Google Analytics কি ? কিভাবে গুগল এনালাইটিক্স সেটআপ করতে হয় জেনে নিন

যদি আপনার কোনো ওয়েবসাইট থাকে। তাহলে অবশ্যই আপনার Google Analytics সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। আর যদি আপনি এখনও গুগল এনালাইটিক্স সম্পর্কে না জেনে থাকেন।

তাহলে বুঝে নিবেন যে আপনার এখনও অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে।

গুগল এনালাইটিক কি ? Google Analytic সেটাপ করার নিয়ম
গুগল এনালাইটিক সেটাপ করার নিয়ম । Google Analytic setup bangla

আর আপনার অজানা বিষয় গুলোকে জানিয়ে দেয়াই হলো আমাদের মূল উদ্দেশ্য। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা জানবো গুগল এনালাইটিক সম্পর্কে।

যদি আপনি জানতে চান যে, “Google Analytics কি” এবং কিভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ সেট আপ করবেন। তাহলে আজকের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

তাহলে আজকের পর থেকে এই বিষয়টি নিয়ে আপনার মনে আর কোনো প্রকার সন্দেহ থাকবে না।

NOTE: যারা মুলত Google Blogger দিয়ে ব্লগ তৈরি করেছেন। তারা কিভাবে তাদের ব্লগার ব্লগে গুগল এনালাইটিক্স সেট আপ করবেন। সে নিয়েও আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 

Google Analytics কি ?

এটি হলো গুগল এর নিজস্ব একটি অনলাইন টুলস। যা গুগল নিজেই এই টুলসকে পরিচালনা করে থাকে। যে Tools এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটরদের কে মনিটরিং করতে পারবেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ভাই এই টুলস এর মাধ্যমে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট এর ভিজিটর কে মনিটরিং করা যায়? তাহলে শুনুন….

আপনার জন্য আরো লেখা…

যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ উক্ত Tools কে সেট আপ করবেন। তখন আপনার যে ভিজিটর গুলো আসবে। তাদের সমস্ত ডাটা গুলো এই টুলসের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।

যা আপনার ওয়েবসাইট এর Growing Level কে বাড়িয়ে দিতে অনেক সাহায্য করবে।

যেমন, আপনার ওয়েবসাইটে মোট কত গুলো Visitor আসছে, তারা কোন সোর্স থেকে আপনার সাইটে আসছে, তাদের বয়স কত ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারবেন এই গুগল এনালাইটিক্স নামক অনলাইন Tools থেকে।

কেন গুগল এনালাইটিক্স ব্যবহার করবেন ? 

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বর্তমান সময়ে তো অনেক ধরনের অনলাইন টুলস রয়েছে। তাহলে কেন আপনি এই Google Analytics কে ব্যবহার করবেন।

আর এই টুলস ব্যবহার করলে আপনি কি কি বেনিফিট পাবেন? তো চলুন এবার সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

তো এমন বেশ কিছু কারন রয়েছে। যে কারন গুলোর জন্য আপনার অবশ্যই গুগল এনালাইটিক্স ব্যবহার করা উচিত। তবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারন হলো, 

Reason-1: This is Free Tools 

প্রথম কারণ টি হলো, এটি ব্যবহার করতে আপনার কোনো প্রকার অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অর্থ্যাৎ, আপনি জনপ্রিয় এই Tools কে একেবারে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। 

সত্যি বলতে আপনি এই টুলসে যে পরিমান ফিচার দেখতে পারবেন। সেই ফিচার গুলো যদি গুগল বাদে অন্য কোনো কোম্পানি থেকে দেওয়া হতো। তাহলে তারা এই টুলস ব্যবহার করার বিনিময়ে প্রচুর পরিমানে অর্থ ব্যয় করতে হতো।

কিন্তুু গুগল এই টুলসে কোনো প্রকার Paid অপশন রাখেনি। যার কারনে এই টুলস এ আপনি বিনামূল্য অনেক বেশি পরিমানে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

NOTE: আপনি অনলাইন এ এমন অনেক টুলস দেখতে পারবেন। যেগুলো শুরুর দিকে বলে যে, উক্ত টুলস টি একদম Free তে ব্যবহার করতে পারবেন।

কিন্তুু কয়েকমাস ব্যবহার করার পর তারা আর সেই Tools কে ফ্রিতে ব্যবহার করতে দেয় না। তখন তারা টাকা দিয়ে ব্যবহার করার জন্য চাপ প্রদান করে। 

Reason-2: Google Product 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারন হলো, উক্ত Tools টি গুগল এর নিজস্ব একটি প্রোডাক্ট। যেখানে আপনি নিশ্চিন্তে এবং কোনো প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন ছাড়াই এই টুলসটি ব্যবহার করতে পারবেন।

আমরা সবাই জানি যে, Google বর্তমানে অনলাইন জগত এর প্রায় অনেকটা অংশ দখল করে নিয়েছে। এর প্রধান কারন হলো, তারা তাদের ব্যবহার কারীদের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পেরেছে।

এবং গুগল এর সাথে কাজ করে কেউ কোনো দিন প্রতারিত হয়েছে। এমন মানুষকেও খুজে পাওয়া মুশকিল। তাই আপনিও গুগলের এই প্রোডাক্ট টি একেবারে বিনা দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন।

এতে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ এ কোনো প্রকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

Reason-3: Perfect Tools For Visitor Monitoring 

যারা মূলত ব্লগিং সেক্টর এর সাথে জড়িত আছেন। শুধুমাএ তারাই ভালো করে জানবে যে, কোনো একটি ওয়েবসাইট এর জন্য Visitor কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা, যে ওয়েবসাইট এ ভিজিটর নেই, সেই ওয়েবসাইট থেকে কোনো প্রকার ইনকাম করতে পারবেন না।

আর এই ভিজিটরদের মনিটরিং করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত টুলস হলো, গুগল এনালাইটিক। যেখানে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট এ আসা ভিজিটর দের সমস্ত তথ্য সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবেন।

এখন আপনার মনে হতে পারে যে, ভাই আমার ওয়েবসাইট এ আসা Visitor এর তথ্য জেনে আপনার কি লাভ হবে, তাইতো? তাহলে শুনুন,

যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ আসা ভিজিটর দের যাবতীয় তথ্য গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোন কারন রয়েছে।

যার কারনে আপনার সাইটে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসছে।

অপরদিকে আপনার সাইটে যদি আশানুরূপ ভিজিটর না আসে। তাহলেও আপনি ভিজিটর না আসার কারনটি খুজে নিতে পারবেন।

মোটকথা, আপনি যদি আপনার সাইটে Google Analytics ব্যবহার করেন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইট এর Growing Level কে অনেক গুন বাড়িয়ে দিবে। 

Reason-4: Collect Data Automatically 

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আপনি এই টুলসটি একবার সেটআপ করার পর আপনাকে আর কোনো কিছু করতে হবে না। অর্থ্যাৎ, এরপর থেকে আপনি অটোমেটিক সব ডাটা দেখে নিতে পারবেন।

হুমমম, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যদি আপনার কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে। তাহলে সবার আগে আপনি সেই ওয়েবসাইট এ Google Analytics যুক্ত করবেন।

এরপর থেকে আপনার সাইটের সকল ভিজিটর ডাটা গুলো এনালাইটিক্স নিজে থেকে কালেক্ট করবে। এবং আপনিও পরবর্তীতে শুধুমাএ লগ ইন করেই সকল ডাটা দেখতে পারবেন। 

Reason-5: Integrate With Other Tools

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি এই টুলস এর সাথে অন্যান্য Tools গুলোকে খুব সহজেই যুক্ত করতে পারবেন। যা আপনার সময় ও শ্রম কে অনেক গুন কমিয়ে দিতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।

যদি আপনি কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ নিয়ে কাজ করে থাকেন। তাহলে আপনি অবশ্যই Google Adsense এবং Google Search Console ব্যবহার করে থাকবেন।

আর এই সব গুলোর খুটিনাটি সম্পর্কে জানার জন্য গুগল এনালাইটিক্স এর সাহায্য নিতে পারবেন।

যেমন, আপনার অন্যান্য টুলস গুলোর সাথে Analytics কে যুক্ত করতে পারবেন। যার ফলে Adsense এবং Search Console এর তথ্য গুলোও এই টুলস থেকে দেখে নিতে পারবেন। এর ফলে আপনার সময় ও শ্রম দুটোই বেঁচে যাবে। 

Google Analytics এর সুবিধা কি কি ? 

আপনি এতক্ষণ ধরে গুগল এনালাইটিক্স সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। তো এতো কিছু জানার পর আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি আপনি এই Tools কে ব্যবহার করেন।

তাহলে আপনি কি কি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তো এবার সে বিষয়ে আলোচনা করা যাক।

আমি উপরেই বলেছি যে, যদি আপনার কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকে। তাহলে আপনাকে অবশ্যই Google Analytics ব্যবহার করা উচিত।

কারন যদি আপনি এই টুলসটি ব্যবহার করেন।  তাহলে আপনি অনেক ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যেমন, 

SEO Optimization 

একটি ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিন এর টপ পজিশনে নিয়ে আসার জন্য SEO এর কোনো বিকল্প নেই। আর এই কথার সাথে আপনিও কোনো দ্বিমত করতে পারবেন না।

কারন যতোক্ষন না আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে সঠিকভাবে অপটিমাইজ না করবেন। ততক্ষণ আপনার ওয়েবসাইট কখনই সার্চ ইঞ্জিন এ Rank করবে না।

আর গুগল এনালাইটিক আপনার এসইও করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারন এখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর সমস্ত ডাটা গুলো দেখতে পারবেন।

আপনি আরো দেখতে পারেন… 

এর পাশাপাশি আপনি Search Console কে যুক্ত করার ফলে এই টুলস থেকেই সবকিছু মনিটরিং করতে পারবেন।

যেমন, আপনি যখন কোনো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। তখন আপনি নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ভিজিটর কে টার্গেট করেই উক্ত ওয়েবসাইট কে তৈরি করবেন, তাইনা?

আর আপনার সেই ওয়েবসাইটে কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর পাচ্ছেন কিনা। তা খুব সহজেই দেখে নিতে পারবেন উক্ত টুলস এর মাধ্যমে। যা আপনার ON Page SEO তে অনেক হেল্পফুল হবে।

Read This:এসইও কি এবং কিভাবে আপনি এসইও শিখবেন। এটি নিয়ে আমার ওয়েবসাইট এ একটি আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে। উক্ত আর্টিকেলটি নিজ দায়িত্বে পড়ে নিবেন। 

Chacking Bounch Rate 

কোনো একটি ওয়েবসাইট এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাউন্স রেট। যার মাধ্যমে গুগল আপনার আর্টিকেল এর কোয়ালিটি সম্পর্কে অনুমান করে থাকে।

তাই আপনার ওয়েবসাইট এর Ranking ধরে রাখার জন্য বাউন্স রেট এর দিকে যথেষ্ট ফোকাস রাখতে হবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ভাই Bounch Rate কি জিনিস? বাউন্স রেট এর প্রভাবে আপনার ওয়েবসাইট এর কোনো ক্ষতি হবে কিনা?

তো বাউন্স রেট কি সেটি জানার আগে আপনাকে Season সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে পরবর্তী আলোচনা গুলো আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

মনে করুন, আমি আপনার ওয়েবসাইট এ ভিজিট করলাম। এরপর আপনার কোনো একটি আর্টিকেলে ক্লিক করার পর টানা ৩০ মিনিট ধরে উক্ত আর্টিকেলটি পড়লাম।

এরপর আপনার সাইট থেকে বের হয়ে আসলাম। এখন আমি যখন আপনার ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করেছি। তখন থেকেই কিন্তুু আমার Session শুরু হয়ে গেছে।

এবং টানা ৩০ মিনিট ধরে এই সিজন চলমান ছিলো। কিন্তুু আমি আপনার একটি আর্টিকেল পড়ার পড়ে বের হয়ে আসার ফলে আপনার বাউন্স রেটের পরিমান বেড়ে যাবে।

কারন আমি শুধুমাএ একটি আর্টিকেল পড়ার পর অন্য কোনো আর্টিকেল এ ক্লিক করিনি। আর এভাবে সরাসরি বের হয়ে আসার কারনে আপনার সাইটের বাউন্স রেট অনেক গুন বেড়ে যাবে।

আর এই বাউন্স রেট এর পরিমান যতো বেশি হবে। আপনার সাইট সম্পর্কে গুগলের নিকট ততোই নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলবে।

এখন আপনাকে খুজে নিতে হবে যে, আপনার ওয়েবসাইট এ এমন কোন আর্টিকেল রয়েছে। যেখানে Bounch Rate এর পরিমান বেশি। এবং পরবর্তী তে উক্ত আর্টিকেলকে পুনরায় আপডেট করে নিতে হবে।

আর এই কাজটি আপনি খুব সহজেই দেখে নিতে পারবেন গুগল এনালাইটিক্স নাম টুলস থেকে।

PRO TIPS: বাউন্স রেট কি এবং কিভাবে বাউন্স রেট এর পরিমান কমানো যায়। সে নিয়ে অলরেডি আমার ওয়েবসাইট এ একটি আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে।

Counting Minimum Visitors 

গুগল এনালাইটিক্স এর আরও একটি বিশেষ গুন আছে। সেটি হলো আপনার ওয়েবসাইট এ মোট কি পরিমান ভিজিটর আসছে। সে সম্পর্কে খুব সহজেই জেনে নিতে পারবেন।

অর্থ্যাৎ, আপনি যদি চান যে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার পর থেকে মোট কত গুলো ভিজিটর এসেছে। তারও একটি হিসাব আপনি Google Analytics থেকে জেনে নিতে পারবেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, মোট কি পরিমান ভিজিটর আসছে। সেটা জেনে আপনার কি লাভ হবে? তাহলে শুনুন,

মনে করুন, গত কয়েক মাসে আপনার সাইটে ভিজিটর এর পরিমান ছিলো 30k. এবং পরবর্তী মাসে আপনি লক্ষ্য করলেন যে, আপনার ভিজিটর এর পরিমান দাড়িয়েছে 10k তে।

এখন এই পরিমান দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার ওয়েবসাইট এ কিছু না কিছু কমতি আছে। যার কারনে আপনার সাইট এর Visitor Drop করতে শুরু করছে।

এখন আপনি Visitor Drop করার কারন গুলোকে খুজে নিতে পারবেন। এবং যে সমস্যা গুলো রয়েছে সেগুলোর সমাধান করতে পারবেন।

আর সমস্যা গুলোর সমাধান করার ফলে আপনার ওয়েবসাইট এ পুনরায় বেশি পরিমানে ভিজিটর আসতে শুরু করবে।

NOTE: কিভাবে আপনার ওয়েবসাইট এর ভিজিটর বৃদ্ধি করবেন। সে নিয়ে আমার ওয়েবসাইট এ একটি আর্টিকেল পাবলিশ করা আছে। আপনি সেই আর্টিকেল থেকে ভিজিটর বাড়ানোর টিপস গুলো জেনে নিতে পারবেন। 

Perfect Social Media Target 

গুগল এনালাইটিক্স এর আরও একটি বিশেষ গুন রয়েছে। সেটি হলো, আপনার ওয়েবসাইট এ যে ভিজিটর গুলো আসবে। তারা কোন সোর্স থেকে আসছে তা খুব সহজেই জেনে নিতে পারবেন।

এখন মনে করুন, আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর কোনো একটি আর্টিকেল বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া তে শেয়ার করলেন।

এখন আপনি গুগল এনালাইটিক এর মাধ্যমে দেখে নিতে পারবেন যে, আসলে কোন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার সাইটে বেশি পরিমানে ভিজিটর আসছে।

এখন আপনি যদি দেখেন যে, Facebook এ আর্টিকেল শেয়ার করার পর আপনার সাইটে বেশি পরিমানে ভিজিটর আসছে। তাহলে আপনার সাইটের আর্টিকেল গুলো ফেসবুকে শেয়ার করলে আপনি আরও বেশি ভিজিটর গেইন করতে পারবেন।

PRO TIPS: চেস্টা করবেন সবগুলো সোশ্যাল মিডিয়া তে আপনার ওয়েবসাইট এর নামে Account Create করার। এর ফলে Backlink করার পাশাপাশি আপনার সাইটের অথোরিটি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।। 

কিভাবে গুগল এনালাইটিক্স সেটআপ করতে হয়? 

যাক এতোক্ষন ধরে আপনি Google Analytics সম্পর্কে অনকে কিছু জেনে নিতে পারলেন। তো এবার আপনাকে জানতে হবে যে, আপনি যদি এনালিটিক্স এর সুবিধা গুলো ভোগ করতে চান। +

তাহলে আপনাকে কি কি কাজ করতে হবে।

যদি আপনি Google Analytics এর সুবিধা গুলো ভোগ করতে চান। তাহলে সবার আগে আপনার একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকতে হবে। এরপর সেই সাইটকে কোনো না কোনো সার্চ ইঞ্জিন এ Submit করতে হবে।

তাহলে আপনি ভিজিটর এর ডাটা গুলো সহজেই দেখে নিতে পারবেন।

তো কিভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইট এ গুগল এনালাইটিক্স সেটআপ করবেন। সে সম্পর্কে আমরা স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো।

এছাড়াও আপনার যদি Google Blogger এ একটি ব্লগ থাকে। তাহলে সেই ব্লগে আপনি কিভাবে Analytics সেট করবেন। সে সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

How to set up google analytics in your blogger blog

যদি আপনার ওয়েবসাইট টি Google Blogger দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাহলে আপনাকে নিচের স্টেপ গুলো অনুসরন করতে হবে।

STEP-1: সবার আগে আপনাকে একটি ব্রাউজার অপেন করতে হবে। তার পর Google Analytics এর এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশের পর আপনার Gmail Id এবং password দিয়ে লগিন করতে হবে।

STEP-2: এরপর আপনার জিমেইল একাউন্ট দিয়ে নতুন একটি Analytics Account তৈরি করতে হবে। লগিন করার পর আপনাকে সবার নিচে সিটিং আইকোনের সাথে দেখতে পাবেন Admin লেখা আছে ঐখানে ক্লিক করতে হবে।

Analytics Account setup bangla
Analytics Account setup

তার পর দেখতে পারবেন Account setup অপশন এখানে আপনি যে কোন নাম দিয়ে পুরণ করবেন। তার পর আপনাকে Next লেখাতে ক্লিক করতে হবে।

STEP-3: এরপর আপনি “Property Setup”- নামক একটি অপশন দেখতে পারবেন ঐখানে আগের সেই নাম লিখে ফিলাপ করবেন। তার পর ” Reporting Time Zone”- নামের আরও একটি অপশন দেখতে পারবেন।

এখানে আপনার দেশের টাইম জোন সেট আপ করে দিতে হবে মানে আপনি যদি বাংলাদেশি হোন তাহলে বাংলাদেশ আর ভারতীয় হলে ভারত দিবেন।

তার পর আপনাকে ক্লিক করতে হবে Show advanced options লেখাতে ক্লিক করার পর Create a Universal Analytics property এর পাশে থাকা বাটন টি অন করে দিতে হব।

বাটন অন করার পর আপনার Website URL দেওয়ার খালি বক্স দেখবেন। বক্সটি ফিলাপ করে Next লেখাতে ক্লিক করতে হবে।

STEP-4: এবার আপনি “About Your Business”- নামের একটি অপশন দেখতে পারবেন। Business information এখানে Industry category তে আপনাকে যেকোনো একটি অপশন সিলেক্ট করতে হবে।

তার পর Business size এ যেকোন বক্সে টিক দিবেন । দেয়ার পর নিচে আরো কিছু বক্স দেখতে পারবেন ঐখানেও আপনার ইচ্ছামত যে গুলা ভাল লাগে মার্ক করে দিবেন।

সব কিছু মার্ক করার পর আপনাকে Create লেখা বাটনে ক্লিক করতে হবে।

STEP-5: ক্লিক করার পর আপনার সামনে Google Analytics Terms of Service Agreement লেখাতে একটি বক্স আসবে। আপনি বাংলাদেশি হলে বাংলাদেশ দিবেন আর ভারতীয় হলে ইন্ডিয়া দিবেন।

তার পর I also accept the Data Processing Terms as required by GDPR. এই লেখার পাশে মার্ক দিয়ে I Accept লেখাতে ক্লিক করবেন।

STEP-6:  উপরের কাজ গুলা করার পর সব ঠিক থাকলে Global site tag (gtag.js) এই টাইপের অপশন দেখতে পারবেন। ঐখানে ক্লিক করলে আপনার গুগল এনালাইটিক কোড পেয়ে যাবেন।

এনালাইটিক কোড গুলা কপি করা লাগবে
এনালাইটিক কোড গুলা কপি করা লাগবে

তার পর বক্সের কোডগুলা কপি করে আপনার ব্লগার ওয়েবসাইটে <head> এর নিচে পাস্ট  সেভ করলেই কাজ

শেষ। তার পর আপনার ব্লগের সকল তথ্য গুগল এনালাইটিক এ দেখতে পারবেন।

STEP-7: তো এই স্টেপ গুলো সঠিক ভাবে অনুসরন করতে পারলে আপনি খুব সহজেই আপনার Blogger Blog এর জন্য এনালাইটিক্স একাউন্ট Setup করতে পারবেন।

How to set up google analytics in your WordPress Website 

তো যদি আপনার ওয়েবসাইট টি WordPress এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাহলে আপনাকে নিচের স্টেপ গুলো সঠিক ভাবে অনুসরন করতে হবে।

STEP-1: সবার আগে আপনাকে একটি Google Analytics একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। কিভাবে আপনি এনালাইটিক্স একাউন্ট তৈরি করবেন। সে সম্পর্কে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

আপনাকে উপরোক্ত স্টেপ গুলো অনুসরন করতে হবে.

STEP-: যখন আপনি সঠিকভাবে আপনার Analytics Account Create করবেন। তখন আপনাকে পুনরায় আপনার ওয়ার্ডপ্রেসে প্রবেশ করতে হবে। এবং আপনাকে Plugin Install করতে হবে।

STEP-3: আপনাকে Google Analytics Dashboard for WP (GADWP) এই প্লাগিনটি গুগল থেকে সার্চ করে ডাউনলোড করে নিতে হবে। অবশ্যয় পূরাণ ভার্শনের প্লাগিন ডাউনলোড করে ইন্সটাল করতে হবে।

আপডেট ভার্সন প্লাগিন টি পেইড তাই পুরাতন ব্যবহার করতে হবে।

প্লাগইন ইনস্টল করার পর প্লাগিন সিটিং এ যেতে হবে । তার পর আপনি দেখতে পারবেন Authoriz Plugin বাটন যেখানে আপনাকে ক্লিক করতে হবে।

STEP-4: এরপর আপনি Use this link to get your one-time-use access code: লেখা দেখতে পারবেন। তার পাশেই Get Access Code. নামক অপশনটি তে ক্লিক করতে হবে।

তাহলে আপনাকে পুনরায় Google Login পেজে নিয়ে যাবে আর আপনাকে সেই জিমেইল লগিন করতে হবে যেটা দিয়ে এনালাইটিক একাউন্ট খুলা হয়েছে।

তার পর লগিন করে কিছু টোকেন দেখতে পারবেন ঐগুলা কপি করে খালি বক্সে পাস্ট করে save দিতে হবে। তার পর পুনরাই আপনাকে আরেকবার Save করতে হবে।

NOTE: কিছু কিছু ক্ষেএে প্লাগইন ইনস্টল করার পর থেকে অটোমেটিক আপনার ওয়েবসাইট কে Analytics Track করা শুরু করবে।

আপনার কিছু প্লাগইন আছে, যেগুলোতে Script কপি করে সেভ করার প্রয়োজন পড়বে।

STEP-5: সবশেষে আপনি দেখতে পারবেন যে, আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর কোন কোন ডাটা গুলোকে Track করার পারমিশন দিতে চান। এখানে আপনাকে “All Website Data”- তে ক্লিক করতে হবে।

আপনি আরো পড়তে পারেন…

ব্যাস! আপনি যদি এই কাজ গুলো সঠিকভাবে করতে পারেন ৷ তাহলে আপনি সঠিকভাবে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে গুগল এনালাইটিক সেটআপ করতে পারবেন। 

আমাদের শেষকথা 

যদি আপনি এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ন মনোযোগ দিয়ে পড়েন। তাহলে আশা করা যায়, “Google Analytics কি“- এবং ” কেন আপনার গুগল এনালাইটিক্স ব্যবহার করা উচিত”- সে সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারনা পেয়ে গেছেন।

এর পাশাপাশি কিভাবে আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস অথবা ব্লগারে গুগল এনালাইটিক সেটআপ করবেন। সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

এরপরও যদি আপনার মনে গুগল এনালাইটিক্স সম্পর্কে কোনো কিছু জানার থাকে। তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি আপনার মূল্যবান কমেন্ট এর অপেক্ষায় থাকবো।

বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকবেন৷ ধন্যবাদ

2 thoughts on “Google Analytics কি ? কিভাবে গুগল এনালাইটিক্স সেটআপ করতে হয় জেনে নিন”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখা কপি করবেন না!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap