এন্ড্রয়েড কি ? | অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাস

এন্ড্রয়েড কি :  আধুনিক বিশ্ব প্রতিনিয়ত মানব কল্যানের জন্য কাজ করে আসছে। আর সেই কারনে আমাদের জন্য নিয়ে আসছে অভিনব সব আবিস্কার।

এন্ড্রয়েড কি | অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাস
এন্ড্রয়েড কি | অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ইতিহাস

ঠিক তেমনি ভাবে Android হলো স্মার্টফোন জগতের এক অতুলনীয় আবিস্কার। যার ফলে এখন আমরা আমাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়েই অনেক কিছুই করতে পারছি।

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষের হাতে হাতে এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। কিংবা যারা এখন নতুন কোনো ফোন কিনতে যায়, তারা সবাই চায় একটা Android Phone কিনতে।

কিন্তুু এখনও আপনি এমন মানুষকে খুজে পাবেন, যারা এখনও এই Android শব্দের মানে কি তা জানেনা।

যদি আপনি এন্ড্রয়েড ফোন কিনতে আসা কোনো মানুষ কে হুট করে জিজ্ঞেস করেন যে, এন্ড্রয়েড কি (What is android in bengali)

অথবা আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন স্মার্টফোন কি ? তাহলে দেখবেন সেই মানুষটা রিতীমতো অবাক হয়ে যাবে।

আর আপনিও যেন Android কি সেটা না জানা মানুষের দলে যোগ না দেন, সেই কারনেই আজকের এই মূল্যবান আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে।

কেননা, আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটা আর্টিকেল এর ন্যায় আজকে আমি এন্ড্রয়েড কি, এন্ড্রয়েড ভার্সন কি,

প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে ? বাংলাদেশে প্রথম এন্ড্রয়েড ফোন কত সালে আসে ।

তা নিয়ে বিষয়দভাবে আলোচনা করবো।  যেন, আজকের পর থেকে অ্যান্ড্রয়েড কি সে সম্পর্কে আপনার ভেতরে পরিস্কার একটা ধারনা থাকে।

আপনার জন্য আরো লেখা আছে…

হ্যালো বন্ধু, স্বাগতম আপনাকে Bangla it blog এর নতুন একটি আর্টিকেলে। আজকে আমি এন্ড্রয়েড রিলেটেড সমস্ত খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বিষদভাবে আলোচনা করবো।

তাই যদি আপনি অ্যান্ড্রয়েড কি তা সহজ ভাষায় জানতে চান।

তবে আজকে প্রকাশিত পুরো লেখাটি মন দিয়ে পড়বেন। তাহলে আর দেরী কেন, চলুন সরাসরি মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক। 

আর্টিকেল সূচি

এন্ড্রয়েড কি ? (what is android in Bangla)

অবাক করার মতো বিষয় হলো, আমরা অধিকাংশ মানুষ মনে করি যে, Android হলো একটি মোবাইলের নাম। আসলে এই ধারনাটি কখনই সঠিক নয়।

কারন, এন্ড্রয়েড কোনো মোবাইল বা মোবাইল অ্যাপস এর নাম নয়। তাহলে আপনি হয়তবা ভাবছেন যে, এটি যদি কোনো Mobile বা Apps এর নাম না হয়।

তাহলে এন্ড্রয়েড কি ? (What is android in Bangla)

সত্যি বলতে এন্ড্রয়েড হলো একটি অপারেটিং সিস্টেম এর নাম। কোনো একটি কম্পিউটার ডিভাইস কে পরিচালনা করার জন্য যেমন উইন্ডোজ নামক অপারেটিং সিস্টেম এর ব্যবহার করা হয়।

ঠিক তেমনিভাবে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন কে পরিচালনা করার জন্য যে অপারেটিং সিস্টেম কে ব্যবহার করা হয়। তাকে বলা হয়, এন্ড্রয়েড।

আর Android নামক এই জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এর প্রতিষ্ঠতা হলো বিশ্বের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন Google. যার হাত ধরে এই অপারেটিং সিস্টেমের উৎপত্তি ঘটে।

এবং আমরা এখনও সেই অপারেটিং সিস্টেম এর সুবিধা গুলো কে ভোগ করতে পারছি ৷ আর মজার ব্যাপার হলো, এই অপারেটিং সিস্টেম টি মূলত Linux Kernel এর পুরোপুরি ভাবে নির্ভরশীল।

আর সেই কারনে এন্ড্রয়েড কে Linux Kernel এর মডিফাইড ভার্সনও বলা হয়ে থাকে। 

স্মার্টফোন কি ?

একটি স্মার্টফোন হল একটি মোবাইল ফোন যা কেবল কল করা বা Messages পাঠানোর চেয়ে আরও বেশি সুবিধা প্রদান করে ৷

স্মার্টফোনে সাধারণত একটি বড় টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে একটি বিল্ট-ইন ক্যামেরা এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করার ক্ষমতা থাকে।

এর ভিতরে ইচ্ছা অনুযায়ী  অ্যাপ বা সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা যায়।

যা ব্যবহারকারীদের ইমেল চেক করা ওয়েব ব্রাউজ করা গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার মতো বিস্তৃত কাজ সম্পাদন করতে দেয়।

মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম কি ?

Android  কি – এ নিয়ে আলোচিত বিষয়ে যদি আপনি আরো পরিস্কার ধারনা পেতে চান। তাহলে আপনাকে Mobile Operating System সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

কারণ, অন্যান্য জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম গুলোর মধ্যে এন্ড্রয়েড নিজেও একটা অপারেটিং সিস্টেম।

যাকে আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন গুলো কে অপারেট করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তো কোনো একটি ডিভাইস কে পরিচালনা (Operate) করার জন্য যে সিস্টেম এর প্রয়োজন হয়।

তাকে মূলত অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়ে থাকে। এই Operating System এর মূল কাজ হলো, হার্ডওয়্যার কে নির্দেশমতো পরিচালনা করা।

যেমন, একটি কম্পিউটারে যদি কোনো ধরনের অপারেটিং সিস্টেম না থাকে। তাহলে কিন্তুু ঐ কম্পিউটার টি চালু হতে পারবে না।

আর সে কারনে যদি সহজভাবে অপারেটিং সিস্টেম কে বর্ননা করতে চাই।

তাহলে বলতে হবে, একটি ইলেকট্রনিকস ডিভাইস এর মধ্যে থাকা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই হলো অপারেটিং সিস্টেম এর মূল কাজ।

ঠিক একইভাবে মোবাইলে থাকা সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য যেসব সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।  তাকে Mobile Operating System বলা হয়।

বলা বাহুল্য যে, গত কয়েক দশকে মোবাইল এর জন্য বিভিন্ন প্রকারের অপারেটিং সিস্টেম কে তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে Android এবং IOS কে সর্বাধিক ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এন্ড্রয়েড এর ইতিহাস | History Of Android in bangla

যেহুতু আপনি এন্ড্রয়েড কি তা জানতে এসেছেন। সেহুতু আপনার History of android in Bangla সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত।

কেননা, যখন আপনি এন্ড্রয়েড এর ইতিহাস কে ভালোভাবে জানতে পারবেন। তখন আপনার Android কি এর ধারনাটাও আরো মজবুত হবে।

তো চলুন এবার তাহলে এন্ড্রয়েড এর আদি থেকে অন্ত অবধি সমস্ত ইতিহাস কে এক নজরে জেনে নেয়া যাক।

এন্ড্রয়েড উৎপত্তির শুরুর দিকটা বেশ ঘোলাটে অবস্থায় ছিলো। কারণ, সেই সময়ে যারা Android নিয়ে কাজ করছিলো, তারা প্রথম দিকে এই বিষয়টি কে বেশ গোপন অবস্থায় রেখেছিলো।

আর আমজনতা যেন এই সিস্টেম সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে না পারে। সেজন্য তারা প্রায় লুকিয়ে লুকিয়ে এই সিস্টেম নিয়ে কাজ করতো।

আর যখন এই সিস্টেম টি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ঠিক তখনি এন্ড্রয়েড এর ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারা যায়।

তো Android নামক এই জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এর সূচনা হয়েছিলো ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে।

উক্ত সময়ে অ্যান্ডি রুবিন (সহ-প্রতিষ্ঠাতা), রিচ মাইনার (সহ প্রতিষ্ঠাতা), নিক সিয়ারস (সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট), ক্রিস হোয়াইট (ইন্টারফেস প্রধান) এর সমন্বিত প্রচেস্টায় Android নামক এই অপারেটিং সিস্টেম এর সূচনা হয়।

প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোন কোম্পানি চালু করে ? তাহলে বলতে হয় আইবিএম ১৯৯৪ সালে মিতসুবিসি ইলেক্ট্রিক কর্প কোম্পানির সাথে যৌথ ভাবে চালু করে।

তবে প্রথম দিকে তাদের উদ্দেশ্য টা একটু ভিন্ন ছিলো। কারন সেই সময়ে তারা চাইতো ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য ভালো কোনো Operating System তৈরি করতে।

কিন্তুু পরবর্তী সময়ে তারা বুঝতে পারে যে, এই ক্যামেরার জন্য সিস্টেম তৈরি করলে খুব বড় একটা বাজারজাত করতে পারবে না।

আর সেই কারনে তারা পুনরায় মোবাইল কে অপারেট করার জন্য নতুন একটা অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার পরিকল্পনা করে।

বাংলাদেশে প্রথম এন্ড্রয়েড ফোন কত সালে আসে এই নিয়ে অনলাইনে ঘাটা ঘাটি করে জানতে পারলাম ২১শে অক্টোবর ২০০৮ সালে।

জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণের নাম কি?

Android এর আদিলগ্ন থেকে আজ অবধি বিভিন্ন ধরনের সংস্করণ রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে এগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলো, এবং মানুষ তাদের স্মার্টফোন গুলো এন্ড্রয়েড এর সেই ভার্সন গুলো ব্যবহার করতে পেরেছিলো।

তবে জনপ্রিয়তার দিক শীর্ষে থাকা এমন কিছু এন্ড্রয়েন সংস্করন এর নাম হলো, 

  1. Android Gingerbread
  2. Android Froyo
  3. Android Ice Cream Sandwich
  4. Android Jelly Bean
  5. Android Honeycomb
  6. Android Cupcake
  7. Android Donut
  8. Android Eclair
  9. Android 10
  10. Android 11
  11. Android Lollipop
  12. Android KitKat
  13. Android 12
  14. Android Nougat
  15. Android Oreo
  16. Android Marshmallow
  17. Android Pie

উপরে আমি মোট ১৭ প্রকারের এন্ড্রয়েড এর সংস্করন নিয়ে কথা বলেছি।

এখন হয়তবা আপনার মাথায় একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটি হলো জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণের নাম কি? –

তাহলে শুনুন, বর্তমানের সর্বশেষ সংস্করণ হল কিউ ১০.

কেন এন্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তা এত বেশি ?

বর্তমান সময়ে আপনি যদি ১০০ টা স্মার্টফোন কে একসাথে করেন। তাহলে আপনি দেখতে পারবেন যে, সেই ১০০ টা ফোনের মধ্যে প্রায় ৯০ টা ফোনের মধ্যে Android Smart Phone দেখতে পারবেন।

তবে মনে এই প্রশ্নটা জেগে থাকা স্বাভাবিক যে কেন এন্ড্রয়েড এতো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তো চলুন এবার সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

দেখুন আজকের দিনে Android এতো বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে।

 কেননা এন্ড্রয়েড ফোন গুলোতে বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। যেমনঃ 

০১| Dark Mode 

যারা মূলত Android 10 ব্যবহার কারী রয়েছেন, তারা এই ডার্ক মোডের সুবিধাটি ভোগ করতে পারবেন। আর এই Dark Mode ব্যবহার করলে আপনার মোবাইল ফোনের ডিসপ্লের মধ্যে একটা কালো আবহ দেখতে পারবেন।

যা আপনার ফোনের ব্যাটারির স্থায়ীত্ব থেকে শুরু করে মোবাইল ডিসপ্লের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে চোখ কে রক্ষা করবে। 

০২| Smart Communication

আমরা আমাদের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন গুলোতে নানা ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকি। যেমন, Facebook, Youtube ইত্যাদি।

এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া গুলো থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেসেজ নোটিফিকেশন আকারে আসে।

এবং আপনি সেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা Message গুলোর রিপ্লে দেয়ার পাশাপাশি আরো অন্যান্য কাজ করতে পারবেন। 

০৩| Focus Mode 

আপনি যদি কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি দেখতে পারবেন যে একটি কম্পিউটার দিয়ে একই সাথে অনেক গুলো কাজ করা সম্ভব।

আর বর্তমান সময়ে Android এর বদৌলতে আমরা সেই সুবিধাটি মোবাইল দিয়েই ভোগ করতে পারছি।

কেননা, আজকের দিনের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে থাকা Focus Mode এর মাধ্যমে আপনি আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে একই সাথে অনেক গুলো Android Apps ব্যবহার করতে পারবেন।

০৪| Clear Sound 

পূর্বের দিনের মোবাইল ফোন গুলোতে যে ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হতো। সেগুলো ততোটা উন্নত ছিলোনা যতোটা আপডেট ভার্সনের Android Mobile গুলো তে ব্যবহার করা হয়।

কেননা, আজকের দিনে যে ফোন গুলোতে Android 10 ব্যবহার করা হচ্ছে। সেগুলোতে Sound System Amplifier নামের একটি বিশেষ ধরনের ফিচার ব্যবহার করা হচ্ছে।

যেখানে আপনি অডিও ভার্সন কে একটু এডিট করে নিজের পছন্দ মতো ব্যবহার করতে পারবেন। 

০৫| Privacy Hide 

বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক কোম্পানি Google থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিলো। যেখানে বলা হয়ে আজকের দিনে যে ফোন গুলো তে Android 10 ব্যবহার করা হচ্ছে।

সেই ফোন গুলোতে প্রায় ১০০ প্রকারের সিকিউরিটি সিস্টেম বা নিরাপত্তার সুবিধা ভোগ করা যাবে।

এছাড়াও যদি আপনার ফোনের কোনো Apps এর মধ্যে ত্রুটি থাকে। তাহলে সেটিও আপনি Google Play Store থেকে নোটিফিকেশন আকারে জানতে পারবেন।

আপনি আরো দেখতে পারেন…

তো উপরে যে সুযোগ সুবিধা গুলোর কথা উল্লেখ করা আছে। এই ধরনের সুবিধার জন্য আজকের দিনে এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর সে কারনে এখনকার দিনে Android এতো বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। 

এন্ড্রয়েড মানে গুগলের সব কিছু কেন ?

যদিও এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা তেমন জরুরী নয়, তবুও অনেক মানুষ এটি লিখে প্রায় গুগলে সার্চ করে। সেটি হলো, এন্ড্রয়েড মানে গুগলের সব কিছু কেন।

তো এই জ্ঞান পিপাসু মানুষের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবো। যাতে করে এই বিষয়ে তাদের মনে কোনো প্রকার প্রশ্নের অবকাশ না থাকে।

তো চলুন এবার সেই প্রশ্নের উত্তরটা জেনে নেয়া যাক।

দেখুন, সবার আগে আপনাকে জেনে নিতে হবে যে Google শুধুমাত্র একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়।

বরং এই সার্চ ইঞ্জিন বাদেও গুগলের আরো অনেক ধরনের প্রোডাক্ট আছে। আর অন্যান্য প্রোডাক্ট এর মধ্যে Android হলো গুগলের নিজস্ব একটি প্রোডাক্ট।

আর যার কারনে গুগল এই এন্ড্রয়েড কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের Apps, Play store তৈরি করে থাকে। যার কারনে এখন পর্যন্ত এন্ড্রয়েড মানে গুগলের সব কিছু। 

Android version কি ?

উপরের আলোচনা থেকে আপনি এন্ড্রয়েড কি এবং এন্ড্রয়েড ব্যবহার করার বেশ কিছু সুবিধাজনক দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

এখন আপনাকে আরো একটি বিষয়ে ধারনা রাখতে হবে। সেটি হলো Android Version কি। কেননা, এন্ড্রয়েড এর সাথে এন্ড্রয়েড ভার্সনের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তো একজন মানুষ যেমন ছোটো থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত যে পরিমান পথ অতিক্রম করে।

ঠিক তেমনি ভাবে এই Android সৃষ্টির আদি থেকে আজ পর্যন্ত যে পরিমান পথ অতিক্রম করেছে।  তাকে বলা হয়, Android Version.

হয়তবা বিষয়টা আপনি ক্লিয়ার ভাবে বুঝতে পারেননি। তাই চলুন এই বিষয়কে আরেকটু সহজভাবে জেনে নেয়া যাক।

দেখুন, শুরুর দিকে যখন এন্ড্রয়েড এর যাত্রা হয় তখন কিন্তুু এতো বেশি ফিচার ছিলোনা যা আমরা আজকের দিনের ফোন গুলো তে ব্যবহার করতে পারছি।

আর এর মধ্যে নতুন নতুন ফিচার আনার জন্য প্রতিনিয়ত চেস্টা করা হয়েছে। ততোবার আমাদের মতো ব্যবহার কারীরা ভিন্ন ভিন্ন এন্ড্রয়েড ভার্সনের স্বাদ নিতে পেরেছি৷ 

Android version এর ইতিহাস

উপরের মূল্যবান আলোচনা থেকে আপনি এন্ড্রয়েড কি – তা জানার পাশাপাশি এন্ড্রয়েড ভার্সন (Android Version) কি সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তো এবার আপনার উচিত যে, History of android version সম্পর্কে জেনে নেয়া। কেননা, এর পেছনেও কিন্তুু বিরাট একটা ইতিহাস আছে।

চলুন এবার তাহলে সেই ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

সত্যি বলতে মোট ২ জন বিখ্যাত ব্যাক্তির হাত ধরে এন্ড্রয়েড এর সূচনা হয়েছিল। আর সেই দুজন ব্যক্তির নাম হলো, Andy Rubin এবং Rich Miner.

কিন্তুু পরবর্তী সময়ে গুগল তাদের কাছ থেকে আর্থ বিনিময়ের মাধ্যমে এর আধিপত্য নিয়ে ফেলে। এবং ঐ দুজন ব্যক্তিকে গুগলের নিজস্ব কাজের জন্য নিয়োগ দেয়।

এরপর বাজারে যে স্মার্টফোন গুলো ছিলো, তাদের সবাই কে Android Version ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

তবে বাজারে থাকা অন্যান্য মোবাইল কোম্পানি গুলোকে একীভূত করার লক্ষ্যে গুগল একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

সেখানে বলা হয়েছিলো, আপনারা আপনাদের স্মার্টফোন গুলোতে Android Operating System ব্যবহার করুন। এবং পরবর্তী তে এই সিস্টেম কে আরো বেশি উন্নত করা হবে।

এবং তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনের তাগিদে এন্ড্রয়েড কে অনেক ভাবে আপগ্রেড করে নতুন নতুন ভার্সন নিয়ে আসা হয়। 

এন্ড্রয়েড এর বিভিন্ন ভার্সন গুলোর বিষয়ে – (Android versions)

এন্ড্রয়েড এর উৎপত্তি থেকে শুরু করে ২০০৫ সাল – আজ অবধি মোট ১৬ প্রকার আপডেট করা হয়েছে।

আর এই সকল আপডেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের ফোন গুলো তে নতুন নতুন ফিচার উপভোগ করতে পেরেছি। আর সেই আপডেট ভার্সন গুলো হলো, 

  1. Android Alfa – ২০০৮
  2. Android Petit Four (Beta) – ২০০৯
  3. Android Cupcake – ২০০৯
  4. Android Donut – ২০০৯
  5. Android Eclair – ২০০৯
  6. Android Froyo – ২০১০
  7. Android Honeycomb – ২০১১
  8. Android Ice-cream Sandwich – ২০১১
  9. Android Jellybean – ২০১২
  10. Android KitKat – ২০১৩
  11. Android Lollipop – ২০১৪
  12. Android Marsmallow – ২০১৫
  13. Android Nougat – ২০১৬
  14. Android Oreo – ২০১৭
  15. Android Pie – ২০১৮
  16. Android 10 Q – ২০১৯

তো চলুন এবার এই আপডেট ভার্সন গুলো সম্পর্কে স্বল্প আকারে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। তাহলে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। 

Android all version details

এবার আপনার জানার সুবিধার জন্য আমি স্টেপ বাই স্টেপ Android এর সকল ভার্সন নিয়ে আলোচনা করবো। তো চলুন এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক। 

০১| Android Alfa – ২০০৮

এন্ড্রয়েড এর আলফা (Alfa) ভার্সনে ইউজারদের বিভিন্ন অ্যাপস ইনস্টল করার পারমিশন দেয়া ছিলো। যার ফলে উক্ত সময়ে Gmail, Camera, Browser, Map ইত্যাদি কে ব্যবহার করা যেতো। 

০২| Android Petit Four (Beta) – ২০০৯

এন্ড্রয়েড এর Petit Four ভার্সনে ফোনের Call Screen কে উন্নতকরন করা হয়। যেখানে ফোনে আসা ইনকামিং কল এবং আউটগোয়িং কল করার সময় Display Show এবং Display Hide করার নতুন একটা ফিচার যুক্ত করা হয়। 

০৩| Android Cupcake – ২০০৯

২০০৯ সালে এন্ড্রয়েড এর মধ্যে Cupcake নামের নতুন একটি ভার্সন নিয়ে আসা হয়। যেখানে বেশ কিছু নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়।

যেমন, Third Party Apps থেকে পছন্দমতো উইজেড সেট করা, ইউটিউবে Video Upload করা এবং Mobile Screen Rotation করা যেত। 

০৪| Android Donut – ২০০৯

আমরা মোবাইলে লিখা ছাড়াই কথা বলে সার্চ করার সুবিধা টি এসেছি সেই ২০০৯ সালে আসা Donut আপডেট এর মাধ্যমে।

এছাড়াও এই আপডেট এর মাধ্যমে Screen Recoding এর ফিচার টি এসেছিলো। যার সুবিধা আমরা এখনো ভোগ করতে পারছি। 

০৫| Android Eclair – ২০০৯

এন্ড্রয়েড এর Eclair আপডেটে আরো বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়। যেখানে আমরা Keyboard এবং টাইপিং এর দিকটা অনেক ইমপ্রভমেন্ট এর সাথে ব্যবহার করতে পারছি।

এর পাশাপাশি Zoom, Flash,Colour Effect প্রদান করা হয়। 

০৬| Android Froyo – ২০১০

মোবাইল ফোনে থাকা কোনো এপস কে খুব দ্রুততার সাথে চালু করা থেকে শুরু করে Wifi, Hotspot, USB tethering.

এমন কি Push Notification এর মতো ভালো ভালো ফিচার গুলোকে এন্ড্রয়েড Froyo আপডেট এর পর থেকে ব্যবহার করতে পারছি। 

০৭| Android Honeycomb – ২০১১

ফোনের মধ্যে কম্পিউটার এর মতো মাল্টিটাস্কিং করার সুবিধা টি মূলম এন্ড্রয়েড এর Honeycomb আপডেট এর পর থেকে ভোগ করতে পেরেছি।

যেখানে আপনি ফোন থেকেই একই সময়ে অনেক গুলো কাজ করতে পারবেন। 

০৮| Android Ice-cream Sandwich – ২০১১

বর্তমানে আমরা যেমন নিজের Face এর মাধ্যমে ফোন কে screen lock এবং unlocked করতে পারছি ৷ এই বিশেষ ধরনের ফিচার টি মূলত Ice-cream Sandwich আপডেট এর হাত ধরেই এসেছে।

এছাড়াও ভলিউম বাটনের মাধ্যমে Screenshot নেয়ার ফিচারটিও এই আপডেট এর মাধ্যমে আসে। 

০৯| Android Jellybean – ২০১২

আমাদের মোবাইল ফোনে যেসব Apps ইনস্টল করা থাকে। সেগুলো থেকে আসা নোটিফিকেশন গুলো অনেক সময় বিরক্তির কারন হয়ে যায়।

আর এই ধরনের Notification কে On/Off করার সুবিধাটি Jellybean আপডেট এর পর থেকে ভোগ করে আসছি ৷ 

১০| Android KitKat – ২০১৩

একটি এন্ড্রয়েড ফোন থেকে wireless printing, audio monitoring, audio enhancer, sensor optimize এর কাজ গুলো মূলত কিটক্যাট আপডেট পরেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

যে ফিচার গুলো একজন মোবাইল ইউজার এর জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

১১| Android Lollipop – ২০১৪

মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট করে এমন ফিচার টি মূলত Lollipop আপডেট এর পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ব্যাটারির স্থায়ীত্ব এবং smart lock, guest account নামের ফিচার গুলো এই আপডেট এর পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

১২| Android Marsmallow – ২০১৫

আমাদের ব্যবহার করা এন্ড্রয়েড ফোন গুলোর জন্য এই Marshmallow আপডেট টি অনেক নতুন নতুন ফিচার নিয়ে এসেছিলো।

যেখানে আমরা Fingerprint Lock, Data Backup, 4K Video দেখার সুযোগ সুবিধা পেয়েছি। 

১৩| Android Nougat – ২০১৬

বিভিন্ন সময়ে আমাদের ফোন গুলোর সাহায্য বিভিন্ন ধরনের ফাইল কে encrypt & decrypt করার প্রয়োজন হয়। তো এই সুবিধাটি এই Nougat আপডেট এর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ

ছাড়াও floating windows, screen zoom নামের ফিচার গুলোও এই আপডেট এর পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

১৪| Android Oreo – ২০১৭

অতীতের এন্ড্রয়েড আপডেট গুলো তে সিকিউরিটি তেমন ছিলোনা। কিন্তুু Android Oreo আপডেট আসার পর থেকে এই নিরাপত্তার দিকে বিশেষভাবে নজর রাখা হয়েছে। 

১৫| Android Pie – ২০১৮

পাই (Pie) আপডেট এর মাধ্যমে আমাদের ফোনে থাকা ব্যাটারি গুলোর স্থায়ীত্ব নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করা হয়েছে।

সেজন্য Battery Saver, Battery Parentage নামের ফিচার গুলো এই আপডেট এর পর থেকে আমরা ভোগ করতে পারছি। 

১৬| Android 10 Q – ২০১৯

বর্তমান সময়ের ফোন গুলোতে ডার্ক মোড এর ফিচার টি মূলত Android 10 Q থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।

এছাড়াও Screen recorder, bubble notification, desktop mode এই ধরনের ফিচার সমৃদ্ধ করে আমাদের ফোন গুলোকে আরো বেশি আর্কষনীয় করা হয়েছে। 

আপনি আরো পড়তে পারেন…

এন্ড্রয়েড কি নিয়ে আমাদের শেষকথা 

সময়ের সাথে সাথে আমাদের হাতে থাকা ফোন গুলো কে ক্রমাগত ভাবে উন্নীতকরন করা হচ্ছে। আর সে কারনে এন্ড্রয়েড কি -তা জেনে নেয়া আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

আর সেই বিষয়টি নিয়ে আজকে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করা হয়েছে। এর পর আপনার মনে যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার ব্লগ সাইটে থাকা কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।

আমি সঠিক তথ্য দিব আর আমার এই ব্লগে প্রতিনিয়ত বাংলা ভাষায় অনলাইন থেকে আয় করার উপায় এবং বাংলা টেক নিয়ে নিয়মিত লেখা লেখি করি।

সবশেষে বলবো, Bnala It Blog এর সাথে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Share via
Copy link