ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি | Virtual reality কিভাবে কাজ করে ?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি : বর্তমানে এই অনলাইন নির্ভর যুগে আপনি কোন না কোন সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি শুনে থাকবেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি | Virtual reality কিভাবে কাজ করে ?
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি

মূলত এর মাধ্যমে নিজস্ব একটা কাল্পনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব। এবং এ ধরনের পরিবেশ গুলো কাল্পনিক হলেও এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে আপনি বাস্তবতার মত অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারবেন।

সত্যি বলতে এই ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিজ্ঞানের অকল্পনীয় একটি উদ্ভাবন। যার সাহায্য বর্তমানে আমাদের জন্য কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে যা সত্যিই খুব অবাক করার মত।

আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের চাঁদে পা ফেলার কথা শুনেছি, আমরা বিভিন্ন মানুষের সমুদ্রের অতল তলদেশে যাওয়ার কথা শুনেছি।

তবে এই বিষয় গুলো আমাদের কাছে অকল্পনীয় হলেও, আমাদের মত অনেক মানুষ এই কিন্তু এই অকল্পনীয় কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।

আপনার জন্য লেখা আছে…

কেননা উন্নত প্রযুক্তি দাবিয়ে রাখতে পারেনি এমন অপ্রতিরোধ্য মিশন গুলোকে। হয়তোবা মানুষের এই কাজ গুলো করতে প্রথমবার ব্যর্থ হয়েছিল।

কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা এবং উন্নত প্রযুক্তির ফলে তারা কোন একটা সময় এই অপ্রতিরোধ্য কাজ গুলো করতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু কখনো কি আপনার মনে এরকম ইচ্ছা জেগেছে যে আপনি কোনদিন চাঁদে যাবেন, কিংবা কখনো কি আপনার মনে এই ধরনের ইচ্ছে জেগেছে যে, আপনিও হারিয়ে যাবেন সমুদ্রের অতল তলদেশে!

যদি আপনার মনে কখনো বা কোন সময়ে এই ধরনের ইচ্ছা জাগে তাহলে আপনি খুব সহজেই এই কঠিন কাজ গুলো করতে পারবেন।

হয়তোবা আপনি এই কথাটা শুনে ভাবছেন যে আমি এসব কি বলছি, যদি আপনি এমনটা ভাববেন তাহলে আপনাকে বলছি যে, আপনিও চাইলে খুব সহজেই চাঁদের যেতে পারবেন।

আপনি চাইলে খুব সহজেই সমুদ্রের তলদেশে যেতে পারবেন।

তবে এখন হয়তবা আপনি ভাবছেন যে, কিভাবে আপনি এই পৃথিবী থেকে চাঁদে যেতে পারবেন, আর কীভাবেই আপনি সমুদ্রের অতল তলদেশের যেতে পারবেন।

যদি আপনার মনে এই প্রশ্নটি জেগে থাকে তাহলে আপনাকে বলবো যে, এই অপ্রতিরোধ্য কাজ গুলো আপনি খুব সহজেই করতে পারবেন ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে।

তবে জানার বিষয় হল যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি (What Is Virtual Reality) এবং কিভাবে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কাজ করে, আর কেমন করে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে এইসব অপ্রতিরোধ্য জায়গা গুলো তে পৌঁছানো সম্ভব।

আর আজকের আর্টিকেলটি মূলত Virtual reality কি , ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বৈশিষ্ট্য কি এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যই লেখা হয়েছে।

কারণ আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি (Virtual Reality ki), ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কাজ কি, এবং আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জন্য এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি কি উপকারে আসবে।

তো যদি আপনি এই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার অনেক বেশি হেল্পফুল হবে।

কেননা আজকের আর্টিকেলে আমি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যেসব খুটিনাটি বিষয় আছে, তার সব গুলো নিয়ে আজকে আলোচনা করবো।

তাহলে আর দেরি কেন চলুন সরাসরি মূল আলোচনায় ফিরে যাওয়া যাক।

ভার্চুয়াল মানে কি ?

যেহেতু আপনি প্রযুক্তির এই যুগে বসবাস করছেন, সেহেতু আপনি কখনো না কখনো ভার্চুয়াল নামক শব্দটি শুনে থাকবেন।

কিন্তু কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, এই ভার্চুয়াল শব্দের অর্থ কি!

যদি আপনার মনে এই প্রশ্নটি না জেগে থাকে তাহলে শুনে রাখুন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত শব্দটির অর্থ হলো অপার্থিব কিংবা অস্তিত্বহীন।

যার অর্থ হলো, কোন কিছু আপনার কল্পনার মধ্যে আছে, তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই বা বাস্তবতায় নেই।

মূলত সে গুলোকেই বলা হয়ে থাকে ভার্চুয়াল। যেমন ধরুন ইন্টারনেট এর কথা, আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নতুন একটা জগত কে খুজে পেয়েছি।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এরকম কোন জগতের অস্তিত্ব নেই, তবে হ্যাঁ, আমরা কল্পনার মাধ্যমে এই জগতকে ব্যবহার করতে পারি, উপলব্ধ করতে পারি।

আর সে কারণেই অনলাইনের এই জগত কে বলা হয় তাকে ভার্চুয়াল জগত।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি (What Is Virtual Reality)

উপরের আলোচনা থেকে আপনি ভার্চুয়াল মানে কি সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তো এই বিষয়টি জানার পাশাপাশি আপনাকে যে বিষয়টি জেনে নিতে হবে, সেটি হল যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি

সহজ কথায় বলতে গেলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো দুটি শব্দের সমন্বয়ে তৈরি। তবে এই দুটো শব্দের মিলিত অর্থ হলো সামনের বাস্তবতা, যার কোন অস্তিত্ব নেই কিন্তু তাকে আপনি অনুভব করতে পারছেন।

মূলত সেটাকেই এককথায় বলা হয়ে থাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। যা কোনো কাল্পনিক জগৎ এর মাধ্যমে মানুষের চেতনা কে বাস্তবতায় নিয়ে যেতে পারে।

চলুন এই বিষয়টি কে আরও একটু উদাহরণ সহকারে সহজ ভাবে বোঝার চেষ্টা করা যাক।

আসলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি যদি এই বিষয়টি কে আরও সহজ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা যায়, তাহলে বলতে হবে যে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো প্রকৃত অর্থে কোনো কিছু বাস্তবে নেই।

কিন্তু সেই জিনিস টি যদি বাস্তবে থাকতো তাহলে কেমন অনুভব হতো, আপনার মধ্যে কেমন চেতনা জাগ্রত হতো, সেটা অনুভব করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়ে থাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

যেমন ধরুন, আপনি পৃথিবীতে আছেন, কিন্তু যদি আপনি চাঁদে যেতেন তাহলে সেখানে গিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন হতো,

আপনি কি কি কাজ করতেন, মূলত সেই অনুভূতি কে পৃথিবীর থেকেই জাগানো কে বলা হয়ে থাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস (History)

উপরের আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি। আশা করি সেই আলোচিত আলোচনার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে আপনার মনে কিছুটা হলেও পরিষ্কার ধারণা চলে এসেছে।

তবে এই ধারণাকে আরো বেশি পরিষ্কার করার জন্য আপনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

মূলত কিভাবে আসলো এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, এবং বর্তমানে মানুষের দিক থেকে এর প্রভাব কিরকম। সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা আপনার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

তাই চলুন এবার তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস সম্পর্কে সমস্ত খুঁটিনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

সত্যি বলতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস সম্পর্কে বলার মত তেমন কোনো কিছুই নেই। তবে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সর্বপ্রথম সূচনা হয়েছিল 1980 সালে।

কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রযুক্তির প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল হাজার 1957 সালে। তবে শুরুর দিন থেকেই এই উদ্ভাবনের নাম ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ছিলনা।

আপনি আরোও পড়তে পারেন…

শুরুতে এইসব উদ্ভাবন গুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত করা হতো।

তবে সময়ের সাথে সাথে এই উদ্ভাবন কে আরো বেশি উন্নত করা হয়েছে। এবং বর্তমান সময়ে এসব উদ্ভাবন কে বলা হয়ে থাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

এবং এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ের মানুষ কল্পনার জগৎ কে বাস্তবতার মত অনুভব করতে পারছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদান গুলো কি কি?

উপরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং এর পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে জেনেছেন।

এবার আপনাকে জেনে নিতে হবে যে, কোন একজন ব্যক্তি যদি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অনুভব নিতে চায়।

তাহলে তার কি কি উপাদান এর প্রয়োজন হবে, যার মাধ্যমে বর্তমানে তার নিজ অবস্থান থেকে কোন কৃত্রিম পরিবেশের অনুভব নিতে পারবে।

চলুন এবার তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদান গুলো কি কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

01- ইফেক্টর

মূলত ইফেক্টের হল বিশেষ এক ধরনের ইন্টারফেস জাতীয় ডিভাইস। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই যেকোনো ধরনের কৃত্রিম জগতে পৌছাতে পারবেন।

এবং খুব সহজেই সেই কৃত্রিম জগতের সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন। আর এই ধরনের বেশকিছু ডিভাইস এর উদাহরণ হল, HDM, Glove, Body Suit ইত্যাদি।

02- সিমুলেটর

মূলত ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো সিমুলেটর। যার মাধ্যমে কোন ধরনের ইফেক্টর কে সংবেদনশীল করা হয়ে থাকে।

কেননা সিমুলেটর হল বিশেষ এক ধরনের হার্ডওয়ার, আর এমন কিছু হার্ডওয়ার এর উদাহরণ হল, রিয়েলিটি ইঞ্জিন, এইচডি ভিডিও, অডিও ব্যবস্থা, উন্নত মানের সেন্সর ইত্যাদি।

03-অ্যাপ্লিকেশন

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৃত্রিম ভাবে কোন বাস্তব চিত্র কে ফুটিয়ে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার কল্পনার জগতের অনুভূতি কে অনুভব করতে পারবেন। এবং হারিয়ে যেতে পারবেন আপনার কল্পনার সেই জগতে।

04- জিওমেট্রি

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মধ্যে দেখানো কোন চিত্র কে বাস্তবিকতার রূপ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের রেন্ডারিং কাজ, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য গুলো ফুটিয়ে তোলা ইত্যাদি কাজের জন্য মূলত এ ধরনের জিওমেট্রি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

যার ফলে এই সকল ব্যবস্থাপনা গুলো কোন ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করলেও যেন তার কোন প্রকার ক্ষতি না হয়।

উপরে আমি বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল জগতের উপাদান সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তবে এগুলো ছাড়াও কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের অনুভূতি অনুভব করার জন্য আরো ভিন্ন ভিন্ন উপাদানের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

তবে সেগুলো কে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে আমি আর আর্টিকেল লিখে দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছি না।

তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আরো অন্যান্য বিষয় গুলো সম্পর্কে গভীরভাবে জেনে নেওয়া যাক।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রকার (Types Of Virtual Reality)

তো আর্টিকেলের এ পর্যন্ত আসার পরে আপনি এতক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তবে এসব বিষয় গুলো জানার পাশাপাশি আপনাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিতে হবে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আসলে কত প্রকার।

কেননা বর্তমান সময়ে আপনি মোট পাঁচ ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

চলুন তাহলে এবার তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সেই প্রকারভেদ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। যাতে করে আপনার এই সম্পর্কিত কোন বিষয় অজানা না থাকে।

Fully-immersive

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কে মূলত যেন সম্পূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতার মত অনুভব করা যায়। সেই জন্যই মূলত এ ধরনের ভার্চুয়াল টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

মূলত এই টেকনোলজি আপনাকে এমন সব অনুভব এনে দিতে পারবে, যার মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ কল্পনার জগতে থাকবেন, কিন্তু আপনার কাছে সবকিছু বাস্তব মনে হবে।

এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে আপনার মনে হবে যে আপনি সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন পৃথিবীতে বসবাস করছেন।

কেননা এই জগতে আপনি শুধু কল্পনার মাধ্যমে নয়, বরং অনুভব এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় কে অনুভব করতে পারবেন। আর সে কারণেই ভার্চুয়াল জগতের সবকিছুই আপনার কাছে একেবারে বাস্তবতার সাথে মিলে যাবে।

মূলত Fully-immersive এর সাহায্য আপনার বডিতে কিছু কানেক্টরস এবং টেকনিক্যাল হেলমেট ব্যবহার করা হবে।

যার মাধ্যমে আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কল্পনার জগতে থাকলেও আপনারা সব কিছুই বাস্তব বলে মনে হবে।

Semi-immersive

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তে এর মাধ্যমে আপনি শুধুমাত্র বিভিন্ন অকল্পনীয় দৃশ্য গুলো দেখতে পারবেন। কিন্তু আপনি Semi-immersive এর মাধ্যমে কোন কিছুকে অনুভব করতে পারবেন না।

মূলত এর মাধ্যমে আপনি মাউসের সাহায্য আপনার নিজস্ব ক্যারেক্টার কে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এবং সেই ক্যারেক্টার এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন দৃশ্য কে দেখতে পারবেন। আর এই দৃশ্য দেখানোর জন্যই মূলত Semi-immersive ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

যার সাহায্যে আপনি আপনার কল্পনীয় দৃশ্যগুলো কল্পনার মাধ্যমে দেখলেও আপনার কাছে সবকিছু সত্যি বলে মনে হবে।

Non-immersive

আপনি মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে বিভিন্ন রকম গেম খেলেছেন। সেই গেমস গুলোতে আপনি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন যে, আপনি সেই গেমস গুলোতে থাকা ক্যারেক্টার গুলো কে নিজের ইচ্ছামত নড়াচড়া করতে পারেন।

এবং তাদের গতিবিধি কে নির্ধারণ করে দিতে পারেন। আর সেই ক্যারেক্টার গুলো এমন ভাবে নড়াচড়া করে, যেন আপনার কাছে মনে হয় সেটি আপনি নিজেই।

অর্থাৎ ক্যারেক্টার এর মধ্যে আপনি প্রবেশ করে ফেলেছেন। ঠিক একইভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তে আপনি আপনার নিজের চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যারেক্টার কে নড়াচড়া এবং কন্ট্রোল করতে পারবেন।

আর এইসব কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে Non-immersive, যারা সাহায্য আপনি সরাসরি ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ না করেও আপনার নিজস্ব অ্যাক্টিভিটি গুলো কে সেই ক্যারেক্টার এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

Augmented Reality

ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ভার্চুয়াল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যে পরিবেশ গুলো দেখতে পাওয়া যায়, সেটি মূলত তৈরি হয়ে থাকে Augmented Reality এর মাধ্যমে।

যার সাহায্য কোন বাস্তবিক পরিবেশের সাথে কম্পিউটারে থেকে তৈরি হওয়া পরিবেশ গুলোর একটা সংযোগ তৈরি হয়ে থাকে।

যেমন ধরুন, আপনি বাসায় বসে আছেন কিন্তু আপনার অফিসে একটি মিটিং হচ্ছে।

এখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে আপনি আপনার অফিসে থাকা সকল ধরনের কর্মচারী কিংবা মানুষদের সঙ্গে একটা অফিসের মত ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন।

এবং সেখানে নির্দিষ্ট কিছু ক্যারেক্টারের সাহায্য সেই ভার্চুয়াল জগতে আপনাদের প্রয়োজনীয় মিটিং গুলো করতে পারবেন। আর এই কাজটি করার জন্য মূলত Augmented Reality কে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Collaborative VR

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে অত্যাধুনিক আবিষ্কার হলো Collaborative VR, কেননা এর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে আপনি একত্র হয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে থাকতে পারবেন।

যেমন ধরুন বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া বেশ কিছু গেম রয়েছে যেমন, পাবজি কিংবা ফ্রী ফায়ার।

তো সেই গেমস গুলোতে আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্লেয়াররা একই সাথে সেই গেমস গুলোকে খেলতে পারেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট একটা করে ক্যারেক্টার রয়েছে।

আর সেই ক্যারেক্টার গুলো কে তারা নিজের মতো করে কন্ট্রোল করতে পারে।

ঠিক তেমনি ভাবে Collaborative VR এর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজন মত একটি ক্যারেক্টার কে নির্ধারণ করতে পারবেন। এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিভাবে কাজ করে?

উপরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কত প্রকার ও কি কি সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আশা করি আলোচিত এই বিষয় গুলো সম্পর্কে আপনার মনে আর কোনো ধরনের প্রশ্নের অবকাশ নেই।

তবে এখন হয়তবা আপনি ভাবছেন যে এ ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আসলে কিভাবে কাজ করে। তো চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিভাবে কাজ করে।

প্রথমত যদি আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে নিজেকে প্রবেশ করাতে চান, তাহলে সবার আগে আপনাকে উন্নত প্রযুক্তির কিছু চশমা এবং হেলমেট পড়ানো হবে।

আর আপনার পুরো বডিতে বিশেষ এক ধরনের বডি স্যুট পড়ানো হবে। যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারবেন সেই ভার্চুয়াল জগতের সেই রিয়েলিটিতে।

যখন আপনাকে এইসব ইকুইপমেন্ট দিয়ে সাজানো হবে, তখন আপনাকে কম্পিউটারে থাকা বিভিন্ন সফটওয়ারের মাধ্যমে আপনার সামনে বিভিন্ন রকমের কাল্পনিক দৃশ্য গুলো প্রদর্শন করা হবে।

আর যখন আপনার সামনে কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কাল্পনিক দৃশ্য গুলো দেখানো হবে। তখন সেগুলো আপনার কাছে একেবারেই হুবহু বাস্তবতার মতো মনে হবে।

কেননা আপনার শরীরে বেশ কিছু উন্নত মানের স্যুট এবং মাথায় ও চোখে বিভিন্ন ধরনের উন্নত মানের হেলমেট বা চশমা থাকার কারণে, আপনি সেই দৃশ্যমান কাল্পনিক পরিবেশকে বাস্তবতার মত অনুভূতি দিয়ে অনুভব করতে পারবেন।

মূলত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আসলে এভাবেই কাজ করে থাকে।

Virtual reality সুবিধা (Advantages of Virtual Reality)

আজকের আর্টিকেলে আলোচিত ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

যখন আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে প্রবেশ করবেন, তখন আপনি এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে জানার বিষয় হল যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মধ্যে কি কি সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

চলুন এবার তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  1. বর্তমান সময়ে শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় গুলো কে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
  2. কেননা এর মাধ্যমে ভিডিও চিত্রের সাহায্যে খুব সহজেই কোন বিষয়কে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব।
  3. কোন একটি কাজ শুরুর পূর্বে সেই কাজে সফলতা পাওয়ার পরে কি কি অনুভূতি অনুভব করা হবে। সেই কাজটি করার জন্য কতটা পরিশ্রম করতে হবে। সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কোনো বিকল্প নেই।
  4. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কোন উৎপাদন কেন্দ্রে কোন কিছুকে উৎপাদন করার ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কাজটি খুব সহজেই করা যাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে।
  5. যখন আপনার কোন কিছুর ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেনিং করার প্রয়োজন হবে। তখন সেই ট্রেনিং গুলো খুব সহজেই আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে করতে পারবেন।
  6. কারণ এর মাধ্যমে যেকোন পরিবেশ কে বাস্তবতার রূপ দিয়ে ভার্চুয়াল ভাবে অনুভব করা সম্ভব।

উপরে আমি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশ কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করেছি। তবে এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, কিন্তু যেগুলো জানার প্রয়োজন সেগুলো আমি উপরে উল্লেখ করেছি।

চলুন এবার তাহলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা গুলো জানার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে, এবার সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

Virtual reality অসুবিধা (Disadvantages of Virtual Reality)

উপরের আলোচনায় আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশ কিছু সুবিধা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তবে এইসব সুবিধার পাশাপাশি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে, আর সুবিধাগুলো জানার পাশাপাশি আপনার এই অসুবিধা গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

চলুন এবার তাহলে জেনে নেওয়া যাক ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অসুবিধা গুলো সম্পর্কে।

  1. যেহুতু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জন্য অনেক উন্নত মানের যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেই কারণে এ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি করা থেকে ব্যবহার করা পর্যন্ত বেশ ভালো পরিমাণ টাকা ব্যয় করার প্রয়োজন হয় যা খুব ব্যয়বহুল।
  2. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে যে কোন মানুষ তার কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যখন কোন মানুষ অতিরিক্ত পরিমাণে এই কল্পনার জগতে চলে যায়, তখন তার এই বাস্তব জগৎ আর পছন্দ হয় না।
  3. বরং তার কাছে সেই ভার্চুয়াল জগত সবচেয়ে আনন্দের মনে হয়।
  4. যখন কোন মানুষ দীর্ঘসময় ভার্চুয়াল জগতে অবস্থান করে, তখন সেই মানুষটির মধ্যে স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। এমনকি চোখ দিয়ে কল্পনার জগতের বিভিন্ন দৃশ্য দেখার সময় তার চোখের নানা ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  5. সবশেষে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আরও একটি বিশেষ অসুবিধা রয়েছে। সেটি হলো যে এই কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ গুলোর মধ্যে মনুষত্বহীনতার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি যেসব অসুবিধা রয়েছে সেগুলো আমি উপরে উল্লেখ করে দিলাম। আশা করি আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

আপনার জন্য আরো লেখা আছে…

আমাদের শেষকথা

যদি আপনার কল্পনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হয়, যদি আপনি চান যে আপনার মনের ভেতরে থাকা দৃশ্য গুলো কে বাস্তবতার রূপ দিতে।

তাহলে আপনার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেননা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে আপনার ভেতরে থাকা কল্পনা কে অনুভূতির মাধ্যমে অনুভব করাতে সহায়তা করবে।

আর এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি সে নিয়ে মূলত আজকের আর্টিকেলে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আশা করি এই আর্টিকেল থেকে আপনি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে গেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HandsUp! কপি করা যাবে না বস!

Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap