দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় – বাংলা আইটি ব্লগ

দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়ঃ আজকের দিনে টাকা ইনকামের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো গুগল এডসেন্স। আপনার যদি একটি ব্লগ সাইট বা ওয়েবসাইট থাকে তাহলে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন।

এমন অনেকেই আছেন, যারা Google AdSense থেকে বিপুল পরিমানে ইনকাম করছেন। হাজার হাজার ডলার ইনকামের স্বপ্ন দেখে, নিজের মুল্যবান সময়কে নষ্ট না করে।

যদি ছোটো খাটো কিছু কাজ করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান। তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত মাধ্যম হবে গুগল এডসেন্স। আমরা সবাই জানি যে, গুগল পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ Advertising Network.

গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়
গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

কারন গুগলের যতো বেশি ব্যবহারকারী আছে, পৃথিবীর অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নেই। তাই বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিরা তাদের পন্যের প্রসারের জন্য গুগলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে।

এডসেন্স হলো Google এর নিজস্ব একটি প্রডাক্ট। যার মাধ্যমে গুগল বিজ্ঞাপনদাতা এবং পাবলিশারদের মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থাপন করে। তবে আপনি যদি এডসেন্স থেকে ইনকাম করতে চান। তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে গুগলের পাবলিশার হয়ে কাজ করতে হবে ৷

আর একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই গুগলের পাবলিশার হিসেবে কাজ করা যায়। যখন আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে গুগলের Partner Programme এ যুক্ত করতে পারবেন।

তখন গুগল থেকে আপনাকে একটি ভার্চুয়াল একাউন্ট দেয়া হবে,যার নাম Google Adsense.  এরপর এই গুগল এডসেন্স আপনার হাজার হাজার ডলার ইনকাম করার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিনত করবে। 

কিভাবে আপনি খুব সহজেই গুগল এডসেন্স পাবেন। এবং কিভাবে আপনি এই গুগল এডসেন্স থেকে ইনকাম করবেন। কিভাবে দ্রুত গুগল এডসেন্স এপ্রোভাল পাবেন বা এডসেন্স পাওয়ার উপায় জানতে পারবেন।

এই সবগুলো বিষয় নিয়ে আজকে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো। সেজন্য হাতে সময় নিয়ে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আশা করি Google Adsense অনেক তথ্য জানতে পারবেন। 

গুগল এডসেন্স কি?

গুগল এডসেন্স হলো একটি ভার্চুয়াল একাউন্ট। যার মাধ্যমে গুগল পাবলিশার এবং বিজ্ঞাপন দাতাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যখন আপনি একজন পাবলিশার হয়ে গুগল এর Partner Programme এ যুক্ত হবেন।

তখন গুগল থেকে আপনাকে একটা Account দেয়া হবে। সেই একাউন্টকে বলা হয়, গুগল এডসেন্স। এই একাউন্টে আপনার ইনকাম রিলেটেড যাবতীয় তথ্য গুলো দেখতে পারবেন।

যেমন, আপনার ওয়েবসাইটে দৈনিক কতগুলো Page View হয়েছে, ভিজিটররা কত গুলো Ads এ ক্লিক করেছে, গুগল আপনার সাথে কি পরিমান রেভিনিউ শেয়ার করছে ইত্যাদি বিষয়গুলো গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।

তবে এখানে বলে রাখা ভালো, আপনি গুগলের পাবলিশার হয়ে কাজ করে। যে পরিমান টাকা  ইনকাম করবেন। সেই টাকা কিন্তুু সরাসরি আপনার হাতে পাবেন না। আপনার ইনকাম করা টাকা সর্বপ্রথম গুগল এডসেন্সে এসে জমা হবে।

আপনার জন্য আরো আর্টিকেল…

তারপর এডসেন্সে জমা হওয়া টাকা আপনার Bank Account এর মাধ্যমে উওলন করতে পারবেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এডসেন্স থেকে আপনি সর্বোচ্চ কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আপনি ইচ্ছা করে এক দিনেই ১০০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন। আবার আপনি ইচ্ছে করলে ২ মাসে ১০০ ডলার ইনকাম করতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার বুদ্ধিমত্তা ও পরিশ্রমের উপর। 

কিভাবে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায়?

আপনি মূলত ২ টি মাধ্যমে গুগলের পাবলিশার হয়ে কাজ করে গুগল এডসেন্স নিতে পারবেন। যথাঃ

  • ব্লগ/ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে 
  • ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে 

যারা পাবলিশার, তারা মূলত এই দুইটি পদ্ধতিতে গুগল এডসেন্স নিতে পারে। আপনিও এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরন করে নিতে পারবেন। চলুন বিষয়টি আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি।

আমি আর্টিকেলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত “পাবলিশার” শব্দটি বারবার ব্যবহার করছি। এই পাবলিশার আসলে কি জিনিস। সর্বপ্রথম আপনাকে সেটি ভালোভাবে বুঝতে হবে ৷

দেখুন, যদি আপনি এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে মনোযোগ সহকারে পড়েন। তাহলে আপনি অন্ততপক্ষে এটি জেনে গেছেন যে, গুগল হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ Advertising নেটওয়ার্ক। যেখানে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো, গুগলের মাধ্যমেই তাদের পন্যের প্রচার করে থাকে।

কিন্তুু প্রশ্ন হলো, গুগল এই বিজ্ঞাপন গুলো কোথায় দেখায়? – এর উওরটা কি আপনি জানেন? গুগল এই বিজ্ঞাপন গুলো বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইট অথবা ইউটিব চ্যানেলে দেখিয়ে থাকে। তবে এই বিজ্ঞাপন গুলো সব ধরনের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে দেখাবো, বিষয়টি এমন নয়।

যারা গুগলের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলবে। যারা গুগলের পার্টনার Programme এ যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করবে। গুগল শুধুমাত্র সেইসব ব্লগ বা ওয়েবসাইটে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করবে। এবং যারা গুগলের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করবে। তারাই মূলত গুগলের পাবলিশার।

ওয়েবসাইট/ব্লগের মাধ্যমে গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

যদি আপনার একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকে। তাহলে আপনি খুব সহজেই গুগল এডসেন্স পেয়ে যাবেন। সর্বপ্রথম আপনাকে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এরপর সেই ওয়েবসাইটে সম্পূর্ণ Unique Article পোষ্ট করতে হবে।

যখন আপনার ওয়েবসাইটে পোষ্ট পাবলিশ করার পর। সাইটে কিছু ভিজিটর আনতে পারেন। ঠিক সেই মূহুর্তে যদি এডসেন্সের জন্য Apply করেন ৷ তাহলে গুগল কর্তৃপক্ষ আপনার ওয়েবসাইটকে Manually এবং Robotic ভাবে রিভিউ করবে। 

[ নোটঃ আপনার ওয়েবসাইটে যদি ভিজিটর না থাকে তবু আপনি গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পাবেন ]

যদি আপনি গুগলের গাইডলাইন গুলো সঠিকভাবে অনুসরন করেন। তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে খুব দ্রুত মনিটাইজ করিয়ে নিতে পারবেন ৷

আর এরপর গুগল থেকে আপনাকে একটি Virtual Account দেয়া হবে, যার নাম হলো Google AdSense. তবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যদি গুগল এডসেন্স পেতে চান। তাহলে আপনাকে Google Publisher Guidelines মেনে চলতে হবে।

অন্যথায় আপনার এডসেন্স পাওয়ার স্বপ্নটা কখনও বাস্তব হবে না। তো চলুন এবার আমারা জানবো যে, আপনার ওয়েবসাইটকে AdSense এর সাহায্য মনিটাইজ করার জন্য। আপনাকে কি কি নিয়ম মেনে চলতে হবে। 

ওয়েবসাইটে এডসেন্স পাওয়ার উপায়

বিশ্বের সবচেয়ে বড় Advertising Network হলো গুগল। সেজন্য গুগল সর্বদাই চেস্টা করে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য। আপনি যদি গুগলের পাবলিশার হয়ে কাজ করতে হলে। আপনাকে গুগলের বেশ কিছু গাইডলাইন মেনে চলতে হবে।

তারমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন হলো, 

  • রেসপন্সসিভ ডিজাইন
  • ইউনিক কন্টেন্ট
  • কন্টেন্ট কোয়ালিটি
  • কন্টেন্ট কোয়ান্টিটি
  • নো কপিরাইট ম্যাটেরিয়্যাল
  • নো হ্যাকিং/ক্রাকিং
  • এডাল্ট ফ্রি কন্টেন্ট
  • সার্চ কনসোল ইনডেক্স
  • ভিজিটর একটিভিটি 

আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল এডসেন্সের সাহায্য মনিটাইজ করতে হলে। আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই উপরোক্ত গাইডলাইন গুলো মেনে চলতে হবে।

যদি আপনি উপরে উল্লেখিত গাইডলাইন গুলো অমান্য করেন। তাহলে গুগল আপনার ওয়েবসাইট কে মনিটাইজ করার আবেদনকে রিজেক্ট করে দিবে। আর যদি ভুল করেও আপনার ওয়েবসাইট মনিটাইজ হয়েও যায়। তাহলে তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না।

তাই উপরে উল্লেখিত গাইডলাইন গুলো সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জেনে নেয়া উচিত। 

রেসপন্সিভ ডিজাইন কি?

কোনো ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করার আগে, সেই ওয়েবসাইটটি অবশ্যই রেসপন্সিভ হতে হবে। শুধু এডসেন্সের জন্যই নয়, বরং এসইও অপটিমাইজেশন করার ক্ষেএেও ওয়েবসাইটের রেসপন্সিভ ডিজাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ৷

তাই যদি আপনি এডসেন্সকে ফোকাস করে ওয়েবসাইট তৈরি করেন৷ তাহলে চেস্টা করবেন সেই ওয়েবসাইটটি যেন Visitor Friendly হয়। অর্থ্যাৎ কোনো ভিজিটর যখন আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে।

সে যেন আপনার ওয়েবসাইটের ইন্টারফেসের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। সবসময় চিন্তা করবেন, আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন যেন সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস হয়।

আপনার ওয়েবসাইটের কোথায় Click করলে কোন অপশনে যাওয়া যাবে। তা যেন ভিজিটররা সহজেই বুঝতে পারে। যেহুতু রেসপন্সিভ ডিজাইন নিয়ে আলোচনা করছি।

সেহুতু আপনাকে আরও একটা বিষয় জানিয়ে রাখা উচিত। এডসেন্স পাওয়ার জন্য, আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই Ads Friendly হতে হবে। অর্থ্যাৎ, আপনার ওয়েবসাইটে গুগলের বিজ্ঞাপন দেখানোর মতো Space থাকতে হবে। 

ইউনিক কন্টেন্ট কি?

কোনো ওয়েবসাইটে এডসেন্স পেতে হলে ইউনিক কন্টেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আপনার ওয়েবসাইট ব্লগিং রিলেটেড হয়ে থাকে। তাহলে Content হলো আপনার ওয়েবসাইটের প্রান।

তবে যারা নতুন ব্লগিং করেন। তাদের ইউনিক কন্টেন্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বদা চেষ্টা করবেন যেন, আপনার কন্টেন্ট গুলো একেবারে নতুন হয়।

অর্থ্যাৎ কোনো ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে Copy করে নিজের ওয়েবসাইটে Paste করবেন না। যদি এই কাজটি করেন, তাহলে গুগল থেকে কখনই আপনার ওয়েবসাইটে মনিটাইজ দিবে না।

যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করার জন্য Google Adsense এর জন্য এপ্লাই করবেন। তখন এডসেন্সের টিম আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা কন্টেন্ট গুলোকে গুরুত্বের সাথে রিভিউ করবে।

তারা সর্বপ্রথম আপনার কন্টেন্ট গুলোকে Copyright Matching Tools এর সাহায্য পরীক্ষা করবে। এবং দেখবে যে আপনি যে Content গুলো পাবলিশ করেছেন। সেগুলো নিজে লিখেছেন নাকি অন্য কোনো সোর্স থেকে কপি করেছেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, “ভাই গুগলে তো এমন কোনো টপিক নেই। যে টপিকে গুগলে এখনও কোনো আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়নি”।

হ্যাঁ, আপনার কথা সত্য। তাই এরজন্য আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যখন আপনি কোনো বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন। তখন সেই কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ করবেন ৷

তারপর প্রথম সাড়িতে যে কন্টেন্ট গুলো দেখতে পারবেন। সেই কন্টেন্ট গুলোকে ভালোভাবে এনালাইস করবেন। তারা তাদের আর্টিকেলে কি কি ইনফরমেশন দিয়েছে। সেগুলো একটু পড়ে নিবেন।

এরপর যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লিখবেন। তখন সেই ইনফরমেশন গুলোকেই আপনার আর্টিকেলে দিবেন। কিন্তুু তাদের মতো করে নয়, বরং সেই ইনফরমেশন গুলোকে নিজের মতো করে লিখে, তারপর ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবেন।

এরফলে আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা কন্টেন্টে কোনো প্রকার কপিরাইট ম্যাচিং এর ঝামেলা থাকবে না। এবং আপনার কন্টেন্ট হবে সম্পূর্ণ ইউনিক। 

কন্টেন্ট কোয়ালিটি কি?

আপনি যখন গুগলে সার্চ করার পর, এই আর্টিকেলে Click করছিলেন। ক্লিক করার পর যদি এই আর্টিকেলে ইনফরমেটিভ কিছু না পেতেন। তাহলে কি করতেন? -অবশ্যই এই ওয়েবসাইট থেকে অন্য কোনো ওয়েবসাইটে চলে যেতেন, তাইনা?

ঠিক তেমনি আপনার ওয়েবসাইটে শুধু কন্টেন্ট পাবলিশ করলেই যে আপনি গুগল এডসেন্স পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এমন নয়। কন্টেন্ট পাবলিশের পাশাপাশি সেগুলো কোয়ালিটি সম্পন্ন কিনা, সেটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনেকেই মনে করে, যা ইচ্ছা তাই লিখে কন্টেন্ট পাবলিশ করবো। তারপর এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করে ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করবো। যদি আপনিও এমনটা ভেবে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য এক বালতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

একটু ভেবে দেখুন, যারা আপনার ওয়েবসাইটকে রিভিউ করবে, তারাও কিন্তুু মানুষ। তাদের কাজেই হলো যারা এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করবে। তাদেরকে সতর্কতার সহিত পর্যালোচনা করা।

আপনার জন্য আরো পোস্ট…

এখন পর্যালোচনা করার সময় যখন তারা দেখবে যে, আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটি তেমন মানসম্মত নয়, আপনার কন্টেন্ট এসইও ফ্রেন্ডলি নয়। তখন এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার রিকুয়েষ্টকে রিজেক্ট করে দিবে।

তাই চেস্টা করবেন, আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যে বিষয়ে কন্টেন্ট লিখবেন। সে বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার। যেন আপনার কন্টেন্ট দেখার পর ভিজিটররা উপকৃত হয়।

কন্টেন্ট কোয়ান্টিটি কি?

গুগল এডসেন্স পেতে হলে, আপনার ওয়েবসাইটে মোট কতগুলো আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। এ নিয়ে অনেকেরই দ্বিমত রয়েছে।আর এ দ্বিমতের বেশ কিছু কারনও রয়েছে।

এমন অনেক ব্লগার আছেন, যারা তাদের ওয়েবসাইটে মাএ ১০ টি আর্টিকেল পাবলিশ করেই Google Adsense পেয়েছেন। আবার অনেক ব্লগার আছেন, যারা ৫০ টি আর্টিকেল পাবলিশ করেও গুগল এডসেন্স পাননি।

অপরদিকে গুগল সেরকম কোনো লিমিটেশন দেয়নি যে কতগুলো আর্টিকেল পাবলিশ করার পর, তারা কোনো একটি ওয়েবসাইটে মনিটাইজ করবে।

তবে আমার দীর্ঘদিনের ব্লগিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যদি আপনি গুগলের সকল Guidelines এবং Terms and conditions মেনে আর্টিকেল পাবলিশ করেন। তাহলে সর্বোচ্চ ৩০ টি আর্টিকেল পাবলিশ করলেই গুগল এডসেন্স পেয়ে যাবেন।

সত্যি বলতে আমি নিজেই ৩০টি বাংলা আর্টিকেল থেকে গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রভাল পেয়েছি। শুধু এই বিষয়টি একটু বিশেষভাবে নজরে রাখবেন যে, আপনার পাবলিশ করা আর্টিকেল গুলো যেন একবারে ইউনিক ও কোয়ালিটি সম্পন্ন হয়।

নো কপিরাইট ম্যাটেরিয়্যাল

যারা নতুন ব্লগার, তারা সবসময় এই বিষয়টিকে স্কিপ করে চলে যায়। অতঃপর যখন এডসেন্স রিকুয়েষ্ট রিজেক্ট হয়। তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে, আর চিন্তা করতে থাকে “কেন সে এডসেন্স এপ্রুভাল পাচ্ছেনা”।

যদি আপনিও সেরকম কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন, তাহলে যতো দ্রুত সম্ভব আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট থেকে Copyright Materials গুলো সরিয়ে নিতে হবে।

হয়তবা আপনি ভাবছেন যে, কপিরাইট কনটেন্ট তো বুঝলাম। কিন্তুু কপিরাইট ম্যাটেরিয়্যালস আবার কি জিনিস। তাহলে একটু মনোযোগ দিন।

দেখুন, আর্টিকেল লেখার তাগিদে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন সময় পিকচার (Picture) ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে অনেক ব্লগার Google থেকে পিকচার ডাউনলোড করে। তারপর সেই পিকচার গুলো তার ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেয়।

কিন্তুু এটা আপনার জানা উচিত যে,কোনো ওয়েবসাইট থেকে কন্টেন্ট কপি করা যেমন অবৈধ। ঠিক তেমনি অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে Picture/Audio/Video কপি করাও কিন্তুু অবৈধ।

কিন্তুু এই বিষয়টি অনেকেই স্কিপ করে যায়। সবাই ভাবে, কারো কন্টেন্ট কপি করলে গুগল সেটা ধরতে পারে। কিন্তুু কোনো পিকচার/অডিও/ভিডিও কপি করলে, গুগল সেটা ধরতে পারবে না।

যদি আপনিও সেরকম ভেবে থাকেন। তাহলে আজ থেকেই সেই ভাবনার পরিবর্তন নিয়ে আসুন। কারন গুগলকে কখনই বোকা ভাববেন না।

তারা এক ক্লিকেই আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত তথ্য ডিটেক্ট করতে পারে। তাই এই বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে দেখবেন।

[Pro Tips: আমরা অনেক সময় নিজেদের বানানো ইমেজ গুলা অন্য ওয়েবসাইটে আপলোড দিয়ে URL কপি করে আমাদের ওয়েবসাইটে দেয়।

আমার  পরামর্শ হলো গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল হওয়ার আগে এরকম কাজ না করায় উচিত। তবে গুগোল অ্যাডসেন্সে অ্যাপ্রভাল হওয়ার পর আপনি অন্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইমেজ আপলোড করে আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন। ]

নো হ্যাকিং/ক্রাকিং

আপনি কি হ্যাকার? আপনার ওয়েবসাইটে হ্যাকিং/ক্রাকিং নিয়ে আর্টিকেল লেখেন? তাহলে জেনে রাখুন, আপনি সবকিছু নিতে পারলেও, কখনই Google Adsense এপ্রুভাল পাবেন না।

কারন এইসব টপিকে গুগলের এক প্রকার এলার্জি আছে। যার কারনে গুগল এসব ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে চায় না। এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ভাই এমন তো অনেক ওয়েবসাইট আছে।

যারা হ্যাকিং/ক্রাকিং আর্টিকেল নিয়ে কাজ করে। কিন্তুু তারা কিভাবে এডসেন্স এপ্রুভাল পায়?

তাহলে শুনুন, তারা কিভাবে Adsense Approval পেয়েছে। সেই বিষয়টি একটু ক্রিটিক্যাল এবং লজিক্যাল। এই রিলেটেড ওয়েবসাইটে এডসেন্স পেতে হলে, বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

আপনি যদি ব্লগিং সেক্টরে নুব হয়ে থাকেন। তাহলে আপনার এসব বিষয়কে এড়িয়ে চলাই ভালো।

এরপরও আপনার মনে যদি সেই কৌশল গুলো জানার ইচ্ছা জাগে। তাহলে এই পোষ্টে ছোট্ট করে একটা কমেন্ট করিয়েন। তাহলে আমি পরবর্তী আর্টিকেলে সেই টপিক নিয়ে আলোচনা করবো। 

এডাল্ট ফ্রি কন্টেন্ট কি?

এডাল্ট (১৮+) বিষয়ে প্রতি আমাদের অন্যরকম একটা আর্কষন কাজ করে। আপনি যদি “বাংলা চটি”-এই কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম দেখেন। তাহলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। প্রতি বছর এই কিওয়ার্ডে গুগলে ১ মিলিয়নের বেশি সার্চ হয়।

এখন তাই বলে আবার আপনিও চটি লেখা শুরু করিয়েন না। কারন গুগল কখনই ১৮+ কন্টেন্টকে মনিটাইজ করেনা। মনে রাখবেন, গুগলের যতো গুলো গাইডলাইন আছে। তার মধ্যে খুবই সেনসিটিভ হলো এডাল্ট কন্টেন্ট।

আপনি এমন কোনো ওয়েবসাইট দেখাতে পারবেন না। যে ওয়েবসাইটে ১৮+ কন্টেন্ট পাবলিশ করার পরও এডসেন্স এপ্রুভাল পেয়েছে। যদি আপনি গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করতে চান।

তাহলে এডাল্ট (১৮+) মূলক কন্টেন্টকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। 

সার্চ কনসোল ইনডেক্স কি?

ওয়েবসাইটে শুধু আর্টিকেল পাবলিশ করলেই যে এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন। আসলে বিষয়টি সেরকম নয়। এডসেন্স পেতে হলে, আপনার পাবলিশ করা কন্টেন্ট গুলো অবশ্যই গুগল সার্চ কনসোলে ইনডেক্স থাকতে হবে।

কারন গুগল যখন আপনার ওয়েবসাইটকে রিভিউ করবে। তখন তারা আপনার সেইসব আর্টিকেলকে কাউন্ট করবে। যেসব আর্টিকেল Google Search Console এ ইনডেক্স করা থাকবে।

তাই এডসেন্স এপ্রুভাল নেয়ার আগে চেক করে নিবেন। যে আপনার পাবলিশ করা আর্টিকেল গুলো গুগল সার্চ কনসোলে ইনডেক্স হয়েছে কিনা। এটি চেক করার জন্য গুগলে গিয়ে টাইপ করুন site:”yourdomain” অথবা site:yourdomain.

উদাহরনঃ site:banglaitblog.com

ভিজিটর একটিভিটি কি?

এডসেন্স এপ্রুভাল পেতে হলে ভিজিটর তেমন কোনো ফ্যাক্ট না। কারন আপনার ওয়েবসাইটে যদি ০ (শূন্য) ভিজিটর থাকে। তাহলেও আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে এডসেন্সের সাহায্য মনিটাইজ করতে পারবেন।

তবে চেস্টা করবেন অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসার। এমন অনেক সোর্স আছে, যেগুলো থেকে রোবোটিক ভিজিটর নিয়ে আসা যায়। কিন্তুু গুগল এসব ভিজিটরের একটিভিটি খুব সহজেই শনাক্ত করতে পারে।

কারন যখন আপনি কোনো অবৈধ পন্থা অনুসরণ করে রোবোটিক ভিজিটর নিয়ে আসবেন। তখন আপনি তাদেরকে যেরকম ডিরেকশন দিবেন। সেই রোবোটিক ভিজিটর গুলো সবাই একই সিস্টেমে আপনার ওয়েবসাইট কে ভিজিট করে চলে যাবে।

অর্থ্যাৎ আপনি যদি ১০০ টা রোবোটিক ভিজিটর নিয়ে আসেন। তাহলে ঐ ১০০ জন একই পদ্ধতিতে আপনার ওয়েবসাইট কে ভিজিট করে চলে যাবে। এর ফলে আপনি গুগলের চোখে ধরা পরে যাবেন।

তখন এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার ওয়েবসাইটকে স্প্যাম হিসেবে কাউন্ট করবে। যা আপনার ওয়েবসাইটের উপর নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলবে। তাই এসব অবৈধ পন্থা অনুসরণ না করে, অর্গানিক ভিজিটর নিয়ে আসার চেস্টা করবেন। 

দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় 

আসলে সাফল্য পেতে হলে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে। হোক সেটা এডসেন্স নেয়ার ক্ষেএে কিংবা অন্য কোনো কাজে।সাফল্য কখনই সহজে আসেনা।

ঠিক সেরকম আপনি যদি এডসেন্সের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে চান ৷ তাহলেও আপনাকে বেশ শ্রম এবং সময় ব্যয় করতে হবে।

তবে আমার দীর্ঘদিনের ব্লগিং অভিজ্ঞতা থেকে আপনার কিছু কৌশল জানাবো। যেগুলো অবলম্বন করলে, আপনার Google Adsense পাওয়ার সম্ভাবনাকে তিনগুন বাড়িয়ে দিবে।

খুব দ্রুত এডসেন্স এপ্রুভাল পেতে হলে আপনাকে মাএ ২ (দুই) টি বিষয়ে বিশেষ ভাবে নজর রাখতে হবে। যেমন,

  1. ট্রেন্ডিং কন্টেন্ট এবং
  2. অর্গানিক ভিজিটর 

আপনি ব্লগিং সেক্টরে নতুন হোন কিংবা পুরাতন। সেটি আসলে তেমন বড় কথা নয়। কিন্তুু নতুন একটি ওয়েবসাইটে যদি এডসেন্স এপ্রুভাল পেতে চান। তাহলে আপনাকে এই দুটি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তাই এই দুটি বিষয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত। 

ট্রেন্ডিং টপিক কি?

যখন কোনো নতুন ওয়েবসাইটে এডসেন্স এপ্রুভাল করতে চাইবেন। তখন এই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যখন আর্টিকেল গুলো লিখবেন। তখন চেস্টা করবেন Tranding Topic সম্পর্কে লেখার।

তবে এখানে কিছু জানার বিষয় রয়েছে যে, ট্রেন্ডিং টপিক আসলে কি জিনিস এবং এই টপিক গুলো আপনি কোথায় পাবেন।

দেখুন Tranding টপিক বলতে চলতি সময়ে ঘটিত বিষয় গুলোকে বোঝায়। অর্থ্যৎ আপনার নিশ রিলেটেড যে বিষয় গুলো এখনও চলমান। আমি সেগুলোর কথা বলছি। 

যেমন ধরুন আপনার একটি মোবাইল রিভিউ করার একটি ওয়েবসাইট আছে। এখন আপনাকে খুজে নিতে হবে যে, বর্তমানে কোন কোন মডেলের ফোন মার্কেটে নতুর আসছে। এরপর আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে সেই মোবাইল সম্পদ আর্টিকেল লিখতে হবে।

আপনি আরো পড়ুন…

অপরদিকে যদি আপনার নিউজ রিলেটেড ওয়েবসাইট হয় তাহলে আপনাকে চলমান সব ঘটনাবলি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। মূলত এটাই হলো ট্রেন্ডিং টপিকের কারিশমা।

এখন আপনি হয়তবা ভাবছেন যে, গুগল এডসেন্স এপ্রুভালের সাথে ট্রেন্ডিং টপিকের আবার কি সম্পর্ক? পুরাতন টপিক সম্পর্কে আর্টিকেল লিখেও তো এডসেন্স পাওয়া যায়।

হ্যাঁ!  ভাই, আপনার ধারনা একেবারে সঠিক। আপনি পুরাতন টপিক হোক অথবা নতুন টপিক। এর মধ্যে যেকোনো একটি সম্পর্কে আর্টিকেল লিখে আপনি এডসেন্স পাবেন।

কিন্তুু যখন একটি নতুন ওয়েবসাইটে খুব দ্রুত এডসেন্স এপ্রুভাল নিতে চাইবেন। তখন এই কৌশলটি অনুসরণ করলে, অন্যান্য ব্লগারদের তুলনায় আপনি অতি দ্রুত Adsense Approval পেয়ে যাবেন।

কারন যারা আপ টু ডেট থাকে, গুগল তাদেরকে অধিক প্রাধান্য দেয়।

যদি আপনি এই কৌশলটি অনুসরণ করতে চান। তাহলে আপনাকে জানতে হবে যে ,ট্রেন্ডিং টপিক কিভাবে খুজে পাবেন। তো এবার সেই বিষয়টি একটু জেনে নেয়া যাক।

দেখুন আর্টিকেল লেখার জন্য ট্রেন্ডিং টপিক খোজার জন্য আমি ১ টি টুলস ব্যবহার করতে বলবো। সেই টুলসটি হলো Google Trands. এটি গুগলের নিজস্ব একটি প্রডাক্ট। এই টুলসের মাধ্যমে আপনি সমসাময়িক বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ বর্তমান সময়ে মানুষ গুগলে কোন বিষয় গুলো অধিকবার সার্চ করেছে। তা আপনি খুব সহজেই জানতে পারবেন। 

অর্গানিক ভিজিটর

আমি আগেই বলেছি যে, এডসেন্স পেতে হলে ভিজিটর তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি ০(শুন্য) ভিজিটর দিয়েও এডসেন্স পাবেন। কিন্তুু আপনি যদি দ্রুত এডসেন্স এপ্রুভাল পেতে চান। তাহলে আপনাকে ভিজিটরকে বেশ গুরুত্ব দিতে হবে।

দেখুন গুগল চায় যে তাদের পাবলিশার বাড়ুক। এর ফলে গুগল পাবলিশারদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে। আর এই বিজ্ঞাপন দেখিয়ে গুগলও ইনকাম করতে পারবে। 

কিন্তুু এই বিজ্ঞাপন দেখবে কে?  নিশ্চই ভিজিটর সেই বিজ্ঞাপন গুলো দেখবে। তাইনা?

এখন আপনার ওয়েবসাইটে যদি প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে। তাহলে তো গুগলের বেশি লাভ হবে। কারন তারা বেশি করে সেই ভিজিটরকে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে।

এই দিক থেকে একটু বিবেচনা করুন, আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর থাকলে। গুগল কি আপনার ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে অসম্মতি জানাবে? বিবেচনা করুন। 

এডসেন্স আবেদনের ওয়েবসাইটে কোন কোন পেজ থাকা লাগে?

আপনি উপরে আলোচিত সবগুলো বিষয় মেনে কাজ করার পাশাপাশি আপনাকে আরও একটি বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দিতে হবে। এডসেন্সের নিয়ম অনুযায়ী আপনার ওয়েবসাইটে বেশ কিছু Page থাকতে হবে।

যেই পেজ গুলো না থাকলে আপনি কখনই গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পাবেন না।

যদি আপনি এডসেন্সকে ফোকাস রেখে ওয়েবসাইট তৈরি করেন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই এই পেজ গুলো থাকতে হবে। যেমন,

  • About Us
  • Contact Us
  • Privacy Policy
  • Disclaimer 

যদি আপনার ওয়েবসাইটে এই ৪টি পেজ না থাকে। তাহলে এডসেন্স আপনার রিকুয়েষ্টকে বারবার রিজেক্ট করে দিবে।

এখানে জানার বিষয় হলো যে, আপনি এই পেজ গুলো কিভাবে তৈরি করবেন। অর্থ্যাৎ এই পেজ গুলোতে যে লেখা (Text) থাকে। সেগুলো আপনি কোথায় পাবেন।

এর খুব সহজ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। আর একজন ব্লগার হিসেবে আপনার সেই পদ্ধতি গুলো জেনে রাখা উচিত। যেমন ধরুন আপনি Privacy Policy এর একটি পেজ তৈরি করতে চান। সেজন্য আপনি সরাসরি গুগলে চলে যাবেন।

এরপর সার্চ করবেন, “privacy policy generator”. এরপর দেখবেন এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা আপনার ওয়েবসাইটের Page তৈরি করার জন্য রেডি হয়ে আছে।

ঠিক একইভাবে বাকি পেজ অর্থাৎ Disclaimer ইত্যাদি পেজ গুলো মাএ কয়েক মিনিটে তৈরি করতে পারবেন। 

গুগল এডসেন্স কি বাংলা ব্লগ সাপোর্ট করে?

হ্যাঁ, তারা অফিশিয়ালি জানিয়ে দিয়েছে যে, “গুগল এখন বাংলা ভাষাকে বুঝতে পারে। তাই এখন বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে এডসেন্স এপ্রুভাল পাবে”।

সত্যি বলতে এই নিউজটা আমাদের বাংলার মানুষদের জন্য বিরাট একটা সুখবর। এইতো কয়েকবছর আগের কথা, যখন বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটকে গুগল মনিটাইজ করতো না। সেইসময়ে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য বিভিন্ন Third Party Ads Network এর বিজ্ঞাপন দেখাতে হতো। 

কিন্তুু এইসব থার্ট পার্টির বিজ্ঞাপন দেখিয়ে যে ইনকাম হবে না। বিষয়টি আসলে সেরকম নয়। এগুলো থেকেও যথেষ্ট ইনকাম করা যেত। কিন্তুু গুগলের মতো এরা বিশ্বস্ত নয়।

হয়তবা দেখা যাবে, আপনি ঠিকই ইনকাম করলেন ৷ কিন্তুু যখন আপনার পেমেন্ট নেয়ার সময় আসবে ৷ তখন কোনো একটা ভুলভাল কারন দেখিয়ে আপনার আইডিকে ব্যান করে দিবে।

এর ফলে আপনার সময় ও শ্রম দুটোই জলের সাথে মিশে যাবে। তাই গুগল যে বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করছে৷ এটা আমাদের জন্য বিশাল সুখবর।

আমাদের শেষকথা

শুনুন, শেষ বলতে কিছু নেই। যেহুতু আপনি গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করবেন ৷ সেহুতু আপনার প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো সমস্যা হতেই থাকবে।

যদি আপনার Google Adsense রিলেটেড কোনো সমস্যা হয়। তাহলে আমাদের জানাবেন। আমি যথাসাধ্য চেস্টা করবো আপনার সমস্যার সমাধান বের করার।

আপনার চাই সমাধান, আর আমি চাই আপনাদের ভালোবাসা। এই নিয়েই চলুক আমাদের পথচলা। হ্যাপি ব্লগিং লাইফ!

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

3 thoughts on “দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায় – বাংলা আইটি ব্লগ”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap