ই-কমার্স কি ? কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন ?

ই-কমার্স কি ? কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেনঃ আপনি কি জানেন বর্তমানে অনলাইন থেকে আয় করার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্লাটফর্ম কোনটি ? পুরো পৃথিবী ব্যপী অনেক মানুষ ই-কমার্স করে  আয় করে নিচ্ছে  লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেকে এখানে  সঠিক দিক নির্দেশনা পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।আয় করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। 

ই-কমার্স কি
ই-কমার্স কি

আবার অনেকে রোজ রোজ ই-কমার্স  ব্যবসা করে আয় করার উপায় গুলো শুধু খুঁজেই যাচ্ছেন। আর ই-কমার্স করে অন্যের সাফল্যের কাহিনি শুনে যাচ্ছেন।  কিন্তু ঠিক কিভাবে ই-কমার্স  করে আয় করবেন সেই নিদের্শনার অভাবে কোনো কুল কিনারা পাচ্ছেন না। এর কারন দুটি

  • ১. আপনি ধৈর্য্য ধরে কোনো নিদের্শনাই মেনে চলছেন না।
  • ২. আপনি আপনার সেরা টা দিচ্ছেন না।

এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি ই-কমার্স সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন তা নিয়ে ভাবছেন? কিন্তু সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না?

এই কথা গুলা যদি ভেবে থাকেন তাহলে ঠিক জায়গায়ই এসেছেন। আমরা আপনাকে বলব ই-কমার্সের সকল খুটিনাটি। যাতে আপনি সঠিক ভাবে জানতে পারেন ই-কমার্স কি? আর কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন?

দিন দিন বেড়ে চলছে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার জনপ্রিয়তা। কে না চায় ঘরে বসে মাত্র কয়েক ক্লিকের মাধ্যমে পছন্দের পণ্য কিনে ফেলতে। যুগের সাথে সাাথে মানুষের চাহিদার যেমন পরিবর্তন  ঘটেছে তেমন পরিবর্তন ঘটেছে বাজারের চাহিদার।

বেশিরভাগ মানুষ সরাসরি বাজারে না গিয়ে অনলাইন মার্কেট থেকে পন্য ক্রয় করতে বেশি পছন্দ করেন। বাংলাদেশও ধুমচে ই-কমার্স বিজনেস এর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে এখন ছোটো বড় হাজার হাজার  প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই সেবা চালু করেছে। তাহলে আপনি পিছিয়ে থাকবেন কেন? 

বর্তমানে কিন্তু অনেক সংখ্যক মানুষ ই-কমার্স এ ইনকাম করার দিকে ঝুকে পড়েছেন। এখন অনলাইনে মানুষ ঘরে বসেই নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার মত  সুবিধা পাচ্ছে। আর কেউ কিন্তু  আপনাকে এমন সূযোগ দেবে না।

কিন্তু  অনলাইনে কোনো কিছু আয় করা এতটাই সহজ হবে না যদি আপনার সঠিক ধারনা না থাকে। ই-কমার্স থেকে টাকা আয় করার কিন্তু আরো অনেক উপায় রয়েছে। অনেক মানুষ  সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে ইনকাম করে যাচ্ছে। আপনিও কি চান না তাদের একজন হতে ?

তাহলে আপনি নিজের  মধ্যে তীব্র ইচ্ছাশক্তি এবং কাজ করার প্রতি আস্থা  রাখুন। তবে এদের মধ্যে একজন হতে হলে আপনাকে জানতে হবে ইকমার্স থেকে অনলাইনে আয় করার সঠিক উপায়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ই-কমার্স কি? কিভাবে ই-কমার্স ব্যাবসা শুরু করবো?

আপনি যদি ই-কমার্স  থেকে অনলাইনে আয় করার ব্যাপারে দৃড়প্রতিজ্ঞ হন তাহলে এই লেখাটি আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। এর জন্য আপনাকে খুবই ধৈর্য ধরে ও মনযোগ দিয়ে লেখাটি পড়তে হবে। এছাড়াও আয় করার জন্য  যথাযথ পদক্ষেপও কিন্তু   নিতে হবে৷

আপনি নিশ্চয়ই  মরুভূমির পথিকের মত না ঘুরে সত্যিই অনলাইনে আয় করতে চান।  তাহলে দয়া করে আজকের লেখাটি ধৈর্য্য ও মনযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন। 

ই-কমার্স কি ?

আমরা জানি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করাই হচ্ছে ই-কমার্স। অর্থাৎ আমরা যখন  অনলাইনের মাধ্যমে কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করি সেটাকেই বলে ই-কমার্স। ই-কমার্সের বিশেষ সুবিধা কি জানেন? ঘরে বসেই মাত্র কয়েক ক্লিকের মাধ্যমে  পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পণ্যটি ক্রয় করা সম্ভব।

আরেটু বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে-

মূলত ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে ব্যবসা বাণিজ্য করা হয়ে থাকে তাকেই বলা হয়  ই-কমার্স বা Electronic Commerce. ই-কমার্স (e-commerce) হচ্ছে বর্তমানে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবসার পদ্ধতি।

ই-কমার্সের  ব্যবসার সকল কাজকর্ম আসলে অনলাইনের মাধ্যমে  পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসে বসেই যে কোন পণ্যের কোয়ালিটি, পণ্যের মূল্য  সর্ম্পকে জানতে পারে। আবার  ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা অর্ডারও দিয়ে কিনেও নিতে পারে।

ই-কমার্সে (e-commerce) ব্যবসায় লেনদেনের করতে বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মোট কথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন ও সুবিধা ব্যবহার করাই হল ই-কমার্স বলে। অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা এমন একটি  উদাহরণ। বস্তুত, যে কোনো ব্যবসা ই হোক না কেন, ইলেক্ট্রনিক্সের মাধ্যমে পরিচালনা করাই হল ই-কমার্স।

ই-কমার্স এর সুবিধা কি?

কে না চায় ঘরে বসে বসেই চাহিদা ও পছন্দমত পন্যটি ক্রয় করতে?  ঘরে বসে বসেই যদি মানসম্পন্ন পণ্য হাতে পাওয়া যায় তাহলে কে আবার  কষ্ট করে বাজারে যায় বলুন? মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে তাদের চাহিদাও অধুনিক হচ্ছে। সকলেই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চান।

আরো পড়ুন…

মাত্র কয়েকটা  ক্লিক করেই ঘরে বসেই চলে আসছে পণ্য। এমন একটা বাম্পার সুবিধা পেলে মানুষ অনলাইন মার্কেটেই বেশি প্রাধান্য দিবে। 

তরুনরা কেন ই-কমার্স দিকে ঝুঁকছে?

আপনি একটা জিনিস লক্ষ করেছেন কি? ই-কমার্স  মার্কেট প্লেসে তরুণ উদ্যোক্তা কিন্তু বেশি। তরুণ উদ্যোক্তা বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে ই-কমার্স ব্যবসায় ইনভেস্ট অনেক কম এবং কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়াও পসিবল। এছাড়া একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে খুব বেশি অর্থও লাগে না।

বর্তমানে অনেক কম খরচে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব। আমাদোর দেশেও এরকম অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনেক কম খরচে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে। আরো মজার বিষয় হল ফ্রি ব্লগ সাইট খুলেও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই খরচ ও সময় কম ব্যয় হয় এই ব্যবসায়। এর জন্য অনেক তরুন এখন ই-কমার্স ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। 

ই-কমার্স ব্যবসা কতটুকু লাভজনক?

 ই-কমার্স ব্যবসার লাভ সম্পর্কে বলতে গেলে, এই ব্যবসার লাভের পরিমাণ বর্তমানে অনেক বেশি। কারণ পুরো পৃথিবীর  সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আপনাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। আর আপনার  যদি ভবিষ্যতে এটির সাথে যুক্ত হতেই হয় তাহলে ই-কমার্স শুরু করতে আর দেরি কেন?

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সকল পণ্যই এখন অনলাইনের মাধ্যমে কেনা বেচা করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত  অনলাইনের মাধ্যমে  প্রচুর পরিমাণে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তাই আশেপাশের সকল বিষয় বিবেচনা করেই বলছি যে ই-কমার্সের  ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জল। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে অনলাইন থেকে আয় করতে চান তাহলে ই-কমার্স ব্যবসাই আপনার জন্য লাভজনক হবে।

কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন?

আমরা এতক্ষণ জানলাম ই-কমার্স কি? এর লাভজনক অপরচুনিটি ও তরুনদের ই-কমার্সের প্রতি ঝোঁক সম্পর্কে। এত কিছু জেনে আপনারও নিশ্চয়ই ইচ্ছে হচ্ছে ই-কমার্সের ব্যবসার মাধ্যমে নিজের ক্যরিয়ার গড়তে? তাই না? কিন্তু আপনি জানেন না কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে হয়?

হতাশ হবেন না। এই সমস্যা শুধু আপনার একার নয়। অনেকেই সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনাদের এই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাতে আমরা সমাধান নিয়ে এসেছি। চলুন জেনে আসি কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন?

১.পূর্ব  পরিকল্পনা করাঃ

আপনি যে  কাজেই সফলতা অর্জন করতে চান না কেন, আপনাকে অবশ্যই পূর্ব  পরিকল্পনা করতে হবে। আর পরিকল্পনাও হতে হবে সময়োপযোগী। কেননা  পরিকল্পনা ছাড়া  কোনো কাজ করলে কাজে সফলতা অর্জন করা অনেক বেশি মুশকিল হয়ে পড়ে।

বেশি সময় নিয়ে চিন্তা  করে মানসম্মত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে আপনাকে। কারণ ওয়েবসাইট ভালোমানের না হলে ভবিষ্যতে আবারও আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার ঝামেলা পোহাতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রথমে একটি  পরিকল্পনা করে তারপরে  কাজ করতে হবে।

এতে করে আপনার সময় ও অর্থ দুটোই  বাঁচাতে পারবেন। সুন্দর একটি পরিকল্পনাই হবে আপনার ই-কমার্স ব্যবসার প্রথম ধাপ। যেটি আপনার সাফল্য অনেক টাই সুনিশ্চিত করবে।

২.বাজেট নির্ধারণ করাঃ

 কোনো কাজ শুরু করার আগে বাজেট নির্ধারণ করা অনেক জরুরি। আপনি যদি কষ্টের টাকা বৃথা যেতে না দেখতে চান তাহলে আপনাকে কিন্তু কাজ শুরুর আগে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। ই-কমার্স বিজনেস কম টাকায় করা সম্ভব। তাই বলে আপনি যদি পরিকল্পনা করে একটি বাজেট না রাখেন।

আরো পড়ুন অনলাইনে আয় করারা উপায়…

আপনাকেই বিপদে পড়তে হবে। এজন্য বাজেট কম হোক কিংবা বেশি আগে একটি পরিকল্পনা করবেন। ধরুন আপনার বাজেট কম। মূলধনের অভাবে বিজনেস শুরু করতে পারছেন না। শুধু হতাশ হচ্ছেন। এতে শুধু আপনারই ক্ষতি হচ্ছে। তাই একটু বুদ্ধি খাটান।

কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা লাগালে কতটুক লাভ হবে তা জানুন। সাইটে কতটুকু ব্যয় করবেন, ব্যবসার মালামালে, সার্ভিসে কতটুক ব্যয় করবেন তার একটা তালিকা তৈরী করুন। এতে করে আপনার কাজ এগিয়ে নিতে সুবিধা হবে। আর তা না হলে আপনাকে হিমশিম খেতে হবে।

৩. ওয়েবসাইট তৈরী করুনঃ 

আপনার ই-কমার্স ব্যবসার গতিকে প্রভাবিত করতে একটি ওয়েবসাইট অবশই দরকার। একটি ওয়েবসাইট আপনাকে কাস্টোমার এর কাছে আরো বেশি বিশ্বাসযোগ্য করবে। আজকাল অনলাইন অনেক ধরনের প্লাটফর্ম তৈরী হচ্ছে। কিন্তু মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে ভাল মানের ওয়েবসাইট ওনারদেরকে।

যেখানে পন্যের মান, দাম ও অর্ডারের নিয়ম একসাথে দেয়া থাকে। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া ক্রেতা পন্য কিনতে পারে। তাই পরিকল্পনা করা ও বাজেট নির্ধারণ করার পর অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট তৈরী করবেন। এখন আমরা প্রত্যেকে নিশ্চয়ই ওয়েব ডেভেলপার না।

আমাদেরকে ওয়েবসাইট বানাতে হলে কোনো ওয়েব ডেভেলপার এর কাছে যেতে হবে। অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভাল মানের ডেভেলপার বা বিশ্বাসযোগ্য কম্পানির কাছ থেকে ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে। তাতে যদি একটু টাকা বেশিও যায় খুব একটা ক্ষতি নেই। বরং আপনারই লাভ। ভবিষ্যতে বার বার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।

৪. ওয়েবসাইটের জন্য টেকনোলজি নির্বাচন করুনঃ

একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কিন্তু অনেক গুলো পদ্ধতি রয়েছে। অভিজ্ঞ কারোর পরামর্শ নিয়ে আপনার  সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করাটা বেটার হবে। ভিজিটর বা ক্রেতা যখন  আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে তখন যেন তারা কোন রকম সমস্যায় না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

 এতেযদি খরচ একটু বেশি পড়ে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। ভালো টেকনোলজি নির্বাচন করে ওয়েবসাইট তৈরী করান। ওয়েবসাইটের মানের সাথে নো কম্প্রোমাইজ।

আপনার ওয়েবসাইট এর মান কিন্তু আপনার ই-কমার্স বিজনেস কে রিপ্রেজেন্ট করবে। কারন কোনো ক্রেতা বা কোনো সাধারণ ভিজিটর যদি আপনার ওয়েবসাইটে এসে প্রবলেম ফেস করে তাহলে সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাই ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আপনার ওয়েবসাইটকে ভাল ডেভেলপার দিয়ে কাস্টমাইজ করান।

  • পন্যের আসল ছবি
  • ম্যাটেরিয়াল
  • কোয়ালিটি 
  • দাম
  • অর্ডার নিয়ম
  • পেমেন্ট সিস্টেম কি
  • কাস্টোমার রিভিউ 
  • রিটার্ন পলিসি

এই বিষয় কয়টি খুব সুন্দর করে আপনার ওয়েবসাইটে উপস্থাপন করুন। তাহলে দেখবেন আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর যেমন বাড়বে পন্যের কাস্টোমারও বাড়বে। ঝামেলা ছাড়া পন্য অর্ডার করতে পারবে। আর মানুষ অনলাইন ঝামেলামুক্ত ভাবে ক্রয় করতেই পছন্দ করে। 

 ৫. ব্যবসার জন্য সময়োপযোগী পন্য বাছুনঃ

আপনি নিশ্চয়ই এমন কোনো ব্যবসা শুরু করতে চান না যার ডিমান্ড খুবই কম হয় এবং বাজারে এর চাহিদা নেই বললেই চলে। কিংবা বাজারে খুব সহজলভ্য। কেউ অনলাইনে কেনার কথা ভাবে না। এমন পন্য নিয়ে ব্যবসায় আসলে আপনার শুরুটাই হবে ভুল।

বাজারের কোন পন্যের কেমন চাহিদা, কোন পন্যের ব্যবসা বেশি লাভজনক এটা ভাবুন। মানুষ কিন্তু ব্যতীক্রমী ব্যবসার আইডিয়ার প্রতি বেশি ঝোঁক অনুভব করে। তাই ব্যবসার জন্য সময়োপযোগী পন্য বাছুন। একটু বুদ্ধি খাটালেই দেখতে পারবেন এমন কি কি পন্য আছে যা মানুষ সহজেই হাতে পেতে চায়।

কষ্ট করে দোকানে গিয়ে কিনে আনা ঝামেলা বোধ করে। মানুষের এই দুর্বলতা কেই কাজে লাগান। তাদের বাড়ির দরজায় সঠিক সময়ে সঠিক সেবা পৌঁছে দিন। এতে করে মানুষও উপকৃত হবে। আপনিও লাভবান হবেন।

৬. মানসম্মত পন্য নিয়ে বিজনেস করুনঃ

আপনার ই-কমার্স ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু এক তরফা টাকা ইনকাম করা? নিশ্চয়ই না। ক্রেতার হাতে মানসম্মত পন্য তুলে দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু আপনার উপরে। কোনো ক্রেতাই চাইবে না কষ্টের অর্থ বৃথা দিতে। অনলাইন থেকে ক্রয় করলেও সকলেই মানসম্মত পন্য খুঁজে।

তাই নিজের ব্যবসাকে আরো বেশি সাফল্য এনে দিতে চাইলে নিজের পন্যের মানের সাথে কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করবেন না। একবার মানসম্মত পন্য হাতে পেলে ক্রেতা বার বার আপনার কাছ থেকেই ক্রয় করার কথা ভাববে। তাই সফল ভাবে ই-কমার্স ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই মানসম্মত পন্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। 

অবশ্যয় পড়বেন…

মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করার উপায় ২০২১

ব্লগ সাইট থেকে আয় করার সহজ উপায় ২০২১

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার উপায়

পিন্টারেস্ট মার্কেটিং কি ? কিভাবে পিন্টারেস্ট মার্কেটিং করবেন ?

আপনি  এখন ই-কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারনা পেয়েছেন। কিন্তু আপনার মনে  নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসবে কি নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়? অনলাইন  কি নিয়ে ব্যবসা করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়? তাহলে এই প্রশ্নের সমাধানও আমরা এই লেখায় দিয়ে দিচ্ছি। নিচে কিছু ই-কমার্স ব্যবসার আইডিয়া দেয়া হল যেগুলো আপনাকে লাভবান হতে সাহায্য করবে।

ই-কমার্স ব্যবসার আইডিয়া

আপনারা যারা নতুন ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে চাইবেন তাদের মাথায় প্রথমেই ঘুরপাক করে যে কোন প্রোডাক্ট বা কোন বিষয়টি নিয়ে ব্যবসা শুরু করবে।

কোন ব্যবসা করলে ভালো হবে কিভাবে করবে এ বিষয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে থাকে।  তাদের জন্য আমরা কয়েকটি ই-কমার্স ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করেছি যেগুলো থেকে যে কোন একটি ফলো করে আপনার ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

অনলাইনে কাপড়ের ব্যবসা করা

কাপড়ের ব্যবসা বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। দেশের অনেক বেশি আয় আসে পোশাক ব্যবসা থেকে। একটা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস আপনি যেকোনো যায়গায় পাবেন। কিন্তু পোশাক এমন একটা জিনিস যেটা হাজার টা দেখার পর একটা পছন্দ হয়। দামে মেলে তো কোয়ালিটি মিলে না।

আবার সাইজ মিলে তো কালার মিলে না। একটা পোশাক খুজতে কম কসরত করতে হয় না। তাই দোকান ঘুরে ঘুরে হয়রান না হয়ে ঘরে বসেই পোশাক ক্রয় করতে পছন্দ করেন বেশিরভাগ মানুষ। আর এটাই আপনার সুযোগ। ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কাপড়ের ব্যবসা আপনার জন্য খুবই লাভজনক হবে। কারন এর চাহিদা কখনও কমে নি আজ পর্যন্ত। আর কমবেও না।

ওমেন কসমেটিকস নিয়ে শুরু করা

প্রত্যকেই চায় নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে ৷ এদিকে নারীরা আরো বেশি এগিয়ে। সবচেয়ে বেশি প্রসাধনী নারীরাই ব্যবহার করে। তাই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ে কমে না। তাই ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ওমেন কসমেটিকস নিঃসন্দেহে একটি দারুন আইডিয়া।

হ্যান্ড মেইড প্রডাক্ট বিক্রি

আজাকাল অনেকেই দেশী ও হাতে তৈরী পন্য বেশি পছন্দ করে। এটাই এখন নতুনত্ব। তাই হ্যান্ড মেইড প্রডাক্ট এর এখন রমরমা ব্যবসা চলছে। আপনিও দক্ষ কারিগরি দিয়ে হাতে তৈরী পন্যের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যা বর্তমান যুগের প্রেক্ষিতে  ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য একদম উপযুক্ত।

হোম মেইড ফুড বিক্রি

ব্যস্ততম যুগের ব্যাস্ত মানুষের একটি দুর্বলতা হচ্ছে হোম মেইড ফুড। কাজের জন্য অনেকেই বাসা থেকে দুরে থাকেন। আবার অনেকে নিজের জন্য রান্না করারও সময় পান না। তখন মন একটু বাড়ির স্বাদের খাবার খুঁজে। তাদের কাছে পৌঁছে দিন হোম মেইড ফুড।

অনলাইন অর্ডার আর পেমেন্ট নিয়েই ঝামেলা ছাড়া করতে পারেন এই বিজনেস। বর্তমান ই-কমার্স ব্যবসায় হোম মেইড ফুডের চাহিদা অনেক বেশি। 

ক্রাফটস ম্যাটেরিয়াল জিনিস বিক্রি

অনেকেই জুয়েলারি, শোপি ইত্যাদি তৈরীর বিজনেস করেন। তাদের কিন্তু এসব ম্যাটেরিয়াল খুজে পেতে খুব ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই আপনি চাইলে ক্রাফটস ম্যাটেরিয়াল এর বিজনেস শুরু করে দিতে পারেন। অনলাইন খুব সহজেই কেন-বেচা করতে পারবেন। আর আপনার জিনিসের মান ভাল হলে বার বার আপনার কাছ থেকেই কিন্তু পন্য কিনবে।

অর্গানিক প্রডাক্টস নিয়ে কাজ করা

খাবার থেকে শুরু করে প্রসাধনী সব কিছুতে ভেজালে ভরা। ভেজাল দ্রব্য ব্যবহার করে শরীর ও ত্বক উভয়ের ক্ষতি হচ্ছে। তাই আজকাল সবাই অর্গানিক প্রডাক্টস এর উপরে খুব ঝুঁকে পড়ছে। অর্গানিক ফুড কিংবা অর্গানিক ম্যাটেরিয়ালে তৈরী কসমেটিকস এর বিপুল চাহিদা এখন।

তাই ক্রেতার এই চাহিদা মাথায় রেখে মানসম্মত অর্গানিক প্রডাক্টস মানুষের হাতে তুলে দিন। আর সময়োপযোগী ই-কমার্স ব্যবসা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন।

আপনিই নিজেকে বলুন, কে না চায়  সমাজে নিজের একটা শক্ত অবস্থান গড়তে? নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে? আপনি আমি সবাই চাই। কিন্তু এই অবস্থান গড়ে তোলায় পথ একদম সহজ নয়। এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তারপরও হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে।

আর বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স ব্যবসা এমন একটি প্লাটফর্ম, যা আপনার প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিবে। দরকার শুধু সঠিক প্ল্যান আর নিয়মিত কাজ গুলা করে যেতে।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি এই লেখার মাধ্যমে আপনাকে ই-কমার্স কি ও কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন তার পরিপূর্ণ ধারনা দিতে পেরেছি। আপনিও যদি নিজেই নিজের বস হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান তাহলে ই-কমার্স ব্যবসা আপনার জন্যই।ই-কমার্স ব্যবসার সাথে আপনার সাফল্যময় ভবিষ্যতের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

আর যদি কোন প্রশ্ন থাকে অথবা ই কমার্স নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এর মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর আমরা খুব শীঘ্রই কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিব অথবা আমাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে যদি কিছু জানতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সাথে কনট্রাক আস এর মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap