সিপিএ মার্কেটিং কি ? বাংলাই সিপিএ মার্কেটিং শিখুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

সিপিএ মার্কেটিং কি?  বাংলাই সিপিএ মার্কেটিং শিখুন- অনেকে ভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে  CPA Marketing এর অনেক মিল আছে। আবার অনেকে দুইটিকে এক ভাবে। তবে তা শুধুমাত্র ভুল ধারনা ছাড়া।

আর কিছুই নয় কারন এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং  CPA Marketing আলাদা। সিপিএ মার্কেটং হল Cost Per Action অর্থাৎ ক্লিক করার সাথে সাথে কাজ সম্পূর্ন হবে। কিন্তু প্রশ্ন আসতে পারে কি কাজ হয় বা কি জন্য এর ব্যবহার হয়ে থাকে?

সিপিএ মার্কেটিং কি?
সিপিএ মার্কেটিং কি?

সিপিএ মার্কেটিং আসলে ব্যবহার  হয় একটি সাইটের ট্রাফিক বাড়াতে। এটি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মত পন্য বিক্রি করতে হয় না। CPA Marketing করার মাধ্যমে আপনার সাইটে আসা ভিজিটরের মাধ্যমে আপনার নির্ধারিত সাইটে নিয়ে যাওয়া হল কাজ। বর্তমান সময়ে সিপিএ মার্কেটিং সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রতিটি অনলাইন কাজে ব্যবহৃত হয়।

তাহলে আজ আমরা জেনে নিবো সিপিএ মার্কেটিং কি বা কিভাবে আপনি সিপিএ মার্কেটিং করে আয় করবেন।

CPA মার্কেটিং কি?

CPA Marketing হল Cost Per Action। যার কাজ হল সাইটে ট্রাফিক বাড়িয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পূর্ণ করা। কিন্তু কিসের মাধ্যমে টা সম্ভব! মাধ্যম হবেন আপনি, আপনি হবেন পাবলিশার।

আপনার যদি ব্লগ বা সাইট থাকে তবে আপনি সিপিএ সাইটের লিংক নিজের সাইটে দিয়ে কাজ গুলো সম্পূর্ণ করে নিতে পারেন। তার জন্য আপনি পাবেন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। এবার আরো সহজে বলি, ধরুন আপনার কোন সাইট আছে বা ব্লগ আছে। 

যেখানে প্রতিদিন অনেক ভিজিটর আসে। আপনি চাচ্ছেন ভিজিটরের পাশাপাশি  CPA মার্কেটিং করে আয় করবেন। তো আপনি সিপিএ মার্কেটিং সাইটে একাউন্ট করেছেন।

আপনাকে তারা কাজ দিলো তা সম্পূর্ণ করতে হবে। তাদের সেই কাজটির লিংক আপনি নিজের সাইটে পাবলিশ করলেন। ব্যস এই পর্যন্ত আপনার কাজ। এর পর সেই লিংক এ যত ক্লিক পড়বে তত কমিশন আপনি পাবেন।

সিপিএ মার্কেটিং এর লাভ কি?

CPA মার্কেটিং খুব লাভজনক যখন আপনি সঠিক ট্রাফিক বা ভিজিটর লক্ষ্য করে করবেন। অন্যান্য ইকমার্স মার্কেটিং চ্যানেলের তুলনায়, সিপিএ মার্কেটিং অনুসারে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায় যার মধ্যে রয়েছে। যে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায় তার নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে আপনাদের মাঝে বলা হলো।

আর পড়তে পারেন…

১.সেট আপ করা সহজ

সিপিএ মার্কেটিং করা সহজ। আপনার কেবল একটি ওয়েবসাইট এবং একটি সিপিএ নেটওয়ার্ক দরকার। এই মার্কেটিং কৌশলটি ব্যবহার করতে খুব সামান্য মূলধন লাগবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কোন মূলধনের প্রয়োজন হয় না। ফ্রী সিপিএ মার্কেটিং এবং পেইড সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে আমরা কথা বলবো।

আপনি যখন কোনও বিশ্বস্ত এবং  অনুমোদিত সিপিএ নেটওয়ার্কের সাথে অংশীদার হবেন, তখন  আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এবং সিপিএ অফারগুলোর লিংক ব্যবহার করবেন। আপনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদিত ওয়েবসাইটগুলি থেকে ট্র্যাফিক পেতে শুরু করতে পারেন।

২. বিক্রয় নিয়ে সমস্যা নাই

এফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি পন্য বিক্রর পর তার কমিশন প্রদান করা হয়। কিন্তু  CPA Marketing এ লিংকে প্রবেশের সাথে সাথেই কমিশন প্রদান করা হয়, পন্য বিক্রি হক বা না হোক। এ দিক থেকে সিপিএ মার্কেটিং মার্কেটিং অ্যাফিলিয়েট এর চেয়ে বেশি ভাল।

৩. সিপিএ মার্কেটিং এ ঝুকি কম

ইকমার্স ব্যবসায়ের জন্য ঝুঁকি কম থাকে। যদি কোন ভিজিটর থেকে কাস্টোমার না হয় একটি সাইটে তাহলে কোন সমস্যা নেই। আপনি  CPA Marketing করার মাধ্যমে সাইটে ভিজিটর নিয়ে যেতে পারলেই কমিশন পাবেন।

CPA মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে ?

সিপিএ মার্কেটিং এর কাজ গুলো বিভিন্ন ভাবে করা যায়। তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় কাজ গুলোর ব্যাপারে এ আর্টিকেল এর মাঝে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি এই আর্টিকেল থেকে সিপিএ মার্কেটিং এ কিভাবে কাজ করতে হয় এ বিষয়ে পুরোপুরি গাইডলাইন পেয়ে যাব।

এটি কীভাবে কাজ করে এবং কারা জড়িত সে সম্পর্কে জানতে সিপিএ মডেলের একটি সহজ ধারণাঃ

অনুমোদিত বা প্রকাশকঃ

ব্লগার, ব্র্যান্ড, ব্যবসা যা ইকমার্স সাইটে ট্র্যাফিক আনতে এবং একটি নির্দিষ্ট কনভার্সন করতে কোনও ব্যবসা বা পণ্যকে উ্তসাহ দেয় CPA মার্কেটিং। এ ক্ষেত্রে সিপিএ মার্কেটিং খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখতে ভূমিকা পালন করে।

ব্যবসা বা বিজ্ঞাপনদাতাঃ

ব্যবসায়ের ওয়েবসাইটে গুণগত ট্র্যাফিক চালনা এবং বিক্রয় বাড়াতে, লিড জেনারেট করতে বা বুস্ট কনভার্সন বাড়াতে অনুমোদিতের সাথে অংশীদারিত্ব চায় তারা। ব্যবসায়িক সাইট বা কোম্পানি গুলো তাদের পন্য প্রচার বা সাইটের কোন সার্ভে করতে সিপিএ মার্কেটিং এর শরণাপন্ন হয়।

সিপিএ নেটওয়ার্কঃ

প্ল্যাটফর্ম যা অনুমোদিত এবং যারা তাদের পণ্য প্রচার করতে চায় এমন পণ্যগুলিকে প্রচার করে অর্থোপার্জন করতে চায় তাদের সাথে কাজ করে  সিপিএ মার্কেটিং

ধরা যাক লিসা নামে একটি জনপ্রিয় রান্না ব্লগার এর YouTube সদস্যতা এবং ব্লগ রিডারদের কাছে লিসা একটি অন্য সাইটের বই সম্পর্কে জানাতে চাচ্ছে। তিনি তার রান্নাঘরে করা রান্নাগুলোর রেসিপির মাধ্যমে কীভাবে ব্লগ শুরু করলেন এবং নতুন রেসিপি তার দর্শকদের কাছে প্রকাশ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড এবং পণ্যগুলির প্রস্তাবও দিয়ে থাকবেন।

এতে করে যারা সে বইটি সম্পর্কে জানতে চাইবে তারা লিংকে প্রবেশ করলেই লিসা পেয়ে যাবে কমিশন। আমাদের ব্লগ Bangla it Blog এর কথা ধরুন,আমাদের ব্লগে প্রচুর ভিজিটর প্রতিদিন আসে। আমরা আমাদের ব্লগে মান সম্পূর্ন সব কন্টেন্ট দেই।

এই কন্টেন্টের মধ্যে আপনাদের জন্য আকর্ষনীয় কোন অফার আছে সামনে তার একটি লিংক প্রদর্শন করলাম। আপনারা তাতে প্রবেশ করলেন, তাহলে বাংলা আইটি ব্লগ  CPA Marketing থেকে পাবে কমিশন।

সিপিএ মার্কেটিং কাজের কিছু উদাহরণ

CPA Marketing এর মতো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং । তবে এখানে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সিপিএ অর্থ ব্যয় প্রতি ক্রয় । অফার থেকে অর্থ প্রদানের জন্য আপনাকে লক্ষ্যবস্তু্র অ্যাকশনে পৌঁছানো বা লিড রূপান্তর করতে হবে।

অন্যদিকে, এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? এ  যখন কেউ পণ্য বা অফার কিনে, তখন আপনি কমিশন পাবেন। সুতরাং, সিপিএ মার্কেটিং , অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চেয়ে সহজ বলে বিবেচিত হয়।

যারা দ্রুত অর্থ উপার্জন করতে চান তাদের জন্য  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর  চেয়ে সিপিএ বেশি উপকারী। কারণ যখন আপনার রেফারেল লিঙ্কটিতে কেউ ক্লিক করে এবং কোনও একটি খুব সাধারণ কাজ সম্পন্ন করে তখন এটি আপনাকে কমিশন প্রদান করে।

  • ইমেল বা জিপ জমা দেয়া
  • সাইন আপ করা 
  • একটি ফর্ম পূরণ করা
  • কিছু ডাউনলোড করা
  • পন্য কেনা

সিপিএ মার্কেটিং এ অফার একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য থাকে না। আপনি যদি মনে করেন যে আপনি দীর্ঘ সময়ের অফারে কাজ করতে চান এবং যে কোনও অফারে একটি মাইক্রো সাইট তৈরি করতে চান।

আপনার জন্য আর পোষ্ট…

তাহলে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হবে। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সময় বেশি হওয়ায় সিপিএ মার্কেটিং এর প্রতি মানুষের চাহিদা কারন কম সময়ে আয় করা যায়।

সিপিএ মার্কেটিং করতে কি কি লাগে ?

CPA Marketing করার জন্য প্রয়োজন ইমেইল একাউন্ট এবং নিজের একটি সাইট। সেটা যেকোন ধরনের সাইট হতে পারে।স্যোশাল মিডিয়া, ইউটিউব, ব্লগ, ইকমার্স সাইট।

আপনি নিজের যেকোন সাইটের মাধ্যমে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারবেন। আর হ্যাঁ অবশ্যই আপনার দীর্ঘ মনোবল থাকতে হবে সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এবং সিপিএ মার্কেটিং সম্পর্কে ভাল আইডিয়া জেনারেট করে তারপরে সিপিএ মার্কেটিং নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ রইল।

সিপিএ মার্কেটিং থেকে কি রকম আয় করা সম্ভব?

এটি কেবল আপনার কৌশল এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে আপনি কতটা অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। আমি দেখছি যে অনেক পেশাদার সিপিএ মার্কেটার এই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতি দিন $4000 + উপার্জন করছেন। আবার কেউ  CPA Marketing এর মাধ্যমে প্রায় $ 1,000 / থেকে 10,000 ডলার উপার্জন করছেন।

অনলাইনে অর্থোপার্জনের অন্যান্য উপায়  থেকে সিপিএ মার্কেটিং সহজ।ধীরে ধীরে যখন আপনার দক্ষতার উন্নতি হবে,  আপনি তখন বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আপনার সেরা স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। কখনও কখনও, আপনি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারেন, তবে আপনার আশা ছেড়ে দেবেন না। মনে রাখবেন, ব্যর্থতা সাফল্যের চাবি কাঠি।

সিপিএ মার্কেটিং এ কি কি অফার পাওয়া যায় ?

সিপিএ মার্কেটিং এর কাজে বিভিন্ন রকম বা বিভিন্ন ধরনের রয়েছে যেগুলো করা হয় সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

কল অফার : অফার লিঙ্কটি ক্লিক করার পরে কেউ কল করলে আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে।

প্রকাশক: যে ব্যক্তি প্রস্তাবটি প্রচার করবেন (আপনি)।তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন নির্ধারণ করা থাকে।

বিক্রয় বা রেফারেন্স শেয়ার: আপনি এককালীন বিক্রয় বা পুনরাবৃত্তি থেকে অর্থপ্রদান পাবেন।

ফর্ম ফিলআপঃ যখন কেউ নাম, ইমেল বা ঠিকানা জমা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়, তার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে।

সাইন আপ: দর্শনার্থীরা যখন পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টে সাইন আপ করেন, তখন আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে।

ইনস্টল / ডাউনলোড: ব্যবহারকারীরা কোন সফ্টওয়্যার ডাউনলোড বা ইনস্টল করার সময় আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে।

জিপ জমা / ইমেল জমা: এটি সিপিএর একটি খুব সাধারণ অফার। ট্র্যাফিক কে কেবল তাদের জিপ কোড এবং ইমেল জমা দিতে হবে।

লকার: দর্শকদের নির্দিষ্ট কনটেন্ট, ডাউনলোড বা URL সরবরাহ করার জন্য একটি প্রস্তাব সম্পূর্ণ করতে বলে।

ইপিসি: প্রতি ক্লিকে উপার্জন করা যায়।

সার্ভে: সাইটে অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে পরিসংখ্যান করার প্রয়োজন হয়। সেই সার্ভার মাধ্যমে সিপিএ মার্কেটিং করা হয়।ভিজিটর সেই সার্ভে তে অংশগ্রহণ করলে ইনকাম করা যায়।

সিপিএ মার্কেটিং ও এফিলিয়েট মার্কেটিং-এর পার্থক্য কি?

সিপিএ তে,  এমন কোনও কাজ সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অর্থ প্রদান করা হবে যা কোনও ফর্ম পূরণ করতে বা অন্য কোনও পছন্দসই পদক্ষেপ নেওয়ার মতো সাধারণ কাজ  হতে পারে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ , কেউ ক্রয় করলে আপনাকে অর্থ প্রদান করা হয়।

একটি সাধারণ কারণে সিপিএ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চেয়ে সহজ বলে বিবেচিত হয়; এখানে আপনাকে লিডের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে। একবার আপনি যে ট্রাফিক প্রেরণ করবেন তা একবার লিডে রূপান্তরিত হলে, তা বিক্রয়ে রূপান্তরিত করা নির্দিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের কাজ।

অবশ্যয় পড়ুন…

যাইহোক, আপনাকে লিড এর জন্য অর্থ প্রদান করা হবে। CPA Marketing আরও জনপ্রিয় হওয়ার আরেকটি কারণ হ’ল; আপনার অর্থ উপার্জনের জন্য মানুষের ক্রেডিট কার্ডের তথ্যের প্রয়োজন হয় না। আপনি সিপিএ নেটওয়ার্কে দ্রুত আয় করতে পারবেন।

এখানে সিপিএ এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মধ্যে আরও কিছু পার্থক্য রয়েছে

সিপিএ নেটওয়ার্কে আপনাকে এমন একটি অনুমোদিত ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করা হয় যার মাধ্যমে আপনাকে সেরা অফারের জন্য গাইড করবে এবং আপনাকে আরও অর্থোপার্জনে সহায়তা করার উপায়গুলিতে সাহায্য করবে।

আপনি শেয়ার এ সেল, ক্লিকব্যাঙ্ক বা অন্যান্য যে কোনও ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি দ্রুত প্রচারের জন্য অনুমোদিত লিঙ্কগুলি পেতে পারেন। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ সে সুবিধা নেই।

যদিও সিপিএতে, একটি নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠতে সময় লাগে এবং আপনার প্রচারের জন্য সিপিএ অফারের অনুমোদনের দরকার হবে।

সিপিএ মার্কেটিং শিখতে বা করতে কি কি লাগে?

CPA মার্কেটিং শিখার জন্য অনেক ধরনের কোর্স সাইট আছে, সংস্থা আছে যারা সিপিএ মার্কেটিং শিখিয়ে থাকে। আবার ইউটিউব বা বাংলা আইটি ব্লগ থেকেও শিখতে পারেন।

সিপিএ মার্কেটিং করতে যা লাগেঃ

  • ইমেইল একাউন্ট
  • নিজের ই-কমার্স সাইট বা ব্লগ,ইউটিউব চ্যানেল
  • প্রচুর ধৈর্য এবং ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় দেয়ার ধৈর্য

কারা সিপিএ মার্কেটিং শিখতে বা করতে পারবেন?

যেকোন ধরনের ব্যক্তি সিপিএ মার্কেটিং করতে পারবেন। তবে করার আগে অবশ্যই তা সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে নিলে কাজ দ্রুত করা যায়।

যারা করতে পারবেন-

  • ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান
  • প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় দিতে পারবেন
  • কমপক্ষে ১ বছর এই কাজে সময় দিতে পারবেন এবং লেগে থাকতে পারবেন
  • যিনি মনে প্রানে অনলাইন থেকে আয় করার ইচ্ছা রাখেন

কেন সিপিএ মার্কেটিং আপনি পেশা হিসেবে নিবেন?

আপনি আপনার পছন্দের যেকোন কাজ করতে পারেন। অনলাইন এমন একটি জায়গা যেখানে আপনাকে কেউ বাঁধা দিবে না। আপনি আপনার নিজের ইচ্ছা মত কাজ করতে পারবেন অনলাইনে। CPA Marketing এমন একটি কাজ যেটায় খুব কম সময়ে উপার্জন করা সম্ভব।

আমাদের দেশে দিন দিন বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু আমরা যদি এই ভাবে মুক্ত ভাবে কাজ গুলো করি তবে আমাদের দেশে আর থাকবে না কোন বেকারত্ব। আপনি খুব কম সময়ে অধিক পরিশ্রম করে উপার্জন করতে চাইলে সিপিএ মার্কেটিংকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন।

নতুনদের জন্য সিপিএ মার্কেটিং করার কৌশল

যারা নতুন এই পেশায় আসতে চাচ্ছেন,তাদের জন্য উপদেশ হল নতুন বিষয় যতটা জ্ঞান অর্জন করে করা যায় তত ভালো। অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে অর্থ খরচের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কিছু মূলধন রাখা ভালো তবে খুব বড় অংকের মূলধন নয়।

ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখা উচিত তাহলে কাজ করতে সুবিধা হয়। যেমন কি ধরনের টুলসের মাধ্যমে কি কাজ করা যায় বা কম সময়ে কিভাবে অনেক কাজ করা সম্ভব তা সম্পর্কে আইডিয়া রাখা ভালো।

সিপিএ মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়? (ধাপ সমুহ)

সিপিএ মার্কেটিং করার ধাপ সমূহ হল-

  • ইমেইল একাউন্ট দিয়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত সিপিএ মার্কেটিং সাইটে লগ ইন করা।
  • নিজের সাইটের ধরন অনুযায়ী বা কন্টেন্ট অনুযায়ী ক্যাটাগরি থেকে টপিক চুজ করা।
  • এরপর তার লিংক নিজের সাইটের কন্টেন্টের সাথে এড করা।

সিপিএ মার্কেটিং-এ ফ্রি মেথড কী?

ফ্রি মেথডে যদি কেউ  CPA Marketing করতে চায় তবে তাকে নিজের সাইটে সময় দিতে হবে। নিজের সাইতে কি কি কাজ করতে হবে? নিজের সাইট ই-কমার্স সাইট বা ব্লগ সাইট হতে পারে আবার ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে। তাতে আর্টিকেল মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং, স্যোশাল মিডিয়া মার্কেটিং যেমন- ফেসবুক, টুইটার ও পিন্টারেস্ট ইত্যাদির মার্কেটিং করতে পারে।

ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)

প্রথমত, আপনাকে আপনার লক্ষ্যযুক্ত ভিজিটরের কাছ থেকে ইমেল সংগ্রহ করতে হবে যারা এই ধরণের অফার সন্ধান করছেন বা আপনার অফার নিতে আগ্রহী। প্রতিটি মানুষের একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে, আমি কীভাবে আমার অফারগুলি বা পণ্যগুলিতে আগ্রহী ভিজিটরের ইমেলগুলি সংগ্রহ করতে পারি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ।আপনি দুটি উপায়ে আপনার প্রস্তাব বা অফারে আগ্রহী ইমেল সংগ্রহ করতে পারেন।

১. একটি অটোরেসপন্ডার সাইট করুন এবং একটি সাইট পেজ তৈরি করুন, সেই সাইট ফেসবুক গ্রুপগুলির সাথে শেয়ার করে নিন। এর ফলে বিভিন্ন ভিজিটরের ইমেইল কালেক্ট করতে পারবেন।

২. কম দামে ফাইভারের মতো ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস থেকে ইমেলগুলি সন্ধানের জন্য ফ্রিল্যান্সারদের ভাড়া করুন। গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারবেন।

আপনার ভিজিটরের মেল প্রেরণের জন্য এখন আপনার একটি এসএমটিপি (সাধারণ মেল ট্রান্সফার প্রোটোকল) দরকার।  যার মাধ্যমে আপনি সব তথ্য পাবেন।

ওয়েবসাইট মার্কেটিং (Website Marketing)

ওয়েবসাইট মার্কেটিং মানে আরও বেশি ভিজিটর আনতে ব্যবসায়ের ওয়েবসাইট প্রচার করা। এই ভিজিটরদের এমন লোক হওয়া উচিত যারা ব্যবসায়ের পরিষেবা বা পণ্য ক্রয় করতে পারে। তাদের জন্য প্রধানত ওয়েবসাইট মার্কেটিং করা হয়। যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লিংক শেয়ার করা হয় এবং অফারের কথা বলা হয়। যখন ভিজিটর সাইটে প্রবেশ করে তখন বিভিন্ন অফার দেখতে পায় এবং তাতে ক্লিক করে।

কন্টেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing):

আপনি  CPA Marketing এর  অফার প্রচারের জন্য অনেক উপায়ে চেষ্টা করতে পারেন, তবে আপনার সঠিকভাবে মার্কেটিং করতে হলে প্রয়োজন কনটেন্ট মার্কেটিং। কারণ ট্র্যাফিক প্রতিটি অনলাইন ব্যবসায়ের মূল সম্পদ।

সুতরাং, আপনি যখন ভাবেন সিপিএ মার্কেটিং  করবেন, তখন ট্র্যাফিক জেনারেশনই সাফল্যের মূল চ্যালেঞ্জ। পন্য বা মার্কেটিং যেকোন ব্যবসা বা সাইটের জন্য ট্র্যাফিক পাওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

আপনি যদি কিছু দুর্দান্ত মানের সামগ্রী সহ সিপিএ মার্কেটিং এর জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং এসইও করতে পারেন তবে আপনি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিনামূল্যে উচ্চমানের ট্র্যাফিক পাবেন। মনে রাখবেন, সিপিএ মার্কেটিং অফার প্রচারের জন্য এটি অন্যতম সেরা পদ্ধতি।

সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)

আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করতে, বিক্রয় বাড়ানো এবং ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক বাড়াতে আপনার ভিজিটরের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হ’ল সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

আরো পড়ুন…

এর মধ্যে আপনার সামাজিক মিডিয়া প্রোফাইলগুলিতে দারুন সব সামগ্রী প্রকাশ করা। আপনার ভিজিটরের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি। আপনার সাইটের বিষয় বিশ্লেষণ করা এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করার মাধ্যম। প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি (এই মুহুর্তে) হলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট, ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাট।

CPA Marketing পেইড মেথডঃ

CPA Marketing যেমন ফ্রি করা যায় তেমনি পেইড করা যায়। পেইডের একটি সুবিধা হল লিড খুব দ্রুত পাওয়া যায়। যার জন্য বিভিন্ন সাইট পেইড সিপিএ মার্কেটিং করার মত ব্যবস্থা রাখে।

সিপিএ মার্কেটিং-এ পেইড মেথড কি?

CPA Marketing এ পেইড মেথড হল Facebook ads, instagram ads, Google Adwords এগুলোর মাধ্যমে সিপিএ মার্কেটিং করলে খুব দুত অনেক অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে এবং সময় কম লাগে। আপনি যদি মিনিমাম ইনভেস্ট করার টাকা থাকে তাহলে পেইড সিপিএ মার্কেটিং করতে পারেন।

আশা করি আমাদের  আর্টিকেলের মাধ্যমে বুঝতে পেড়েছেন যে CPA Marketing কি বা কিভাবে CPA Marketing করতে হয়। তবুও যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন জানার থাকে আমাদের আর্টিকেলের নিছে মন্তব্য করতে পারেন। আপনার মন্তব্য এর সঠিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

শেষ কথাঃ

আমাদের দেশে বর্তমানে অনলাইন কাজের চাহিদা অনেক। আমরা ইচ্ছা করলেই একটু সময় দিলেই সম্ভব অনলাইনকে জয় করা। অনলাইনের মাধ্যমে অনেক ইনকাম করা সম্ভব যদি ধৈর্য সহকারে সময় দিতে পারি।

CPA Marketing করে যেকোন ব্যক্তি হতে পারে স্বাবলম্বী। সিপিএ মার্কেটিং করতে সময় কম ল্গে এবং কম সময়ে খুব দ্রুত উপার্জন করা সম্ভব। 

অনলাইন আয় নিয়ে আমাদের বাংলা আইটি ব্লগে আর অনেক আর্টিকেল পাবেন যে গুলা আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। আজকের আর্টিকেল নিয়ে কোন প্রশ্ন জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন। আমরা  কমেন্টের উত্তর খুব দ্রুত দিব ।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap