সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি ? কিভাবে এবং কেন করবেন 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing) এর গুরুত্ব দিন দিন হু হু করে বাড়ছে। আমরা যে অনলাইন থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করার স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন পূরনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যথেষ্ট একটি মাধ্যম।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

বর্তমানে এমন অনেক ব্যক্তিই আছেন, যারা শুধুমাএ Social media marketing করেই নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা, নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে এই সোশ্যাল মার্কেটিংকে ।

আবার এমন অনেক মানুষ যারা, স্বয়ং এই Social Marketing এর সাথে যুক্ত থাকার পরেও তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

তবে প্রশ্ন হলো, কেন? যেখানে একদল মানুষ সোশ্যাল মার্কেটিংকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। আবার কেউ সফলতা অর্জন করতে পারছে না কেন? কি বিভেদ আছে তাদের মধ্যে?

এর প্রধান কারন হলো, মার্কেটিং স্ট্রাটেজি। এই স্ট্রাটেজিকে যে মানুষ গুলো সোশ্যাল মিডিয়া কে ব্যবহার করে। শুধুমাত্র সেই মানুষ গুলো সফলতা অর্জন করতে পারে।

আর যে মানুষ গুলো এই স্ট্রাটেজি সম্পর্কে অবগত নয়৷ তাদেরকে ছিটকে পড়তে হয় Social media marketing থেকে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, “কি সেই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি? যা ফলে করে সফলতা পাওয়া সম্ভব “?

মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করবো। কিভাবে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে লক্ষ টাকা ইনকাম করবেন। সে সম্পর্কে A টু Z গাইডলাইন দেয়ার চেস্টা করবো। 

আশা করি অল্প কিছু সময় নিয়ে সম্পূর্ন আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার।

যদি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়েন। তাহলে আমার বিশ্বাস Social media তে কিভাবে মার্কেটিং করতে হয়। সে সম্পর্কে আপনি অনেক গোপন টেকনিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এর পাশাপাশি এই সেক্টরে যুক্ত হয়ে কিভাবে সফলতা অর্জন করবেন। তা সম্পূর্ণ আলোচনা করার চেস্টা করবো। 

সোশ্যাল মিডিয়া কি?

সোশ্যাল মার্কেটিং কি – সে সম্পর্কে তো অবশ্যই আলোচনা করবো। তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে যে, Social Media আসলে কাকে বলে। 

সাধারনত, Social শব্দের অর্থ হলো সামাজিকতা। তবে অর্থগত ভাবে যাই হোক না কেন। আমরা কিন্তুু সোশ্যাল মিডিয়া বলতে Facebook, Twitter, LinkedIn কে বুঝি।

আপনি আরো দেখুন…

একে অপরের সাথে যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখার জন্যই মূলত এই মাধ্যম গুলোর সৃষ্টি করা হয়েছে। আর বর্তমান সময়ে এই যোগাযোগ করার মাধ্যম গুলোকে ব্যবহার করে মানুষ খুব সহজেই একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে।

আর এজন্যই এই মাধ্যম গুলোকে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া৷ যাকে সহজ কথায়, সামাজিক যোগাযোগ এর মাধ্যম ও বলা যেতে পারে।

তবে আমাদের দেশে অনেক মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া বলতে শুধু ফেসবুক কে বুঝে থাকেন। কিন্তুু সেই মানুষ গুলোর জানা উচিত যে, ফেসবুক ছাড়াও কিন্তুু আরও অনেক মিডিয়া আছে। যেমন, Twitter, LinkedIn, YouTube, Pinntarest  ইত্যাদি। 

সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? (what is social media marketing)

তো উপরে আপনি জানলেন যে Social media বলতে সামাজিক মিডিয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে। এখন আপনি জানবেন, এই সামাজিক মিডিয়া মার্কেটিং কি এবং কিভাবে সামাজিক মিডিয়া এর মাধ্যমে মার্কেটিং করবেন।

সহজ কথায় যখন আপনি ফেসবুক কিংবা টুইটারের মতো সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে মার্কেটিং করবেন। তখন তাকে বলা হবে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

যেমন ধরুন, আপনার একটি অনলাইন শপ আছে। যেখানে আপনি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করে থাকেন। এখন আপনি চান যে আপনার সেই অনলাইন শপের প্রোডাক্ট গুলোকে বিভিন্ন সোশ্যাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করতে।

ঠিক এই সময়ে আপনাকে বেছে নিতে হবে বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোকে। সেটা হতে পারে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন কিংবা টুইটারের মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করবেন।

শুধুমাএ কোনো প্রোডাক্ট সেল করাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বললে ভুল হবে। কারন আপনি যদি আপনার কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রসারের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করেন।

তাহলেও কিন্তুু সেই পদ্ধতিকে Social media marketing বলা যেতে পারে।

মোটকথা আপনি অনলাইনে যেসব সোশ্যাল প্লাটফর্ম আছে। সেই প্লাটফর্ম গুলোতে আপনার মার্কেটিং করার পদ্ধতিকে বলা হবে, Social media marketing.

আশা করি বুঝতে পেরেছেন, যদি না বুঝেন তাহলে পুনরায় একবার পড়ে নিন। তাহলে পরবর্তী আলোচনা গুলো আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। 

কেন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হয়? (Why social media marketing?)

এতোকিছু জানার পর এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ” বর্তমানে এতো প্রকারের মার্কেটিং থাকার পরও কেন আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং করবেন”?

হুমমম, এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। আর এই প্রশ্নের উওরটি এখন বিস্তারিত আলোচনা করবো।

তাই পূর্বের আলোচনা গুলি যদি স্কিপ করে থাকেন। 

তাহলে এখন থেকে যে আলোচনা গুলো করবো। তা অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়বেন। নাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আপনার অজানা থেকে যাবে।

দেখুন উদাহরন হিসেবে আপনার নিজের কথা চিন্তা করুন। আপনি ফেসবুকে দৈনিক কি পরিমান সময় ব্যয় করেন। তা একবার চিন্তা করে দেখুন তো। হয়তবা ৩ ঘন্টা কিংবা ৪ ঘন্টা ব্যয় করেন, তাইনা?

আবার এমন অনেক মানুষ আছে। যারা দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত ফেসবুক কিংবা অন্যান্য সোশ্যাল সাইট গুলোতে সময় ব্যয় করে।

এখন আপনি যদি এই মানুষ গুলোকে টার্গেট করে অনলাইনের সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোতে মার্কেটিং করতে চান। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, আপনার এই মার্কেটিং করার চিন্তাটা কি ঠিক হবে নাকি বেঠিক হবে?

অবশ্যই ঠিক হবে, কারন বর্তমানে আপনি যদি সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোকে টার্গেট করে মার্কেটিং করতে চান। তাহলে কিন্তুু আপনি হিউজ পরিমানে অডিয়্যান্সকে ব্যবহার করতে পারবেন।

কারন, বর্তমানে মানুষ সবাই প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আর যতোই দিন যাচ্ছে মানুষ ততোই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

আর এই প্রযুক্তি নির্ভর মানুষ গুলোকে নিয়েই আপনাকে মার্কেটিং করতে হবে। মূলত এরাই হলো আপনার তুরুপের তাস। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ডিমান্ড কেমন?

এবার আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক। তো যখন আপনি Social media marketing করতে যাবেন। তখন অনেকেই আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে যে, এই মার্কেটিং এর ডিমান্ড কেমন।

তো যেহুতু আপনি আর্টিকেলের এই পর্যন্ত চলে এসেছেন। সেহুতু আপনি বলুন তো, এর ডিমান্ড কেমন? কি বলতে পারবেন?

থাক! আপনাকে বলতে হবে না। বরং আমিই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলছি।

দেখুন ডিমান্ড নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার উপর। কেননা, আপনি যদি সোশ্যাল মার্কেটিং এর স্ট্রাটেজিকে সঠিকভাবে ফলো করতে পারেন। তাহল আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

আর যখন আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন। তখন কিন্তুু আপনার মার্কেটিং এর ডিমান্ড থাকবে।

অপরদিকে আপনি যদি এই Social Marketing এর স্ট্রাটেজিকে সঠিকভাবে বুঝতে না পারেন। আপনি যদি সেই টেকনিক গুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারেন।

তাহলে কিন্তুু আপনি কোনোভাবে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না।

আর আপনি যদি সফলতা অর্জন করতে না পারেন। তাহলে কিন্তুু আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজির তেমন কোনো ডিমান্ড থাকবে না।

কারন কি জানেন? এর প্রধান কারন বুঝতে হলে আপনাকে একটি প্রবাদ শুনতে হবে। সেটি হলো,  “যতোদিন আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। ততোদিন আপনার গল্পের কোনো মূল্য থাকবে না”।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কয়েকটি সুবিধা

মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ এর কথা হয়তবা শুনেছেন। যার অর্থ হলো, প্রত্যেকটি বিষয়ের কিছু ভালো দিক আছে৷ আবার সেই বিষয়ের খারাপ দিকও আছে।

কিন্তুু আপনি যদি Social Marketing এর দিকে তাকান। তাহলে কিন্তুু এর খারাপ দিকের চেয়ে ভালো দিকের পরিমানটা বেশি লক্ষ্য করতে পারবেন।

তবে এটা আবার ভাববেন না যে, আমি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে আর্টিকেল লেখছি বলে শুধু ভালো দিক গুলোর কথা বলছি। যদি আপনি এমনটা ভাবেন, তাহলে বলবো আপনার ধারনা সম্পূর্ন ভুল।

তো বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করলে মনে হয় আপনি পরিস্কার একটা ধারনা পেয়ে যাবেন।

আপনি যদি সোশ্যাল মার্কেটিং করেন। তাহলে বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যেমন,

Close To Targeted Customers

অনলাইনে সেক্টরে সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোতে মার্কেটিং করার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হলো, খুব সহজেই টার্গেটেড কাস্টমার খুজে পাওয়া সম্ভব। এই সুবিধাটি আপনি অন্যান্য সেক্টরে খুব কম পরিমানে পাবেন।

দেখুন এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মানুষ থাকে। আর এই মানুষ গুলোর মধ্যে আপনি খুব সহজেই আপনার টার্গেটেড অডিয়্যান্সকে খুজে নিতে পারবেন।

যেমন আমরা যদি ফেসবুকের কথা মনে করি। তাহলে আপনাকে যদি বলা হয় যে, ফেসবুকে এমন কিছু মানুষকে খুজে নিন। যে মানুষ গুলো পুরাতন ফোন কেনাবেচা করে থাকে।

আপনি কি এমন মানুষ গুলোকে খুজে নিতে পারবেন না?

আপনি আরো পড়ুন…

এটা খুব সহজ একটা বিষয়, এজন্য আপনাকে সরাসরি এমন ফেসবুক গ্রুপ বা পেজ গুলোকে খুজে নিতে হবে। যারা মূলত পুরাতন মোবাইল কেনা বেচার সাথে জড়িত।

আবার আপনি যদি এটাও করতে না পারেন। তাহলে আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে Paid Promoting এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি আপনার মূল অডিয়্যান্সকে খুজে নিতে পারবেন।

তো সোশ্যাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে ভালো একটা দিক খুজে পাবেন। সেটি হলো, আপনার কাঙ্ক্ষিত কাস্টমারকে খুব সহজেই হাতের নাগালেই পাবেন। 

Easy For Fasted Promotion

অর্থগত দিক থেকে Promotion শব্দটির অর্থ হলো, প্রচার করা। আপনার কোনো পন্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রসার করার জন্য প্রচারের কোনো বিকল্প নেই।

আর এই প্রচারের কাজটি যদি আপনি সোশ্যাল প্লাটফর্ম গুলোতে করতে চান। তাহলে আপনি অনেক দ্রুত এই কাজটি করতে পারবেন।

এর প্রধান কারন হলো, বর্তমানে Social Media গুলোতে একটিভ অডিয়্যান্সের সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। আর এই কারনে আপনি এই প্ল্যাটফর্ম গুলোতে খুব সহজেই আপনার যেকোনো পন্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার করতে পারবেন। 

ধরুন আপনি কোনো নতুন পন্য সম্পর্কে ১ ঘন্টার মধ্যে ১ লক্ষ মানুষের কাছে প্রচার করতে চান। এবং এই কাজটি করার জন্য আপনি যদি ভার্চুয়াল জগতের Social Platform গুলোর উপর নির্ভর করেন।

তাহলে এই কাজটি সম্পন্ন করতে তেমন বেগ পেতে হবে না। 

Make Promotion With Low Budget

মনে করুন আপনার একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এবং সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো পন্য সম্পর্কে প্রচার করে মানুষকে জানিয়ে দিতে চান।

এখন আপনি যদি রিয়েল লাইফে কোনো টিভি চ্যানেলের কাছে যান। তাহলে কিন্তুু আপনাকে মোটা অংকের টাকা গুনতে হবে। কিন্তুু অপরদিকে আপনি যদি এই কাজটি করার জন্য Social Platform গুলোকে বেছে নেন।

তাহলে কিন্তুু এই সমস্যা থেকে অনেকটাই স্বতি পাবেন।

কারন আপনার বাজেটের পরিমান যদি অনেক কম থাকে। এরপরও কিন্তুু আপনি কম বাজেট দিয়েই প্রোমশনের কাজটি করিয়ে নিতে পারবেন। যা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর অন্যতম একটি দিক।

যেমন, আমরা যদি ফেসবুকের কথাই চিন্তা করি। তাহলে দেখতে পারবেন যে, এখানে যদি আপনি কোনো পন্যের প্রচার (Promotion) করতে চান। তাহলে আপনি অনেক ছোট্ট এমাউন্ট নিয়েও এই কাজটি করতে পারবেন।

কারন এখানে ১০ ডলার থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রমোশন করার সুযোগ আছে। যা রিয়েল লাইফে এমনটা আশা করাটাও বোকামীর পর্যায়ে চলে যাবে। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোন গুলো?

আপনি এতোক্ষনে কি কেন এবং কিভাবে এই যাবতীয় বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। তাই এবার আমরা জানবো, আপনি যে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন। সেই মার্কেটিং কোথায় করবেন।

অন্যান্য সোশ্যাল প্লাটফর্ম এর চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক এ আপনি খুব সহজেই এই মার্কেটিং এর কাজটি করতে পারবেন। আর এই দিকের কথা ভেবে ফেসবুক প্রতিনিয়ত তাদের প্লাটফর্মকে আপডেট করে চলেছে।

এখানে আপনি প্রোমশনের কাজে Text, Video, Stories অথবা image কে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি চাইলে সরাসরি ফেসবুক থেকেও মার্কেটিং করতে পারবেন।

অথবা Facebook Messenger এর মাধ্যমেও এই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কাজটি করতে পারবেন। 

#02- YouTube 

আমরা সবাই জানি যে, ইউটিউব হলো বর্তমানে বিশ্বের প্রথম সারিতে থাকা একটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। যার বর্তমান ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২ বিলিয়ন (মাসিক) এরও বেশি।

ইউটিউব এর তথ্য অনুযায়ী একজন ব্যবহারকারী তাদের প্লাটফর্মে দৈনিক সর্বনিন্ম ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করে থাকে।

আপনি যদি Social media marketing করার জন্য ইউটিউবকে ব্যবহার করতে চান। তাহলে এখানে আপনাকে ভিডিও এর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হবে। 

#03- Pinterest

পিন্টারেস্ট হলো একটি ভার্চুয়াল scrapbooking সোশ্যাল মিডিয়া সাইট। এখানে আপনাকে ইমেজের মাধ্যমে আপনার কোনো প্রোডাক্টের প্রমোশন করতে হবে।

যদি আপনি Pinterest এর মাধ্যমে সোশ্যাল মার্কেটিং করতে চান। তাহলে আপনাকে সবার আগে Board তৈরি করতে হবে। এবং আপনি যে প্রোডাক্টের প্রোমোশন করতে চান। সেই প্রোডাক্টের ইমেজকে উক্ত Board এর মধ্যে Pin করতে হবে। 

#04- Instagram 

ইনস্টাগ্রাম হলো one of the fastest-growing social নেটওয়ার্ক প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি খুব দ্রুত গতিতে আপনার মার্কেটিং এর প্রসার করতে পারবেন।

২০১৮ সালে ইনস্টাগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের মাসিক একটিভ অডিয়্যান্সের সংখ্যা প্রায় ১ বিলিয়নেরও বেশি। যার পরিমান দিন কে দিন বেড়েই চলছে।

এখানে আপনি ভিডিও এবং ইমেজের মাধ্যমে সোশ্যাল মার্কেটিং করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি ইনস্টাগ্রামের Stories এবং Live Features কে ব্যবহার করে উক্ত কাজটি খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন।

এগুলো ছাড়াও এমন অনেক সোশ্যাল প্লাটফর্ম আছে। যেখান থেকে আপনি খুব দ্রুত Social Marketing করতে পারবেন। এবার সেই প্লাটফর্ম গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। 

সোশ্যাল মিডিয়া লিস্ট

তো চলুন এবার দেখে নেয়া যাক, এমন কোন ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্ম গুলো আছে। যেখান থেকে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত সোশ্যাল মার্কেটিং করতে পারবেন।

তো এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে, যেমনঃ- 

[💡PRO TIPS: এগুলো ছাড়াও আরও শ’খানেক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম আছে। যেখান থেকে আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং করতে পারবেন। সেজন্য আপনাকে গুগলে গিয়ে All social media marketing site list লিখে সার্চ করলে এমন আরও অনেক ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে পারবেন ]

কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে হয়? 

যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে চান। তাহলে আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর সেই বিষয় গুলো নিয়ে এবার বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

দেখুন, প্রত্যেকটি কাজে কিছু টেকনিক থাকে। আর যখন সেই টেকনিক গুলো অবলম্বন করা হয়। ঠিক তখনি উক্ত কাজে সফলতা পাওয়া যায়।

ঠিক তেমনি, যখন আপনি এই সোশ্যাল Marketing এর সাথে যুক্ত হতে চাইবেন। তখন আপনাকেও অনেক বিষয়ের দিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

আপনি আরো দেখতে পাড়েন…

আর আপনি যখন এই বিষয় গুলো গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখবেন। তখন উক্ত সেক্টরে আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনাও কয়েক গুন বেড়ে যাবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, কি সেই বিষয় যেগুলো ফলো করলে আপনিও অন্যদের মতো Social media marketing করে নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে পাড়বেন?

তো চলুন এবার সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে পর্যায়ক্রমে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাক। 

সোশ্যাল মিডিয়া নির্বাচন (Social media selection) 

দেখুন, যদি আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং করতে চান। তাহলে সবার আগে আপনাকে নির্বাচন করতে হবে যে। আপনি আসলে কোন মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটিং করবেন।

হতে পারে আপনি ফেসবুকে মার্কেটিং করবেন অথবা টুইটারে মার্কেটিং করবেন। তো এই বিষয়টা আপনাকে আগে থেকেই নির্বাচন করতে হবে।

তবে এটা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার মার্কেটিং পন্যের উপর। অর্থ্যাৎ, আপনি আসলে কি পন্যের মার্কেটিং করবেন তার উপর নির্ভর করে এই সোশ্যাল মিডিয়াকে নির্বাচন করতে হবে।

তবে যখন আপনি এই ধাপটিতে অবস্থান করবেন। তখন আপনি নিজেই নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করবেন। এবং এই প্রশ্ন গুলোর উওর খুজে বের করার চেস্টা করবেন। যেমন, 

  • আপনি কোন লোকেশনকে টার্গেট করবেন? 
  • কোন সোশ্যাল প্লাটফর্মটি আপনার টার্গেটেড অডিয়্যন্স সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে?
  • সবশেষ কোন প্লাটফর্মটি ব্যবহার করলে আপনি আপনার টার্গেটেড অডিয়্যান্সের কাছে খুব দ্রুততার সাথে পৌঁছাতে পারবেন। 

আপাততো যখন আপনি মার্কেটিং করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে নির্বাচন করবেন। তখন এই বিষয় গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

সোশ্যাল মিডিয়ার নিয়ম অনুসারে কাজ করা

যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আসলে আপনার কোন সোশ্যাল প্লাটফর্মকে বেছে নেয়া উচিত। তখন উক্ত প্লাটফর্মের যেসব নিয়ম কানুন আছে। সে নিয়ম কানুন অনুযায়ী আপনাকে কাজ করে যেতে হবে।

যেমন, আমি ধরে নিলাম যে আপনি মার্কেটিং করার জন্য ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়া কে বেছে নিয়েছেন। এখন আপনি যদি এই ফেসবুকের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে চান। তাহলে আপনাকে কি কি করতে হবে?

প্রথমত আপনাকে একটি বিজনেস পেজ তৈরি করতে হবে। এর সেই পেজটিকে আপনার প্রতিষ্ঠান বা পন্যের সাথে মিল রেখে সাজিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে একটি অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করতে হবে।

অপরদিকে আপনি যদি সোশ্যাল প্লাটফ মার্কেটিং করার জন্য YouTube কে বেছে নেন। তাহলে কিন্তুু আপনাকে অন্যভাবে কাজ করতে হবে, তাইনা?

তো আপনি যদি ইউটিউবকে বেছে নেন। তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম একটি Youtube channel তৈরি করতে হবে। তারপর সেই চ্যানেলকে সঠিকভাবে কাস্টমাইজড করতে হবে। এরপর উক্ত চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে হবে।

ঠিক এভাবেই আপনি যেকোনো সোশ্যাল প্লাটফর্ম নির্বাচন করুন না কেন। উক্ত প্লাটফর্ম এর যাবতীয় নিয়ম কানুন গুলো মেনে তারপর আপনার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। 

প্রমোশন বা প্রচার করা 

Social media share করার এটিই হলো শেষ ধাপ। এই ধাপে আপনাকে আপনার পন্য বা প্রতিষ্ঠানকে প্রচার করতে হবে। যার মাধ্যমে আপনি আপনার মার্কেটিংকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবেন।

তো এই ধাপে আপনাকে মূলত Advertising এর উপর নির্ভর করতে হবে। অর্থ্যাৎ, আপনার মার্কেটিং এ আপনি যে ধরনের অডিয়্যান্সকে টার্গেট করবেন। সেই অডিয়্যান্সের কাছে দ্রুত গতিতে পৌঁছানোর একটি সহজ পথ হলো, বিজ্ঞাপন প্রচার করা।

যেমন, আমরা যখন ফেসবুক ব্যবহার করি। তখন আমাদের নিউজফিডে বেশ কিছু Sponsored দেখতে পাই। মূলত এগুলোই হলো পেইড প্রোমোশন। যার মাধ্যমে তারা আপনার মতো অডিয়্যান্সকে টার্গেট করে নিজেদের পরিচিতি বৃদ্ধি করছে। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ কি কি শিখতে হবে?

যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে চান। তাহলে আপনাকে শুরু থেকে কিছু বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যদি আপনি সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে সঠিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

তাহলে আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুন বেড়ে যাবে।

তো Social media marketing করার আগে আপনাকে ২ টি বিষয়ের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যথাঃ 

  • Marketing Strategy 
  • Advertising Process

হুমমম আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই বিষয় গুলো সম্পর্কে অবশ্যই জেনে নিতে হবে। তাই এবার চলুন সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 

What is Marketing Strategy? 

একটু ভেবে দেখুন,  একজন সবজি বিক্রেতা যদি ওষুধ বিক্রি করে। তাহলে বিষয়টা কেমন দেখাবে? নিশ্চই তা অনেকের কাছে পছন্দসই হবে না, তাইনা?

ঠিক একইভাবে কোনো ফার্মেসিতে যদি ঔষুধের পাশাপাশি আল পটল বিক্রি করা হয়। তাহলেও কিন্তুু বিষয়টা তেমন মানানসই হবে না।

এবার আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং এর কথায় আসুন। তো এখানেও কিন্তুু আপনাকে সব দিক বিবেচনা করে কাজ করতে হবে।

একটি পন্যের প্রচার কোথায় করলে তা মানসম্মত হবে। এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনার পূর্নাঙ্গ ধারনা থাকতে হবে।

এর পাশাপাশি কিভাবে আপনার পন্যের প্রচার করলে তা অডিয়্যান্সের কাছে উপযুক্ত বলে মনে হবে। সে সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারনা রাখতে হবে। 

Advertising Process 

সোশ্যাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশ হলো, Advertising করা। কারন এই পদ্ধিত প্রয়োগের মাধ্যমে আপনাকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।

তো যখন আপনি সোশ্যাল মার্কেটিং শিখবেন৷ তখন আপনাকে Advertising Process টা কে ভালোভাবে বুঝতে হবে। কারন একেকটি সোশ্যাল প্লাটফর্ম এর Ad প্রদানের ধরন কিন্তুু আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

যেমন আপনি যদি ফেসবুকের মাদ্যমে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চান। তাহলে এখানে আপনি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে Advertising করতে পারবেন। সেই প্রক্রিয়াতে কিন্তুু Twitter কিংবা Instagram এ করতে পারবেন না। 

কারন, প্রত্যেকটা প্লাটফর্মের কাজের ধরন আলাদা রকমের হয়ে থাকে।

আর কোন সোশ্যাল প্লাটফর্মে কিভাবে Advertising করতে হয়। সে সম্পর্কে যদি আপনার কোনো ধারনা না থাকে। তাহলে কিন্তুু আপনি অন্যদের তুলনায় অনেক গুন পিছিয়ে থাকবেন।

তাই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শেখার আগে অবশ্যই এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন। যাতে পরবর্তীতে আপনার কোনো প্রকার সমস্যা না হয়। 

সোশ্যাল মিডিয়া কোথায় থেকে শিখব?

যদি আপনি এই সোশ্যাল মার্কেটিং শিখতে চান। তাহলে আপনার সামনে অনেক গুলো পথ খোলা থাকবে। আপনি চাইলে যেকোনো একটিকে পছন্দ করে সেই অনুযায়ী শিখে নিতে পারবেন।

প্রথমত আপনি যদি কোনো It Center এ গিয়ে শিখতে চান। তাহলে আপনি সেখান থেকে হাতে কলমে শিখতে পারবেন।

আবার বর্তমানে অনলাইনে এমন অনেক সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কোর্স আছে। আপনি চাইলে সেই কোর্স গুলো ফলো করেও অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

এছাড়াও ইউটিউবে অনেক চ্যানেল আছে। যারা বিনামূল্যে অনেক টিপস শেয়ার করে থাকে। আপনি চাইলে তাদের কাছ থেকেও শিখে নিতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ, আপনি আসলে কিভাবে শিখতে চান। তা সম্পূর্ন আপনার উপর নির্ভর করবে। 

পেশা হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কেমন হবে?

পেশা হিসেবে কিন্তুু চুরি করাও অনেক ভালো একটা টেকনিক। যতোক্ষণ পর্যন্ত না ধরা পড়বেন। 

ঠিক একইভাবে আপনি যদি Social media marketing কে কাজে লাগাতে পারেন। তাহলে আপনি অনেক ভাল পজিশনে আসতে পারবেন।

তখন আপনি যদি চান যে এই কাজটিকে নিজের পেশা হিসেবে নির্ধারন করবেন। তাহলে আপনার চিন্তার মধ্যে কোনো ভুল থাকবে না।

কিন্তুু আপনি যদি এই কাজে সঠিকভাবে দক্ষ হতে না পারেন। তাহলে কিন্তুু আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে। আর এমতাবস্থায় আপনি এই সেক্টরকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করাটা বিরাট বড় ভুলের কারন হয়ে দাড়াবে।

তাই এই সেক্টরে আসার আগে পুনরায় ভাবুন। আর খুজে বের করার চেস্টা করুন যে, আপনি আসলে এই সেক্টরে কাজ করার জন্য কতটুকু সিরিয়াস। 

আমাদের শেষকথাঃ

আশা করি এই আর্টিকেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পর্কে ক্লিয়ার একটা ধারনা পেয়ে গেছেন। এরপরও যদি আপনার Social media marketing নিয়ে কোনো প্রকার সমস্যা হয়, তাহলে কমেন্ট করবেন। 

 আমাদের ব্লগ থেকে শুধু মার্কেটিং ছারাও আরো অনেক লেখা আছে যেগুলা পড়লে জানতে পারবেন। কিভাবে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

প্রযুক্তি নিয়ে নতুন নতুন আর্টিকেল পেতে আমাদের বাংলা আইটি ব্লগ নিয়মিত ভিজিট করুন। বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap