টাকা জমানোর উপায় | টাকা জমানোর পদ্ধতি গুলা দেখুন

টাকা জমানোর উপায় : আপনার জন্য টাকা জমানোর উপায় গুলো জেনে নেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা, জীবনে চলার পথে প্রতি মুহুর্তে আমাদের টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে।

আর আমরা তো সবাই জানি যে, টাকা থাকলে নাকি বাঘের দুধও পাওয়া সম্ভব। 

টাকা জমানোর উপায় | টাকা জমানোর পদ্ধতি গুলা দেখুন
টাকা জমানোর উপায় | টাকা জমানোর পদ্ধতি গুলা দেখুন

কিন্তুু টাকা এতো মূল্যবান হওয়ার পরেও, আমরা কিন্তুু এই টাকা জমিয়ে রাখতে পারিনা। এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা মাসের শুরুতে একটা হিসেব করে রাখে।

কিন্তুু মাস শেষ হতে না হতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। আর তখনি শুরু হয় অভাবের শুরু।

তবে এমন কিছু টিপস আছে। যেগুলো আপনি জানতে পারলে আপনিও খুব সহজেই টাকা জমিয়ে রাখতে পারবেন। আর এই জমা করা টাকা গুলোর উপকার আপনি তখনি পাবেন।

আপনি আরো দেখুন…

যখন আপনার কোনো বড় ধরনের অভাব আসবে।

হ্যালো বন্ধ, স্বাগতম আপনাকে Bangla it blog এর নতুন একটি এপিসোডে। আজকের আর্টিকেলে আপনি সেরা কিছু টাকা জমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

যেগুলো ফলো করতে পারলে, আপনিও অন্যদের মতো অনেক টাকা জমা করে রাখতে পারবেন।

আর যদি আপনার বেশি পরিমানে টাকা খরচ করার বদভ্যাস থাকে। এবং যদি আপনি যদি কোনো ভাবেই নিজের টাকা জমিয়ে রাখতে না পারেন।

তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক বেশি হেল্পফুল হবে। তাই চেস্টা করবেন পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার ৷ 

কোন কারন গুলোর জন্য আপনার টাকা খরচ হয়? 

টাকা জমা করার উপায় গুলো জেনে নেয়ার আগে আপনাকে জেনে নিতে হবে যে, কি কারনে আপনার টাকা গুলো খরচ হয়। কেননা, যতক্ষন না আপনি এর কারন গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ততক্ষন আপনি সেই সমস্যা গুলোর সমাধান করতে পারবেন না।

তো চলুন এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক যে, এমন কোন কারন গুলো আছে। যার কারনে আপনার কাছের টাকা গুলো খরচ হয়ে যাচ্ছে। 

০১|নিজের কিছু বদ অভ্যাসের কারনে 

আপনি কি জানেন, আমাদের নিজের কাছে থাকা টাকা গুলো খরচ হওয়ার মূল কারন কি? – এর মূল কারন হলো, আমাদের মধ্যে কিছু বদঅভ্যাস আছে।

যার কারনে সেই টাকা গুলো নিজের অজান্তেই খরচ হয়ে যায়। যা আপনি নিজেও টের পান না।

কিন্তুু আপনি যদি সেই বদ অভ্যাস গুলোকে সহজেই ত্যাগ করতে পারেন। তাহলে কিন্তুু টাকা খরচ হওয়ার পরিমানটা পূর্বের তুলনায় অনেক গুন কমে যাবে।

এবং আপনিও অন্যান্য মানুষের মতো নিজের মূল্যবান টাকা গুলো জমিয়ে রাখতে পারবেন।

এখন হয়তবা আপনার মনে প্রশ্ন জাগে যে, এই বদ অভ্যাস গুলো কি কি? – সে সম্পর্কেও আমরা বিস্তারিত জানবো। তবে এজন্য আপনাকে এই আর্টিকেল এর একটু গভীরে যেতে হবে। 

০২| টাকার মূল্যায়ন না করার জন্য 

আমরা সবাই জানি যে, টাকা হলো মূল্যবান একটি বস্তু। কিন্তুু এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা এই সত্যটি জানার পরেও টাকাকে তেমন মূল্য দেন না৷ তাদের ধারনা মতে বর্তমান সময়টা ভালো চললেই হলো।

তারা মনে করে, ভবিষ্যতে যা হবে দেখা, তখন দেখা যাবে।

হুমমম এটা সত্য যে, ঈশ্বর যখন আমাদর সৃষ্টি করেছেন ৷ তখন অবশ্যই তিনি আমাদের জন্য কোনো না কোনো উপায় বের করে দিবেন।

কিন্তুু আপনি যদি মিতব্যায়ী না হন, তাহলে কিন্তুু ভবিষ্যতে আপনাকে পস্তাতে হবে।

কারন আপনি তো জানেন যে, যেমন কর্ম তেমন ফল। যা নিয়ে আপনি কখনই দ্বিমত পোষন করতে পারবেন না। 

কিভাবে টাকা জমানো শুরু করবেন?

যাক, ক্রমে ক্রমে আমরা আর্টিকেল এর মূল আলোচনা তে ফিরে যাচ্ছি। আর আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কারন আপনি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর আজকের আর্টিকেলটির এই পর্যন্ত আসতে পেরেছেন ৷

এ থেকে বুঝা যায় যে, আপনি সত্যি সত্যি টাকা জমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে চান।

তো এবার আপনাকে জেনে নিতে হবে যে, কিভাবে আপনি টাকা জমানো শুরু করতে পারবেন। 

০১| একটা সময় নির্ধারন করুন

সবার আগে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারন করতে হবে। অর্থ্যাৎ আপনি কখন থেকে নিজেকে টাকা জমানোর জন্য প্রস্তুত করবেন।

তা কিন্তুু আপনাকে পূর্বে থেকেই নির্ধারন করে রাখতে হবে। কেননা, প্রত্যেকটা কাজের কিন্তুু সূচনা থাকে।

ঠিক একইভাবে আপনাকেও পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে একটা সময় নির্ধারন করে নিতে হবে। যেই সময় থেকে আপনি টাকা জমানো শুরু করতে পারবেন।

তবে আমার দৃষ্টিকোন থেকে এই সিন্ধান্তটি আপনার মাসের শুরুতেই নেয়া উচিত। তাহলে পরবর্তী সময় গুলোকে আপনি যথেষ্ট কাজে লাগাতে পারবেন। 

০২| নিজেকে একেবারে প্রস্তুত করুন

দেখুন উপরের আমরা জানলাম যে টাকা জমাতে হলে সবার আগে আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারন করতে হবে। এখন এই বিষয়টি জানার পর অনেকেই হয়তবা কোনো না কোনো সময় নির্ধারন করবেন।

যে উক্ত সময়ে আপনি টাকা জমানো শুরু করে দিবেন।

কিন্তুু এই সময় নির্ধারন করার পর আপনি আর সেই কাজটি শুরু করতে পারবেন না। কেননা আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন।  যারা কোনো কাজ শুরু করার সময় নির্ধারন করার পরেও তা অনুযায়ী শুরু করতে পারে না।

তারা এভাবে শুধু তারিখ ই নির্ধারন করেন। কিন্তুু তারিখ অনুযায়ী কোনো কাজ শুরু করতে পারে না।

তো সেজন্যই সবার আগে আপনাকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। যেন শত বাধার পরেও আপনি টাকা জমানো শুরু করেই ছাড়বেন।

তাহলেই কিন্তুু আপনি যেকোনো কাজ শুরু করতে পারবেন। এবং খুব সহজেই আপনি আপনার ব্যয় করা টাকা গুলো কে জমা রাখতে পারবেন।  

টাকা জমানোর উপায় গুলো কি কি?

যাক দেখতে দেখতে আমরা আর্টিকেল এর মূল টপিকে ফিরে এসেছি। এতোক্ষন আমরা জানলাম যে, কেন আপনি টাকা জমা করে রাখবেন।

এবং কিভাবে আপনি টাকা জমানো শুরু করবেন। আশা করি উপরোক্ত আলোচনা গুলি বেশ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

তবে আপনি যদি উপরোক্ত আলোচনা গুলি না পড়ে থাকেন। তাহলে আপনাকে বিশেষভাবে রিকুয়েস্ট করবো উপরোক্ত আলোচনা গুলি পুনরায় আরেকবার পড়ার।

নাহলে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস করে ফেলবেন।

তো চলুন এবার আমরা টাকা জমানোর টেকনিক গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই। 

০১| প্রতি মাসের বাজেট তৈরি করুন 

যদি আপনি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করে থাকেন। তাহলে আপনি সচারাচর প্রতি মাসের ৫-৭ তারিখের মধ্যেই বেতন পাওয়ার কথা।

কিন্তুু এই বেতন পাওয়ার পর আপনাকে একটা সিডিউল তৈরি করে নিতে হবে। যেন ঐ শিডিউল অনুযায়ী আপনি আপনার অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

হয়তবা ভাবছেন, এটা আবার কিভাবে সম্ভব মানুষ তো আর রোবোট নয়। যে তার তৈরি করা শিডিউল মত চলতে পারবে। হ্যাঁ ভাই!  এটা আমিও মেনে নিচ্ছি যে, এভাবে শিডিউল মতো চলা সম্ভব না।

কিন্তুু চেস্টা করতে তো কোনো প্রকার সমস্যা নেই, তাইনা? 

আপনি যদি প্রতি মাসে এভাবে শিডিউল করেন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে কোনো একটা সময়ে আপনি আপনার শিডিউল মতো চলতে পারছেন। যা আপনার টাকা জমানোর ক্ষেএে অনেক বেশি হেল্পফুল হবে।

চলুন এবার কিছু শিডিউল মতো টাকা জমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। 

শিডিউল অনুযায়ী টাকা জমানোর উপায়

যদি আপনিও অন্যদের মতো শিডিউল তৈরি করতে চান। এবং আপনার বেশি পরিমানে ব্যয় করা টাকা গুলো কে জমিয়ে রাখতে।

তাহলে আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। যেমনঃ

  • সবার আগে আপনাকে আপনার পরিবার এর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় খরচ গুলোর একটা লিষ্ট তৈরি করতে হবে। 
  • এরপর আপনাকে আরও একটা লিষ্ট তৈরি করতে হবে। যে ব্যয় গুলো তেমন একটা প্রয়োজনীয় না। অর্থ্যাৎ, সেই খরচ গুলো দেরীতে কিংবা না করলেও চলবে। 
  • এরপর আপনাকে একটা আনুমানিক হিসেব করতে হবে। যেখানে আপনার মোট আয় থেকে কি পরিমান ব্যয় হবে। তা আপনাকে পূর্বে থেকে অনুমান করে রাখতে হবে। 
  • এরপর আপনার আয় থেকে কি পরিমান ব্যয় হচ্ছে। আপনার আয় এর পরিমান কতটুকু কমে যাচ্ছে। এই সব গুলোর একটা হিসেব আপনাকে তৈরি করতে হবে। এবং চেস্টা করতে হবে আপনার তৈরি করা ব্যয় এর অনুসারে চলার।

তো যদি আপনি উপরোক্ত নিয়ম গুলো বারবার অনুসরন করার চেস্টা করেন। তাহলে আপনি কোনো একটা সময়ে নিজের তৈরি করা শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবেন।

এবং আপনার বাড়তি ব্যয় করা টাকা গুলো খুব সহজেই জমিয়ে রাখতে পারবেন। 

০২| নিজের ব্যয় করার হিসেব লিখে রাখুন 

টাকা জমানোর পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পদ্ধতি হলো হিসেব লিখে রাখা। যে পদ্ধতি টি অনুসরন করতে পারলে আপনি অনেক সহজেই আপনার টাকা গুলো জমিয়ে রাখতে পারবেন।

তবে এই টাকা জমানোর কৌশল টি অনেক উপকৃত হলেও, আমরা কিন্তুু বেশিরভাগ সময় এটি মানতে পারি না। কেননা, ব্যস্ততম জীবনের সাথে যুদ্ধ করতেই তো আমাদের মূল্যবান সময় গুলো শেষ হয়ে যায়।

তাহলে এই লিষ্ট করার সময় কোথায়, তাইনা?

তাহলে শুনুন, ব্যস্ততম এই জীবনে যদি আপনি একটু চেস্টা করেন। তাহলে কিন্তুু আপনি খুব সহজেই আপনার ব্যয় করা খরচের হিসেব গুলোর একটা লিষ্ট তৈরি করতে পারবেন।

চলুন এবার তাহলে সেই নিয়ম গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। 

হিসেব লিখে টাকা জমানোর উপায়

যদি আপনি অন্যদের মতো ব্যয় করার টাকা গুলোর লিষ্ট করতে চান। এবং এর মাধ্যমে আপনি আপনার টাকা জমানোর সহজ উপায় গুলো অনুসরন করতে চান। তাহলে আপনাকে এমন অনেক রুলস মেনে চলতে হবে। যেমনঃ

  • সবার আগে আপনাকে একটি নির্ধারিত সময় সেট করতে হবে। যে সময়ে আপনি এই ব্যয় এর হিসেব গুলো লিখে রাখতে পারবেন। 
  • সবচেয়ে ভালো হবে যদি আপনি অবসর সময়ে এই লিস্টিং এর কাজ গুলো করেন। কেননা, অবসর সময়ে আপনার ভেতরে তেমন কোনো চাপ থাকবে না।
  • এবং এ সময়ে আপনি খুব সহজেই লিস্টিং করার কাজটি করতে পারবেন। 

তো যদি আপনি টাকা জমানোর কৌশল গুলো জানতে চান। এবং এই টাকা জমানোর সহজ উপায় অবলম্বন করে টাকা জমিয়ে রাখতে চান।

তাহলে উপরোক্ত নিয়ম গুলো অবশ্যই আপনাকে সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। তাহলে আপনি আপনার অতিরিক্ত খরচের পরিমান কমিয়ে নিতে পারবেন।

এবং আপনার টাকা জমা করে রাখতে পারবেন।  

০৩| একসাথে কেনাকাটা করতে শিখুন 

বেশ অন্যতম একটি টাকা জমানোর কৌশল হলো একসাথে কেনাকাটা করা। কারন যখন আপনি আপনার কোনো প্রয়োজনীয় পন্য একসাথে কিনে নিবেন।

তখন আপনি বিশেষ এক ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি টাকা জমানো শিখে যাবে।

কি ভাই বিশ্বাস হলো না, তাইনা?- তাহলে শুনুন…

মনে করুন আপনি দোকানদার এর কাছ থেকে ১ কেজি আলু ৩০/- দিয়ে নিলেন। কিন্তুু আপনি যদি ঐ ১ কেজির পরিবর্তে ১০ কেজি নেন। তাহলে কিন্তুু আপনি ১০ টাকা হলেও কম রেটে নিতে পারবেন।

আপনি আরো পড়ুন…

ঠিক এভাবে আপনি যদি আপনার সাংসারিক পন্য গুলো একসাথে কেনাকাটা করতে পারেন। তাহলে কিন্তুু আপনি উদাহরনে উল্লেখিত পন্য গুলোর মতো সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

তাহলে টোটাল খরচ থেকে কিছু পরিমান হলেও ব্যয় কমিয়ে আনতে পারবেন। 

একসাথে কেনাকাটা করে টাকা জমানোর উপায় 

উপরে আমরা একসাথে কেনাকাটা করলে কি কি সুবিধা পাবো।

এতক্ষনে আমরা সে বিষয় নিয়েই আলোচনা করছি। এখন আমরা জেনে নিবো যে, কিভাবে আপনি একসাথে কেনাকাটা করে টাকা জমিয়ে রাখার চেস্টা করবেন।

  • যেহুতু আপনি একসাথে কেনাকাটা করবেন। সেহুতু আপনাকে একটু বেশি সময় দেরী করে খরচ করতে হবে। কারন আপনি যতো দেরীতে খরচ করবেন। আপনার খরচ এর পরিমানও বেড়ে যাবে। 
  • তবে এই পদ্ধতিতে টাকা জমিয়ে রাখতে হলে আপনাকে পূর্বে থেকেই কিছুটা অনুমান করে রাখতে হবে।
  • যেমন, পরবর্তী সময় গুলোতে আপনার কোন কোন পন্য গুলোর কেনাকাটা করা প্রয়োজন হতে পারে। সে সম্পর্কে পূর্বে থেকেই কিছুটা অনুমান করে রাখতে হবে।

ব্যাস এটুকুই! একসাথে  কেনাকাটা করে টাকা জমিয়ে রাখার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। তবে এই টাকা জমানোর উপায় টি যদি আপনার ভালো না লাগে। তাহলে আপনি পরবর্তী উপায়টি সম্পর্কে জেনে নিন।

কারন এরপরে আরও দারুন একটা টাকা জমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। 

০৪| বাইরের খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন 

দেখুন উপরের হেডিং টি দেখার পর আবার এটা ভাইবেন না যে, আপনি বাইরে গেলে একেবারে না খেয়ে থাকবেন। আসলে আমি আপনাকে সেটি বোঝাতে চাইনি। কারন নিয়ে না খেয়ে টাকা জমিয়ে রাখার কোনো মানে হয়না।

এতে হয়তবা আপনার টাকা জমা করা যাবে। কিন্তুু আপনি নিজেই নিজেকে কষ্ট দিবেন।

তবে কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা প্রয়োজন এর তুলনায় অপ্রয়োজনীয় খরচ বেশি করে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হলো চা, পান, সিগারেট, কফি। প্রধানত এগুলো না খেলে আপনি বাঁচতেই পারবেন না।

বিষয়টা কিন্তুু সেরকম নয় বরং এগুলো থেকে বিরত থাকলে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। এর পাশাপাশি আপনার টাকা জমা হবে।

এখন হয়তবা আপনি ভাবছেন যে, দিনে চা, পান, সিগারেট খেতে আবার কত টাকা যায়। এগুলোতে তো অনেক কম পরিমান টাকা ব্যয় হয়। কিন্তুু যদি আপনি এমনটা ভেবে থাকেন।

তাহলে বলবো আপনার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কারন এগুলোর পেছনে দৈনিক কম টাকা ব্যয় হলেও যখন আপনি মাস শেষের হিসেব করবেন। তখন আপনি নিজেই রিতীমতো অবাক হয়ে যাবেন। 

বাইরের খাবার কমিয়ে টাকা জমানোর কৌশল 

উপরের আমরা দারুন একটা টাকা জমানোর টেকনিক সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তো এটি সম্পর্কে জানার পর আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কিভাবে বাইরের খাবার খাওয়া কমিয়ে টাকা জমিয়ে রাখতে পারবেন।

তো আপনি যদি টাকা জমানোর পদ্ধতি হিসেবে বাইরের খাবার কমিয়ে দিতে চান। তাহলে আপনাকে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। যেমনঃ

  • সবার আগে আপনার নেশা জাতীয় খাবার যেমন, চা, পান, সিগারেট ইত্যাদি। এগুলোর প্রতি যে আগ্রহ আছে। সেই আগ্রহকে পূর্বের তুলনায় অনেক গুন কমিয়ে আনতে হবে। 
  • যদি সেটি করেও কোনো কাজ না হয়, তাহলে আপনাকে এই খাবার গুলোর যেসব সাইট ইফেক্ট রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হতে হবে। 
  • হয়তবা আপনার দীর্ঘদিনের অভ্যাস থাকার ফলে একেবারে এই খাবার খাওয়া বন্ধ করতে কষ্ট হবে।
  • তবে আপনি যদি চেস্টা করেন তাহলে দেখবেন এই চেস্টার ফলে কোনো একটা সময়ে আপনি এইসব নেশা জাতীয় খাবার থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়ে যাবেন।

আশা করি উপরোক্ত টাকা জমানোর পদ্ধতিটি আপনার কাছে অনেক কঠিন মনে হতে পারে।

কিন্তুু একটা কথা মাথায় রাখবেন, পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আর আপনি যদি আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যান। তাহলে কোনো না কোনো একটা সময়ে অবশ্যই সফলতা অর্জন করে নিতে পারবেন। 

০৫| ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার এর পরিমান কমিয়ে নিন

যারা মূলত টাকা সঞ্চয় করতে পছন্দ করেন। তাদের প্রত্যেকের একটি করে ব্যাংক একাউন্ট থেকে থাকবে। মূলত আমরা যা ইনকাম করি তা থেকে কিছু পরিমান টাকা ব্যংকে জমিয়ে রাখতে পছন্দ করি।

যেন পরবর্তীতে সময়ে কোনো বড় ধরনের বিপদ আসলে জমা করা সেই টাকা গুলো আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তুু টাকা জমানোর এই কৌশলটি অনেক ভালো। তবে আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা মূলত অল্প অল্প করে সেই টাকা গুলোকে খরচ করে থাকেন।

হয়তবা যখন কোনো ছোট খাটো সমস্যা হয় ঠিক তখনি তিনি ব্যাংকে থাকা টাকা গুলো কে খরচ করে থাকেন।

কিন্তুু এই অল্প পরিমান টাকা ব্যয় করতে করতে একটা সময় দেখা যায় যে, নিজের অজান্তেই অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।

যার ফলে আপনার ব্যাংকে থাকা টাকা গুলোর পরিমানও তুলনামূলক ভাবে কমে আসতে থাকে। যা আপনার টাকা জমানোর প্রক্রিয়াতে বিশেষ ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

সীমিত আকারে ব্যংক ব্যবহার করে টাকা জমানোর টেকনিক

আমার দৃষ্টিকোন থেকে উপরে যতগুলো টাকা জমানোর উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে৷ তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো সীমিত আকারে ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করা ৷

কিন্তুু আপনি যদি এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনার কাছে থাকা টাকা গুলো কে জমিয়ে রাখতে চান। তাহলেও আপনাকে এমন অনেক কিছু নিয়ম আছে। যেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমনঃ

  • সবার আগে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আপনার একাউন্টে মোট কি পরিমান টাকা সঞ্চয় করা আছে। 
  • আপনার ব্যংকে এই সঞ্চয় করা টাকা গুলো কে খরচ না করে সেগুলোকে ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রাখবেন ৷ 
  • যখন আপনার পরিবারে ছোটো খাটো কোনো সমস্যার জন্য টাকার প্রয়োজন হবে। তখন চেস্টা করবেন যেন ব্যংকে থাকা সঞ্চয়ে হাত না দিয়েই আলাদাভাবে সেই টাকার অভাব পূরন করা যায়। 
  • আর আপনি প্রতি মাসে ব্যংক থেকে কি পরিমান টাকা ব্যয় করছেন। তার একটা যখাযথ হিসেব লিষ্ট করে রাখবেন ৷ তাহলে আপনার নিজের অজান্তে অনেক বেশি পরিমান টাকা খরচ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যাবেন।

তো আশা করা যায় যে, কিভাবে সীমিত পরিসরে ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা জমানোর উপায় টি সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

আর যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে আপনাকে রিকুয়েষ্ট করবো উপরোক্ত আলোচনা টি পুনরায় আরেকবার পড়ার। নাহলে আপনি অনেক কিছু মিস করে ফেলবেন। 

০৬| বিলাসিতা যথাসম্ভব বর্জন করুন

আমরা সবাই জানি যে, মানুষ হিসেবে আমরা বড়ই শৌখিন। আর এই শৌখিনতা কে কেন্দ্র করে আমাদের বিলাসিতার কোনো অন্ত থাকে না।

যার ফলে আমরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এতো বেশি খরচ করে ফেলি। যা আপনি ভেবে দেখলে রিতীমতো অবাক হয়ে যাবেন।

যেমন আপনি ঘরে নেই, কিন্তুু আপনার বাসাতে লাইট, ফ্যান, টিভি এগুলো অনবরত চলতেই থাকে। হয়তবা আপনার মনে হতে পারে যে, ভাই এগুলো চালিয়ে রাখলে তো খুব বেশি একটা টাকা ব্যয় করতে হয় না।

কিন্তুু ভাই যেহুতু আপনি টাকা জমানোর চেস্টা করবেন। সেহুতু আপনাকে প্রতিটা কাজেই টাকা জমিয়ে রাখার চেস্টা করতে হবে।

সেই খরচের পরিমান ছোট হোক কিংবা বড় হোক। আপনাকে সব খরচের দিকে যথেষ্ট খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে একটা সময় দেখা যাবে আপনি ছোট ছোট বিলাসী জীবনে ব্যয় করা খরচ গুলো থেকে।

একদিন মোটা অংকের টাকা বাঁচিয়ে নিতে পারবেন। 

বিলাসিতা বর্জনে টাকা জমানোর টেকনিক

সবার আগে যে কথাটি বলবো যে, আমাদের যে পরিমান টাকা ব্যয় হয়। সেই পরিমান টাকা ব্যয় হওয়ার সবগুলো কারন এর মধ্যে বিলাসিতা কিন্তুু অন্যতম একটি কারন।

যেখানে প্রায় প্রত্যেকটা মানুষের প্রচুর পরিমান টাকা ব্যয় হয়ে থাকে।

এখন আপনি যদি টাকা জমানোর উপায় হিসেবে বিলাসিতা কে বর্জন করতে চান। তাহলে আপনাকে এমন বেশ কিছু নিয়ম অনুসরন করতে হবে। আর আপনি যদি সেই নিয়ম গুলোকে সঠিকভাবে অনুসরন করতে পারেন।

তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার টাকা জমা করে রাখতে পারবেন।

  • সবার আগে আপনাকে নজর রাখতে হবে যে, কোনোভাবেই যেন আপনার পরিবারে অপ্রয়োজনীয় কোনো ইলেকট্রনিক পন্য ব্যবহার করা না হয়। 
  • আপনার আরামদায়ক জীবন উপভোগ করা থেকে কিছুটা হলেও বিরত থাকার চেস্টা করবেন। হয়তবা এতে আপনার একটু কষ্ট হতে পারে। কিন্তুু টাকা জমিয়ে রাখার জন্য এটি অনেক বেশি কাজে দিবে। 
  • যদি খুব বেশি প্রয়োজন না হয়, তাহলে এসি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই হবে বুদ্ধিমান এর কাজ।

তো যদি আপনি টাকা জমানোর উপায় হিসেবে বিলাসিতা কে বর্জন করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে উপরোক্ত পয়েন্ট গুলোর দিকে নজর রাখতে হবে।

আর আমার বিশ্বাস আপনি অবশ্যই এই পয়েন্ট গুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। 

ছাত্র অবস্থায় টাকা জমানোর উপায়

ছাএ জীবন হলো এমন একটি সময়। যখন ছাএদের হাতে ব্যয় করার মতো অনেক সময় থাকলেও। ব্যয় করার মতো পরিমিত পরিমান টাকা থাকে না।

কেননা, বেশিরভাগ ছাএরা তাদের বাবা মা এর কাছ থেকে খরচের টাকা নেয়। এবং প্রত্যেকের বাবা মা সেই পরিমান টাকা দিয়ে থাকে। যতটুকু তাদের সন্তানদের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

কিন্তুু আপনি জানলে অবাক হবেন, কারন ছাএ জীবনে একজন ছাএ যদি ইচ্ছে করে। তাহলে কিন্তুু সে বেশ ভালো পরিমান টাকা জমিয়ে রাখতে পারবে। যা তার পরবর্তী সময়ে কাজে লাগাতে পারবে।

তবে প্রশ্ন হলো যে, কিভাবে একজন ছাএ তার ছাএ জীবনে টাকা জমিয়ে রাখতে পারবে? -এর উওরটি জানতে চাইলে নিচের টিপস গুলো পড়ে নিন। 

ছাত্রদের টাকা জমানোর উপায়

ছাএদের জন্য টাকা জমানোর এমন অনেক ধরনের কৌশল রয়েছে। যেগুলো একজন ছাএ অনুসরণ করে চলতে পারলে সেও অন্যদের মতো অনেক বেশি টাকা জমিয়ে রাখতে পারবে। যেমনঃ

  • যখন কেউ ছাএ অবস্থায় থাকে। তখন তার ফ্রেন্ড সার্কেল এর পরিমানও অনেক বেশি থাকে। আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে প্রায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।
  • তাই আপনি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবেন ঠিকই। কিন্তুু খরচের দিকটা তে যথেষ্ট নজর দেয়ার চেস্টা করবেন। 
  • আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যেটা বলতে খুব খারাপ লাগলেও বলা উচিত। সেটি হলো ছাএরা নিজেকে মর্ডার্ন হিসেবে পরিচিতি দেয়ার জন্য কিন্তুু সিগারেট খাওয়ার প্রবনতা বড়ে যায়।
  • আর এই মডার্ন হতে গিয়ে দেখা যায় যে সেই ছাএ দিনে প্রচুর পরিমান সিগারেট খেয়ে থাকে। তবে আপনারও যদি এই ধরনের বদ অভ্যাস থেকে থাকে। তাহলে অবশ্যই তা বর্জন করার চেস্টা করবেন। 
  • ছাএ জীবনে টিউশন পড়তে গিয়ে অনেক বেশি পরিমান টাকা খরচ হয়ে যায়। এখন আপনি যদি ক্লাশে ভালোভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে থাকেন। তাহলে কিন্তুু এই টিউশনিতে ব্যয় করা টাকা গুলো জমা করে রাখতে পারবেন।

যতি আপনি ছাএ হয়ে থাকেন, তাহলে উপরোক্ত স্টেপ গুলো অবশ্যই ফলো করার চেস্টা করবেন। যেন এই টাকা জমানোর পদ্ধতি গুলো অনুসরন করে আপনি খুব সহজে টাকা জমিয়ে রাখতে পারেন। 

আপনার জন্য আরো লেখা…

আমাদের শেষকথা

আজকের আর্টিকেলে আমরা সেরা কিছু টাকা জমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এর পাশাপাশি আজকে আমরা টাকা জমানোর এমন কিছু টেকনিক সম্পর্কে জেনেছি।

যা একজন মানুষেন জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তো আশা করা যায় উপরোক্ত আলোচনা গুলি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আর যদি না বুঝে খাকেন তাহলে আপনাকে রিকুয়েষ্ট করবো উক্ত আলোচনা গুলি পুনরায় আরেকবার পড়ার।

আজ এ পর্যন্তই | বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap