ফ্রিলান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করব ? (freelancing Bangla guide)

ফ্রিল্যান্সিং কি? কেন মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করছে? আর ফ্রিল্যান্সিং করে কি সত্যি ইনকাম করা সম্ভব? এই প্রশ্ন গুলি কোনো না কোনো সময় আপনার মনে জেগে থাকবে। কারন, আপনার আনাচে-কানাচে,অলিতে-গলিতে যেখানেই তাকবেন।

সেখানেই কোনো না কোনো ভাবে ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি একবার হলেও শুনে থাকবেন। কারন বর্তমান প্রজন্ম আজ এতোটাই ঝুঁকে পড়ছে এই ফ্রিল্যান্সিং এর উপর। যা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 

ফ্রিলান্সিং কি
ফ্রিলান্সিং কি

তাই আমিও আজকে লিখতে শুরু করলাম ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে। আমার দীর্ঘ ৬ বছরের ফ্রিল্যান্সিং অভিজ্ঞতা থেকে যতোটুকু জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি। তার সবকিছুই শেয়ার করার চেস্টা করবো এই একটি আর্টিকেলের মাধ্যমে।

যারা মূলত নতুন, একবারে বিগেনার লেভেলের। তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ন। আপনার ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা থেকে ইনকাম করা অবধি, যে বিষয়গুলো রয়েছে। তার সবকিছুই আজকে ছোট্ট আকারে আলোচনা করবো।

এর পাশাপাশি কিভাবে কম সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং করে একটা সফল ক্যারিয়ার গড়বেন। সে বিষয়েও কিছু নিনজা টেকনিক শেয়ার করবো আপনার সাথে। 

ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে?

এইতো কয়েক বছর আগের কথা। যখন আমরা জানতাম ই না যে ইন্টারনেট কি জিনিস। কিভাবে এর ব্যবহার করতে হয়। সে সময়ে ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো কোনো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াও ছিলো না।

আর ফ্রিল্যান্সিং, সে তো অনেক দুরের কথা। কিন্তু বর্তমান সময়টা অনেক বদলে গেছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এখনকার যুগের ও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

অতীতে যে মানুষ গুলো জানতো ই না যে মোবাইল কি জিনিস। সেই মানুষ গুলোর হাতে হাতে এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার দেখা যায়। ধীরে ধীরে আমরা বুঝে গেছি যে, ইন্টারনেট কি জিনিস।

আপনার জন্য আর পোস্ট…

আর এটাও জেনে গেছি, এখন ইন্টারনেট থেকে ইনকামও করা সম্ভব। তবে সেই জানার মধ্যে এখন আমরা থেমে নেই। বর্তমানে আপনার আশে-পাশে তাকালেই দেখবেন।

কেউ একজন ফ্রিল্যান্সিং করে রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছে। এটা গল্প নয়, বাস্তব!  বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুন-তরুনী, অনলাইন থেকে ইনকাম করছে। 

সত্যি বলতে, অনলাইন থেকে টাকা করার অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং হলো অন্যতম মাধ্যম। যেখানে আপনার স্কিল (Skills) দেখিয়ে ইনকাম করবেন পারবেন।

সেটাও আবার ইন্টারনেট থেকে।তাই চলুন, এবার আমরা জানবো, যে  ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি জিনিস। কিভাবে এই ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে হয়।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্তপেশা। যে পেশায় আপনার কোনো বস থাকবে না। বরং আপনিই আপনার বস। এটিই হলো সবচেয়ে বড় কথা। সারাদিন ঘরে বসে কম্পিউটারে কাজ করে ইনকাম করার পদ্ধতি কে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।

অনেক ফ্রীল্যান্সার বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন।আপনাকে বিদেশি Buyers রা কাজ দিবে। আপনি সেই কাজ গুলো করবেন। এবং সেই কাজের বিনিময়ে আপনি টাকা পাবেন। 

এই হলো ফ্রিল্যান্সিং এর মূল চক্র। পৃথিবীতে যতো ফ্রিল্যান্সার আছে। তারা সবাই এভাবেই কাজ করে ইনকাম করে। এখন অনেক মানুষ আছেন, যারা ” ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং ” কে এক জিনিস মনে করে। আদতে তা সত্য নয় বরং এই দুটোর ক্যাটাগরি এক হলেও।

ব্যাবহারিক দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই ফ্রিল্যান্সিং কি সেটি জানার পাশাপাশি। আউটসোর্সিং কি জিনিস। সেটিও জেনে নেই। 

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি? 

যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং করেও অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। আবার আউটসোর্সিং করেও অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়। তাই আমরা অনেকেই এই দুটোকে এক জিনিস মনে করি। কিন্তু এই দুটোই কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই দুটো মাধ্যম থেকে অনলাইন থেকে ইনকাম করা হলেও।কাজের মধ্যে অনেক তারতম্য রয়েছে। যেমনটা আপনি জানেন, ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেএে buyers দের কাজ করে তারপর টাকা পাওয়া যায়।

কিন্তু এখানে আপনি কোনো না কোনো বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এখন আপনাকে ডিজাইনের কাজ করে ইনকাম করতে হবে। অপরদিকে আউটসোর্সিং একই ভাবে বিভিন্ন কাজ করে ইনকাম করতে হয়।

তবে এখানে কোনো প্রকার দক্ষতার প্রয়োজন হয়না। যদি আপনার মোটামুটি অনলাইনের পাবলিকদের নাড়াচাড়া করার মতো ব্রেইন থাকে। তাহলে আপনি আউটসোর্সিং করে। বিপুল পরিমাণ ইনকাম করতে পারবেন।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন। টাকা ইনকাম করার কোনো পথ সহজ নয়। সেটা হতে পারে অনলাইন সেক্টর কিংবা রিয়েল লাইফ। সব জায়গাতে টাকা ইনকামের জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতেই হবে। 

ফ্রিল্যান্সিং কাদের জন্য? 

একটা কথা বলুন তো “সবাই কি চুরি করতে পারে”?  না। সবাই কিন্তু পারবে না। তারপরেও দেখবেন কিছু লোক আছে। তারা খুব দক্ষতার সাথে চুরি করতে পারে। কারন তাদের কাছে চুরি করার দক্ষতা আছে। 

ঠিক তেমনি, আপনার যদি কোনো দক্ষতা না থাকে। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে ঠিক লবন বিহীন তরকারি মতো। কেননা, এখানেও আপনাকে কোনো না কোনো দক্ষতা দেখিয়ে।

তারপর ইনকাম করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই দক্ষতা কি সবাই অর্জন করতে পারবে?  – উওরে বলবো,না। যদি এমনটা হতো, তাহলে প্রতি ঘরে ঘরে আজ একটা করে ফ্রিল্যান্সার থাকতো।

যদি আপনি নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাহলে আপনাকে কোনো না কোনো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনার ভেতর নিচের সবগুলো গুনাবলি থাকতে হবে। যেমন,

কম্পিউটার মাষ্টার 

একাধারে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের কাজ করার মতো ইচ্ছা থাকতে হবে। হয়তবা এমনও হতে পারে যে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় আপনাকে কম্পিউটার / ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকতে হবে। এর ফলে যদি আপনার বিরক্তি আসে। তাহলে ফ্রিল্যান্সিং কে গুডবাই জানিয়ে দিন। 

ধৈর্যের সাগর

আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন, আর আপনার মধ্যে ধৈর্য থাকবে না। তা কি করে হয়! ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ শেখার সময় হোক, কিংবা কাজ করার সময় হোক। আপনার মধ্যে ধৈর্য অবশ্যই থাকতে হবে। আর এটা তো সত্যি যে, ধৈর্যের ফল সর্বদা সুমিষ্ঠ হয়। 

শেখার আগ্রহ

আপনার মধ্যে শেখার আগ্রহ সবার উর্ধে থাকতে হবে। কারন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে নিজেকে সর্বদা আপ টু ডেট রাখতে হয়। এমন অনেক সময় দেখা যায়, আজকে যে কাজ গুলো করে ফ্রিল্যান্সাররা অঢেল টাকা ইনকাম করছে।

ভবিষ্যতে সেই কাজের চাহিদা না থাকতে পারে। তখন তাৎক্ষণিক ভাবে যে কাজের চাহিদা রয়েছে। সেই কাজ গুলো শিখে নেয়ার মতো প্রচন্ড আগ্রহ থাকতে হবে। যদি আপনার মধ্যে শেখার আগ্রহ কম থাকে। তাহলে আপনি ঝড়ে পড়বেন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর থেকে। 

ইংরেজি স্পিকিং 

যেহুতু আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন। সেহুতু আপনাকে বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কাজ করতে হবে। এখন ওরা আপনাকে কাজ দিবে। আর আপনি কাজ করে টাকা নিবেন।

আপনি আরো পড়ুন…

বিষয়টা আসলে এরকম না। এর মাঝে buyers রা আপনার সাথে কথা বলবে। তারা কাজের বিষয়ে আপনার সাথে আলোচনা করবে। এখন তারা তো আর বাংলা ভাষাতে কথা বলবে না। তাই তাদের সাথে কথা বলতে হলে, আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি জানতেই হবে। 

হতাশ ম্যান

যখন আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন। তখন এমন কিছু সময় আসবে। আপনি প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আবার এমন সময়ও আসবে৷ যখন প্রচুর ইনকাম তো দুরের কথা৷ কাজ খুজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়বে। তখন আপনি হতাশ হলে চলবে না।

এটা সত্যি যে, যদি আপনি কাজ ভালো জেনে থাকেন। তাহলে আপনার ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজের অভাব হবে না। তবে কোনো কারনে যদি এমনটা হয়। তাহলে আপনি যদি হতাশ হয়ে পড়েন। তাহলে “তেলে মাখা মুড়ি আর চানাচুর” – দুটোই হারাবে। 

আমার দৃষ্টিকোন থেকে যদি আপনার মধ্যে উপরোক্ত গুণাবলি গুলো থাকে। তাহলে একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য আপনার পথে যতোই বাধা আসুক না কেন। আপনি সেই বাধাকে খুব সহজেই অতিক্রম করতে পারবেন।

ধরে নিলাম যে, আপনার ভেতরে এই সব গুনাবলি গুলো বিরাজমান। তাই এবার চলুন, আমরা জেনে নিবো, ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে হলে। কি কি কাজ করতে হবে। 

ফ্রিল্যান্সিং এর কি কি কাজ আছে?

সত্যি বলতে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে। আপনি চাইলে যে কোনো কাজ করে ইনকাম করতে পারবেন। প্রয়োজন শুধু আপনার যে কোনো একটি কাজে পূর্নাঙ্গ দক্ষতা অর্জন করা। যে দক্ষতার বিনিময়ে আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনেক রকমের কাজ থাকলেও, আজকে আমি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ কাজ গুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো। সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজের মধ্যে সর্বপ্রথম কাজটি হলো।

ডিজাইনিং কাজ

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে যতো ধরনের কাজ রয়েছে। তার মধ্যে  ডিজাইনিং এর চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। ডিজাইনিং সেক্টরে একেকটা ফ্রিল্যান্সার প্রতিটা কাজের জন্য মিনিমাম 50$ থেকে 500$ পর্যন্ত বিট করে থাকে।

এবং যদি আপনি একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার হয়ে থাকেন। তাহলে Buyers রা আপনাকে ঘন্টা প্রতি 30$ থেকে 50$ পর্যন্ত Hire করবে। তবে ডিজাইনিং সেক্টরে আরও বেশ কিছু কাজ আছে। আপনি এই গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। যেমন,

  1. 2D Animation 
  2. App Designer 
  3. Banner Design 
  4. After Effects 
  5. 3ds Max
  6. 3D Modelling 
  7. Creative Design 
  8. Fashion Design
  9. Flyer Design 
  10. Illustration 
  11. Icon Design
  12. Logo Design 
  13. Photo Editing
  14. Photoshop 
  15. Website Design 

 ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা যথেষ্ট রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, গ্রাফিক ডিজাইন কিন্তু একটি বিষয়ের উপর নয়। বরং এই কাজের অনেক গুলো ভাগ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৫ টি কাজের কথা আমি উল্লেখ করেছি ৷

যদি আপনি ডিজাইনিং এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান। তাহলে উপরে আলোচিত যে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে আপনার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি শুরু করতে পারবেন। 

কোডিং এবং প্রোগ্রামিং কাজ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে চাহিদা এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকে কোডিং এবং প্রোগ্রামিং এর চাহিদা কোনো অংশেই কম নয়। আপনি জানলে অবাক হবেন, যদি আপনার কোডিং অথবা প্রোগ্রামিং জানা থাকে।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন। যেহুতু এই কাজে অসংখ্য Code / Programme মনে রাখতে হয়। তাই অনেকেই এই কাজকে কঠিন মনে করে। তাই বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সারনরা এই কাজে আসতে অনীহা প্রকাশ করে।

অন্যান্য কাজের মতো এই কাজের ও বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। যেমন,

  1. Application Programming 
  2. AngularJS 
  3. Backend Development 
  4. C Programming 
  5. C++ Programming
  6. Game Development
  7. HTML5 
  8. JavaScript 
  9. jQuery 
  10. WordPress 
  11. PHP
  12. Website Design 
  13. Java
  14. Software Development 
  15. Web Development 

প্রোগ্রামিং এবং কোডিং এর অনেক গুলো ভাগ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৫ টি কাজের কথা উল্লেখ করছি। আর যদি আপনি নিজেকে একজন প্রোগ্রামার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

এবং এই কাজের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান।তাহলে PHP/Javascript/Angular/HTML5 এর মধ্যে যেকোনো একটি কাজ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর জার্নিটা শুরু করতে পারবেন। 

লেখা-লেখির কাজ

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে সবচেয়ে সম্মানজনক কাজ হলো, রাইটিং (Writing). তবে আপনার কাছে এই কাজটি অনেক ছোট মনে হতে পারে। তবে জেনে রাখুন, লেখালেখির কাজ করেও আপনি বিপুল পরিমান অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

হয়তবা আপনার অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু মার্কেটপ্লেস গুলো একটি রিসার্চ করলেই দেখতে পারবেন। একেকটা রাইটার তাদের পারিশ্রমিকের জন্য ঘন্টায় 30$ থেকে 50$ পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।

অবশ্যয় পড়ুন…

তবে শুধু ইনকামের দিকে তাকালেই হবে না। ইনকাম করার আগে আপনাকে একজন দক্ষ রাইটার হতে হবে। যদি আপনি নিজেকে একজন দক্ষ রাইটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাহলে নিন্মোক্ত যে কোনো একটি বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট করুন। যেমন,

  1. Academic Writing
  2. Article Writing 
  3. Article Rewriting
  4. Blog Writing
  5. Business Writing 
  6. Content Writing 
  7. Copy Typing 
  8. Copywriting 
  9. Ghostwriting
  10. Report Writing 
  11. Technical Writing

আপনি এই গুলোর মধ্যে যে কোনো একটি বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট করুন। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিষয় গুলো সম্পর্কেও লেখার চেষ্টা করুন। এক পর্যায়ে যখন নিজেকে একজন দক্ষ রাইটার হিসেবে পরিনত করতে পারবেন। তখন আপনি নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন যে, একজন রাইটারের পেশাটা কতটুকু সম্মানজনক।

বহুভাষী জানা

এই কাজটি ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে বেশি ডিমান্ডেবল। যদি আপনার মধ্যে বহুভাষীর দক্ষতা থাকে। তাহলে, শুধু ফিল্যান্সিং নয়। বরং বাস্তবিক জীবনেও আপনার ডিমান্ড থাকবে সবার শীর্ষে। এই কাজটি তাদের জন্য উপযুক্ত, যারা একের অধিক ভাষা জানে। 

হতে পারে, আপনি বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ভাষা রপ্ত করেছেন। এখন এই দক্ষতার জোরে আপনি যদি ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আসেন। তাহলে আপনার কাজের কখনও অভাব হবে না।

এছাড়া এই কাজের জন্য Buyers রা  High Rate দিয়ে অফার করে থাকে। যদি আপনি একের অধিক ভাষা জেনে থাকেন। তাহলে ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনার দাপট সর্বদাই বিরাজমান থাকবে। 

 সেলস & মার্কেটিং কাজ

আপনাকে আগে জানতে হবে, “সেলস এন্ড মার্কেটিং”- জিনিসটা আসলে কি। এই কাজে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে আপনাকে প্রোডাক্ট দেয়া হবে। এখন সেই প্রোডাক্ট গুলোকে আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে সেল অথবা প্রচার করতে হবে।

এই কাজের জন্য মিনিমাম স্যালারির পাশাপাশি প্রতিটা প্রোডাক্ট সেল করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন দিবে। এখন প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন আপনার কথায় সেই প্রোডাক্ট গুলো কিনবে? আর কেন তারা আপনার প্রচারকে বিশ্বাস করবে? 

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে যদি আপনি সেলস এবং মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আপনার নিজস্ব একটি কমিউনিটি থাকতে হবে। যেখানে হিউজ পরিমান অডিয়্যান্স থাকতে হবে। যেখানে আপনার উপর তাদের অগাধ বিশ্বাস থাকবে।

তাহলেই আপনি এই কাজটির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে। নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এই কাজগুলো ছাড়াও আরও অনেক কাজ রয়েছে ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে। তবে আমি সবচেয়ে বেশি ডিমান্পন্ডেবল এবং জনপ্রিয় কাজগুলো উল্লেখ করার চেস্টা করেছি।

এখন মূল বিষয় হলো,আপনি একজন বিগেনার হিসেবে ফিল্যান্সিং এর এই কাজগুলো কিভাবে শিখবেন। 

আপনার কি কি শেখা উচিত?

ফিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করতে হয়। এসব জানার পর হয়তবা আপনি দ্বিধায় পড়ে যাবেন। আসলে আপনার কোন কাজটি শেখা উচিত আর কোন কাজটি শেখা উচিত নয়। এবং নতুনদের ক্ষেএে এই সমস্যা হওয়ার প্রবনতা সব থেকে বেশি। তাই এবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। 

ফিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে কাজ করতে হলে, আপনার কি কি কাজ শেখা উচিত। সেটি জানতে হলে,একাকী নিরবে বসে আপনাকে একটু ভাবতে হবে। এই প্রশ্নটা নিজেকেই করুন যে,আপনি আসলে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ।

এমন কোন বিষয় আছে, যে কাজ গুলো ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের স্কিনের সামনে বসে করতে পারবেন। কিন্তু কোনো প্রকার বিরক্তি আসবে না।

এখন আমি আপনাকে বললাম,গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা বেশি। তাই বলে আপনি যে গ্রাফিক ডিজাইনার হতে হবে। আসলে বিষয়টা এমন নয়। এমনও তো হতে পারে, আপনার কোডিং সম্পর্কে আগ্রহ বেশি। 

যে কাজে আপনার আগ্রহ নেই। সেই কাজটি যদি আপনি জোর করে করতে চান। তাহলে প্রথম এক মাস বা এক বছর কাজ করবেন। কিন্তু একটা সময় আসবে, যখন আপনি সেই কাজে বিরক্ত হয়ে পড়বেন।

সেই কাজের প্রতি বেশ অনীহা চলে আসবে। তাহলে কিন্তু ফিল্যান্সিং করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। তাই কোনো কাজ শেখার আগে, নিজেকে বারবার প্রশ্ন করুন। আপনি যে কাজটি করতে চাচ্ছেন, সেই কাজে সত্যিই কি আপনার ভালোবাসে আছে কিনা।

যদি উওর হ্যাঁ হয়। তাহলে এরপরের কাজ হলো, আপনার কাজটি সম্পর্কে ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে রিসার্চ করা। এখন এমন একটি কাজ সিলেক্ট করলেন৷ যে কাজের চাহিদা কম। তাহলেও কিন্তু আপনি মহাবিপদে পড়ে যাবেন।

কারন, ফিল্যান্সিং মার্কেটে যে কাজের চাহিদা কম, যে কাজের Buyers নেই। সেই কাজ শিখেও আপনার কোনো লাভ হবে না। তাই, ফিল্যান্সিং করে সফলতা আনতে হলে। এমন একটি কাজ খুজে নিন। যেই কাজে আপনার যথেষ্ট আগ্রহ থাকবে। এর পাশাপাশি ফিল্যান্সিং মার্কেটে সেই কাজের চাহিদাও থাকবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো?

যদি আপনার মনে এই ইচ্ছাটা থাকে,” যেভাবেই হোক আপনি ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন তারপর হাল ছাড়বেন”। তাহলে আপনি সর্বোমোট ৩ (তিন) টি উপায়ে ফিল্যান্সিং শিখতে পারবেন। যেমন,

অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে

যেহেতু প্রযুক্তি এখন অনেকটা এগিয়ে গেছে। সেহুতু যে কোনো বিষয়ে শিক্ষার কাজটাও এখন বেশ সহজ হয়েছে। কোনো বিষয়ে শেখার জন্য অনলাইন হয়ে উঠেছে এক অন্যতম মাধ্যম। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনিও ফিল্যান্সিং করার যেকেনো কাজ শিখে নিতে পারবেন।

এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে। যেখানে কোনো একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ টিউটোরিয়াল দেয়া থাকে। এবং এই টিউটোরিয়াল গুলো কোনো না কোন এক্সপার্ট ব্যক্তিরা তৈরি করে থাকে। আপনি এই কোর্সগুলো দেখে দেখে ঘরে বসে ফিল্যান্সিং এর কাজ গুলো শিখে নিতে পারবেন। 

আইটি সেন্টারের মাধ্যমে 

এমন অনেক আইটি সেন্টার আছে। যেখানে অভিজ্ঞ ব্যাক্তিরা শেখার জন্য টিচিং করে থাকে। এখন যদি আপনি একাডেমিক শিক্ষার মতো ফিল্যান্সিং এর কাজ গুলো শিখে নেয়া পারবেন। যদি আপনি কোনো আইটি সেন্টারের মাধ্যমে ফিল্যান্সিং শিখতে চান।

তাহলে আপনাকে বেশ অর্থ ব্যয় করতে হবে। যদি আপনার অর্থ ব্যয় করার মতো সামর্থ্য থাকে। তাহলে, আপনি কোনে একটা আইটি সেন্টার থেকে শিখে নিতে পারবেন। 

তবে মনে রাখবেন,বর্তমানে আইটি সেন্টারের নামে অনেক বাটপার, চিটারে ভরপুর। ভুলেও এদের ফাঁদে পা দিবেন না। যদি কোনো ক্রমে এইসব বাটপারের ফাঁদে পা দেন।

তাহলে আপনার ফিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্নটা নিমিষেই ধুলিষাৎ হয়ে যাবে। তাই এই ক্ষেত্রে সদা সর্বদা সজাগ থাকবেন। 

ফ্রি সোর্সের মাধ্যমে 

ফিল্যান্সিং কাজগুলো শেখার জন্য অনলাইনে হাজার হাজার ফ্রি সোর্স রয়েছে। যেমন, আপনি বর্তমানে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে ফিল্যান্সিং সম্পর্কে এতো কিছু জানতে পারছেন। এটাও কিন্তু একটা ফ্রি সোর্স। 

ঠিক তেমনি, আপনি যে বিষয়ে ফিল্যান্সিং শিখতে চান। সে বিষয়ে যদি YouTube কিংবা Google এ ঘাটাঘাটি করেন। তাহলে আপনি অনেক তথ্য এবং টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন। আপনি এসব টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমে ঘরে বসে প্রাকটিস করেও ফিল্যান্সিং এর কাজ গুলো শিখে নিতে পারবেন। 

ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল?

এটি আমাদের জাতীয় প্রশ্ন। এই প্রশ্নটি সচরাচর তাদেরকেই করতে দেখেছি। যারা মূলত ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে ছিটকে পড়েছে। এরপর কোনো উপায় না দেখে ধর্মের কল টেনে অন্যদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে।

যেহুতু আজকে ফিল্যান্সিং সম্পর্কে লিখছি।তাই আমি মনে করি,এই বিষয়টি নিয়েও যথোপযুক্ত আলোচনা করা উচিত। সবার আগে একটা কথা বলবো, যেখানে ধর্ম থাকে, সেখানে অধর্ম থাকে। যেমনটা কষ্ট না থাকলে আপনি সুখের মর্ম বুঝবেন না। ঠিক তেমনি অধর্ম না থাকলে আসলে ধর্ম কি। সেটি আপনি অনুভব করতে পারবেন না। 

ফিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোও ঠিক এমনি। এখানে কিন্তু আপনাকে কেউ চেহারা দেখে টাকা দিবে না। টাকা ইনকাম করতে হলে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের স্কিনের সামনে বসে থাকতে হবে। একটি প্রজেক্ট কম্পিলিট করতে, কত রাত নির্ঘুমে কাটাতে হবে।

তার কোনো হিসেব থাকবে না। অর্থ্যাৎ, এখানেও কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করার পরেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এখন মূল বিষয় হলো, ফিল্যান্সিং মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়। এই কাজ গুলোর মধ্যে এমন কিছু কাজ থাকতেই পারে, যেগুলো আপনার ধর্ম বিরোধী। যে কাজগুলো করলে আপনার ধর্মের হানি ঘটবে।

সেই কাজগুলো আপনি করবেন না,  ব্যাস! তাহলে আপনার ধর্ম রক্ষা হবে এবং হালালভাবে ইনকামও করতে পারবেন।

তবে আপনি যদি কারো পকেট মেরে এসে বলেন, “আমি কষ্ট করে পকেট মেরেছি,  এটা কি হালাল”? তাহলে ভাই আপনাকে হাজার হাজার স্যালুট। কারন, আপনার মাথায় এতো পরিমান গোবর রয়েছে। যেখানে গাছের চারা লাগালেই বৃক্ষতে রুপান্তর হয়ে যাবে। 

আপনার জন্য প্রয়োজনীয় আরো..

ফিল্যান্সিং হালাল নাকি হারাম সেটা নিশ্চই বুঝে গেছেন। এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কিছু জনপ্রিয় ফিল্যান্সিং ওয়েবসাইট সম্পর্কে। যে ওয়েবসাইট গুলোতে কাজ করে আপনি আপনার সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। 

কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

বর্তমানে অনলাইনে কাজ করার জন্য অনেক ফ্রীল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনার সুবিধার জন্য এখন আমি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট সম্পর্কে আলোাচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সার (freelancer.com)

বর্তমানে গোটা বিশ্বে যতোগুলো ফ্রীল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে। তার মধ্যে Freelancer হলো সবচেয়ে বৃহৎ এবং জনপ্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের Buyer এবং Freelancer রা দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে আসছে।

আপনি জানলে অবাক হবেন, ২০২১ সালের এনালিটিক্স এর রিপোর্ট অনুযায়ী। এই ওয়েবসাইটে Registered User এর সংখ্যা প্রায় ৩২ মিলিয়ন। এখানে প্রতিনিয়ন হাজার হাজার প্রজেক্ট পাবলিশ করা হয়। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, আপনি এখানে কাজ করার জন্য বিনামূল্যে Account খুলতে পারবেন। 

ফাইভার (Fiverr.com)

অনান্য ওয়েবসাইটের মতো ফাইভার ও বেশ জনপ্রিয় একটি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এখানেও বিভিন্ন দেশ থেকে আগত Buyer দের আনাগোনা রয়েছে। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে হলে।

প্রথমে আপনাকে একটি Account Create করতে হবে। এরপর আপনার তৈরি করা প্রজেক্ট গুলোকে আপনার Portfolio তে রাখতে হবে। এরপর বায়াররা সেই প্রজেক্ট গুলোকে দেখে যদি পছন্দ করে। তাহলে তারা আপনাকে $ অফার করবে। 

আপওয়ার্ক (Upwork.com)

আপনার ফ্রীল্যান্সিং জার্নিটা শুরু করতে পারে এখান থেকেই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এখানে Microsoft,  Airbnb, Dropbox এর মতো বড় বড় কোম্পানি থেকে বায়ার আসে।

ফ্রিল্যান্সারদের Hire করার জন্য। যদি আপনি ফ্রীল্যান্সিং কাজের মধ্যে ভিন্নতা খুজে থাকেন। তাহলে আপওয়ার্ক হবো সবচেয়ে যুগোপযোগী মাধ্যম। 

পিপলপারআওয়ার (Peopleperhour.com)

এই ওয়েবসাইটের নাম শুনে আপনার মনে হতে পারে, এখানে ঘন্টা বেসিসে কাজ পাওয়া যায়। জ্বী! আপরার ধারনা সম্পূর্ণ ঠিক। এই ওয়েবসাইটটি এতোটাই বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পেরেছে। যার ফলে বর্তমানে পিপলপারআওয়ার এর মোট ফিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় ১ মিলিয়ন। 

৯৯ডিজাইন (99Designs.com)

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যদি আপনি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হয়ে থাকেন। তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস হলো 99Designs. এখানে আপনি ডিজাইন রিলেটেড যাবতীয় কাজগুলো করতে পারবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররা মূলত এইসব ওয়েবসাইটে কাজ করে থাকে। তবে এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট আছে। যেগুলো থেকে আপনি আপনার ফ্রীল্যান্সিং জার্নির শুরু করতে পারবেন। যেমন,

  1. stackoverflow.com
  2. jobs.github.com
  3. wphired.com
  4. designhill.com
  5. behance.net
  6. studio.envato.com
  7. graphicriver.net
  8. designbro.com
  9. brandcrowd.com
  10. scripted.com

এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট রয়েছে। যার সবগুলো একটি আর্টিকেলে আলোচনা করা সম্ভব না। আপনি যদি Google এ সার্চ করেন। তাহলে প্রতিটা ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট খুজে পাবেন। 

ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে গিয়ে কি করতে হবে?

যেহেতু আপনি ফ্রীল্যান্সিং করে ইনকাম করতে চান। সেহুতু আপনাকে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী উপযূক্ত ওয়েবসাইট গুলোকে খুজে বের করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আপনি এই ওয়েবসাইট গুলোতে গিয়ে কি করবেন?

সর্বপ্রথম আপনাকে এসব ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের একটা Portfolio Account খুলতে হবে। চেস্টা করবেন যেন, সেই account একবারে প্রফেশনাল হয়।কারন, এলোমেলো তথ্য থাকা একাউন্টকে Buyers রা তেমন একটা গুরুত্ব দেয় না।

এরপর আপনি যেই ওয়েবসাইটে কাজ করবেন। সেই ওয়েবসাইটের Terms and conditions এবং Privacy Policy গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

এখানে কিভাবে কাজ করতে হয়, কিভাবে কাজ পাওয়া যায়, কোন কাজের জন্য কত $ ডলার বিট করতে হয় ইত্যাদি বিষয়াদি সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন।

কারন, একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যখন আপনি এসব ওয়েবসাইটে কাজ শুরু করবেন। তখন শুধু ইনকামের দিকে ফোকাস রাখবেন না। যদি নিয়ম কানুন না মেনে শুধু ইনকামের দিকে ফোকাস রাখেন।

তাহলে এটা সম্ভব যে, আপনি বেশিরভাগ ক্ষেএে অনেক ভুল করবেন। আর এটা মনে রাখুন,যদি আপনি এসব ওয়েবসাইটে উল্টাপাল্টা কিছু করে থাকেন। তাহলে আপনার Account টি চিরতরে Banned করে দেওয়া হবে। 

ক্লায়েন্ট পাবার গোপন রহস্য কি?

সত্যি বলতে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্ট পাবার কোনো গোপন রহস্য নেই। যদি কোনো গোপন রহস্য থাকতো। তাহলে সবাই যেভাবেই হোক, সেই গোপন রহস্যকে জানার চেষ্টা করতো। এবং রাতারাতি বড়লোক হয়ে যেতো।

তবে হ্যাঁ, ক্লায়েন্ট পাবার একটি গোপন রহস্য আছে। আর সেটি হলো আপনার ক্রিয়েটিভিটি। এই ক্রিয়েটিভিটির জোরে আপনি একজন ক্লায়েন্টকে কিভাবে মুগ্ধ করবেন। তা নির্ভর করবে সম্পূর্ন আপনার উপর। আপনাকে ছোট্ট একটা গল্প বলি।

যখন আমি ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে একবারে নতুন ছিলাম। তখন আমার পক্ষে ক্লায়েন্ট পাওয়াটা অনেক কষ্টকর ছিলো। একের পর এক জবে বিট করতাম, কিন্তু ক্লায়েন্টদের কোনো রেসপন্স পেতাম না।

এরপর নিজে থেকেই একটি টেকনিক অবলম্বন করলাম। ওয়েবসাইট রিলেটেড একটি জব পোষ্টে আমি বায়ারকে বলছিলাম যে, “আমি আপনার এই কাজটি করে দিতে পারবো।

আরো পড়ুন…

তবে তারজন্য কোনো প্রকার অর্থ দিতে হবেনা”। তাই যথারীতি সেই বায়ার আমাকে নক দেয়। এবং বলে সত্যি কি আমি এই কাজটি বিনামূল্যে করে দিবো কিনা।

আমার কথামতো সেই কাজটি আমি বিনামূল্যে করে দেই। এবং সেই কাজে বায়ারও বেশ খুশি হয়। এরপর তিনি আমাকে আরও একটা কাজ করতে দেন। কিন্তু তখন আমি সেই কাজের জন্য একটা এমাউন্ট ধার্য্য করি।

যেহুতু আমার প্রথম কাজটি বায়ারের খুব পছন্দ হয়েছে। তাই তিনি আমাকে নিদ্বিধায় কাজটি দিয়ে দেন। ধীরে ধীরে এমন একটা সময় আসলো, বর্তমানে আমি এখন তার কাছে Monthly Basis এ কাজ করছি।

তবে তারমানে এই নয়, আপনিও এই ট্রিকটা ফলো করলে সফলতা পাবেন। আমি আপনাকে এটাই বোঝাতে চাচ্ছি যে, ক্লায়েন্ট পাবার জন্য আপনাকেও ঠিক এরকম ট্রিকস তৈরি করতে হবে। যা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার ক্রিয়েটিভিটির উপর। 

আমি কোন কাজ পারি না, কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং করবো? 

কি অদ্ভুত, তাইনা? আপনি কোনো কাজ পারেন না অথচ ফ্রীল্যান্সিং করতে চান। তাহলে আজকে একটা কথা শুনে রাখুন। ইন্টারনেট হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে আবেগ+বিবেক কোনো কিছুর ই অস্তিত্ব নেই।

বাস্তবিক জীবনে যদি আপনি না খেয়ে থাকেন। তাহলে কেউ না কেউ আপনাকে এক মুঠো আহারের জন্য সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ইন্টারনেটে এটা অসম্ভব। এখানে আবেগের কোনো অস্তিত্বই নেই।

হতে পারে আপনি কোনো কাজ পারেন না। কিন্তু মনের ভিতরে অদম্য ইচ্ছা আছে যে, ফ্রীল্যান্সিং করবেন। তাহলে আপনাকে ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে স্বাগতম। তবে তার আগে আপনাকে অন্ততপক্ষে কিছু না কিছু দক্ষতা অর্জন করে। তারপর এই সেক্টরে আসতে হবে।

হতে পারে ফ্রীল্যান্সিং এর যে কাজগুলো রয়েছে। সেগুলো আপনার কাছে খুব কঠিন মনে হচ্ছে। তাহলে প্রথমত কোন কোন কাজগুলো খুবি সহজ, সেটা আপনি খুজে নিন। এরপর সেই কাজ শিখার জন্য কিছুদিন সময় দিন।

যেভাবেই হোক, আপনি সেই কাজটি শিখেই ছাড়বেন। এমন একটা মনোভাব নিজের মধ্যে রাখুন। তাহলে দেখবেন, যতো বাধাই আসুক না কেন, আপনাকে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। 

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যাবে ?

যারা ফ্রীল্যান্সিং সেক্টরে একেবারেই বিগেনার। তাদের মনে এই প্রশ্নটি জেগে থাকে যে, ফ্রীল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যাবে। তাই প্রশ্নের উওরটাও ঠিক এমন হবে,”আপনি ফ্রীল্যান্সিং করে লক্ষ কোটি টাকা ইনকাম করতে পারবেন”।

তবে উওরটা আপনার কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু আদতে তা হাস্যকর অর্থে ব্যবহার করা সমীচীন নয়। কেন? – তার কারনটাও জেনে নিন।

দেখুন বর্তমানে চাকরির বাজারের মতো ফ্রীল্যান্সিং নয়। চাকরিতে যেমন পদসংখ্যার সংকোট রয়েছে কিন্তু ফ্রীল্যান্সিং এমন একটি সেক্টর। যেখানে কখনই কাজের অভাব হয় না। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কাজ পাবলিশ করা হয়।

এখন আপনার আপনি কত টাকা ইনকাম করবেন। তা আসলে নির্ভর করবে, আপনি কোন কাজ গুলো কত স্পিডে করতে পারছেন তার উপর।

এখানে যে কাজগুলো Buyer রা করিয়ে নেয়। তার জন্য কিন্তু তারা হিউজ পরিমানে অর্থ দিয়ে থাকে ৷ এখন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মোট যতোগুলো কাজ করবেন। আপনার ইনকামও ঠিক ততোটুকুই হবে। 

কিভাবে পারিশ্রমিক বুঝে পাবেন?

এটি হলো সবচেয়ে বড় বিষয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে যে টাকা গুলো ইনকাম করবেন। সেই টাকা গুলো কিভাবে আপনার হাতে পাবেন। কেননা আমাদের দেশীয় ভাইদের সবথেকে বড় সমস্যা এটিই। কারন আমাদের দেশে PayPal সাপোর্টেড নয়।

তবে ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর পেমেন্ট মেথড কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন। এমন কিছু সাইট আছে যারা শুধুমাএ PayPal এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে। আবার কিছু কিছু সাইট আছে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে।

আবার এমন কিছু সাইট আছে যারা Coinbase এর মাধ্যমেও পেমেন্ট করে থাকে।

তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমাদের দেশীয় ফ্রিল্যান্সাররা যেসব সাইটে বেশি কাজ করে। সে সাইটগুলোর বেশিরভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে নেই। আমাদের দেশে PayPal সার্ভিস চালু না থাকলেও। এমন অনেক মানুষকে দেখবেন যারা বাংলাদেশ থেকেও PayPal ব্যবহার করে। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে সার্ভিস বন্ধ থাকার পরেও। তারা কিভাবে PayPal ব্যবহার করছে?

আপনি আরো পড়ুন…

চাইলে আপনিও ব্যবহার করতে পারবেন। সেজন্য আপনাকে বেশ কিছু Trick ফলো করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে PayPal ব্যবহার করা গেলেও। এর রিস্ক কিন্তু ভয়াবহ।

পেপালের সাপোর্ট টিম যদি বুঝতে পারে যে, আপনি বাংলাদেশ থেকে তাদের সার্ভিস ব্যবহার করছেন। তাহলে যেকোনো সময় আপনার Account টি ব্যান (Banned) করে দিতে পারে।

এখন আপনি কষ্ট করে রাতের পর রাত জেগে যেটুকু ইনকাম করবেন। সেই ইনকাম যদি নিমিষেই ধুলিষাৎ হবে যাবে। যা কখনই কাম্য নয়। তাই সর্বদা চেষ্টা করবেন লিগ্যাল Way তে কাজ করার। তাতে কোনো প্রকার রিস্ক থাকবে না। 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাধা

এতোক্ষন ধরে আমি আলোচনা করেছি ফ্রিল্যান্সিং কি, আপনি কিভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার হবেন। কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে ভুলে গেছি। সত্যি বলতে পুরো আর্টিকেলে আমি বলে এসেছি যে, “খুব সহজেই ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন”।

এই  সহজেই শব্দটাকে আপনি যতোটা সহজভাবে নিচ্ছেন। সেটি মূলত এতোটা সহজ নয়। এখানেও আপনাকে বেশ কাঠঘড় পোড়াতে হবে। এই সেক্টরেও আপনাকে বেশ বাধার সম্মুখীন হতে হবে। যেমন, 

পারিবারিক সাপোর্ট 

যেহুতু আমাদের দেশ এখনও উন্নয়নশীল। সেহুতু ডিজিটালাইজেশন এ ততোটাও উন্নত হতে পারিনি, যতোটা আমরা মনে করি। তাই আপনি একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হন। এটা আপনার পরিবার কখনই চাইবে না।

তারা সবসময় চাইবে আপনি ভালো একটা চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হন। তাই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আসার আগে আপনার পারিবারিক সাপোর্ট একটা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে। 

উপহাস করবে মানুষ

“সারাদিন তো ল্যাপটপ নিয়েই পড়ে থাকিস। এক টাকাও তো ইনকাম করতে পারিস না” – আপনার বন্ধুমহল বা আশেপাশের মানুষদের কাছে। এই কথাটা যে আপনাকে কতবার শুনতে হবে। তার কোনো হিসেব নেই। হয়তবা এই উপহাস আপনাকে কাঁটার মতো আঘাত করবে।

তাই বলে হতাশ হবেন না। তাদের মূল কাজ হলো আপনাকে ডিমোটিভেট করা। তাই বলে আপনি হতাশ হয়ে সবকিছু ছেড়ে দিবেন?  -না, কখনোই তা করবেন না। তাদের উপহাস গুলো শুধু নিজের মনে গেঁথে রাখবেন।

যেদিন আপনি সফলতার শীর্ষ চুড়ায় পা ফেলবেন। সেদিন আপনাকে উপহাস করা মানুষগুলোই বলবে,”আমি জানতাম, তুমি একদিন সফল হবে”।

অপেক্ষা করা

একটা বিষয় চিন্তা করুন তো, আপনি বছরের পর বছর লেখাপড়া করবেন। তারপর চাকরির পিছনে ছুটবেন। যদি ভাগ্যে থাকে, তাহলে একটা সময়ে চাকরি পাবেন। এখানে কিন্তু বেশ কয়েকটা বছর আপনাকে ব্যয় করতে হবে। 

কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের যতো ব্যস্ততা আছে এই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে এসে। এখানে আমরা অতি দ্রুত সাফল্য পেতে চাই। তাই শেখার স্টেপগুলোকে Skip করে। সরাসরি ইনকামকে ফোকাস করি। যা আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শেখার সময় আপনাকে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। সেজন্য মাঝে মাঝে আপনার মধ্যে বিরক্তি আসতে পারে। কিন্তু এই বিরক্তিকে এতোটাও প্রাধান্য দিবেন না। যেন আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর থেকে ছিটকে আসতে হয়। 

আমাদের শেষকথাঃ

একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের অনুভূতি টা কেমন হয়। যদি সেটি অনুভব করতে চান। তাহলে আপনাকেও প্রথমে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে হবে। আর ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে যতোদিন থাকবেন ৷ ততোদিন শুধু একটা কথা মনে রাখবেন,

যতোদিন আপনি সফল হতে পারবেন না। ততোদিন আপনার কষ্ট গুলো অন্যের কাছে মূল্যহীন“।

তাই সময় নিয়ে লেগে থাকুন। সাফাল্য একদিন আসবেই ইনশা-আল্লাহ।

আমারদের বাংলা আইটি ব্লগে প্রতিনিয়ত ব্লগিং সহ অনলাইন থেকে আয় করা নিয়ে নতুন নতুন আর্টিকেলে প্রকাশ করা হচ্ছে। আপনি চাইলে সেই আর্টিকেল গুলা পড়ে নিতে পাড়েন।

আজকের ফ্রিলান্সিং আর্টিকেল নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সের মাধমে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমরা খুব তারা তারি উত্তর দিব।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap