ব্লগিং কি ? কেন এবং কিভাবে ব্লগিং শুরু করব ?

 ব্লগিং কি, কেন আপনার ব্লগিং করা উচিত এবং কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন। যদি আপনি এই প্রশ্নের উওর গুলো খুজে থাকেন। তাহলে আপনি একেবারে সঠিক জায়গাতে চলে এসেছেন। 

ব্লগিং করে আয় - ব্লগিং কি
ব্লগিং করে আয় – ব্লগিং কি

কারন আজকের আর্টিকেলে আমি ব্লগিং রিলেটেড যতো খুটিনাটি বিষয় আছে। সেই সব গুলো বিষয় সম্পর্কে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো।

বর্তমানে এমন অনেকেই আছে যারা ব্লগিং করে আয় করছে বিপুল পরিমান টাকা। তাই এই সেক্টরে আজকের দিনে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন। 

কিন্তুু সবাই কি এই ব্লগিং সেক্টর সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা নিতে পেরেছে? – না, এমন অনেকেই আছেন, যারা এখনও জানেনা যে ব্লগিং কি? কিভাবে ব্লগিং শুরু করব।

হয়তবা এর কাছে কিংবা ওর কাছে থেকে শুনেছে যে ব্লগিং করে আয় করা যায়। তাই নিজেকেও যুক্ত করেছে এই সেক্টরে ৷ কিন্তুু আপনি যে সেক্টরে কাজ করবেন।

সেই সেক্টর সম্পর্কে যদি বিস্তারিত না জানেন৷ তাহলে কিন্তুু আপনি কোনো জায়গাতেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। আমার ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে ব্লগিং করে আয় নিয়ে অনেক আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে।

যদি আপনিও ব্লগিং এর মাধ্যমর অন্যদের মতো অর্থ ইনকাম করতে চান। তাহলে আপনি সেই আর্টিকেল গুলো পড়ে অনেক হিডেন টিপস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কিন্তুু আজকের আর্টিকেলটি শুধুমাএ সেইসব মানুষের জন্য। মূলত যাদের Blogging রিলেটেড জিরো নলেজ নিয়ে বসে আছেন।

আর সেই মানুষ গুলোকে টার্গেট করেই মূলত আজকের আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। যদি আপনি ব্লগিং সম্পর্কে সমস্ত খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে হাতে শুধুমাএ ১০ মিনিট সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়া শুরু করে দিন।

তাহলে আজ থেকে আপনার ব্লগিং সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন। যা অনেকের কাছে এখনও অজানা রয়েছে। 

ব্লগিং কি?

সাধারনত যারা লেখালেখি করে, তাদেরকে আমরা লেখক বলে থাকি, তাইনা?  কিন্তুু সেই লেখক যদি অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ব্লগে লেখালেখি করে। তখন তাকে বলা হবে ব্লগিং।

যেমন, ধরুন আপনি একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করলেন। এরপর সেই ব্লগে আপনি নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে টার্গেট করে আপনার মূল্যবান লেখা পাবলিশ করলেন৷ যাকে ব্লগিং এর ভাষায় বলা হয়, কন্টেন্ট।

আপনার জন্য আরো লেখা…

এরপর আপনার পাবলিশ করা সেই কন্টেন্ট গুলো অন্যান্য পাঠক এসে পড়বে। এবং আপনার লেখাকে কেন্দ্র করা পাঠকরা মন্তব্য করবে।  মূলত এই সম্পূর্ন প্রক্রিয়াকে এক কথায় বলা হয়ে থাকে, ব্লগিং।

আর বর্তমান সময়ে অনেকেই এই প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে যুক্ত করছে। আর আপনারও যদি লেখালেখি করার অভ্যাস থাকে। তাহলে আপনার জন্য ব্লগিং এর দরজা সর্বদার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

ব্লগার কে বা কারা? 

হয়তবা আপনি অনেকের কাছে শুনে থাকবেন যে, ওমুক ব্যাক্তি একজন ব্লগার ৷ কিংবা এই সেক্টরে কাজ করার শুরুর দিকে ব্লগার শব্দটির সাথে পরিচিত হয়ে থাকবেন।

কিন্তুু প্রশ্ন হলো, এই ব্লগার আসলে কারা? ব্লগার অর্থ কি? এরা এমন কি কাজ করে, যার কারনে এই মানুষ গুলোকে ব্লগার বলা হয়ে থাকে?

এর উওরটা খুবই সহজ, দেখুন ব্লগার হলো ব্লগিং সেক্টরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যাকে ছাড়া ব্লগিংকে কল্পনা করা অসম্ভব।

কারন ব্লগার শুধমাএ তাদেরকেই বলা হয়, যারা মূলত এই লেখালেখির কাজ করে। কি অবাক হলেন?

হ্যাঁ! এটাই সত্য, যখন আপনিও একটি ব্লগ তৈরি করবেন। এরপর সেই ব্লগে নিয়মিত লেখা পাবলিশ করবেন। তখন আপনাকেও যদি একজন ব্লগার বলা হয়৷ তাহলেও কিন্তুু কোনো ভুল হবে না।  

ব্লগিং এর ইতিহাস 

আপনি কি জানেন, ব্লগ এর বাংলা প্রতিশব্দ কি? ওকে না জানলেও কোনো সমস্যা নেই। কারন এবার আমরা সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। এর পাশাপাশি ব্লগিং এর ইতিহাস সম্পর্কে ছোট্ট করে আলোচনা করার চেস্টা করবো।

সাধারনত ব্লগ শব্দটি এসেছে ইংরেজিতে থাকা Blog থেকে। যা এক ধরনের অনলাইন ভিওিক লেখালেখি করার এই উপযুক্ত প্লাটফর্ম।

তবে Blog শব্দটির কিন্তুু সরাসরি উৎপত্তি হয়নি। বরং এটি এসেছে Weblog নামক একটি শব্দ থেকে। আর এই Weblog শব্দটির সংক্ষিপ্ত রুপকে বলা হয়ে থাকে, ব্লগ (Blog).

মার্কিন নাগরিক জোম বার্গার নামক একজন ব্যাক্তি ছিলেন। যিনি ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম এই শব্দটির উৎপত্তি করেছিলেন।

এরপর পিটার মহোলজ নামক একজন ব্যাক্তি ১৯৯৯ সালে এই শব্দটিকে ভেঙ্গে দুইটি অংশে বিভক্ত করেন৷ যাকে বলা হত, “We blog” | “We blog”. এবং পরবর্তীতে এই শব্দ দুটোকে আরও ছোট্ট অংশ করে শুধুমাএ BLOG শব্দটির ব্যবহার করা হয়।

ব্লগিং এর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন ব্লগার এর নাম হলো, জাস্টিন। তিনি সর্বপ্রথম ব্লগিং শুরু করেন ১৯৯৮ সালে। এরপর তাকে অনুসরন করে অনেক নতুন নতুন ব্লগার এর উদ্ভাবন হয়। যার ধারাবাহিকতা এখনও বিরাজমান রয়েছে। 

ব্লগিং এর প্রকারভেদ 

ব্লগিং এর শুরুর দিকে এই সেক্টরকে যেমন একটি অনলাইন ডায়েরি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তুু কালক্রমে এই সেক্টরটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরে ব্লগিং শুধুমাএ অনলাইন ডায়েরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

এরপর অনেকেই যুক্ত হয়েছেন ব্লগিং সেক্টরে। কিন্তুু সবার উদ্দেশ্য শুধু দৈনিক ডাইরির মতো ছিলো না। বরং একেকজন একেক রকম কাজের জন্য ব্লগকে ব্যবহার করেছে।

তো যদি আমরা উদ্দেশ্য ভেদে ব্লগিংকে বিভক্ত করি। তাহলে আপনি অনেক ধরনের ব্লগিং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাই চলুন এবার সে সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক।

উদ্দেশ্য ভেদে ব্লগিংকে বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে। যেমন,

ব্যক্তিগত ব্লগিং (Personal Blogging)

যখন আপনি আপনার ব্যক্তিগত কোনো কাজের জন্য একটি ব্লগ তৈরি করবেন। তখন তাকে বলা হবে, পারসোনাল ব্লগ।

মনে রাখবেন, ব্লগিং এর ইতিহাসে যখন সর্বপ্রথম এর উৎপত্তি হয়েছিলো। তখন সবাই কিন্তুু পারসোনাল কাজে ব্যবহার করার জন্য ব্লগ তৈরি করতো।

কিন্তুু ধীরে ধীরে এই সেক্টর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবং মানুষ এই সেক্টরকে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে থাকে। 

সামাজিক ব্লগ

যখন সমাজের চলতি কিংবা পূর্বে ঘটিত কোনো বিষয় নিয়ে কোনো ব্লগ তৈরি করা হয়। তখন সেই ব্লগকে বলা হয় সামাজিক ব্লগ।

যেমন, বর্তমানে ভাইরাল বা লোক মুখে আলোচিত বিষয় গুলোর ভালো দিক এর পাশাপাশি খারাপ দিক সম্পর্কে এসব ব্লগে লেখালেখি করা হয়ে থাকে।

আর পাঠকরা এইসব ব্লগের মাধ্যমেও সমাজের চলতি বিষয়ের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারে

কোম্পানি/প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ

যখন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ব্যবহারকারী কিংবা অনুসারীর জন্য কোনো ব্লগ তৈরি করা হবে ৷ তখন সেই ব্লগকে বলা হবে, প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ।

এসব ব্লগে সাধারনত, তাদের যেসব ব্যবহারকারী আছে। তাদেরকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত করার জন্য এমন ব্লগ তৈরি করা হয়ে থাকে।

যেমন, বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় Google এর ও কিন্তুু নিজস্ব ব্লগ আছে। আবার আমাদের সবার পরিচিত Microsoft এরও নিজস্ব ব্লগ আছে।

এই ব্লগ গুলোর মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের নিজস্ব পন্য সম্পর্কে ব্যবহার কারীদের অবগত করে। এর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। 

বিনোদন মূলক ব্লগ

শুধুমাএ বিনোদন কে উদ্দেশ্য করে যে ব্লগ গুলো তৈরি করা হয়। মূলত সেগুলো কে বলা হয়, বিনোদন মূলক ব্লগ।

যেমন, নতুন কোনো সিনেমা আসছে কিনা, নতুন কোনো গান আসছে কিনা। এইসব বিষয় নিয়ে এসব ব্লগ গুলোতে লেখালেখি করা হয়।

আপনার জন্য আর আর্টিকেল…

এর পাশাপাশি বিনোদন জনগতের অনেক খবরা খবর প্রকাশ করা হয় এই ব্লগ গুলোতে। যার মাধ্যমে পাঠকরা রঙ্গীন জগত সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। 

প্রশ্ন-উত্তর ব্লগ

যে ব্লগ গুলোতে বিভিন্ন প্রশ্নের উওর খুজে পাওয়া যায়। সেই ব্লগ গুলোকে বলা হয়, প্রশ্ন /উওর ব্লগ।

মূলত পাঠকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খোজার জন্য এই ব্লগ গুলোতে এসে ভিড় করে। তারা যে সমস্যার সমাধান চায়। সেই সমাধান গুলো এই ধরনের ব্লগ থেকে খুজে পায়।

বর্তমানে অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও অনেক প্রশ্ন ও উওর নিয়ে ব্লগ তৈরি করা হয়েছে। যা অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। 

খবরের ব্লগ

মূলত যে ব্লগ গুলোতে খবর প্রকাশের জন্য তৈরি করা হয়। তাকে বলা হয় খবর ব্লগ। বর্তমানে চলমান বিভিন্ন খবর সম্পর্কে মানুষকে অবগত করার উদ্দেশ্যে এসব ব্লগ তৈরি করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে অন্যন্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও অনেক ধরনের খবর ব্লগ তৈরি করা হয়েছে। যা বেশ ভালো জনপ্রিয়তা অর্জন করতেও সক্ষম হয়েছে। চাইলে আপনিও এমন একটি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। 

ব্লগিং কেন করবেন?

আপনি এতোক্ষনে জানলেন যে, ব্লগিং কি এবং ব্লগিং কত প্রকার এর হয়ে থাকে। এবার আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেন আপনি ব্লগিং করতে চান? এর উওরে আপনি কি বলবেন?

দেখুন, বর্তমান সময়ে অনলাইনে যতোগুলো ব্লগার আছে। তারা সবাই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এই সেক্টরের সাথে যুক্ত হয়েছে।

এখন আপনিও যদি চান, এই সেক্টরে আপনি নিজেকেও যুক্ত করবেন। তাহলে সবার আগে আপনাকে কারন টা খুজে বের করতে হবে। কারন, উদ্দেশ্য বিহীন কাজ কখনও আপনার জন্য সুফল বয়ে আসবে না।

তো সাধারনত আজকের দিনে যারা এই সেক্টরের সাথে যুক্ত আছে৷ তারা মূলত দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে ব্লগিং করে। যেমন,

লেখালেখি করার অভ্যাস 

আপনার লেখালেখি করার শখ আছে কিনা। তা তো আমি বলতে পারবো না। তবে আপনার মতো এমন অনেক মানুষ আছে, যারা কিন্তুু লেখালেখি করতে অনেক বেশি ভালোবাসে।

তাছাড়া আগের দিনে মানুষ খাতা ও কলমে লিখতে পছন্দ করতো। কিন্তুু আমরা তো ক্রমে ক্রমে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছি৷ তাই আগের মতো খাতা বা কলমে লেখি লেখি করতে এখন তেমন একটা উৎসাহ পায় না।

যার ফলে আমরা ধীরে ধীরে মোবাইল কিংবা কম্পিউটার এর কিবোর্ডের উপর অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। যেখানে খাতা কিংবা কলমের তুলনায় খুব কম সময়ের মধ্যে অনেক বড় বড় লেখাকে শেষ করা সম্ভব।

এছাড়াও আপনি যদি আজকের দিনে আগের মতো ডায়েরীতে লিখে। সেই লেখাকে অন্যের কাছে পৌঁছাতে চান৷ তাহলেও কিন্তুু আপনাকে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হবে।

যেমন, প্রথমে আপনাকে হাতে করে লিখতে হবে। তারপর সেই লেখাকে কোনো পাবলিশার এর কাছ থেকে বই তৈরি করতে। এরপর আপনি আপনার কাঙ্খিত পাঠকদের নিকট সেই বইটিকে পাঠাতে পারবেন।

কিন্তুু আপনি যদি এই কাজটি অনলাইনে একটি ব্লগের মাধ্যমে করেন। তাহলে কিন্তুু আপনার সময় ও শ্রম দুটোই বেঁচে যাবে।

কারন, ব্লগের মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত কোনো বিষয়ে লিখতে পারবেন৷ এবং সেই লেখা পড়ার জন্য অনেক কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পরিমানে পাঠক পেয়ে যাবেন৷ 

ইনকাম করার জন্য ব্লগিং

আপনার লেখালেখি করার অভ্যাস থাকুক বা না থাকুক। কিন্তুু ইনকাম করার উদ্দেশ্য তো অবশ্যই আছে তাইনা? তাহলে আপনার জন্য একটি গুড নিউজ আছে।

সেটি হলো, আপনি যদি চান, তাহলে ব্লগিং থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

সত্যি বলতে আজকের দিনে যতো গুলো নতুন মানুষ এই সেক্টরে যুক্ত হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ মানুষের ই মূল উদ্দেশ্য হলো, ব্লগ থেকে আয় করা।

এখন তারা যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে ব্লগিং সেক্টরে যুক্ত হয়। তাহলে আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন?

আপনার লেখালেখি করার অভ্যাস থাকুক বা না থাকুক। আপনি যদি লেখার মাধ্যমে মানুষকে কোনো বিষয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন। তাহলে এটিই যথেষ্ট হবে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার এর শুরু করার জন্য।

আর আপনি জানলে অবাক হবেন, কারন এমন অনেক ব্লগার আছেন। যারা শুধুমাএ এই সেক্টরে কাজ করে বিপুল পরিমান টাকা ইনকাম করতে পেরেছে।

আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা Blogging নামক এই ছোট্ট সেক্টর থেকেই নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে।

তাই আপনিও যদি এই সেক্টরে নিজেকে যুক্ত করতে চান। এবং একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে চান। তাহলে আপনাকে সু-স্বাগতম। 

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন ?

এখন এতোকিছু জানার পর আপনার মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হতে পারে। তবে সবার আগে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমি কিভাবে ব্লগিং শুরু করব?

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, “আপনি কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ব্লগিং শুরু করবেন”? তাই এবার সে বিষয়ে হালকা আলোচনা করা যাক। 

কোন প্লাটফর্মে ব্লগিং শুরু করব ?

দেখুন, যখন আপনি এই সেক্টরে নিজেকে যুক্ত করতে চাইবেন। তখন আপনার সামনে দুইটি প্লাটফর্ম চলে আসবে৷ একটি হলো, Google Blogger এবং আরেকটি হলো WordPress.

এখন অনেকেই এটা নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। তারা আসলে বুঝতে পারে না যে আসলে কোনটি দিয়ে ব্লগিং শুরু করা উচিত।

তাই এবার এই দুটো প্লাটফর্ম সম্পর্কে একটু আলোচনা করবো। যেন আপনার বুঝতে সুবিধা হয়। 

Google Blogger প্লাটফর্ম

এটি হলো গুগলের নিজস্ব একটি প্রোডাক্ট। যা সরাসরি গুগল নিজেই পরিচালনা করে থাকে। যদি আপনি গুগল ব্লগার ব্যবহার করে Blogging শুরু করতে চান। তাহলে আপনার যে সুবিধা গুলো ভোগ করতে পারবেন। এবার সে সম্পর্কে জেনে নিন।

যদি আপনি Blogger ব্যবহার করেন। তাহলে আপনি বেশ কিছু সুবিধা পাবেন। যেমন,

  • এখানে আপনাকে তেমন টাকা খরচ করতে হবে না। আপনি যদি চান, তাহলে মাএ ৮০০ থেকে ১০০০/- টাকা দিয়েও ডোমেইন কিনে শুরু করতে পারবেন। 
  • আপনি যদি চান যে সম্পূ্র্ন বিনামূল্যে একটি ব্লগ তৈরি করবেন। সেই সুযোগটিও ভোগ করতে পারবেন। যদি আপনি এই Google Blogger ব্যবহার করেন। 
  • নতুনদের জন্য এই প্লাটফর্মটি খুব সহজভাবে কাষ্টমাইজ করা সম্ভব। এবং Blogger এর ইউজার ইন্টারফেস এমনভাবে তৈরি করা হযেছে। যেন নতুনরা খুব সহজেই তা আয়ও করতে পারে। 

WordPress For Blog

অপরদিকে আপনি যদি ব্লগিং করার জন্য WordPress কে বেছে নেন। তাহলে আপনি বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এবার সে সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।

দেখুন, শুরুতেই বলে রাখি এটি একটি Third-party প্লাটফর্ম। তাই এখানে আপনাকে একটু বেশি পরিমানে অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে সেই ব্যয় করা অর্থের পরিমান খুব বেশি হবে না।

আপনি আরো পড়ুন…

তো যদি আপনি এই প্লাটফর্ম ব্যবহার করেন৷ তাহলে বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যেমন, 

  • আপনি এই প্লাটফর্মে নিজস্ব হোস্টিং এর সাহায্য ব্লগিং করবেন। তাই আপনি নিজের ইচ্ছামতো আপনার ব্লগকে পরিচালনা করতে পারবেন৷ 
  • সামান্য কিছু Plugin এবং থিম ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্লগকে সাজিয়ে নিতে পারবেন। 
  • এই প্লাটফর্মে কন্টেন্ট পাবলিশ এর দিক থেকে আপনি আরও বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন 

ব্লগিং শুরু করতে কত টাকা খরচ করতে হবে?

ব্লগিং শুরুর প্রথম দিকে তেমন একটা খরচ করার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি যদি চান যে কোনো প্রকার অর্থ ব্যয় না করেই একটি ব্লগ শুরু করবেন। তাহলেও আপনি খুব সহজেই একটি ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

কিন্তুু আপনি যদি চান যে, আপনার ব্লগটা যেন একটু প্রফেশনালি হয়। তাহলে আপনাকে শুরুর দিকে কিছু পরিমান টাকা ব্যয় করতে হবে।

যেমন, প্রথমত আপনার ব্লগের জন্য একটি Domain কিনতে হবে। যার মূল্য প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা ব্যয় করতে হবে।

এরপর আপনি যদি চান যে আপনার ব্লগটির সমস্ত ডাটা গুলো নিজের কাছে জমা রাখতে। তাহলে আপনাকে Hosting কিনতে হবে।

তবে হোস্টিং এর মূল্য ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। সেটা নির্ভর করবে আসলে আপনি কত বেশি Storage ব্যবহার করবেন তার উপর।

তবে শুরুর দিকে আপনি 2GB- 5GB Storage এর হোস্টিং দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা ব্যয় করতে হবে। 

কিভাবে ব্লগিং করে আয় করা যাবে ?

যাক, এতোকিছু যেহুতু জানলেন। তাহলে এবার মূল বিষয়টি সম্পর্কে একটু জেনে নিন। কারন আপনার উদ্দেশ্য যদি ব্লগ থেকে আয় করা হয়। তাহলে ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়।

সে সম্পর্কেও একটু ধারনা নিলে বরং আপনার-ই উপকার হবে।

দেখুন যখন আপনার একটি ব্লগ থাকবে। তখন আপনি ভিন্ন উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন। যেমন, বিভিন্ন Ad Network আছে, আপনি চাইলে তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগে দেখিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

যেমন, এড নেটওয়ার্ক এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো, গুগল এডসেন্স। মূলত বেশিরভাগ ব্লগার এই Google Adsense থেকে ইনকাম করে থাকে। আর আপনি যদি সঠিকভাবে ব্লগে কাজ করতে পারেন।

তাহলে আপনিও তাদের মতো ব্লগ থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে আপনি মোট কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সে বিষয়ে পরিস্কার ধারনা দেওয়া অসম্ভব।

কারন আপনি আসলে কি পরিমানে ইনকাম করতে পারবেন। তা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আপনার কাজ ও দক্ষতার উপর। এখন আপনি যদি ভালো ভাবে কাজ করতে পারেন।

তাহলে আপনার ইনকাম ও বেশি হবে। আর আপনি যদি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারেন। তাহলে আপনার ইনকাম ও অনেক কম হবে। 

ব্লগিং কিভাবে শিখব

সত্যি বলতে ব্লগিং থেকে ইনকাম করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে, কিভাবে ব্লগিং করতে হয় এবং ব্লগিং কিভাবে শিখবেন।

আপনি যদি এই বিষয় গুলোকে স্কিপ করে শুধু ইনকাম করার পেছনে দৌড়ান। তাহলে কিন্তুু আপনার সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুন কমে যাবে।

তো আপনি যদি চান যে ব্লগিং এর সমস্ত বিষয় সম্পর্কে শিখে নিবেন। তাহলে আমার ওয়েবসাইটে ব্লগিং রিলেটেড অনেক আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে।

আপনি যদি প্রত্যেকটা আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে আমার বিশ্বাস আপনার আর ব্লগ নিয়ে অজানা কিছু থাকবে না। 

আমাদের শেষকথা

দেখুন, ব্লগিং কি সে সম্পর্কে তো আর কোনো জানার নেই, তাইনা? কারন আমি আজকের আর্টিকেলে ব্লগিং কি, কিভাবে ব্লগিং শুরু করব এবং কিভাবে ব্লগিং করে আয় করবেন।

সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা দেওয়ার চেস্টা করছি।

এখন এরপরও যদি আপনার কোনো সমস্যা হয়ে থাকে। তাহলে আমার ওয়েবসাইটে ব্লগ ক্যাটাগরিতে যেসব আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে। সেগুলো পড়ে নিবেন।

তবে এরপরও যদি কোনো কিছু জানার থাকে। তাহলে কমেন্ট করবেন। আমি চেস্টা করবো আপনাকে হেল্প করার।

বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap