ইউটিউবের নতুন নিয়ম কানুন ২০২১

ইউটিউবের নতুন নিয়ম কানুন ২০২১ : আপনি কি জানেন, ইউটিউব প্লাটফর্মে কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে? – যদি এ ই নিয়ম গুলো আপনার জানা না থাকে। তাহলে আপনার জন্য ইউটিউবে সফলতা পাওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে পড়বে।

ইউটিউবের নতুন নিয়ম কানুন
ইউটিউবের নতুন নিয়ম কানুন ২০২১

দেখুন, আমরা যখন কোথাও চাকরি করি। তখন সেই প্রতিষ্ঠানের সকল বিধিনিষেধ মেনে কাজ করতে হয়। ঠিক একইভাবে যখন আপনি Youtube এ কাজ করবেন। তখন ধরে নিতে হবে, আপনি ইউটিউব এর একজন কর্মচারি।

আর একজন কর্মচারি হিসেবে আপনাকে অবশ্যই ইউটিউব সকল Terms and Conditions এবং Privacy Policy মেনে চলতে হবে। একজন ইউটিউব Content Creator হিসেবে আপনি যদি এই নিয়ম গুলো অনুসরন না করেন। তাহলে কোনো একটা সময় এই সেক্টরে আপনাকে হোঁচট খেতে হবে।

আপনাকে এমন অনেক চ্যানেলের উদাহরন দিতে পারবো। যে চ্যানেল গুলোতে লক্ষ লক্ষ Subscribers থাকার পরও ইউটিউবের নিয়মের বাইরে যাওয়ার কারনে তাদের চ্যানেলকে Permanently Suspended করে দেওয়া হয়েছিলো।

এবং যতোই সময় যাচ্ছে, ইউটিউবের নিয়ম কানুন গুলো ঠিক ততোটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। এখন আপনি বড় ইউটিউবার হোন কিংবা ছোট ইউটিউবার। আপনাকে অবশ্যই তাদের নিযম কানুন গুলো মানতেই হবে। 

ইউটিউব এর নিয়ম কানুন কি?

মূলত ইউটিউব থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা যায়। এই প্রবাদে বিশ্বাস রেখে প্রতিদিন অনেকেই অর্থ ইনকাম করার আশায় যুক্ত হচ্ছেন এই ইউটিউব সেক্টরের সাথে। কিন্তুু তারা শুধুমাএ টাকার দিকেই ফোকাস রেখে কাজ করা শুরু করে দেয়।

ইউটিউবে কাজ করার জন্য কোন বিষয় গুলো মাথায় রাখতে হবে। সেদিকে তারা তেমন কোনো গুরুত্ব দেয় না। যার ফলে নতুন ইউটিউবাররা তাদের চ্যানেলকে ভুল পথে ধাবিত করে ফেলে। এবং কোনো একটা সময় যখন ইউটিউব তাদের চ্যানেলকে Suspended করে দেয়।

আপনার জন্য আরো লেখা…

তখন তাদের মাথায় হাত পড়ে আর ভাবতে থাকে, হায়! একি হলো আমার সাথে। কিন্তুু সেই নতুন ইউটিউবার যদি আগে থেকেই ইউটিবের নিয়ম কানুন গুলো মেনে কাজ করতো। তাহলে কিন্তুু এই সমস্যায় পড়তে হতো না। এবং সময় ও শ্রম দুটোই বেঁচে যেতো।

আর একটি ইউটিউব চ্যানেল যখন সাসপেন্ড হয়। তখন সেই ইউটিউবার এর দিন গুলো যে কত কষ্টে পার করতে হয়। সেটা শুধুমাএ সেই বুঝবে, যাদের একটি চ্যানেল কোনো কারনে Suspend হয়েছে। 

ইউটিউব চ্যানেল সাসপেন্ড হয় কেন? 

সহজ কথায় যখন কোনো একটি চ্যানেল হঠাৎ ইউটিইব থেকে উধাও হয়ে যায়। অর্থ্যাৎ, ইউটিউবে সার্চ করেও আর সেই চ্যানেলকে খুজে পাওয়া যায়না। এর মানে হলো, Youtube সেই চ্যানেলকে Suspend করে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো,”ইউটিউব কেন একটি চ্যানেলকে সাসপেন্ড করে দেয়”?

তো ইউটিউব প্রধানত দুইটি কারনে চ্যানেলকে Suspend করে থাকে। যথাঃ 

  • Community Guidelines এর কারনে
  • Copyright Strike এর কারনে। 

হ্যাঁ! একটি চ্যানেল মূলত এই দুইটি কারনে ইউটিউব থেকে উধাও হয়ে যায়। তাই ইউটিউ ber বাী  নিয়ম কানুন জানার আগে আপনাকে এই দুইটি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। 

YouTube Community Guidelines কি? 

ইউটিউব তাদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বেশ কিছু নিয়ম কানুন নির্ধারন করে রেখেছে। অর্থ্যাৎ YouTube Community থেকে যেসব রুলস দেওয়া আছে। আপনাকে অবশ্যই সেই রুলস গুলো মেনে চলতে হবে।

যখন আপনি সেই ইউটিউব নিয়ম কানুন গুলো অমান্য করে কাজ করবেন। তখন ইউটিউব কর্তৃপক্ষ নিজে থেকেই আপনার চ্যানেলকে সাসপেন্ড করে দিবে। যাকে এককথায় বলা হয়, ইউটিউব কমিউনিটি গাইডলাইন।

এখন প্রশ্ন হলো যে, ইউটিউব এর কমিউনিটি গাইডলাইনে এমন কি কি নির্দেশনা আছে। যেগুলো একজন ইউটিউবার কে মেনে চলা উচিত। তো এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখা যাক। 

No.1- No Hacking, No Crecking

ইউটিউবের সবচেয়ে সেনসেটিভ বিষয় হলো, হ্যাকিং এবং ক্রাকিং। যারা মূলত এই টপিক নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবো। দেখুন ইউটিউবের Hacking বা Crecking নিয়ে ভিডিও তৈরি করলে অনেক বেশি ভিউ পাওয়া যায়।

এটা আমিও মানছি, এই কন্টেন্ট গুলো যথেষ্ট ভিউ পাওয়া সম্ভব। কারন আমরা যারা ফোন কিংবা কম্পিউটার ব্যবহার করি। তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য নানান রকম Apps / Software ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। কিন্তুু অনেক সময় দেখা যায়, সেই Apps বা Software গুলো টাকা দিয়ে কিনে নিতে হয়।

কিন্তুু সমস্যা হলো, আমরা সেই Apps গুলোকে কিনে নিতে চাই না। যার কারনে আমাদের Mod Version বা Creck Version খুজে নিতে হয়। এবং এর ফলে সফটওয়্যার কোম্পানির মালিকেরা তেমন ইনকাম করতে পারেনা।

তাই ইউটিউব এই ধরনের কন্টেন্টকে কোনো ভাবেই Allow করে না। ইউটিউব এসব কন্টেন্টকে Freeze করবে নতুবা সরাসরি সেই ভিডিওকে রিমুভ করে দিবে।

তাই আপনার মাথায় যদি Hacking / Crecking নিয়ে ইউটিউবে কাজ করার ভূত চাপে। তাহলে এখন থেকেই সেই চিন্তাভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। 

No.2- Sexual or Nudity Content

ইউটিউবের যতো ধরনের কন্টেন্ট আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ কন্টেন্ট হলো, Sexual or Nudity Content. কারন, যদি আপনি এই ধরনের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন। তাহলে আপনার চ্যানেলকে খুব দ্রুত Rank করাতে পারবেন।

কারন, যৌনতা এমন একটি বিষয় যার প্রতি প্রত্যেক মানুষের এক প্রকার মোহ কাজ করে। আর সেজন্যই ইউটিউবের যে ভিডিও গুলো মূলত Sexual Content নিয়ে কাজ করে। তাদের ভিডিও গুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হয়ে থাকে।

যদি আপনি পরখ করে দেখতে চান। তাহলে এখনি ইউটিউবে প্রবেশ করে সেই রিলিটেড কিছু কন্টেন্ট খুজে দেখুন।  তাহলে সবকিছু বুঝতে পারবেন যে পাবলিকের কাছে এই জাতীয় কন্টেন্ট গুলোর চাহিদা কেমন।

আপনার জন্য আরো…

কিন্তুু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইউটিউব কিন্তুু এসব কন্টেন্টকে আগেও সাপোর্ট করতো না। এবং বর্তমানেও করবে না। আর যারা বেশি ভিউ এবং ইনকামের আশায় এই জাতীয় কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন। তাদের স্বপ্নকে নিমিষেই শেষ করার জন্য ইউটিউব একাই যথেষ্ট।

হয়তবা সেক্সুয়াল কোনো কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করে অনেক বেশি ভিউ পাবেন। ইনস্ট্যান্ট কিছু ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তুু মনে রাখবেন, আপনার এই ইনকাম কিন্তুু দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ইউটিউব ঠিকই একটা সময় আপনাকে ডিটেক্ট করে নিবে। এবং আপনার চ্যানেলকে চিরতরে উধাও করে দিবে। 

No.3 – Misleading Metadata

সবার আগে আপনাকে জানতে হবে যে, মিসলিডিং মেটাডাটা আসলে কি জিনিস। কারন Misleading Metadata ভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তো প্রথমত ইউটিউবে এমন কিছু ভিডিও দেখা যায়। যে ভিডিও গুলোর Thumbnail এ লোভনীয় কিছু লেখা থাকে।

কিন্তুু যখন আপনি সেই ভিডিওতে ক্লিক করবেন। তখন থাম্বনেইলের সাথে ভিডিওর কোনো মিল খুজে পাবেন না। ঠিক একইভাবে, ভিডিওর টাইটেলেও এমন কাজ করা হয়ে থাকে।

অর্থ্যাৎ, Thumbnail এবং Title এ উষ্ণ জাতীয় কোনো কিছু দেখিয়ে দর্শকদের জোরপূর্বক সেই ভিডিওতে ক্লিক করা হয়।কিন্তুু দর্শকরা যখন সেই ভিডিওতে ক্লিক করে। তখন সে হতাশ হয়ে ফিরে আসে। ইউটিউব দর্শকদের এই বিভ্রান্তি কোনো ভাবেই মেনে নিতে চায় না।

কারন ইউটিউব চায় যেন, দর্শকরা ইউটিউবে একবারে সঠিক তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে।  এখন আপনি যদি অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে আপনার ভিডিওতে ভিউ নিয়ে আসার চেস্টা করেন। তাহলে Misleading Metadata এর কারনে ইউটিউব আপনার ভিডিওকে কমিউনিটি গাইডলাইন স্ট্রাইক প্রদান করবে।

এবং আপনার সেই চ্যানেল বা ভিডিওকে চিরতরে Youtube থেকে রিমুভ করে দিবে। 

No.4- Using Unrelated Tag

আপনার কোনো ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করার পর। আপনি আসলে কোন টপিকে সেই ভিডিওটি তৈরি করছেন। তা কিন্তুু ইউটিউব শুরুতেই বুঝতে পারে না।

কিন্তুু ইউটিউবের যে বট (Bot) আছে সে কিন্তুু বিভিন্ন ফিচারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আপনার ভিডিওর মূল টপিক সম্পর্কে ধারনা নেয়ার চেস্টা করে।

তো আপনি যখন নতুন একটি ভিডিও আপলোড করবেন। তখন এই Youtube bot সবার আগে লক্ষ্য করবে যে, আপনি সেই ভিডিওতে কি কি Tag ব্যবহার করেছেন। এরপর যখন আপনার দেয়া ট্যাগগুলো লিখে কেউ ইউটিউবে সার্চ করবে। তখন এই Youtube bot আপনার ভিডিওকে দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করবে।

কিন্তুু এমন অনেক ইউটিউবার আছেন, যারা এই সুযোগটাকে সৎ উদ্দেশ্য ব্যবহার না করে এখানে কিছু অবৈধ টেকনিক অবলম্বন করে থাকে। যেমন, আপনি টেক রিলেটেড একটি ভিডিও আপলোড করলেন।

এখন আপনি জানেন যে, ইউটিউবে মানুষ প্রচুর পরিমানে নাটক/মুভি দেখার জন্য সার্চ করে। তাই আপনার ভিডিওর Tag হিসেবে Bangla new natok, New movie ইত্যাদি ট্যাগ গুলোর ব্যবহার করলেন। 

এখন একটা বিষয় ভেবে দেখুন, কোনো দর্শক যখন নাটক দেখার জন্য ইউটিউবে সার্চ করার পর আপনার টেকনোলজির ভিডিও চলে আসে। এতে কি সেই দর্শক বিভ্রান্তিতে পড়বে না?

হ্যাঁ! সেই দর্শক অবশ্যই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাবে। কিন্তুু অপরদিকে ইউটিউব কিন্তুু দর্শকদের কথা বেশ গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখে। দর্শকরা যেন ইউটিউবে এসে কোনো সমস্যায় না পড়ে বা কোনো ভুল তথ্য না পায়। সেজন্য ইউটিউব সর্বদাই কাজ করে আসছে।

এখন আপনি যদি সেই বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য ভিডিওতে উল্টাপাল্টা Tag ব্যবহার করেন। তাহলে ইউটিউব কি আপনাকে ছেড়ে দিবে?

না, কখনোই না। বরং যখন ইউটিউব বুঝতে পারবে যে, আপনি এমন অবৈধ কাজ করছেন। তখন সাথে সাথেই আপনার সেই ভিডিওকে কমিউনিটি গাইডলাইন ভায়োলেন্স এর আওতায় আনবে। যা একটি চ্যানেলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে। 

Copyright Strike কি?

আশা করা যায়, কমিউনিটি গাইডলাইন সম্পর্কে পরিস্কার একটা ধারনা পেয়ে গেছেন। তাই এবার আমরা জানবো, “Copyright Strike” সম্পর্কে। কেননা, একজন ইউটিউবার হিসেবে আপনি প্রথম যে শব্দগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সেগুলো হলো, Copyright বা No Copyright এবং Copyright Strike.

প্রশ্নঃ কপিরাইট স্ট্রাইক কি?

একটি ভিডিওতে যখন কোনো Copyright File ব্যবহার করবেন। তখন সেই ফাইলের মালিক আপনার ভিডিওর সেই ফাইলকে নিজস্ব মালিকানা হিসেবে দাবি করবে। এবং আপনার ভিডিওতে স্ট্রাইক প্রদান করবে। মূলত তাকেই বলা হয়, Copyright Strike. 

যেমন, আপনি অন্য একটি চ্যানেল থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করলেন। এখন আপনি যার ভিডিও ডাউনলোড করেছেন। সেই ব্যক্তি যদি জানতে পারে যে, আপনি তার তৈরি করা ভিডিওকে Download করে সরাসরি আপনার চ্যানেলে আপলোড করছেন।

তাহলে সেই ব্যক্তি ইউটিউবের কাছে উক্ত ভিডিওটির মালিকানা দাবি করতে পারবে। এবং Strike এর মাধ্যমে আপনার চ্যানেল থেকে সেই ভিডিওকে উধাও করে দিতে পারবে। 

চ্যানেলে কপিরাইট স্ট্রাইক আসলে কোনো সমস্যা হয়?

সমস্যা হয় মানে? ভাই Copyright Strike মানেই তো সমস্যা। এটি যে কোনো চ্যানেলের জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। কারন এই স্ট্রাইকের কারনে অনেক বড় বড় চ্যানেলও সাসপেন্ড হয়ে থাকে।

বিষয়টি একটু ভেবে দেখুন, আপনি অন্য কোনো চ্যানেল থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে। সেই ভিডিওকে আপনার চ্যানেলে আপলোড করলেন। এবং কিছুদিন পর উক্ত ভিডিওর মালিক আপনার কপি করা ভিডিওকে Strike দিয়ে ইউটিউব থেকে রিমুভ করে দিলো।

আপনি অবশ্যয় পড়ুন…

তবে এখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তুু সমস্যাটা অন্য জায়গাতে।

কারন ইউটিউব এর নিয়ম অনুযায়ী, মোট ৩ মাস অর্থ্যাৎ ৯০ দিনের মধ্যে যদি আপনার চ্যানেলে পর পর ৩ টা Copyright Strike আসে। তাহলে আপনার চ্যানেলকে ইউটিউব থেকে চিরতরে রিমুভ করে দেওয়া হবে। যাকে ইউটিউব এর ভাষায় বলা হয়, Channel Suspended. 

[ Alart:  ৯০ দিনের মধ্যে যদি আপনার চ্যানেলে পর পর ৩ টা Copyright Strike আসে তাহলে ইউটিউব Channel Suspended করে দিবে ]

এবং সেই চ্যানেলটি যে জিমেইলের সাথে যুক্ত আছে। সেই Gmail দিয়ে যতোগুলো চ্যানেল তৈরি করা থাকবে। সেগুলোর প্রত্যেকটি একের পর এক সাসপেন্ড হয়ে যাবে।

তবে আপনার চ্যানেলে যদি ৯০ দিনে মাএ ১ টি বা ২ টি Strike আসে। তাহলে আপনার চ্যানেল হারানোর ভয় একটু কম থাকবে। এবং এটাও জেনে রাখুন যে, আপনার কোনো ভিডিওতে যখন কোনো কপিরাইট স্ট্রাইক আসবে। তখন পরবর্তী ৩ মাস অর্থ্যাৎ ৯০ দিন পরে সেটি অটোমেটিক চলে যাবে।

যার অর্থ হলো, আপনার ভিডিওতে যে Strike এর ঝামেলাটি থাকবে। সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হবে। 

Copyright Strike এবং Copyright Claim এর মধ্যে পার্থক্য কি?

যেহুতু কপিরাইট স্ট্রাইক সম্পর্কে জানলেন। সেহুতু কপিরাইট ক্লেইম কি, সে সম্পর্কেও একটু জ্ঞান রাখা জরুরি। কারন এমন অনেকেই আছেন যারা এই দুটো বিষয়কে এক মনে করে।

দেখুন আপনি ইউটিউিবে কি কি করছেন। তা দেখার জন্য কিছু Programming Robot আছে। যাদের কাজ হলো, যারা ইউটিউব ব্যবহার করে তাদেরকে পর্যবেক্ষন করা।

এবার আপনি যখন অন্যের কোনো ভিডিও বা অডিও কপি করে আপনার ভিডিওতে যুক্ত করবেন। তখন ইউটিউব এর সেই Programming Robot গুলো সহজেই তা শনাক্ত করতে পারবে। এবং শনাক্ত করার পরে, আপনাকে একটি নোটিফিকেশন পাঠাবে। এবং সেখানে “Copyright Claim “- লেখাটি দেখতে পারবেন।

প্রশ্ন হলো যে, এই ক্লেইম আসার কারন কি? কপিরাইট ক্লেইম আসলে কোনো সমস্যা হয়?

দেখুন, আমরা একটু আগে জানলাম, মোট ৩ মাসে পরপর ৩ টি স্ট্রাইক আসলে। চ্যানেল সাসপেন্ড হয়ে যায়। কিন্তুু অপরদিকে যদি আপনার চ্যানেলে ১০ টি ভিডিওতেও কপিরাইট ক্লেইম থাকে। তারপরেও কিন্তুু আপনার সেই চ্যানেলকে সাসপেন্ড করবে না।

হয়তোবা এখন আপনি ভাবছেন যে, তাহলে কপিরাইট ক্লেইম এর উদ্দেশ্যে কি? শুনুন…

ইউটিউব যখন আপনার কোনো ভিডিওতে Copyright Claim প্রদান করবে। তখন আপনাকে বুজে নিতে হবে যে, আপনার ভিডিওর কোনো একটি অংশে অন্যের কোনো ম্যাটেরিয়্যাল যুক্ত করা আছে।

এবং এর মালিক ইচ্ছে করলে, যখন ইচ্ছা তখনি আপনার ভিডিওতে স্ট্রাইক দিতে পারবে। এবং আপনার ভিডিওকে বা ভিডিওর কিছু অংশকে রিমুভ করে দিতে পারবে। 

ভিডিওতে কপিরাইট স্ট্রাইক আসার কারন কি?

ইউটিউব এর নিয়ম কানুন অনুযায়ী, আপনার ভিডিওতে ভিন্ন ভিন্ন কারনে কপিরাইট স্ট্রাইক আসতে পারে। এবার সেই কারন গুলো সম্পর্কে স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো।

তাই আপনি যদি পূর্বের আলোচিত বিষয়গুলো কে স্কিপ করে থাকেন ৷ তাহলে এখন থেকে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেস্টা করুন। কারন একটি চ্যানেল হলো, একজন ইউটিউবার এর স্বপ্ন।

আর সামান্য কোনো ভুলের কারনে যদি সেই স্বপ্নের চ্যানেলটি রিমুভ হয়ে যায়। তাহলে ইউটিউব নিয়ে আপনার যতো আশা ভরসা ছিলো। তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে পড়বে। তাই এবার চলুন জেনে নেয়া যাক, কখন একটি ভিডিওতে কপিরাইট স্ট্রাইক আসে? 

অন্যের ভিডিও কপি করলে

মূলত যারা ইউটিউবে নতুন কাজ করে। তাদের মনে দ্রুত সফলতা অর্জন করার একটা অস্থিরতা কাজ করে। সেজন্য তাদের মনে সবসময় উল্টাপাল্টা চিন্তা ঘুরপাক খায়। এবং ঠিক তখনি অন্য চ্যানেলের ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে ডাউনলোড করে নিজের চ্যানেলে আপলোড করে।

কিন্তুু তাদের এটা বোঝা উচিত যে, এই কাজটিকে ইউটিউব কখনই সাপোর্ট করে না। এবং এই কাজের ফলে আপনার ভিডিওতে যেকোনো সময় কপিরাইট স্ট্রাইক চলে আসবে।

তো অনেকেই বলে যে, অন্যের ভিডিও থেকে ১৫ সেকেন্ড কপি করলে কোনো সমস্যা হয়না। ইউটিউব রিলেটেড যেসব ফেসবুক গ্রুপ আছে। সেই গ্রুপ গুলোতে অনেকেই এই কথাটি বলে থাকে।

কিন্তুু ইউটিউব থেকে এমন কোনো তথ্য খুজে পাবেন না। যেখানে এই কথাটি বলা আছে। বরং অন্যের ভিডিও ১ সেকেন্ড কপি করলেও স্ট্রাইক আসবে আবার ১০ সেকেন্ড কপি করলেও স্ট্রাইক আসবে। এ নিয়ে তেমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। 

অন্যের অডিও কপি করলে

দেখুন, আপনি একটু আগে যেমন জানতে পারলেন যে অন্যের ভিডিও কপি করার কারনে স্ট্রাইক আসে। ঠিক একইভাবে আপনি যখন অন্যের কোনো Audio বা Music কপি করেন। তাহলেও কিন্তুু আপনার ভিডিওতে স্ট্রাইক আসবে।

এর কারন হলো, যারা Music তৈরি করে। বেশিরভাগ সময় তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে, সেই মিউজিক থেকে ইনকাম করা। এখন আপনি যদি তাদের মিউজিককে আপনার ভিডিওতে যুক্ত করেন।

তাহলে সেই Music কোম্পানি সরাসরি আপনার ভিডিওতে থাকা সেই মিউজিকের মালিকানা দাবি করবে। আর এই অডিও কপি করলে বেশিরভাগ সময় প্রথমে ক্লেইম আসে৷ যখন আপনি সেই ক্লেইমকে উপেক্ষা করবেন। তখন আপনার সেই ভিডিওতে স্ট্রাইক আসবে। 

অন্যের ফটো কপি করলে

ইউটিউবে যেমন অন্যের Audio এবং Video কপি করা নিষেধ। ঠিক একইভাবে অন্যের ফটো (Photo) কপি করার জন্যও কিন্তুু আপনার ভিডিওতে স্ট্রাইক চলে আসবে।

কারন এমন অনেক কোম্পানি আছে, যারা মূলত ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ফটোশুট করে থাকে। এখন আপনি যদি তাদের তৈরি করা ফটোকে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করেন৷ তাহলেও কিন্তুু আপনার ভিডিওতে স্ট্রাইক চলে আসবে ৷ 

Free Source For A Youtuber

দেখুন, একটি ভিডিও তৈরি করার সময় বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল এর প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন, কখনও Video Footage এর প্রয়োজ হয়, আবার কখনও Audio Music এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

কিন্তুু সমস্যা হলো, অন্যের থেকে এসব কপি করলে তো স্ট্রাইক চলে আসে। তাহলে এখন উপায় কি? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত উপায় হলো, No Copyright Materials ব্যবহার করতে হবে।

আপনার জন্য আরো আর্টিকেল…

বর্তমানে এমন অনেক প্লাটফর্ম আছে, যেখান থেকে আপনি ইচ্ছামতো Video, Audio,Photo কপি করতে পারবেন। এবং আপনার ভিডিওতে কোনো প্রকার কপিরাইট স্ট্রাইক আসবে না। চলুন এবার সেই প্লাটফর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

💡 No Copyright Music:

অনলাইনে এমন অনেক মাধ্যম আছে। যেখান থেকে আপনি ইচ্ছামতো মিউজিক ডাউনলোড করতে পারবেন। এবং সেই মিউজিক গুলোকে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবেন।

এমন কিছু মাধ্যমের নাম হলো, 

  • Youtube Creator Studio
  • NCS (No Copyright Sound)
  • Soundcloud (Free / Paid)

হুমমম, আপনি উপরে থাকা ওয়েবসাইট গুলো থেকে নিজের ইচ্ছামতো Music Download করতে পারবেন। এবং সেগুলোকে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করতে পারবেন।

[🌀PRO TIPS: মনে রাখবেন, অনেক ওয়েবসাইট থেকে ফ্রিতে অডিও নেয়ার পর তাদেরকে Cradit দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। অডিও ডাউনলোড করার সময় এই বিয়য়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন।

💡 No Copyright Photo & Video

আপনি জানলে অবাক হবেন কারন, বর্তমানে অনলাইনে এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে। যারা আপনাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অসংখ্য Video Footage এবং Photo ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করবে।

অর্থ্যাৎ এই ওয়েবসাইট গুলো থেকে আপনি একেবারে No Copyright Materials খুজে পাবেন। যেগুলো ব্যবহার করার পরও আপনার ভিডিওতে কপিরাইট স্ট্রাইক আসার কোনো সম্ভাবনা থাকব না।

এমন কিছু ওয়েবসাইট এর নাম হলো,

  • Pixabay
  • Pexels
  • Videvo
  • Life of Vietc
  • Splitshire etc

এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে পারবেন। যেখান থেকে নো কপিরাইট ভিডিও ফুটেজ এবং পিকচার ডাউনলোড করতে পারবেন। 

আমাদের শেষকথা 

আশা করি এই স্বল্প আলোচনা থেকে ইউটিউব এর নিয়ম কানুন গুলো কি কি। সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এবং আমি চেস্টা করেছি প্রত্যেকটি বিষয় আলোচনা করার।

এরপরও যদি আপনার কোনো সমস্যা থাকে। বা কোথাও বুঝতে না পারেন। তাহলে অবশ্যই একটা কমেন্ট করবেন। বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকুন৷ ধন্যবাদ 

7 thoughts on “ইউটিউবের নতুন নিয়ম কানুন ২০২১”

  1. রুমন জোয়ার্দ্দার জনী

    আমি রুমন জোয়ার্দ্দার জনী একজন গীতিকার, কবি ও নাট্যকার আমি একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চাইছি তার জন্য আমার ইউটিউব সম্পর্কে ধারণা নেই তাহলে আমি কি করে ইউটিউব চ্যানেল খুলব আর কোন মাধ্যমে আমি ইউটিউব এ বা অন্য প্ল্যাটফর্মে আমি লিখালিখি করে ইনকাম করতে পারব বললে উপকৃত হব,ধন্যবাদ।

    1. হ্যালো স্যার, আমি ইউটিউবে নতুন সাধারণ পরিবারের ছেলে আমি, ইউটিউবে আমি একটি নিজস্ব চ্যানেল খুলতে চাই, আর এই চ্যানেলের ভালো ভালো ভিডিও আপলোড করে সারা পৃথিবীর মানুষের মোখে হাসি ফোটাতে চাই,

      সুতরাং সবিনয় নিবেদক এই যে, আমি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কোম্পানীর সাথে বিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে চাই, অথয়েব সঠিক নিয়মে একটি ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য আমি ইউটিউব চ্যানেলের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি ।

        1. সরি স্যার, আমি আসলে বুঝতে পারছি না কী ভাবে চ্যানেল খুলবো আর কী ভাবে রেজিস্ট্রেশন করবো খোলার পর যদি কোথাও ভুল হয় তাহলে আমার আইডি টি ডিলিট হয়ে যেতে পারে,,,অথয়েব কি ভাবে আমি চ্যানেল টি খুলবো সে বিষয় ইউটিউব চ্যানেলের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি,,,

  2. হ্যালো স্যার,,, আর কী ভাবে আমি আমার প্রফেশনাল চ্যানেল তৈরি করবো,,, কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ,,,

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখা কপি করবেন না!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap