ফেসবুকে ব্যবসা করার নিয়ম | ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা শুরু করার উপায়

ফেসবুকে ব্যবসা করার নিয়ম : আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন, কারন বর্তমান সময়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ বিলিয়ন এর বেশি।

ফেসবুকে ব্যবসা করার নিয়ম | ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা শুরু করার উপায়

আর সময় যতো অতিবাহিত হচ্ছে, ফেসবুক ইউজার এর সংখ্যা ঠিক ততো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যেহুতু ফেসবুকের ইউজার বাড়ছে, সেহুতু ফেসবুক ব্যবসার জন্য অন্যতম একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কেননা, আপনি যদি ফেসবুকের বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের মধ্যে। কয়েক মিলিয়ন মানুষকে টার্গেট করতে পারেন। আর তাদের নিকট আপনার ব্যবসার পন্যের প্রচার করতে পারেন।

তাহলে কিন্তুু আপনি খুব দ্রুত আপনার ব্যবসার পরিধী বৃদ্ধি করতে পারবেন। তবে ফেসবুক এর মধ্যে ব্যবসা করার জন্য আমাদের বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে।

ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে হবে। আর আজকের আলোচনা তে আমি আপনাকে ফেসবুকে ব্যবসা করার সেই সকল নিয়ম গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। 

আর্টিকেল সূচি

ফেসবুক ব্যবসা বলতে কি বোঝায়? 

আমরা সকলেই জানি যে, ফেসবুক হলো একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। যেখানে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো মেসেজের মাধ্যমে একে অপরের সাথে শেয়ার করতে পারি।

অপরদিকে ব্যবসা হলো সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন বিষয়। তাই আমাদের অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগে যে, ফেসবুক ব্যবসা বলতে কি বোঝায়। তাই চলুন এবার সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সহজ ভাষায় ব্যবসা বলতে বোঝায়, যখন আপনি কোনো সেবা বা পন্যের উৎপাদনের মাধ্যমে উপযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

আর সেই পন্য বা সেবা মাধ্যমে মানুষের অভাব পূরণ করার মাধ্যমে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। তখন তাকে সহজ কথায় বলা হবে, ব্যবসা।

আর এই ব্যবসা আপনি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বা নির্দিষ্ট কোনো সময়ে করতে পারবেন। সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে।

অপরদিকে যদি আপনি এই ধরনের ব্যবসার কার্যক্রম ফেসবুক নামক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এর মধ্যে করবেন।

যখন আপনি ফেসবুকে ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফা লাভ করবেন। তখন তাকে বলা হবে, ফেসবুক ব্যবসা। 

ফেসবুক দিয়ে ব্যবসা করা যাবে কি?

সত্যি বলতে ফেসবুক ব্যবসা নিয়ে আমাদের বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন আছে। তবে তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হলো, ফেসবুক দিয়ে ব্যবসা করা যাবে কিনা।

তো আপনারা যারা এখনও এই ধরনের প্রশ্ন করছেন। সেই সময়ে আপনার মতো অনেক মানুষ ইতিমধ্যে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে।

আর তারা অলরেডি তাদের ব্যবসার পরিধী বৃদ্ধি করেছে। কেননা, আমরা সকলেই জানি যে, ব্যবসার মূল টার্গেট হলো কাষ্টমার।

আর বর্তমান সময়ে ফেসবুকে প্রচুর পরিমান ব্যবহারকারী আছে। আর এই বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের মধ্যে অবশ্যই আপনার প্রোডাক্ট কেনার মতো মানুষ অবশ্যই থাকবেন।

আর আপনি যদি সেই টার্গেট করা কাষ্টমারদের কাছে আপনার প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন।

তাহলে অবশ্যই আপনার সেই প্রোডাক্ট সেল করার বিনিময়ে মুনাফা লাভ হবে। তাই এটা নিশ্চিত থাকুন যে, বর্তমানে ফেসবুকের মধ্যেও ব্যবসা করা যায়। 

ফেসবুকে কি কি ধরনের ব্যবসা করা যাবে 

দেখুন, ফেসবুকে আসলে বিভিন্ন ধরনের পন্যের ব্যবসা করা যায়। যেমন, আপনার যদি গার্মেন্টেস থাকে। তাহলে আপনি কাপড়ের ব্যবসা করতে পারবেন।

আবার যদি আপনার বইয়ের লাইব্রেরী থাকে। তাহলে আপনি সেই বই বিক্রি করার ব্যবসা করতে পারবেন। তবে আপনার ক্ষেত্রে আসলে কোন প্রোডাক্ট এর ব্যবসা করা উচিত।

সেটি সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে। কেননা, আপনি চাইলে কাপড়ের ব্যবসা করতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে বই, খাতা কলম এরও ব্যবসা করতে পারবেন।

কিন্তুু এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো। সেটি হলো, আপনি সব ধরনের ব্যবসা ফেসবুক এর মধ্যে করতে পারবেন না।

কারণ, আমরা অনেকেই মনে করি, ফেসবুকে আমরা কিছু বিক্রি করার পোষ্ট দিবো। আর মানুষ হুমড়ি খেয়ে আমাদের প্রোডাক্ট কিনবে।

তো যদি আপনি এমনটা মনে করেন, তাহলে আপনার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা, বাস্তবিক জীবনে যেমন আমাদের ব্যবসা করার আগে বিভিন্ন বিষয় ভেবে চিন্তে কাজ করতে হয়।

ঠিক তেমনি ভাবে যখন আপনি ফেসবুকে আপনার ব্যবসার করার কথা ভাববেন। তখনও আপনাকে সেই একই চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

আর সেগুলো চিন্তা ভাবনা করার পর যদি আপনার মনে হয় যে, আপনার প্রোডাক্ট কেনার মতো মানুষ ফেসবুকে আছে। তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে ফেসবুকে আপনার ব্যবসা শুরু করে দিতে পারবেন।

কিন্তুু যদি আপনার মনে হয় যে, আপনার প্রোডাক্ট কেনার মতো কাষ্টমার ফেসবুকে নেই। তাহলে আপনার জন্য ফেসবুক ব্যবসা থেকে দুরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 

ফেসবুকে কি কি ব্যবসা করা যায়

ফেসবুক একটি বিশাল সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম যাতে বিভিন্ন প্রকারের ব্যবসারা করা যায়। নিম্নে কিছু প্রধান ব্যবসা আইডিয়া দেওয়া হল:

  1. ই-কমার্স স্টোর
  2. পরামর্শ এবং কোচিং
  3. ফ্রিল্যান্সিং সেবা
  4. ড্রপশিপিং
  5. হ্যান্ডমেড শিল্প 
  6. খাবার ব্যবসা
  7. ফ্যাশন
  8. ডিজিটাল প্রোডাক্ট
  9. ফিটনেস এবং স্বাস্থ্য
  10. রিয়েল ইস্টেট
  11. ইভেন্ট প্ল্যানিং
  12. ফটোগ্রাফি সেবা
  13. ভাষা টিউটরিং
  14. ভ্রমণ পরিকল্পনা
  15. বাড়ি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক ডিজাইন
  16. টেক গ্যাজেট এবং সাজ
  17. পেট সেবা
  18. গেমিং এবং বিনোদন
  19. অটোমোটিভ সেবা
  20. শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান
  21. ননপ্রফিট সংস্থা
  22. হেলথকেয়ার সেবা
  23. বাড়ি সেবা
  24. ভার্চুয়াল ইভেন্ট এবং ওয়েবিনার

ফেসবুকে ব্যবসা করার নিয়ম | facebook এ ব্যবসা করার নিয়ম

দেখুন, উপরের আলোচনা তে আমি আপনাকে একটা কথা বলেছি। সেটি হলো, বাস্তবিক জীবনে আমাদের ব্যবসা করার সময় যেমন বিভিন্ন নিয়ম অনুসরন করতে হয়।

ঠিক তেমনি ভাবে আপনি যদি ফেসবুকে ব্যবসা করতে চান। তাহলেও আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।

তবে প্রাথমিক ভাবে যখন আপনি ফেসবুকে ব্যবসা করতে চাইবেন। তখন আপনাকে যে সকল নিয়ম মানতে হবে। সে গুলো নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো। যেমন,

  1. প্রথমে আপনাকে একটা ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। 
  2. তারপর সেখানে প্রচুর পরিমান অডিয়েন্স কে যুক্ত করতে হবে। 
  3. আপনাকে অবশ্যই তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে। 
  4. এরপর আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচার করতে হবে। 
  5. অবশ্যই সৎভাবে ব্যবসা করতে হবে। 
  6. আপনার প্রোডাক্ট এর মান ভালো হতে হবে। 
  7. কাষ্টমারদের কাছে সময়মতো প্রোডাক্ট পৌঁছাতে হবে। 
  8. আপনাকে অবশ্যই কাষ্টমারদের ফিডব্যাক নিতে হবে।

তো আপনি যদি ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করতে চান। তাহলে প্রাথমিক ভবে আপনাকে উপরে উল্লেখিত নিয়ম গুলো মানতে হবে।

তাই চলুন উক্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে একটু বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। 

আপনাকে একটা ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে 

বাস্তব জীবনে আপনি যদি ব্যবসা করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার নিজস্ব একটি দোকান/স্থান বা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।

যেখানে কাষ্টমার এসে আপনার ব্যবসার প্রোডাক্ট গুলো ক্রয় করবে।

ঠিক একইভাবে আপনি যখন ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করতে চাইবেন। তখনও আপনার নিজস্ব একটা প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। আর এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে ফেসবুকের মধ্যেই।

আর সেটি আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে তৈরি করতে পারবেন। যেমন, আপনি চাইলে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করতে পারবেন।

আবার আপনি যদি চান তাহলে একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও আপনার নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারবেন।

আবার অনেক সময় আপনার নিজের ফেসবুক আইডির মাধ্যমেও সেই কাজটি করতে পারবেন। তবে ফেসবুক এর মাধ্যমে নিজস্ব একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার অন্যতম মাধ্যম হলো, ফেসবুক পেজ। 

সেখানে প্রচুর পরিমান অডিয়েন্স কে যুক্ত করতে হবে

আপনার নতুন একটি ব্যবসা তখনি উন্নতি করতে পারবে। যখন আপনার ব্যবসার প্রোডাক্ট কেনার জন্য প্রচুর পরিমান কাষ্টমার থাকবে।

কেননা, আপনি আপনার প্রোডাক্ট যতো বেশি সেল করতে পারবেন। সেখান থেকে আপনার প্রফিট আসার সম্ভাবনা ঠিক ততো বেশি বৃদ্ধি পাবে।

আর আপনি যেহুতু ফেসবুক থেকে আপনার ব্যবসা পরিচালিত করতে চান। তাহলে আপনার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে ফেসবুকে থাকা কাষ্টমারদের টার্গেট করা।

যেমন, আপনি আপনার ফেসবুক পেজ থেকে ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনার সেই ফেসবুক পেজ এর মধ্যে প্রচুর পরিমান ফলোয়ার থাকতে হবে।

কারন, আপনি যতো বেশি ফলোয়ার নিতে পারবেন। আপনার ব্যবসার পরিচিতি ঠিক ততোই বৃদ্ধি পাবে।

আর এই একই কাজটি যদি আপনি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনার সেই ফেসবুক গ্রুপের মধ্যে লাখ লাখ মেম্বার যুক্ত থাকতে হবে।

মনে রাখবেন, এই ফলোয়ারদের মধ্যে থেকে আপনার টার্গেট করা কাষ্টমারদের খুজে নিতে হবে। আর তাদের মধ্যেই আপনার ব্যবসার প্রোডাক্ট সেল করতে হবে। 

তাদের মধ্যে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হবে

বিশ্বাস সবচেয়ে বড় একটা বিষয়। কেননা, যেখানে বিশ্বাস নেই, সেখানে কেউ আসতে চাইবে না। আর অনলাইন এর মধ্যে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা খুব কঠিন একটা কাজ।

আর তাই যখন আপনি ফেসবুক থেকে আপনার ব্যবসা করবেন। তখন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

কেননা, আপনি ফেসবুকে আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচার করলেন। আপনার টার্গেট করা কাষ্টমার আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতেও পারলো।

কিন্তুু যদি তারা আপনাকে বিশ্বাস না করে। তাহলে কিন্তুু আপনি আপনার প্রোডাক্ট আশানুরুপ সেল করতে পারবেন না।

তাই আপনার যতটুকু সামর্থ্য থাকবে। তার সবটুকু দিয়ে কাষ্টমারদের নিকট বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করবেন।

যেন, কাষ্টমার আপনার প্রতি বিশ্বাস রেখে, আপনার প্রোডাক্ট কেনার জন্য আগ্রহী হয়।  

আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচার করতে হবে

আমরা সকলেই জানি যে, প্রচারেই প্রসার। অর্থ্যাৎ আপনি যতো বেশি প্রচার করবেন। আপনার ব্যবসার পরিধী ততো বেশি বৃদ্ধি পাবে।

ঠিক একইভাবে যখন আপনি ফেসবুকে আপনার ব্যবসার কাজ পরিচালনা করবেন। তখন আপনাকেও যথেষ্ট প্রচার করতে হবে। তাহলে মানুষ আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে পারবে।

আর আপনার ব্যবসার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারবে। আর বর্তমান সময়ে আপনি মোট দুইটি পদ্ধতি ফলো করে ফেসবুকে প্রচার করতে পারবেন। সেগুলো হলো, পেইড পদ্ধতি, আরেকটি হলো, ফ্রি পদ্ধতি।

তো যদি আপনি পেইড পদ্ধতিতে আপনার ব্যবসার প্রচার করেন। তাহলে আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ খরচ করতে হবে। কিন্তুু আপনি চাইলে কোনো অর্থ খরচ না করেই প্রচার করতে পারবেন।

যে উপায় গুলো নিয়ে অন্য কোনো আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করবো।  

সৎভাবে ব্যবসা করতে হবে

সবক্ষেত্রেই সততা থাকা বাধ্যতামূলক। কেননা, আপনি যদি অসৎভবে কোনো কিছু করেন। তাহলে আপনি খুব বেশিদুর এগিয়ে যেতে পারবেন না।

আর বর্তমান সময় হলো, অনলাইন এর যুগ। তাই আপনি যদি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে ব্যবসা করেন। তাহলে আপনার জন্য ফেসবুকে ব্যবসার প্রসার করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

তাই ফেসবুকে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সৎ হতে হবে। 

প্রোডাক্ট এর মান ভালো হতে হবে

আমরা অনেকেই মনে করি যে, অনলাইনে কোনো প্রোডাক্ট দেখার পর। মানুষ সেই প্রোডাক্ট কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

তো যারা আসলে এমনটা মনে করেন, তাদের ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। কারন, সর্বদা একটা কথা মাথায় রাখবেন। সেটি হলো, আপনি যেমন চালের ভাত খান।

ঠিক তেমনি ভাবে অন্যান্য মানুষও আপনার মতো চালের ভাত খায়। তাই এমন চিন্তা ভাবনা থাকলে, সেটি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

তাই আপনি যে প্রোডাক্ট নিয়ে ফেসবুকে ব্যবসা করতে চান। খেয়াল রাখবেন যেন আপনার সেই প্রোডাক্ট এর মান ভালো হয়। মানুষ যেন আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।

আর যদি আপনার প্রোডাক্ট এর মান খারাপ হয়। তাহলে অনলাইনে আপনার ব্যবসা ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে অনেকেই খারাপ রিভিউ দিবে। যার কারণে আপনার প্রোডাক্ট কেনার প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। 

সময়মতো প্রোডাক্ট পৌঁছাতে হবে

একটা বিষয় চিন্তা করে দেখুন তো। আপনি কোথাও ঘুরতে যাবেন সে কারণে অনলাইন থেকে শার্ট অর্ডার দিলেন। কিন্তুু আপনার ঘুরতে যাওয়ার সময় পার হওয়ার পরও আপনি সেই শার্ট হাতে পেলেন না।

তখন আপনার অনুভূতি টা কেমন হবে? ঠিক একইভাবে এবার আপনি একজন ফেসবুক ব্যবসায়ী হয়ে চিন্তা করে দেখুন। যদি মানুষের কাছে আপনার প্রতি খারাপ ধারনা তৈরি হয়।

তাহলে আপনি কি লং টাইম ফেসবুকে ব্যবসা করতে পারবেন? তাই যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন কাষ্টমারদের প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

যাতে করে কাষ্টমারদের কাছে আপনার প্রতি কোনো খারাপ ধারনা তৈরি না হয়। 

কাষ্টমারদের ফিডব্যাক নিতে হবে

আপনি ব্যবসার প্রচার করলেন, কাষ্টমার আপনার প্রোডাক্ট কিনে নিলো। ব্যাস, আপনার ঝামেলা শেষ, তাইনা? আপনি ভুলেও এই কাজ করবেন না।

বরং আপনার প্রোডাক্ট কেনার পর কাষ্টমারদের কাছ থেকে অবশ্যই ফিডব্যাক নিবেন। তারা আপনার প্রোডাক্ট কেনার পর সন্তুষ্ট কিনা, তাদের কোনো প্রকারের সমস্যা হয়েছে কিনা।

এই যাবতীয় তথ্য গুলো জেনে নিবেন। এছাড়াও কোনো সমস্যা হলে আপনি সেগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করবেন।

আর যদি আপনি এই কাজ গুলো করেন। তাহলে কাষ্টমারদের নিকট আপনার প্রতি একটা পজেটিভ ধারনা তৈরি হবে। যার ফলে তারা পরবর্তীতে আপনার থেকে আরও প্রোডাক্ট কেনার জন্য আগ্রহী হবে। 

ফেসবুকে ক্রেতা কিভাবে পাবো?

যখন আমরা ফেসবুকে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চাই। তখন আমাদের মাথায় এই প্রশ্নটি বারবার ঘুরপাক খায় যে, আমরা ফেসবুকে ক্রেতা কিভাবে পাবো।

তো আপনি যদি ফেসবুকে ব্যবসা করেন। তাহলে আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে আপনার টার্গেট করা ক্রেতা খুজে নিতে পারবেন। তবে সেজন্য আপনাকে প্রোমোশন করতে হবে।

কারণ ফেসবুক হলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। আর আপনি যদি আপনার ব্যবসার জন্য ক্রেতা খুজে নিতে চান। তাহলে আপনাকে ফেসবুক ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে ক্রেতা খুজে নিতে হবে।

আর বর্তমান সময়ে ফেসবুকে ক্রেতা খুজে পাওয়ার দুটো উপায় আছে। সেগুলো হলো,

  1. ফ্রি প্রমোশন করে
  2. পেইড প্রমোশন করে

যদি আপনি অতি দ্রুত আপনার ব্যবসার প্রচার করতে চান। তাহলে আপনাকে পেইড প্রোমোশন করতে হবে। আর এই কাজটি করার জন্য আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ খরচ করতে হবে।

আর এই অর্থ আপনাকে ফেসবুক প্রোমোট ও বুষ্টিং করার কাজে ব্যয় করতে হবে।

কিন্তুু আমাদের অনেকের কাছে এই ধরনের পেইড প্রোমোশন করার মতো অর্থ থাকেনা। যার কারণে তারা ফ্রি প্রোমোশন করার চেষ্টা করে।

তো ফেসবুকের মধ্যে ফ্রি প্রোমোশন করার এমন অনেক উপায় আছে। যে গুলোর মাধ্যমে আপনি কোনো প্রকার অর্থ খরচ করা ছাড়াই। আপনার প্রোডাক্ট এর প্রচার করতে পারবেন।

তবে তার জন্য আপনাকে বেশ কিছু উপায় ফলো করতে হবে। আর আপনি যদি সেই উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

তাহলে আমি পরবর্তী আর্টিকেলে সেই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত লিখবো। 

কিভাবে মালা-মাল পাঠাবো?

দেখুন, আপনি ফেসবুকে ব্যবসা করার পর আপনার মালামাল কিভাবে পাঠাবেন। সেটা মূলত আপনার প্রোডাক্ট এর উপর নির্ভর করবে।

এর পাশাপাশি আপনি কত বড় এড়িয়া তে আপনার প্রোডাক্ট সেল করবেন, সেটিও মূখ্য বিষয়।

যেমন ধরুন, আপনি যদি আপনার জেলা/থানার মধ্যে ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনি নিজেই গিয়ে কাষ্টমারদের প্রোডাক্ট হাতে দিয়ে আসতে পারবেন।

কিন্তুু যদি আপনার ব্যবসার পরিধী আরো বড় হয়। তাহলে আপনার নিজে গিয়ে দিয়ে আসা সম্ভব হবেনা।

আর যদি আপনি বৃহৎ অংশজুড়ে ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনার জন্য কুরিয়ার সার্ভিস হবে অন্যতম একটি উপায়। যার মাধ্যমে আপনি সারাদেশে আপনার ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তবে যদি আপনি কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট পাঠাতে চান। তাহলে কিন্তুু আপনার খরচ বেশি হবে। আর আপনাকে এই বিষয়টিও মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।   

পেমেন্ট কিভাবে নিব?

ফেসবুক থেকে আপনি মোট দুইটি মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন। সেগুলো হলো,

  1. ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং 
  2. অগ্রীম পেমেন্ট।

মূলত যখন আপনার কাষ্টমারের নিকট প্রোডাক্ট পৌঁছাবে। তখন তারা আপনাকে পেমেন্ট করবে। মূলত একে বলা হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি।

আর যদি আপনি অগ্রীম পেমেন্ট চালু করেন। তাহলে কাষ্টমারদের প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার আগেই পেমেন্টে করতে হবে।

আর যতক্ষন পর্যন্ত আপনি ফেসবুকে পরিচিত হবেন না। কাষ্টমারদের কাছে বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন না। ততোক্ষন কাষ্টমার আপনাকে অগ্রীম পেমেন্ট করতে চাইবে না। 

ফেসবুক ব্যবসা নিয়ে আমাদের শেষ কথা

আমাদের মধ্যে যারা ফেসবুকে ব্যবসা করতে চান। তাদের জন্য যে সকল বিষয় জানা দরকার। আজকের আর্টিকেলে সেই বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

তো আপনি যদি ফেসবুকে ব্যবসা সম্পর্কে আরো অজানা তথ্য জানতে চান। তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Share via
Copy link