ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয়?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? বা ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয় খুঁটিনাটি সকল বিষয়েই এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। সেইসাথে কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করলে আপনার ব্যবসার জন্য সফলতা বয়ে আনতে পারবেন বা এর সুবিধা গুলো কি সকল প্রশ্ন উত্তর এই আর্টিকেলের মাঝে পেয়ে যাবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি
ডিজিটাল মারকেটিং কি?

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসাসহ অন্যান্য সকল কাজের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানের যুগ ইন্টারনেটের যুগ এখন মানুষ ঘরে বসেই তাদের প্রয়োজনীয় সকল কিছু অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য অনলাইন বা ইন্টারনেটের সাহায্য নিচ্ছে।

আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হতে থাকেন তাহলে পুরোনো দিনের ট্রেডিশনাল সিস্টেমের মার্কেটিং থেকে উঠে এসে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর ফোকাস হতে হবে।

কেননা বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের যুগ। আপনি যদি এখনও ট্রেডিশনাল উপায়ে আপনার পণ্য দ্রব্যের মার্কেটিং করে বেড়ান তাহলে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠতে পারবেন না।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

সাধারনত আমরা যা জানি, কোন প্রোডাক্ট বা সেবার ভালো দিকগুলো তুলে ধরে মানুষের সামনে প্রচার-প্রচারণা করার মাধ্যমে বিক্রি করাকে মারকেটিং বলা হয়।

কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মার্কেটিং এর সিস্টেম টা একটু চেঞ্জ হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং।

মার্কেটিং কি  এ বিষয়ে আমরা কমবেশি সকলেই জানি কিন্তু আধুনিক যুগে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরো পড়ুন…

কোন প্রোডাক্ট বা সেবার মান উন্নয়নের দিক উল্লেখ করে তথ্যপ্রযুক্তি অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার-প্রচারণা বিজ্ঞাপনের মার্কেটিং করাকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়।

আরও সহজ ভাষায় বলা যায় ইন্টারনেটের সাহায্যে কোন প্রোডাক্ট  বা সেবা অনলাইনে মানুষের মাঝে পৌঁছে দেয়া বা প্রচার-প্রচারণা করায় ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

যেমনটা আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পারে ফেসবুকে কোন ভিডিও প্লে করলে অথবা ইউটিউবে কোন ভিডিও প্লে করলে আমরা মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপন দেখতে পারি।

আর এসকল আরে সকল বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণা গুলুকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। হতে পারে এই গুলো বিশ্বের সবচাইতে বড় চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম এবং ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আওতায় পরে।

আর এই বিজ্ঞাপন গুলোকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলার কারণ ইন্টারনেটের সাহায্যে তারা তাদের কোম্পানির প্রোডাক্ট এর প্রচার-প্রচারণা বিজ্ঞাপন দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ইউটিউব ফেসবুকের মাধ্যমে

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ব্যবহারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেননা এখন বেশিরভাগ মানুষই অনলাইন মুখী হয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি ব্যবসার প্রসার বা বাড়াতে চান অথবা সফলতা বৃদ্ধি করতে চান।

তাহলে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতি ফোকাস থাকতে হবে কেননা এর মাধ্যমে আপনি অতিরিক্ত পরিচিতি লাভ করতে পারবেন। যা আপনার বিক্রি এবং ক্রয়ের সেবা বাড়াতে সাহায্য করবে।

যারা মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো আইডিয়া রয়েছে তারা খুব সহজে বুঝতে পারবে যে ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মার্কেটিং এমন একটি বিষয় যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার প্রোডাক্ট মানুষের কাছে প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে প্রোডাক্টের ভালো রিভিউ এর মাধ্যমে প্রডাক্টিভ ক্রয় বা বিক্রয় করার প্রতি উৎসাহিত করা কী বোঝায়।

আপনার সেবা বা প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন বা প্রচার-প্রচারণা মানুষের মাঝে যত বেশি করতে পারবেন অর্থাৎ দেখাতে পারবেন তত বেশি বিক্রয়ের পরিমাণ তত বেশি হয়ে যাবে।

একজন মার্কেটারের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে প্রডাক্ট বা সেবার ভালো দিকগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরা অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে মার্কেটিং করতে যাবেন সে বিষয় সম্পর্কে লোকজনকে সে জিনিস সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা প্রদান করা। যাতে উৎসাহিত হয়ে সেই জিনিসটি ক্রয় বা বিক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

পুরনো দিনে কোন প্রোডাক্টের মার্কেটিং করার জন্য বিভিন্ন দোকান বাজার এবং মানুষের বাড়িতে ঘুরে ঘুরে ফের ওয়ালাদের সাহায্যে মার্কেটিং করতে হতো।

এবং বিভিন্ন প্রকার রেডিও টেলিভিশন পেপার পত্রিকার মাধ্যমে প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দ্বারা মার্কেটিং করা হতো আর এ সকল বিজ্ঞাপন গুলোকে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল মার্কেটিং করার কারণ

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন ইন্টারনেট বা অনলাইনের যুগ চলে আসলো তখন বিভিন্ন প্রকার সোশ্যাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এর আবির্ভাব হওয়ার পর সেখানে মানুষ সময় ব্যয় করতে শুরু করে দিল।
তখন বিভিন্ন মার্কেটার ভাবল যে এই সকল সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের মার্কেটিং এর কাজ সেরে ফেলতে পারি। এই চিন্তাধারা থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রতি আকর্ষিত হওয়ার পর শুরু হয়ে গেল ডিজিটাল মার্কেটিং।
এতে করে সময়ের সাথে সাথে অনেক অর্থের অপচয় থেকে বাঁচা যায় যদি সে সকল মার্কেটিং গুলো অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়। এই সকল চিন্তাধারার মধ্য থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আবির্ভাব আসে এবং প্রতিনিয়ত এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে দিয়েছে।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত টার্গেট খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে পূর্ণ করে ফেলতে পারবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শিখবেন?

ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়ার আগে অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে পুরো আইডিয়া অর্জন করতে হবে অন্যথায় আপনি সাকসেস হতে পারবেন না। আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান তাহলে দুটি পন্থায় শিখতে পারবেন।

নিজে নিজে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখাঃ

একটি উপায় হলো অনলাইনে গুগোল ইউটিউব সহ অন্যান্য ব্লগ পড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। আর এই উপায়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বা বুঝতে চাইলে আপনার কোন ধরনের পেমেন্ট করতে হবে না ।

ফ্রিতে সব ধরনের মার্কেটিং সম্পর্কে নলেজ অ্যাড বা জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তবে এতে করে আপনার কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। কেননা একা একা যখন কোন কাজ করতে যাবেন তখন অবশ্যই আপনাকে মনোযোগ সহকারে সেগুলো দেখতে হবে প্র্যাকটিস করতে হবে।

নিয়মিত ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভিডিও দেখা ব্লগ পড়া সহ অন্যান্য উপায়ে প্র্যাকটিস করার পর একটি সময় আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়ে যাবেন।

পেইড কোর্স করে শেখাঃ 

আপনি যদি ফ্রি ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে না চায় অর্থাৎ নির্দিষ্ট একটি আইটি সেক্টর অথবা কোন অফলাইন অনলাইন কোর্স করতে চান তাহলে এটাও করতে পারেন তবে এজন্য আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে।

এবং বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা মাধ্যমে আপনার সমস্যাটা সমাধান খুব সহজে নিতে পারবেন আপনার মেন্টরের  কাছ থেকে।

অনলাইন বা অফলাইন কোর্সের মাধ্যমে যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান। তাহলে আপনার একা একা শেখার চেয়ে কম সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

এর জন্য অবশ্যই আপনাকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আইটি কোম্পানি অথবা আপনার মেন্টরকে প্রদান করতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা কি?

অন্যান্য মার্কেটিংয়ের থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে খরচ এবং সময় অনেক কম হয় বিধায় ডিজিটাল মার্কেটিং দিনে দিনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে যারা ছোট ছোট ব্যবসায়ী তাদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক কার্যকরী কেননা তারা অনেক টাকা খরচ করে বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না।

পেপার পত্রিকাতে ছোট করে একটা বিজ্ঞাপন দিতে গেল হাজার হাজার টাকা গুনতে হবে। আবার যদি টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে হয় তার জন্য হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে মডেল দ্বারা বিজ্ঞাপণ প্রদান করা হয়।

এতে করে কোম্পানির অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যায় এরকম একটা লাভজনক হয়ে উঠে না। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মাত্র ৫ ডলার বা ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত মার্কেটিং করা যাবে যাবে খুব অল্প সময়ের ভিতর।

ডিজিটাল মার্কেটিং দ্বারা আপনার প্রোডাক্টের বা সেবা আসলে কোন ধরনের বয়সের লোকদের মাঝে করতে চান অথবা কোন কোন লোকেশনে আপনার বিজ্ঞাপনটি দেখাতে চান সেটাও খুব সুন্দর ভাবে সেট করে নিতে পারবেন।

  • কম খরচ দিয়ে সব কোম্পানি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবে।
  • সময় কম লাগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য।
  • নিজে নিজেই ঘরে বসে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।
  • লোকেশন অনুযায়ী মার্কেটিং করা যায়।
  • অনলাইনে আপনার কোম্পানির নাম ব্রেন্ডে করতে পারবেন।
  • মানুষের মাঝে খুব তারা তারি পরিচিত হতে পারবেন যা অন্য উপায়ে অনেক সময় লাগে।
  • আপনার সেবা বা প্রডাক্টের দাম সঠিক ভাবে উপাস্থাপন করা যায়।
  • বয়স অনুযায়ী আপনার সেবা বা প্রডাক্টের মার্কেটিং করতে পারবেন মানে কোন কোন বয়সের মানুষের মাঝে মার্কেটিং করতে পারবেন তা সেট করা যায়।

কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করবেন?

মার্কেটিং করার যেমন বিভিন্ন যাইগা থাকে ঠিক তেমনি ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য নানা রকমের মাধ্যম বা প্লাটফর্ম আছে। আপনার কোম্পানি কি নিয়ে কাজ করে ঐ বিষয়টি মাথায় রেখে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য প্লাটফর্ম বেছে নিতে হবে। এখনকার সময়ে কিছু  জনপ্রিয়  ডিজিটাল মার্কেটিং করার প্লাটফর্ম নিয়ে কথা বলব।

  • ১. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • ২. গুগল এডওয়ার্ডস
  • ৩. ইউটিউব মার্কেটিং
  • ৪. কনটেন্ট রাইটিং
  • ৫. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
  • ৬. ইমেইল মার্কেটিং
  • ৭. এফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে এই সাতটি প্লাটফর্মে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে খুব সহজে আপনার প্রোডাক্ট বিষয়ে মার্কেটিং করার মাধ্যমে পরিচিত করে তুলতে পারবেন। এই সকল প্লাটফর্মের মাধ্যমে ফ্রি এবং প্যাইড ভাবে লোকজনের মাঝে আপনার কোম্পানি বা সেবার ব্যাপারে জানাতে পাড়বেন।

১. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

আধুনিক যুগে মার্কেটিংয়ের জন্য সবচাইতে বড় প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে অনলাইন জগত অর্থাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য সবচাইতে বড় ইন্টারনেট মার্কেটপ্লেস হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।

একটি তথ্যমতে দেখা গিয়েছে যে পুরো বিশ্বের অর্ধেকের বেশি ফেসবুক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত এবং বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ফেসবুক এর সাথে পরিচিত এবং ফেসবুকে প্রতিনিয়ত কানেক্ট হচ্ছে।

সেজন্য আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মার্কেটিং এর কাজ করতে পারেন।

আপনি যদি বাংলাদেশি অথবা ভারতীয় হয়ে থাকেন তাহলে ফেসবুক মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য বেস্ট আইডিয়া কেননা এই ফেসবুকের ভিতর বাংলাদেশের সহ ভারতে অনেক মানুষ ব্যবহার করে।

ফেসবুক ছাড়া আরো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোর সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত আবার অনেকেই পরিচিত নই। সেই সকল সোশ্যাল ওয়েবসাইট গুলোর নাম হলঃ যেমন- ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হুয়াটস আপ, টুইটার, লিংকডিএন এবং পিনটারেস্ট।

আপনি সোশ্যাল মিডিয়াতে দুটি ভাবে মার্কেটিং করতে পারবেনঃ

  • একটি হল ফ্রিতে সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং।
  • আর অপরটি হল পেইড অর্থাৎ টাকা দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করা।

ফ্রিতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হল যেখানে আমরা টাকা ছাড়া বিভিন্ন গ্রুপ ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট বা সেবা প্রমোট প্রাইস সম্পর্কে মানুষের মাঝে অভিহিত করাকে ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলা হয়।

এই ধরনের মার্কেটিং করা একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ বলা হয়ে থাকে। তবে ফ্রী মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে খুব একটা বেশি লোকের সাথে পরিচিত হওয়া যায় না তবে কিছু কিছু টেকনিক ব্যবহার করার মাধ্যমে ফ্রিতে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টাকা দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করার উপায় হলো ফেসবুকে আপনি বিভিন্ন বড় বড় গ্রুপ দেখতে পাবেন যে গ্রুপগুলো প্রতিমাসে কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার প্রোডাক্ট ওয়েবসাইট বা সেবার বিজ্ঞাপনটি দিতে পারবেন। আর এভাবে আপনার প্রোডাক্ট সেবা অথবা ওয়েবসাইট এর বিভিন্ন প্রকার প্রমোশন অফার অনেক মানুষের সাথে পৌঁছে দিতে পারবেন।

এছাড়াও ফেসবুকের বোস্টিং সিস্টেমটা রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই নির্দিষ্ট লোকেশন, নির্দিষ্ট মানুষের বয়ষ, নির্দিষ্ট জেন্ডার এর মাঝে আপনার ওয়েবসাইট বা বিভিন্ন অফারগুলো মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে পারবেন।

২. ইউটিউব মার্কেটিং

বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে বড় ভিডিও শেয়ারিং সোসাল প্লাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। এমন কোন ভিডিও নেই যে ইউটিউবে খুঁজলে পাওয়া যায়না। এডুকেশনাল থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র বিনোদন এবং অন্যান্য সকল ধরনের ভিডিও আপনি ইউটিউবে পেয়ে যাবেন।

আর অবশ্যই ইউটিউবে আমাদের মত আপনার মত মানুষেরা বিভিন্ন প্রকার ভিডিও আপলোড করে থাকে এবং একা একা আপলোড করা কখনোই সম্ভব নয়। আপনি যদি ইউটিউব থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান তাহলে অবশ্যই নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে এবং তাতে ভিডিও আপলোড করতে হবে।

যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অথবা কিছু সাবস্ক্রাইবার পেয়ে যাবেন তখন আপনি ভিডিওর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেন। ভিডিও ডেসক্রিপশন বক্সে বিভিন্ন প্রকার মার্কেটিংয়ের ইনফর্মেশন প্রোভাইড করে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারবেনন এবং থেকে আয় করতে পারবেন।

৩.গুগল এডওয়ার্ডস

গুগল এডওয়ার্ড হলো এখন পর্যন্ত জনপ্রিয় একটি Toolযার মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস এর মাধ্যমে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজটি সেরে নিতে পারবেন।

অর্থাৎ ওয়াল এডওয়ার্ডস হলো গুগলের একটি সার্ভিস যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রকার ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং এপ্সে আপনার প্রোডাক্ট বা সেবা বা অন্যান্য যে সকল বিষয় নিয়ে মার্কেটিং করতে চান সেই বিষয়গুলো গুগোল এডওয়ার্ড এর মাধ্যমে খুব সহজেই বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন।

আপনি হয়তো বিভিন্ন ওয়েব সাইট অথবা অ্যাপস এ প্রবেশ করার সময় দেখেছেন যে ওয়েবসাইটের হেডার ফুটার অথবা পোস্টের ভিতরে নানা রকমের বিজ্ঞাপন দেখতে পান আর এগুলো গুগোল এডওয়ার্ড এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হয়।

আপনি যদি গুগোল এডওয়ার্ডসের মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহার অথবা ওয়েবসাইট এর বিজ্ঞাপন দিতে চান তাহলে অবশ্যই গুগল এডওয়ার্ড কে পেমেন্ট করতে হবে। তারপর গুগল এডওয়ার্ড এর আওতায় সকল ওয়েবসাইট অর্থাৎ গুগোল অ্যাডসেন্সে যাদের ওয়েবসাইট অ্যাপ্রভাল আছে।

তাদের ওয়েবসাইটে আপনার প্রোডাক্ট বা ব্লগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। গুগল  তাদেরকে একটা পার্সেন্ট ক্লিকের মাধ্যমে দিবে এবং বাকি পার্সেন্ট গুগোল নিজে নিবে আর এভাবেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুগলের এডওয়ার্ড সাহায্যে মার্কেটিং করা যায়।

৪. আর্টিকেল রাইটিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং

আর্টিকেল রাইটিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ব্লগ অথবা বিভিন্ন প্রকার প্রোডাক্ট এবং সেবার মার্কেটিং করতে পারেন। আর এই মার্কেটিং একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর অংশ।

আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখেছেন যে Ahref Moz and Semrush এর মত ওয়েবসাইটগুলো তাদের সার্ভিস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার বিষয় নিয়ে ব্লগ আকারে আলোচনা করেছে এবং প্রাইস সম্পর্কেও খুব সুন্দর ধারণা প্রদান করেছে। তাদের ব্লগ থেকে সে সকল সার্ভিস সম্পর্কে জানার পর কিনার জন্য উৎসাহিত হতে পারে। আর এভাবেই আর্টিকেল রাইটিং এর মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করা যায়।

এমনকি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ও আর্টিকেল পাবলিশ করে গুগোল অ্যাডসেন্সে পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার প্রোডাক্ট এবং সেবার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন যা  Digital Marketing এর একটি অংশ।

৫. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)

একটি ওয়েবসাইটে যদি ভিজিটর বৃদ্ধি করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে মার্কেটিংয়ের সাহায্য নিতে হবে এবং আপনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ব্লগ অথবা ওয়েবসাইট ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে পারবেন।

আপনার ব্লগ/ওয়েবসাইট, অ্যাপ এবং  ভিজিটর তখনই হবে যখন সঠিক ভাবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে পারবেন। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করার জন্য অবশ্যই একজন এসইও এক্সপার্ট এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।  SEO Expert রা জানে কিভাবে একটি প্রোডাক্ট সাইট সার্চ ইঞ্জিনে অপটিমাইজেশন করা যায়। যাতে করে ভিজিটররা খুব সহজেই আপনার ওয়েব সাইটে খুঁজে পাই।

খুব সহজভাবে বলা যায়, আপনার যদি একটি বায়িং হাউসের ব্যবসা থাকে তাহলে বাইং হাউজ সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনে লিখে  জানতে চাইবে। আপনার ব্যবসা নিয়ে আপনি যদি একটি ব্লগ সাইট খুলে থাকেন তাহলে অবশ্যই বায়িং হাউস লেখা দিয়ে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইটটি টফ স্থান দখল করে নিতে চাইলে আপনার ওয়েবসাইটে এসইও করতে হবে।

এভাবে আপনার ব্লগ থেকে যদি প্রপার বায়িং হাউস সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যায় তাহলে সব বিষয়গুলি জানার পর আপনার কাছ থেকে সে সার্ভিস নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবে আর এভাবেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি করতে পারবেন।

৬. ইমেইল মার্কেটিং করে

তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে প্রতিনিয়ত ইমেইল মার্কেটিংয়ে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই সাথে সাথে গ্রাহক এবং ক্লায়েন্ট এর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করার জন্য ইমেইল মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা অনেকেই জানি ইমেইল মার্কেটিং কি আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে এখান থেকে ইমেইল মার্কেটিং সম্পর্কে পড়ে নিতে পারেন।

ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার অফার এবং প্রোডাকশন নির্দিষ্ট ব্যক্তি কে নির্দিষ্ট লোকেশন এর মানুষকে ইমেইল সেন্ড করার

মাধ্যমে খুব সহজে মাকেটিং করা যায়। ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন লোকেশন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সংগ্রহ করে আপনাকে তাদেরকে মিল করতে হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের লিংক সহ। এভাবে ইমেইল মার্কেটিং করা যায়।

৭. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে

বর্তমান সময়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং অতি জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে দিনকে দিন বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার ইন্টার্নেশনাল ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে খুব সহজেই এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং সেই ওয়েবসাইট এবং ব্লগ এ সুন্দরভাবে ব্যানারের প্লেসমেন্ট সেটআপ করে তাহলে নিয়ে যাবে । যখনই আপনার লিঙ্ক দেবার পরীক্ষায় কোন প্রোডাক্ট ভাষা বা কিংবা এবং সেই অনুযায়ী আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ

প্রতিনিয়ত ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে আশা করা যায়।

সেজন্য আপনার কোম্পানির অথবা আপনার ক্লাইন্টের কোম্পানি যায় বলুন ডিজিটাল মার্কেটিং এর দ্বাড়া খুব সহজেই কোম্পানির প্রোডাক্ট এবং সেবা সমূহের প্রমট দ্বারা মানুষদের মাঝে পরিচিত করাতে পারবেন এর জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

শেষ কথা,

আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটার হতে চান তাহলে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ভাল আইডিয়া জেনারেট করে নিয়ে মাঠে নামতে হবে অন্যথায় আপনার ক্লায়েন্টকে ভাল সার্ভিস দিতে পারবেন না।

2 thoughts on “ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হয়?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap