রেফ্রিজারেটর কি | ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয় ? – Refrigerator meaning in Bengali

রেফ্রিজারেটর কি : (Refrigerator meaning in Bengali) যখন অতিরিক্ত গরম কাল চলে। তখন আমাদের ঠান্ডা জল থেকে শুরু করে শরবত এবং আমাদের প্রয়োজনীয় খাবার গুলো। 

রেফ্রিজারেটর কি | ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয়
রেফ্রিজারেটর কি

সংরক্ষণ করার অন্যতম একটি প্রযুক্তি হলো, রেফ্রিজারেটর। তবে আপনি কি জানেন, এই রেফ্রিজারেটর কি? এই রেফ্রিজারেটর মানে কি?

হয়তো বা আমরা প্রতিনিয়ত এই ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকলেও।

আপনি এমন অনেক মানুষ কে খুঁজে পাবেন যারা এখন পর্যন্ত জানে না, রেফ্রিজারেটর কাকে বলে

মূলত সেই সকল অজানা মানুষ গুলো কে জানিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে। আজকে আমি রেফ্রিজারেটর কি সে বিষয় টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রেফ্রিজারেটর কি ? (What Is Refrigerator in Bangla)

আমরা আমাদের সাংসারিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ব্যবহার করে থাকি। তবে তার মধ্যে অন্যতম একটি ব্যবহারিক পণ্যের নাম হল, রেফ্রিজারেটর।

যাকে আমরা সহজ ভাষায় বলে থাকি, ফ্রিজ। তো এই বিশেষ ধরনের পন্যের সাহায্য আমরা আমাদের খাবার থেকে শুরু করে পানীয় জল পর্যন্ত।

স্বাভাবিক এর চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা করতে পারি। যার ফলে অতিরিক্ত গ্রীষ্মকালে যখন রৌদ্রের দাবাদহ চলে।

আপনার জন্য আরোও লেখা…

সেইসময় আমরা শান্তিতে কমল পানীয় থেকে শুরু করে আমাদের প্রয়োজনীয় খাবার গুলো কে ঠান্ডা রাখতে পারি।

তবে রেফ্রিজারেটর কি যদি আমি এই বিষয়টি কে আরেকটু সংজ্ঞায়িত করি। তাহলে বলতে হবে যে,  রেফ্রিজারেটর হল এমন এক ধরনের বিশেষ যন্ত্র। 

 যার সাহায্য কৃত্রিম পদ্ধতি তে শীতলতা সৃষ্টি করা যায়। এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের খাবার, পানি সংরক্ষণ করতে পারি। এবং পরবর্তী সময়ে সে গুলো খেতে পারি। আর এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন পন্য কে বলা হয়ে থাকে, রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। 

কারণ আমরা যে সকল রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ ব্যবহার করি। সেই রেফ্রিজারেটর গুলো তে অনেক ধরনের কম্পোনেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এর পাশাপাশি আপনি প্রত্যেকটা রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে একটা ডিপ ফ্রিজ বা বরফ তৈরি করার জায়গা দেখতে পারবেন।

সেই সাথে একটি রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে আরও বিভিন্ন ধরনের সেলফ থাকে। যে গুলো তে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় খাবার সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

কেননা এই ধরনের সেলফ গুলো অনেকটা আলমারির মতো হয়ে থাকে।

রেফ্রিজারেটর কত প্রকার ও কি কি ?

আমরা রেফ্রিজারেটর কি সে সম্পর্কে জানতে পারলাম। তবে এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় যে, বলুন তো রেফ্রিজারেটর কত প্রকার ও কি কি।

তাহলে কি আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? আমি নিশ্চিত যে, আপনাদের মধ্যে অনেকেই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেনা।

কেননা আমরা যে সকল রেফ্রিজারেশন বা ফ্রিজ দেখি। সে গুলো সব একই রকম দেখতে পাই। কিন্তু অবাক করার মত বিষয় হলো।

এগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।আর বর্তমান সময়ে আপনি বিভিন্ন প্রকারের রেফ্রিজারেটর দেখতে পারবেন। যেমনঃ

  1. ইনবিল্ট ফ্রিজঃ আমরা যে সকল ফ্রিজ গুলো কিচেন অথবা কেবিনেট এর সাথে ফিট করা দেখতে পাই। মূলত সেই ফ্রিজ গুলোকে বলা হয়ে থাকে, ইনবিল্ট ফ্রিজ।
  2. অবাক করার মতো বিষয় হলো এগুলো দেখতে অনেকটা স্টাইলিশ হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি এই ধরনের ফ্রিজ গুলোর দরজা লুকানো থাকে।
  3. টপ ফ্রিজার রেফ্রিজারেটরঃ সচরাচর ক্ষেত্রে আমরা যে সকল ফ্রিজ ব্যবহার করি। সেগুলোকে বলা হয়ে থাকে টপ ফ্রিজার রেফ্রিজারেটর।
  4. কেননা এই ধরনের বিশেষ ফ্রিজ গুলো তে পৃথক দুটো দরজা থাকে। একটিতে বড়ফের কম্পার্টমেন্ট এবং অন্য আরেক টি তে খাবার সংরক্ষণের কম্পার্টমেন্ট থাকে।
  5. বটম ফ্রিজারঃ উপরে আপনি যে টপ ফ্রিজার রেফ্রিজারেটর এর নাম দেখতে পাচ্ছেন। এই রেফ্রিজারেটর এর সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ফ্রিজ এর নাম হলো, বটম ফ্রিজার।
  6. কারণ এই ধরনের ফ্রিজ গুলোর নিচের দিকে বরফ এর কম্পার্টমেন্ট থাকে। আর উপরের দিকে খাবার রাখার কম্পার্টমেন্ট থাকে।
  7. সাইড-বাই-সাইড ফ্রিজঃ আমরা সবজি রাখার জন্য যে সকল ফ্রিজ ব্যবহার করি। সেই ফ্রিজ গুলো কে বলা হয়ে থাকে, সাইট বাই সাইড ফ্রিজ।
  8. কারণ এই ধরনের বিশেষ রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে বড় বড় ড্রয়ার থাকে। যেখানে আমরা আমাদের খাবার গুলো রাখতে পারব। এবং সংরক্ষণ করতে পারব।

তো এগুলো ছাড়াও আপনি আরো বিভিন্ন প্রকারের ফ্রিজ দেখতে পারবেন।

যেমন, ফ্রেঞ্চ-ডোর ফ্রিজ, ওয়াইন কুলার, ক্লাসিক রেফ্রিজারেটর। আর সময় এর সাথে সাথেই প্রযুক্তি যতটা উন্নত হচ্ছে। ঠিক ততটাই রেফ্রিজারেটর এর ক্ষেত্রে পরিবর্তন হচ্ছে।

তাই এটা বলা যায় যে, ভবিষ্যৎ সময় আপনি আরো ভিন্ন ধর্মী ফ্রিজ দেখতে পারবেন।

রেফ্রিজারেটর এর ইতিহাস | Refrigerator History

উপরের আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন, রেফ্রিজারেটর কি। তো এবার আমি আপনাকে রেফ্রিজারেটর এর ইতিহাস জানিয়ে দিব।

অর্থাৎ প্রত্যেক টা সৃষ্টির পেছনে কোন না কোন ইতিহাস রয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবে আমরা বর্তমান সময়ে যে সকল রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ ব্যবহার করি।

সেগুলো তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে বিরাট একটা ইতিহাস রয়েছে। আর এবার আপনি সেই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চলেছেন।

তাহলে চলুন, আর দেরি না করে সরাসরি রেফ্রিজারেটর এর ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

ফ্রেড ডব্লিউ উলফ ১৯১৩  সালে মানুষের ব্যবহারের জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবহারে রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন।

দেখুন রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার হওয়ার অনেক আগে থেকেই মানুষ। কৃত্রিম পদ্ধতি অনুসরণ করে খাদ্য সংরক্ষণ করার কথা চিন্তা করেছিল।

কেননা আপনি যদি প্রাচীন ইতিহাসের পাতা উল্টাতে থাকেন। তাহলে দেখতে পারবেন যে, সেই সময়ে গ্রীক এবং রোমানরা এই ধরনের খাবার সংরক্ষণ করার পদ্ধতি চালু করেছিল।

তবে সেই সময় রেফ্রিজারেটর না থাকলেও প্রাচীন ইতিহাস এর মানুষেরা। আরো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাদের খাবার গুলো সংরক্ষণ করেছিল।

যেহেতু সেই প্রাচীন কালের বিদ্যুৎ ছিল না। সেহেতু তারা তাদের খাবার সংগ্রহ করার জন্য অনেক উঁচু উঁচু পাহাড় থেকে বরফ নিয়ে আসতো।

এবং সেই বরফ গুলোর মধ্যে খাদ্যকে এমন ভাবে রাখতো। যার ফলে এই ধরনের খাবার গুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেত।

আর এখান থেকে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, ঠান্ডা আবহাওয়াতে খাবার সংরক্ষণ করা যায়। এবং এই বিষয় টি সম্পর্কে অনেক প্রাচীন ইতিহাস এর মানুষ জানত।

এছাড়াও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে বলা হয়েছে। খাবারের মধ্যে যখন অনুজীব বৃদ্ধি পায়। তখন কিন্তু সেই খাবার গুলো নষ্ট হয়ে যায়।

কিন্তু আপনি যদি খাবার কে শীতল ঠান্ডা স্থানে রেখে দেন। তাহলে কিন্তু উক্ত খাবার গুলোতে অনুজীব এর মাত্রা কমে আসবে। যার ফলে সেই খবর গুলো নষ্ট হতে আরো বেশি সময় নিবে।

এছাড়াও প্রযুক্তির উন্নয়ন এর সাথে সাথে এখন আমরা এই বিশেষ পদ্ধতি সম্পন্ন করার জন্য রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করছি।

যার মাধ্যমে আমরা এখন আমাদের খাবার গুলো সংরক্ষণ করে রাখি।

ফ্রিজ এর ইতিহাস নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

যখন প্রাচীন কালের মানুষ কৃত্রিম পদ্ধতিতে খাবার সংরক্ষণ করত। তখন তারা বরফ ব্যবহার করত।

আর যে ঘরটি বরফ দিয়ে তৈরি করা হতো, সেই ঘরটিকে বলা হত আইস হাউস বা বরফ ঘর। এবং অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই ঘরটি সারা বছর এভাবেই বরফ দিয়ে তৈরি করা থাকতো।

এবং উক্ত সময়ের মানুষরা এই পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের খাবার সংরক্ষণের কাজ করতো। কিন্তু আপনি তো বেশ ভালো করেই জানেন যে, বরফ অতিরিক্ত তাপমাত্রায় গলে যায়।

সেজন্য একজন বিজ্ঞানী ছিলেন, যার নাম উইলিয়াম কুলীন। তিনি সর্বপ্রথম এই রেফ্রিজারেটর এর সূচনা ঘটিয়েছিলেন।

কারণ তিনি এমন এক ধরনের কৃত্রিম রেফ্রিজারেটর এর ধারণা দিয়েছিলেন। যা সত্যিই অবাক করে দেয়ার মত। এবং আমরা বর্তমান সময়ে যে, সকল রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করি।

তার সম্পূর্ণ অবদান রয়েছে স্কুটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম কুলিন এর। কারণ তিনি এক ধরনের বিশেষ তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন।

যেখানে বলা হয়েছিল, খাদ্যদ্রব্য প্রচন্ড পরিমাণে ঠান্ডা হবে এমন কোন গ্যাস ব্যবহার করলে। খাবার কে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তিনি এটা বোঝার পরেও রেফ্রিজারেটর নিয়ে কোন ধরনের কাজ করেননি।

কেননা এই ধরনের রেফ্রিজারেটর তৈরি করতে গ্যাসের প্রয়োজন হবে। আর সেই কাঁচামাল গুলো তিনি সংগ্রহ করতে পারবেন না।

সে কারণে রেফ্রিজারেশন নিয়ে আর কোন ধরনের কাজে তার আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময় ১৮০২ সালের মধ্যে একজন ব্যক্তি ছিলেন।

যিনি বিশেষ এক ধরনের আইস বক্স তৈরি করেছিলেন। এবং এই বিশেষ বক্সকে রেফ্রিজারেশন নামে পরিচিত করেছিলেন। আর সেই বিখ্যাত ব্যক্তির নাম হল, টমাস মুর। 

যখন প্রথম তৈরি করা এই রেফ্রিজারেশন মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। তখন প্রেট ডব্লিউ উলফ নামের একজন ব্যক্তি ছিলেন।

যিনি 1913 সালে গোটা বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম ইলেকট্রিক রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবং তিনি যখন এই ইলেকট্রিক রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন।

তখন গোটা বিশ্ববাসীর কাছে সেটি ছিল অনেক অবাক করার মতো একটি প্রযুক্তি। যার সাহায্য খাদ্যকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঠান্ডা রাখা যায়।

এবং এর ফলে আমাদের প্রয়োজনীয় খাবার গুলো অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণে থাকে।

ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয় ?

রেফ্রিজারেটর কি তা আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি। এর পাশাপাশি আমি আপনার সাথে রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার এর ইতিহাস কে সঠিক ভাবে তুলে ধরেছি।

তো এই বিষয় গুলো জানার পাশাপাশি এবার আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে দিব। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয়।

এবার আমি এই বিষয়টি নিয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। তো চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক, একটি ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয়।

এবং কিভাবে সেই ফ্রিজের মধ্যে খাবার সংরক্ষণ করা যায়। দেখুন ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয় আপনি যদি এই বিষয় টি সম্পর্কে সহজ ভাবে জানতে চান।

আপনি আরোও দেখুন…

তাহলে আমি আপনাকে বলব, রেফ্রিজারেটর মূলত তাপ গতি বিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী কাজ করে থাকে। কেননা একটি ফ্রিজ এর মধ্যে যে তরল রয়েছে।

সেটি একটা সময় গিয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। কিন্তু বাষ্পে পরিণত হওয়ার পরে সে গুলো উপরে উড়ে যেতে পারে না। বরং ফ্রিজের মধ্যেই আটকে থাকে।

আর যখন এভাবে বাষ্পের পরিমাণ আরো ঘনীভূত হয়। ঠিক সেই সময় সেগুলো আবার তরলে পরিণত হয়। আর এই পদ্ধতি ক্রমাগত ভাবে চলতে থাকে।

যে কারণে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ফ্রিজের মধ্যে অনেক কম তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে।

আর আমি রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার এর ইতিহাসে একটা কথা বলেছিলাম। সেই কথাটি হল, রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে বিশেষ এক ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

যে গ্যাস গুলোর কারণে একটি ফ্রিজ এর মধ্যে খাবার দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। আর সেই গ্যাসের নাম হলো, ফেরণ গ্যাস।

মূলত এর মাধ্যমে তাপ চক্রকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। যার ফলে একটি ফ্রিজের মধ্যে থাকা তরল ক্রমাগত ভাবে বাষ্পীভূত হয়।

এবং সেই বাষ্প গুলো পুনরায় তরলে পরিণত হয়। তো আশা করি, আপনি বুঝতে পেরেছেন যে ফ্রিজ কিভাবে ঠান্ডা হয়।

রেফ্রিজারেটর এর প্রধান উপাদান কি?

রেফ্রিজারেটর কি তা আমরা উপরের আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি। তবে এবার আমি আপনাকে রেফ্রিজারেটর এর প্রধান উপাদান কি সে সম্পর্কে জানিয়ে দিব।

কেননা আমরা খাবার সংরক্ষণ করার জন্য যে সকল রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করি। সে গুলো তে বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।

আর এবার আমি আপনাকে সেই উপাদান গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন এবার তাহলে রেফ্রিজারেটর এর উপাদান কি সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  • ইভাপোরেটোর (evaporator): আমরা আমাদের ফ্রিজের মধ্যে যে সকল উপাদান দেখতে পারি। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের নাম হলো, ইভাপোরেটোর।
  • কারণ একটি ফ্রিজের মূল কাজ হলো ঠান্ডা হওয়া। আর একটি ফ্রিজ যেন সব সময় ঠান্ডা থাকে সেই কারণে এই বিশেষ উপাদানের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
  • কম্প্রেসার (compressor): এছাড়াও আমাদের ব্যবহার করা রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে কম্প্রেসার নামক আরও একটি উপাদান রয়েছে।
  • যার সাহায্য একটি ফ্রিজের মধ্যে থাকা তাপমাত্রা কে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা হয়। যেমন, কম নিম্নচাপ কম তাপমাত্রা বাষ্প কে উচ্চচাপ উচ্চ তাপমাত্রায় সংকুচিত করে থাকে।
  • এক্সপ্যানশন ভাল্ভ (expansion valve): দেখুন আমাদের ব্যবহার করা ফ্রিজ গুলোর মধ্যে। বিভিন্ন প্রকারের উপাদান ব্যবহার করার পাশাপাশি বিশেষ এক ধরনের সেন্সর ব্যবহার করা হয়।
  • যার মাধ্যমে উক্ত ফ্রিজের মধ্যে কি পরিমাণ তাপমাত্রা বিদ্যমান রয়েছে। কতটুকু তাপমাত্রা কমেছে কিংবা বেড়ে গেছে তা জানতে পারা যায়। আর এই বিশেষ ফ্রিজ এর উপাদানের নাম হল, এক্সপ্যানশন ভাল্ভ।
  • কন্ডেন্সার (condenser): এবার আমি আপনাকে রেফ্রিজারেটর এর বিশেষ একটি উপাদানের নাম বলবো। আর সেই উপাদানের নাম হল কন্ডেন্সার।
  • আর এটির ব্যবহার ফ্রিজের পেছন দিকে করা হয়ে থাকে। কেননা এই বিশেষ উপাদানটি গ্যাসীয় রেফ্রিজারেটর কে তরল আকারে রূপান্তর হতে সহায়তা করে।

তো রেফ্রিজারেটর এর প্রধান উপাদান কি সে নিয়ে উপরে বিস্তারিত বলা হয়েছে। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আপনি রেফ্রিজারেটর এর মধ্যে আরও বিভিন্ন ধরনের উপাদান দেখতে পারবেন।

যে গুলোর সাহায্য আমরা ফ্রিজের মধ্যে খাবার সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। এবং আমি উপরে শুধুমাত্র প্রধান উপাদান গুলো নিয়ে বিস্তারিত বলেছি।

ফ্রিজ কিভাবে কাজ করে ?

রেফ্রিজারেটর কি সে বিষয়টি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ফ্রিজ কিভাবে কাজ করে বা রেফ্রিজারেটর কিভাবে কাজ করে। সে সম্পর্কে আপনার জেনে নেওয়াটা অতি প্রয়োজনীয়।

তো আমরা খাবার সংরক্ষণ করার জন্য যে সকল ফ্রিজ ব্যবহার। করি সে গুলো তে ইভাপোরেটর, কম্প্রেসার, কনডেন্সার এবং এক্সপ্যানশন ভালভ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এবং এগুলোর সাথে তামা অথবা ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা বিশেষ এক ধরনের টিউব এর সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। আর এই ধরনের টিউব গুলো একটি ফ্রিজের সবখানে লাগানো থাকে।

মূলত যখন ফ্রিজের মধ্যে ইভাপরেটর টিউব গুলো যখন তাপ শোষিত করে। 

তখন ফ্রিজ এর মধ্যে থাকা তাপ বাষ্পে পরিণত হয়। কিন্তু প্রত্যেকটা ফ্রিজ এর মধ্যে কম্প্রেসার রয়েছে। যার সাহায্য উক্ত বাষ্প গুলো পুনরায় তরলে পরিণত করা হয়।

আর এই প্রক্রিয়া ক্রমাগতভাবে চলতে থাকে। মূলত আমরা যতক্ষণ একটি ফ্রিজ চালু করে রাখি, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়াটি চলতেই থাকে।

যার ফলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় ফ্রিজের মধ্যে অনেক কম তাপমাত্রা থাকে। এবং আমাদের খাবার গুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

রেফ্রিজারেটর কম্প্রেসারের কাজ কি

একটি রেফ্রিজারেটর কম্প্রেসার আপনার ফ্রিজের কুলিং সিস্টেমের একটি অপরিহার্য উপাদান।

এই ডিভাইসটি রেফ্রিজারেন্টকে সংকুচিত করে এবং পাম্প করে যন্ত্রের অভ্যন্তর থেকে তাপ অপসারণ করে। এইভাবে খাবারের আইটেমগুলিকে ঠান্ডা রাখে।

এটি একটি রেফ্রিজারেটরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির মধ্যে একটি কারণ এটি তাপমাত্রা এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ করে যাতে খাবার দীর্ঘ সময়ের জন্য তাজা থাকে।

কম্প্রেসার একটি পাম্পের মতো কাজ করে, উচ্চ-তাপমাত্রা এবং উচ্চ-চাপের আকারে চাপ দেওয়ার আগে বাষ্পীভবন কয়েলের ভিতর থেকে নিম্ন-চাপের গ্যাস বা তরল রেফ্রিজারেন্টে অঙ্কন করে।

তারপরে এটি এই উত্তপ্ত গ্যাসকে কনডেনসার কয়েলের মাধ্যমে পাস করে যেখানে তাপ নির্গত হয় এবং শীতল বাতাস ফ্রিজের বগিতে প্রবেশ করে।

ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর পার্থক্য

আজকের এই আর্টিকেলে আমি রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজ এই দুটো শব্দ ব্যবহার করেছি। তো এখন অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জেগে থাকবে।

যে ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর এর পার্থক্য কি। আর আপনার মনে যদি এই ধরনের প্রশ্ন জেগে থাকে। তাহলে আমি আপনাকে বলব যে, ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর এর তেমন কোন পার্থক্য নেই।

আপনি আরোও পড়তে পারেন…

অর্থাৎ যখন সর্বপ্রথম এই বিশেষ প্রযুক্তির আবিষ্কার করা হয়েছিল। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল, রেফ্রিজারেটর। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মানুষ এই উন্নত আবিষ্কার কে ফ্রিজ নামে ডাকতে শুরু করে।

এবং বর্তমান সময়েও আপনি দেখতে পারবেন যে, অনেকেই রেফ্রিজারেটর বলে। আবার অনেকেই ফ্রিজ বলে থাকে।

রেফ্রিজারেটর কি তা নিয়ে আমাদের শেষ কথা

তো যারা আসলে রেফ্রিজারেটর কি সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আশা করি, তারা আজকের এই আলোচনা থেকে রেফ্রিজারেটর কি তা পরিষ্কার ভাবে জানতে পেরেছেন।

এর পাশাপাশি আমি আপনাকে রেফ্রিজারেটর এর ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত বলেছি।

তো আশা করি, এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনার আর কোন ধরনের প্রশ্নের অবকাশ নেই। আর আমরা প্রতিনিয়ত এ ধরনের টেকনোলজি রিলেটেড আর্টিকেল পাবলিশ করে থাকি।

যদি আপনি টেক লাভার হয়ে থাকেন। তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা আর্টিকেল গুলো আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। ধন্যবাদ! ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap