এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি ? কয় প্রকার ও কি কি ? (What is application software in Bengali)

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি :  প্লিকেশন সফটওয়্যার কাকে বলে ?  (What is application software in Bengali) – যদি আপনি এই প্রশ্নের উত্তর খুজে থাকেন।

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি ? কয় প্রকার ও কি কি ?
এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি ? কয় প্রকার ও কি কি ?

তাহলে এর উত্তর হবে, যেসব Software সিস্টেম সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার এর আওতাভুক্ত নয়। সেগুলোকে বলা হয়, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার

মূলত এই ধরনের Application Software গুলো তে হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো মূলত কম্পিউটার এর কাজে ব্যবহার করা হয়।

কেননা, আমাদের ব্যবহার করা কম্পিউটার গুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এগুলোর মধ্যে থাকা অভ্যান্তরীন এবং বাহ্যিক সমস্যা সমাধান করার জন্য Application Software বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আর সে কারণে এই ধরনের সফটওয়্যার গুলোকে নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্যই ডিজাইন করা হয়ে থাকে।

আপনার জন্য আরো লেখা…

আর সে জন্য Application Software কে বিশেষ একটি ক্ষেত্রের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে।

তো আজকে আমি এই এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ( application software কি ) নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবো ৷

মূলত application software কি, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর কাজ কি, What is application software in bangla এসব নিয়ে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো।

এর পাশাপাশি আপনি আরো বেশ কিছু বিষয়ে জানতে পারবেন। যেমন, 

  1. application software ki
  2. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর বৈশিষ্ট্য
  3. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর কাজ কি ? 
  4. সিস্টেম সফটওয়্যার কাকে বলে ?
  5. কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কি ? 

আর আপনি যদি এই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।

তাহলে আজকের পুরো লেখাটি মন দিয়ে পড়ুন ৷ তো চলুন সরাসরি মূল টপিকে ফিরে যাওয়া যাক। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি? | What is application software in Bengali? 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো বিশেষ এক ধরনের সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

যেমন, এমন কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে, আবার কিছু কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো মূলত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ৷

এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো আমাদের মতো ইউজারদের কাজ কে তুলনামূলক ভাবে অনেক সহজ করে তোলে।

আর সেই কারণে  স্পেসিফিক কাজের জন্যই এই ধরনের Software গুলো কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তবে আপনি চাইলে আপনার কম্পিউটারে থাকা সফটওয়্যার সিস্টেম এর মধ্যেও Application Software কে ইনস্টল করতে পারবেন ৷ 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কাকে বলে ?

যদি আমি সহজভাবে এর উত্তরটা দেই তাহলে বলবো যে, এমন কিছু কম্পিউটার সফটওয়্যার আছে। যেগুলো মূলত সরাসরি ইউজার এর সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট হয়ে ব্যবহার করার সুযোগ দেয় ৷

তাকে বলা হয়, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার।

তবে এই সংঙ্গাটি আপনার মাথার উপর দিয়ে যেতে পারে। তাই চলুন এবার একটু সহজভাবে আলোচনা করা যাক। তাহলে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

আমাদের কম্পিউটার গুলোতে যেসব System Software আছে। সেগুলো থেকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো অনেকটা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

কারণ, আপনি চাইলেই এই সিস্টেম সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে ইনস্টল করতে পারবেন। 

সিস্টেম সফটওয়্যার গুলোর বিশেষ একটি দিক হলো, আপনি এর মাধ্যমে একই সাথে অনেক গুলো কাজ করতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ, System Software এ কাজ চলাকালীন অবস্থাতেও আপনি অন্যান্য সফটওয়্যার এর কাজ করতে পারবেন।

অপরদিকে যেহুতু এপ্লিকেশন সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করা হয় ৷ সেক্ষেত্রে আপনি এই সুবিধা টি পাবেন না। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর কাজ কি ? 

উপরের আলোচনা থেকে আপনি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি – সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আশা করি, এই স্বল্প আলোচনা থেকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি এ নিয়ে আপনার মনে আর কোনো প্রকার প্রশ্নের অবকাশ নেই।

তো এবার আপনাকে আরো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে জেনে নিতে হবে। সেটি হলো, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর কাজ কি। তো চলুন এবার সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক।

দেখুন বিভিন্ন ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তবে ব্যবহারিক দিক থেকে যেগুলো অধিক পরিমানে দরকার হয়। নিচে সেরকম কিছু কাজের কথা উল্লেখ করবো। যেমনঃ 

  1. যদি আপনি তথ্য রক্ষণা বেক্ষণ করতে চান, সেক্ষেত্রে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। কেননা, এই ধরনের সফটওয়্যার গুলো Managing Information এর কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 
  2. কোনো প্রকার তথ্য দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য এপ্লিকেশন সফটওয়্যার অনেক কাজের। তাই আপনি যদি কোনো তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোনো কাজ করতে চান।
  3. তাহলে আপনাকে এই ধরনের Application Software ব্যবহার করতে হবে। 
  4. একটি কম্পিউটার এর মধ্যে বিভিন্ন প্রকার জিনিস এর ভিজ্যুয়াল নির্মান করার দরকার হয়। তো এই কাজ গুলো করার জন্য এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হয়ে থাকে। 
  5. আমাদের হাতে থাকা কম্পিউটার দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা রকম গননামূলক কাজ করার দরকার হয়।
  6. সেক্ষেত্রে আপনি Application Software কে ব্যবহার করতে পারবেন। 

তো উপরে আপনি যে আলোচিত বিষয় গুলো দেখতে পাচ্ছেন। সেগুলো হলো এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর মূল কাজ ৷

যেগুলো করার জন্য অবশ্যই আপনাকে এই ধরনের Software এর প্রয়োজন হবে। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি ?

আপনি যদি একান্তভাবে জানতে চান যে, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি। তাহলে বলতে হবে যে, আপনি বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের Application Software দেখতে পারবেন।

যেগুলো নিয়ে আমি এখন স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো। যেন আপনি সকল প্রকার এপ্লিকেশন সফটওয়্যার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। 

আরো লেখা পড়তে পারেন…

০১| Application suite

যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটার সফটওয়্যার গুলো কে একত্রিত করে যোগ করা হয়। এই ধরনের সফটওয়্যার প্যাকেজ কে বলা হয়, Application Suite.

কেননা এর মাধ্যমে একের অধিক সফটওয়্যার গুলো কে একত্রিত করে একটি গ্রুপের মধ্যে আবদ্ধ করা হয়ে থাকে।

আর সে কারনে Application suite কে আলাদা আলাদা কম্পিউটার এর কালেকশন ও বলা হয়ে থাকে।

যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম এর Function, Feature এবং User interface কে ইন্টারঅ্যাক্ট করা হয়ে থাকে।

এমন কিছু এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর নাম হলো, Ms Office, Ms Excel, Ms PowerPoint ইত্যাদি। 

০২| Enterprise software 

যখন আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরন করার জন্য স্পেসিফিক সফটওয়্যার কে ব্যবহার করা হয়। তখন সেই ধরনের Software কে বলা হয়, Enterprise software .

এই ধরনের সফটওয়্যার গুলো কে সংক্ষেপে EAS বলা হয়ে থাকে। যার ফুল মিনিং হলো, Enterprise Application Software.

তবে আপনি কিন্তুু ব্যক্তিগত কারনে এর সুবিধা গুলো ভোগ করতে পারবেন না।

কেননা, এগুলো শুধুমাত্র Business, School, Collage, Government Office এর কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

০৩| Enterprise Infrastructure Software

যদি আপনার কোনো বড় মাপের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকে তাহলে Enterprise Infrastructure Software গুলো আপনার অনেক কাজে আসবে।

কারন ব্যবসায়িক কাজের জন্য যেসব মোলিক কাজ থাকে, সেগুলো করার জন্য এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

০৪| Information Worker Software

যদি আপনার কোনো individual Project করার দরকার হয়ে থাকে। তাহলে আপনি আপনার কাজের সুবিধার জন্য এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে ব্যবহার করতে পারবেন।

কেননা, এই সফটওয়্যার গুলো কোনো ডেটা তৈরি করা থেকে শুরু করে ডেটা ম্যানেজমেন্ট করা পর্যন্ত প্রায় সব ধরনের কাজ করতে পারবেন।

যেমন, টাইম ম্যানেজমেন্ট, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, এনালিটিক্যাল ইত্যাদি। 

০৫| Content Access Software

এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার দিয়ে আপনি কোনো ধরনের কন্টেন্টে শুধুমাত্র এক্সেস নিতে পারবেন। কিন্তুু আপনি সেই Content এর কোনো প্রকার এডিট করতে পারবেন না।

যেমন, আপনার কম্পিউটারে থাকা Media Player দিয়ে আপনি শুধু গান শুনতে এবং দেখতে পারবেন। কিন্তুু সেই মিডিয়া প্লেয়ার গুলো কে কোনো প্রকার এডিট করতে পারবেন না।

আর এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো কে বলা হয় Content Access Software.

০৬| Educational Software

নামটা শুনেই হয়তবা অনুমান করতে পেরেছেন যে এই এপ্লিকেশন সফটওয়্যার টি কোন কাজে ব্যবহার করা হয়। আসলে শিক্ষামূলক কাজের জন্য যেসব Application Software ব্যবহার করা হয়।

মূলত তাকে বলা হয়ে থাকে, Educational Software. বলা বাহুল্য যে, শেখার ক্ষমতা কে বাড়িয়ে নেয়ার জন্য এই ধরনের সফটওয়্যার গুলো বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। 

০৭| Media Development Software

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর মধ্যে যতগুলো প্রকার ভেদ আছে ৷ তার মধ্যে সর্বশেষ প্রকারভেদ হলো, Media Development Software.

যার মূল কাজ হলো একটি কম্পিউটারে থাকা মিডিয়া ডেটা গুলো কে এডিটিং, ফরম্যাটিং এবং ম্যানুপুলেটিং করা ৷ 

কয়েকটি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর নাম

উপরের আলোচনা থেকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কত প্রকার ও কি কি সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন ৷

তো এই বিষয় গুলো জানার পর আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এই Application Software গুলোর নাম কি কি।

কেননা, যখন আপনি কিছু এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর নাম জানতে পারবেন৷ তখন এই বিষয়ে আপনার জানার ভিত্তি ততোই মজবুত হবে।

আপনি আরো দেখতে পারেন…

তো নিচে কিছু এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর নাম দেওয়া হলো। 

  1. Application Suites: অপেন অফিস, মাইক্রোসফট অফিস। 
  2. Content Access Software: মিডিয়া প্লেয়ার, ওয়েব ব্রাউজার। 
  3. Database software: ওরাকেল, এমএস এক্সেস। 
  4. Educational Software: গুগল আর্থ, নাসা ওয়াল্ড। 
  5. Enterprise Software: কাস্টমার রিলেশনশিপ, কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট। 
  6. Information Worker Software: ডকুমেন্টেসন টুলস, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট টুলস। 
  7. Multimedia software: রিয়েল প্লেয়ার, মিডিয়া প্লেয়ার। 
  8. Presentation Software: মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট। 
  9. Spreadsheet software: মাইক্রোসফট এ্যাপল, মাইক্রোসফট এক্সেল৷ 
  10. Word processing software: এমএস ওয়ার্ড, নোটপ্যাড। 

আপনার বোঝার সুবিধার জন্য উপরে আমি কিছু এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর নাম উল্লেখ করেছি।

তবে এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ধরনের Application Software আছে। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর বৈশিষ্ট

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি – এ বিষয়ে জেনে নেয়াটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি ভাবে প্রতিটা Application Software এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নেয়াটাও অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

কেননা, এই ধরনের সফটওয়্যার গুলোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট আছে। চলুন এবার সেই বৈশিষ্ট্য গুলো সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ভাবে জেনে নেয়া যাক। 

  1. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি এই আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন যে, এই ধরনের সফটওয়্যার গুলো দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা যায়।
  2. এর কিছু উদাহরন হলো, ইমেল, ফটে এডিটিং, ওয়ার্ড প্রসেসিং দিয়ে শুধুমাত্র ঐ নির্দিষ্ট কাজ গুলো করা বুঝায়। 
  3. সাইজের দিক থেকে Application Software গুলো তে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। কারণ, এই সফটওয়্যার গুলো সাইজের দিক থেকে অনেক বড় হয়ে থাকে।
  4. তাই আপনি যদি আপনার হাতে থাকা কম্পিউটারে এই ধরনের এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে ইনস্টল করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারে অনেক বড় জায়গার প্রয়োজন হবে। 
  5. একটি কম্পিউটারে ব্যবহার করা প্রতিটা সফটওয়্যার কে মোট দুই ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরি করা হয়। সেগুলো হলো, হাই লেভেল এবং লো লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ।
  6. তো আমরা যেসব Application Software ব্যবহার করি। সেগুলো মূলত হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। 
  7. এর পাশাপাশি ইউজারদের কথা চিন্তা চিন্তা করে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো কে এমন ভাবে চিন্তা করা হয়। যেন এই ধরনের Software গুলো অনেকটা User Friendly হয়। 

যদিওবা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তারপরেও এগুলোর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। আর একটি Application software এর মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। সেগুলো আমি উপরের আলোচনায় উল্লেখ করেছি। 

সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর মধ্যে পার্থক্য

আপনাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ থাকবেন, যারা মূলত সিস্টেম সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কে একই বিষয় মনে করে থাকেন।

আদতে এই দুই ধরনের সফটওয়্যার গুলো কখনই এক নয়, বরং এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আর এবার আমি সেই পার্থক্য কে তুলে ধরার চেস্টা করবো।

তাহলে আপনি Difference Between Application Software & System Software সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

০১| Design Difference 

আমাদের কম্পিউটার ডিভাইসে ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরনের Resources থাকে। যেমন ধরুন, মেমোরি, প্রসেস ম্যানেজমেন্ট, সিকিউরিটি ইত্যাদি।

তো এই ধরনের রিসোর্স গুলো কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সিস্টেম সফটওয়্যার কে ব্যবহার করা হয়।

অপরদিকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়ে থাকে, যেন এই সফটওয়্যার গুলো দিয়ে ইউজারদের নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা পূরন করা যায়। 

০২| Uses Difference 

সচারাচর আমাদের কম্পিউটারে সাধারন কাজের জন্য সিস্টেম সফটওয়্যার কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কিন্তুু আমাদের কম্পিউটারে Specific কোনো কাজের জন্য Application Software কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

০৩| Language Difference 

আপনি হয়তবা জেনে থাকবেন থাকবেন যে, আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার করা কম্পিউটার গুলো তে যে সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করা হয়।

সেগুলো মূলত ২ ধরনের Programming Language এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে প্রথমটি হলো,High Level Language এবং Low Level Language.

তো আমাদের কম্পিউটারে যেসব সিস্টেম সফটওয়্যার আছে, সেগুলো মূলত লো লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরি করা হয়।

অপরদিকে আমাদের কম্পিউটারে ব্যবহার করা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো কে মূলত হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। 

০৪| Independent Difference 

একটি কম্পিউটারে থাকা সফটওয়্যার গুলোর কাজের মধ্যেও স্বাধীনতা এবং পরাধীনতা বিদ্যমান রয়েছে। যেমন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা কম্পিউটার গুলোর মধ্যে যে System Software আছে।

সেগুলো মূলত স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে।

অপরদিকে, Application Software গুলোর ক্ষেত্রে অনেকটা ভিন্নতা খুজে পাবেন৷ কারন, এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো সিস্টেম সফটওয়্যার এর মতো স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে না। 

০৫| Working Difference 

মজার বিষয় হলো, একটি কম্পিউটারে থাকা সিস্টেম সফটওয়্যার এবং এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কাজের দিক থেকেও অনেকটা ভিন্নতা রয়েছে।

কেননা, কোনো একটি কম্পিউটার কে ON করার সাথে সাথে সিস্টেম সফটওয়্যার গুলো অটোমেটিক কাজ করা শুরু করে দেয়।

এবং এই সিস্টেমে ততোক্ষন পর্যন্ত কাজ করতে থাকবে, যতোক্ষন আপনার কম্পিউটার টি OFF হবে।

কিন্তুু আমাদের কম্পিউটারে থাকা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার গুলো নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারেনা।

বরং এরা ততোক্ষন কাজ করতে পারবে, যতক্ষন আপনি আপনার প্রয়োজনে উক্ত Application Software কে ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি আরো পড়তে পারেন…

তো যারা মূলত System Software এবং Application Software কে একই বিষয় মনে করেন। তাদের ধারনা কে পাল্টে দেয়ার জন্য উপরে সহজ ও সাবলীল ভাবে এই দুই ধরনের সফটওয়্যার এর মধ্যে থাকা পার্থক্য কে তুলে ধরা হলো ৷

আশা করি এগুলোর মধ্যে যে পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে আপনি বেশ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। 

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি নিয়ে শেষ কথা 

বাংলা ভাষায় নির্মিত এই ব্লগের আমরা প্রতিনিয়ত অজানা বিষয় কে সহজভাবে তুলে ধরার চেস্টা করি। ঠিক তেমনি ভাবে অন্যান্য আর্টিকেলের মতো আজকে আমি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কি তা নিয়ে আলোচনা করেছি।

আশা করি আজকের আলোচিত Application Software কি – সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা পেয়ে গেছেন।

আর অজানা কোনো বিষয় কে সহজ ভাবে জানতে হলে Bangla it blog এর সাথে থাকুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HandsUp! কপি করা যাবে না বস!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap