লাগিয়ে একজন দক্ষ ডিজাইনার হয়ে উঠবেন। তখন আপনার এই ক্রিয়েটিভ ডিজাইনকে বিভিন্ন গ্রাফিক রিলেটেড Online Marketplace গুলোতে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

আমি এই আর্টিকেলের শুরু থেকে Online Marketplace এর কথা বলে আসছি। কিন্তু এই অনলাইন মার্কেট কোনগুলো। সেটা কিন্তু বলিনি। এবার চলুন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের মার্কেট রয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত মার্কেট হলো,

  • 99designs: একজন ট্যালেন্টেড ডিজানারের জন্য ইনকাম করার উপযুক্ত স্থান হলো 99designs. বিশ্বের বড় বড় ডিজাইনার এখান থেকে তাদের তৈরিকৃত ডিজাইন গুলোকে বিক্রি করে আসছে।
  • শুধু তাই নয়, এই মার্কেটে রয়েছে বিপুল সংখ্যক Buyers. যারা ডিজাইনারদের কাছ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো করিয়ে নেন। যার সুবাদে Designer রা বেশ ভালো পরিমানে ইনকাম করে থাকেন। 
  • Behance: এই মার্কেটপ্লেসের সূচনা হয়েছিলো ২০০৬ সাল থেকে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটের মধ্যে একটি হলো Behance.যদি আপনি এই মার্কেটে আপনার ডিজাইনিং ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে ইনকাম করতে চান।
  • তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে একটি Portfolio Profile Create করতে হবে। তারপর সেখানে আপনার ডিজাইনগুলো জমা করতে হবে। যেমনটা, একটি কাপড়ের দোকানদার করে থাকে।
  • এখন Buyers রা আপনার Portfolio তে আসার পর। আপনার Display করা ডিজাইনগুলোকে দেখবে। যদি আপনার ডিজাইন তাদের পছন্দ হয়। তাহলে তারা আপনাকে Money Offer করবে। যদি আপনার কাছে তাদের অফার উপযুক্ত মনে হয়। তাহলে আপনি আপনার ডিজাইন সেল করে ইনকাম করতে পারবেন।
  • CrowdSpring: এমনটা হতে পারে যে, আপনি সবেমাএ লোগো ডিজাইন সম্পর্কে শিখেছেন। কিন্তু আপনি চাচ্ছেন, এখন থেকেই স্বল্প পরিসরে একটু ইনকাম করতে।
  • তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস হবে CrowdSpring. এখানে আপনি ডিজাইনিং শেখার পাশাপাশি। ছোট-খাটো লোগো ডিজাইন করে বেশ ভালো পরিমানে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। 
  • My Fonts: যদি আপনি গ্রাফিক সেক্টরের Typography (টাইপোগ্রাফি) নিয়ে কাজ করে থাকেন। তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত মার্কেট হলো My Fonts. আপনার নিজের টাইপোগ্রাফি গুলো সেল করে। এই মার্কেট থেকে ইনকাম জেনারেট করে পারবেন। 
  • Fiverr: এই মার্কেটের সূচনা হয়েছিলো ২০০৯ সালে। তখন থেকে আজ পর্যন্ত সততার সাথে কাজ করছে বলে। এই মার্কেটের জনপ্রিয়তা এখনও বেড়েই চলছে।
  • এখানে আপনি আপনার Create করা ডিজাইনগুলো সেল করে। প্রতিটি ডিজাইনের মূল্য 200$-500$ পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন। 
  • এ ছাড়াও আপনি Upwork.com and freelancer.com এ গ্রাফিক ডিজাইন করে আয় করতে পারবেন।

এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু অনলাইন মার্কেট রয়েছে। যেমন,

  • GraphicRiver
  • Shutterstock
  • Hatchwise
  • DesignCrowd
  • Art Web
  • Designhill
  • Society 6
  • Big Cartel
  • Redbubble

উপরে আলোচিত সবগুলো মার্কেট বিশ্বস্ত। এবং জনপ্রিয়তা  সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ফ্রীল্যান্সাররা এসব মার্কেটে কাজ করে। 

আমাদের শেষ কথা

আশা করি গ্রাফিক্স ডিজাইন রিলেটেড যাবতীয় বিষয়গুলো বুঝে গেছেন। সবশেষে ১ টা কথা বলবো, সর্বদাই মনে রাখবেন। বর্তমানে  ক্রিয়েটিভিটি না থাকলে, কোথাও টিকে মুশকিল।

হোক সেটা Online Life অথবা Real Life. তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখুন। দেখবেন, সাফল্য দরজায় কড়া নাড়ছে। 

আমাদের বাংলা আইটি ব্লগে অনলাইনে ইনকাম নিয়ে আরো অনেক আর্টিকেল পাবেন। আমরা প্রতিনিয়ত ব্লগটি নতুন নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করি শুধু আপনাদের জন্য। আমাদের ব্লগ নিয়ে কিছু জানার থাকলে ইমাইলে কন্টাক করুন বা পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Related article

3 thoughts on “গ্রাফিক ডিজাইন কি ? কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন ?”

  1. আমিনা খানম

    আপনার ব্লগের ডিজাইন অনেক সুন্দর আর আর্টিকেল গুলা আমার অনেক ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া

    1. ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য …। এরকম আরো অনেক আর্টিকেল আমাদের ব্লগে আছে … আপনি দেখে নিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখা কপি করবেন না!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap