১২টি লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া ২০২১

লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া : আজকের আলোচনায় আমরা জানবো কিছু লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে।

মূলত পাইকারি ব্যবসা আসলে কি, কিভাবে আপনি পাইকারি ব্যবসা করবেন। এ সবকিছু বিষয় নিয়ে আজকে বিষদভাবে আলোচনা করবো।

লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া
লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া

এবং সবশেষে আপনাকে কিছু লাভজনক পাইকারি ব্যবসা করার টিপস শেয়ার করবো।

আপনি হয়তোবা জানেন যে, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসার তুমুল চাহিদা রয়েছে। কারন একদিকে যেমন আমাদের দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপরদিকে সেই জনগন এর জন্য পন্যের চাহিদাও দ্বিগুন হারে বেড়ে চলেছে। এখন আপনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসা শুরু করে দিতে পারবেন।

আপনি যদি সঠিকভাবে পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন। তাহলে আপনি এই Wholesale Business থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে নিতে পারবেন।

আজকের দিনে গ্রাম এলাকা থেকে শুরু করে শহর অঞ্চল পর্যন্ত। প্রায় সবখানেই পাইকারি ব্যবসার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আপনার আশেপাশে তাকালে এমন অনেক মানুষকে খুজে পাবেন।

যারা মূলত কোনো পন্যের পাইকারি ব্যবসা করেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করছে।

তো যদি আপনিও তাদের মতো Wholesale Business করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে চান। তাহলে আজকের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

কারন আজকে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

[💡Read This: যদি আপনি গ্রামে থাকেন, তাহলে আপনি কিভাবে গ্রাম থেকে ব্যবসা করবেন। গ্রামের ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কেও আলোচনা করা হবে ]

পাইকারি ব্যবসা কাকে বলে? 

বর্তমানে পৃথিবীতে অনেক ধরনের ব্যবসা রয়েছে। এটা তো আমরা সবাই জানি, তাইনা! কিন্তুু পাইকারি ব্যবসা আসলে কাকে বলে? সবার আগে আপনাকে সেই বিষয়ে পরিস্কার ধারনা নিতে হবে।

তো যখন আপনি কোনো উৎপাদনকারী এর কাছ থেকে পন্য নেয়ার পর সেই পন্য গুলোকে খুচরো ব্যবসায়ীর হাতে পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়াকে এক কথায় বলা হয়, পাইকারী ব্যবসা ৷

যেমন, আপনি একটি জুতা তৈরির কোম্পানি থেকে অনেক গুলো জুতো কিনে নিলেন। এরপর সেগুলো কে মার্কেটে থাকা বিভিন্ন খুচরো ব্যবসায়ীর নিকট পৌঁছে দিলেন।

আপনি আরো দেখুন…

মূলত এই উৎপাদন থেকে ব্যবসায়ী পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্পূর্ন প্রক্রিয়া কে বলা হয়ে থাকে, Wholesale Business.

তবে এই ব্যবসার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। সেই বিষয়টি হলো, কোনো পন্যকে সংরক্ষন করা ৷ অর্থ্যাৎ, আপনি যে উৎপাদন কারীর কাছ থেকে কোনো পন্য নিবেন।

আপনাকে বিভিন্ন প্রয়োজন এ উক্ত পন্য গুলোকে মজুদ / সংরক্ষন করে রাখতে হবে। 

কেন পাইকারি ব্যবসা করবেন? 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে “পাইকারি ব্যবসা কি”- সেটি জানার পর আপনার মনে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে। সেটি হলো, বর্তমানে তো অনেক ধরনের ব্যবসা রয়েছে।

তো এতো ব্যবসা থাকার পরও কেন আপনি পাইকারি ব্যবসা করবেন?

যদি আপনি পাইকারি বিজনেস করার চিন্তা করেন। তাহলে আপনি অনেক ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

যেই সুবিধা গুলো আপনাকে অধিক মুনাফা লাভ করতে সহায়তা প্রদান করবে। যেমনঃ

সময়মতো পন্য বিক্রি করার সুবিধা

দেখুন, আপনি যখন পাইকারী ব্যবসা করবেন। তখন আপনাকে আপনার পন্য গুলোকে কোনো স্থানে মজুদ করে রাখতে হবে।

এবং পরবর্তীতে আপনি সেই পন্য গুলোকে নিজের সময় ও সুবিধা মতো বিক্রি করতে পারবেন।

যেমন ধরুন, আপনি বর্তমানে কয়েক হাজার পিস পোশাক কিনে রাখলেন। এখন আপনি চান যে উক্ত পোশাক গুলোকে কোনো স্থানে মজুদ করে রাখবেন।

এরপর কোনো উৎসব এর সময় সেই পোশাক গুলোকে বেশি দামে বিক্রি করবেন। যেমন, ঈদে কিংবা পুজোতে বিক্রি করবেন।

এরফলে আপনি আপনি উক্ত পোশাক গুলোকে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। এর পাশাপাশি আপনি সেই পন্য গুলোকে নিজের সুবিধা মতো মজুদ করে রাখতে পারবেন। 

অধিক মুনাফা লাভ করার সুবিধা

সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনি যদি পাইকারি ব্যবসা করেন। তাহলে আপনি অন্যান্য ব্যবসা থেকে অধিক মুনাফা আয় করতে পারবেন।

যে সুবিধাটি আপনি অন্য কোনো ব্যবসা তে ভোগ করতে পারবেন না।

যেমন, আপনি যে পন্যের পাইকারী ব্যবসা করবেন। সেই পন্য গুলোকে আপনি অন্য কোনো কোম্পানি বা উৎপাদন কারীর কাছ থেকে অনেক কম দামে নিতে পারবেন।

এবং সেই পন্য গুলোকে যখন আপনি খুচরো বিক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন। তখন আপনি বেশ চড়া দামে সেগুলো কে বিক্রি করতে পারবেন।

যেমন, আপনি যদি কোনো কোম্পানি থেকে ১০ হাজার পিস শার্ট নেন। তাহলে কিন্তুু আপনি রেগুলার প্রাইজ থেকে অনেক কম দামে নিতে পারবেন।

কারন যখন আপনি এতো বেশি পন্য একটি কোম্পানি থেকে নিবেন। তখন কোম্পানি থেকে আপনাকে অনেক ছাড় দেওয়া হবে।

এরপর যখন আপনি উক্ত শার্ট গুলোকে কোনো খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন। তখন আপনি রেগুলার প্রাইজে উক্ত শার্ট গুলোকে বিক্রি করতে পারবেন।

এবং এর ফলে আপনি পাইকারি ব্যবসা থেকে অধিক মুনাফা আয় করতে পারবেন। 

পাইকারি ব্যবসা করার জন্য কি কি প্রয়োজন হয়?

যেহুতু আপনি এই আর্টিকেলটি এখনও পড়ছেন। সেহুতু আমি ধরে নিবো যে, আপনি পাইকারী বিজনেস করার সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

তো এবার আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে চান। তাহলে আপনার কি কি প্রয়োজন হবে। চলুন এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

তো একেবারে নতুন অবস্থা থেকে একবারে সফলতা পাওয়া পর্যন্ত। আপনার পাইকারি বিজনেস করতে বেশ কিছু বিষয় এর প্রয়োজন পড়বে। যেমন, 

নম্বর-১ঃ ইনভেস্টমেন্ট করার মতো ক্ষমতা

দেখুন আপনি যেকোনো ব্যবসা করুন না কেন। আপনাকে শুরুর দিকে যথেষ্ট ইনভেষ্ট করার প্রয়োজন পড়বে। কারন ব্যবসা করার মূল সূএ হলো, সঞ্চয় কে কেন্দ্র করে অর্থের বৃদ্ধি করা।

তবে ব্যবসার খাতিরে কখনও আপনার ইনভেস্ট করার পরিমান কম বা বেশি হতে পারে।

আর পাইকারি ব্যবসাতে আপনাকে অবশ্যই মোটা অংকের টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে। কেননা, আপনি তখনি কোনো পন্যকে পাইকারি দামে নিতে পারবেন।

যখন আপনি এক কোম্পানি বা উৎপাদন কারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমান পন্য কিনবেন।

আর যখন আপনি একসাথে অনেক গুলো পন্য কিনবেন। তখন আপনাকে অবশ্যই মোটা অংকের টাকা ব্যয় করতে হবে। তাই এই ব্যবসা শুরুর আগে আপনার অবশ্যই ইনভেষ্টমেণ্ট করার মতো ইচ্ছা এবং সামর্থ্য থাকতে হবে। 

নম্বর-২ঃ সংরক্ষণ করার মতো জায়গা

পাইকারি বিজনেস করার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, সংরক্ষন করার মতো জায়গা থাকতে হবে।

কারন এই বিজনেস করতে হলে প্রথমত আপনাকে একসাথে অনেক গুলো পন্য সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সেই পন্য গুলোকে কোনো না কোনো স্থানে মজুদ করে রাখতে হবে।

এবং যখন আপনি সেই পন্য গুলোকে মজুদ করে রাখবেন ৷ তখন আপনি আপনার সুবিধা মতো সেই পন্য গুলোকে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিতে পারবেন।

তাই এই বিজনেস করার জন্য আপনার কাছে অবশ্যই এক বা একাধিক সংরক্ষিত স্থান বা গুদামঘর থাকতে হবে। 

নম্বর-৩ঃ TIN, EIN, ট্রেড লাইসেন্স

বিজনেস করতে হলে আরও একটি বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে ৷ সেটি হলো, TIN, EIN, ট্রেড লাইসেন্স। তবে এটি যে বাধ্যতামূলক করতে হবে, বিষয়টা আসলে এমন নয়।

তবে কোনো না কোনো সময়ে আপনার এই বিষয়টির প্রয়োজন অবশ্যই পড়বে।

কারন যখন আপনি মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে পাইকারি ব্যবসা শুরু করবেন। তখন আপনি একদিন বা দুইদিনে এই বিজনেস এ সফলতা অর্জন করতে পারবেন না।

বরং সফলতা পাওয়ার জন্য আপনাকে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করে যেতে হবে।

আর যখন আপনি কোনো ব্যবসা কে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করবেন। ঠিক তখনি আপনার TIN, EIN, ট্রেড লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়বে। 

[💡NOTE: যদি আপনি TIN, EIN, ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে কিছু জানতে চান। তাহলে এখানে ক্লিক করে জেনে নিতে পারবেন। উক্ত আর্টিকেল এ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।]

নম্বর-৪ঃ ধৈর্য শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা 

দেখুন আপনি যে কোনো কাজে সফলতা অর্জন করুন না কেন। আপনার কিন্তুু সব কাজের জন্য প্রচুর ধৈর্য শক্তি থাকতে হবে।

কারন আপনি যে পাইকারি ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবেন। বিষয়টা আসলে তেমন নয়।

হুমমম, আপনি ব্যবসা করেও কোটি কোটি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনার প্রচুর ধৈর্য শক্তি থাকতে হবে। হয়তবা কোনো সময়ে আপনি এই ব্যবসা তে তেমন লাভ করতে পারবেন না।

তাই বলে একেবারে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। বরং আপনাকে একনাগাড়ে লেগে থাকতে হবে।

আপনি আরো পড়ুন… 

এর পাশাপাশি ব্যবসা করার জন্য আপনার বুদ্ধিকে সঠিক কাজে ব্যবহার করতে হবে। কোন পন্য কোথা থেকে নিলে আপনি বেশি সুবিধা পাবেন।

এবং সেই পন্য গুলোকে কিভাবে খুচরা বিক্রেতার কাছে পাঠালে আপনি বেশি পরিমানে লাভবান হতে পারবেন। এই সবকিছু কিন্তুু আপনার চিন্তা শক্তির উপর ডিপেন্ড করবে। 

কিভাবে পাইকারি ব্যবসা করবেন?

যেহুতু আমাদের আজকের আলোচিত বিষয় হলো পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে৷ সেহুতু আমাদের এই বিজনেস রিলেটেড সমস্ত খুটিনাটি নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

কেননা, যতোক্ষন না আপনি কোনো বিষয়ের সবকিছু জানতে পারবেন না। ততোক্ষন আপনি উক্ত বিষয়ে সফলতা অর্জনও করতে পারবেন না।

সেই সুবাদে এবার আমরা জানবো যে, যদি আপনি পাইকারি ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি কাজ করতে হবে। চলুন এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। 

তো একটি পাইকারি বিজনেস আইডিয়া থেকে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুটি বিষয় এর উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। যথাঃ-

No-1: পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 

দেখুন এই বিজনেস এ আপনাকে সবার আগে পন্য উৎপাদনকারীর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

এবং আপনাকে নিজ দায়িত্বে খুজে নিতে হবে যে আপনার প্রাপ্য পন্য গুলো কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান থেকে নিলে আপনি অনেক কম দাম দিয়ে ক্রয় করতে পারবেন।

মনে করুন, আপনি কোনো ফলের পাইকারি ব্যবসা করতে চান। সেক্ষেএে কিন্তুু আপনি নিজে সেই ফল গুলোকে উৎপাদন করতে পারবেন না।

বরং আপনাকে অন্য কোনো স্থান থেকে উক্ত ফল গুলোকে সংগ্রহ করতে হবে।

এখন আপনি যে এই ফল গুলো ক্রয় করবেন। সেক্ষেএে আপনাকে ভেবে নিতে হবে যে, কোন উৎপাদান কারীর কাছ থেকে ফল নিলে আপনি অনেক কম দামে নিতে পারবেন।

কি রকম টাকা লাগতে পারে পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে?

যাক এতোক্ষন এর আলোচনা গুলো থেকে আপনি পাইকারি বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলেন।

তো এবার আপনার মনে একটি প্রশ্ন জাগতে পারে। সেটি হলো, পাইকারি বিজনেস করার জন্য তো ইনভেষ্টমেণ্ট লাগে। কিন্তুু কত টাকা দিয়ে এই বিজনেস শুরু করতে পারবো ?

চলুন এবার এ বিষয়টি নিয়ে একটু ক্লিয়ার ধারনা নেয়া যাক।

দেখুন, পাইকারি বিজনেস করতে আপনার মোট কত টাকা লাগবে ৷ তা সম্পূর্ন নির্ভর করবে আসলে আপনি কোন পন্যের বিজনেস করতে চান।

অনেক সময় দেখা যাবে আপনি ১ লাখ টাকায় ব্যবসা একটি ব্যবসাকে দাড় করিয়ে দিতে পারবেন। আবার কিছু কিছু ক্ষেএে আপনার ১০ লাখ টাকাও ইনভেস্ট করতে হতে পারে।

তবে যদি আপনার ইনভেস্ট করার মতো তেমন শক্তি না থাকে। তাহলে আপনি চাইলে ১ লাখ দিয়েও পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

আর আপনার যদি ইনভেস্ট করার মতো শক্তি থাকে৷ তাহলে তো আপনার কোনো প্রকার সমস্যা থাকার কথা না। 

লাভজনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া

যাক এবার আমরা মূল টপিকে ফিরে এসেছি। যেহুতু আমাদের আজকের আর্টিকেল এর মূল টপিক ছিলো, পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে।

সেহুতু এবার আপনি কিছু সবচেয়ে লাভজনক পাইকারি বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।

যেগুলো বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে। এবং উক্ত স্টক মালের ব্যবসা করে এমন অনেকেই আছেন। যারা প্রচুর পরিমানে টাকা ইনকাম করতে পেরেছেন।

তো এমন অনেক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া রয়েছে। তবে তার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবসা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

# No-01: কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা

আমরা জানি বর্তমানে অন্যান্য ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো, কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা।

আর অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ পোশাক শিল্প থেকে প্রচুর পরিমান টাকা আয় করে আসছে। সেজন্য আমাদের দেশে গার্মেন্টস শিল্পের চাহিদা দিন কে দিন বেড়েই চলেছে।

তো এই দিক গুলো মাথায় রেখে আপনিও কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সেক্ষেএে সবার আগে আপনাকে এমন কোনো কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

যারা মূলত আপনাকে ন্যায্য মূল্যে পাইকারি রেটে কাপড় দিতে পারবে।

এরপর আপনি সেই কাপড় গুলোকে নিয়ে এসে আপনার সংরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করে রাখবেন। এবং পরবর্তীতে আপনার সুবিধা মতো সেই কাপড় গুলো কে খুচরো বিক্রেতার নিকট বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। 

#No-02: জুতার পাইকারি ব্যবসা

অন্যান্য ব্যবসার মতো আরও একটি জনপ্রিয় ব্যবসা হলো, জুতার পাইকারি বিজনেস। যা পূর্বের তুলনায় এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এবং অনেকেই আছেন যারা জুতার ব্যবসা দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার এর শুরুটা করতে পেরেছে।

কারন পোশাকের মতো জুতা কিন্তুু আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি বস্তুু। আর এই জুতার ব্যবসাতে কিন্তুু অধিক পরিমানে লাভ করা সম্ভব।

যদি আপনি পাইকারি জুতার ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনি চাইলে নিজে থেকেও জুতা উৎপাদন করতে পারবেন। তবে সেজন্য আপনাকে আরও বেশি পরিমানে ইনভেস্ট করতে হবে।

অন্যথায় আপনি চাইলে অন্য কোনো জুতা তৈরির কোম্পানি থেকে অনেক কম মূল্যে জুতা কিনে। সেগুলো কে বেশি দামে খুচরো বিক্রেতার নিকট সেল করতে পারবেন। 

#No-03: কাঁচামালের পাইকারি ব্যবসা

এখানে আমি কাঁচামাল শব্দটি বলতে কৃষি খাতে উৎপাদিত পন্য গুলোকে বোঝাতে চেয়েছি। আমরা খাবারের সময় যেসব তরিতরকারি খাই। সেগুলোকে বোঝানোর জন্য আমি কাঁচামাল শব্দটির ব্যবহার করেছি।

তো আমরা জানি যে এইসব তরিতরকারি গুলো কিন্তুু গ্রাম অঞ্চলে উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এবং আমরা নিত্যদিন যে এগুলো কিনে থাকি। সেগুলো কিন্তুু সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেই না।

এখানে কৃষকরা প্রথমে উৎপাদন করে। এরপর তারা সেই উৎপাদিত তরিতরকারি গুলো কোনো আড়তদার এর কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর সেই আড়তদার আবার একস্থান থেকে অন্য স্খানে গিয়ে সেগুলো কে বেশি দামে বিক্রি করে থাকে।

তো আপনি চাইলে এই কাঁচামালের ব্যবসার আইডিয়া কে কাজে লাগাতে পারেন। কেননা, এটি কিন্তুু অন্যান্য ব্যবসার মতো খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। 

#No-04: মুদি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা

আমরা যেসব দোকান গুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেই। যেমন, তেল, গুরা দুধ, লবন, সাবান ইত্যাদি। এইসব দোকান গুলো কে বলা হয়, মুদির দোকান।

কিন্তুু তাই বলে আবার ভাইবেন না যে, আপনাকে এই ব্যবসা করার জন্য তাদের মতো মুদিখানার দোকান নিয়ে বসে থাকতে হবে।

না! আপনি কোনো দোকানে বসবেন না। বরং আপনি মুদি পন্যের পাইকারি ব্যবসা করবেন। সেজন্য আপনাকে মুদি দোকানে বিক্রি হয়। এমন পন্য গুলোকে নিয়ে পাইকারি ব্যবসা করতে হবে।

-কি বোঝেন নাই, তাইনা?

ওকে! মনে করুন, মুদি দোকানে সাবান বিক্রি হয়। এটা তো আমরা সবাই জানি। এখন আপনি সাবান তৈরি করার কোম্পানি থেকে সরাসরি সাবান নিলেন।

এবং যখন আপনি সরাসরি কোম্পানি থেকে একসাথে অনেক গুলো সাবান কিনবেন। তখন কোম্পানি আপনাকে অনেক ছাড় দিবে।

এবার আপনি কোম্পানি থেকে নিয়ে আসা সবান গুলোকে মার্কেটে এসে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে রেগুলার প্রাইজে সেল করে দিলেন। এতে করে কিন্তুু আপনি অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। 

#No-05: টি-শার্টের পাইকারি ব্যবসা

বর্তমানে পোশাক এর মধ্যে T-shirt অনেক বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। আর আপনি যদি এই সুযোগ কে কাজে লাগাতে পারেন। তাহলে পাইকারি টি-শার্ট বিক্রি করেও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

সচারাচর যে কোম্পানি গুলোতে টি-শার্ট তৈরি করা হয়। তারা আপনাকে পাইকারি রেটে অনেক কম প্রাইজে উক্ত শার্ট গুলো প্রদান করবে।

এরপর আপনি সেই টি-শার্ট গুলোকে খুচরা বিক্রেতার কাছে অনেক বেশি লাভে বিক্রি করতে পারবেন।

যদি আপনি T-Shirt এর পাইকারি বিজনেস করতে চান। তাহলে চেস্টা করবেন Blank Shirt নেয়ার জন্য। এরপর সেগুলোকে বাড়িতে এনে আপনি নতুন করে তাদের (Design) করলে আরো বেশি দামে সেল করতে পারবেন। 

#No-06: শার্ট ও প্যান্টের পাইকারি ব্যবসা

পাইকারি বিজনেস আইডিয়া হিসেবে আপনি যদি এই ব্যবসায় নিজেকে জড়াতে পারেন। তাহলে কিন্তুু আপনি এই ব্যবসা থেকেও দ্বিগুন পরিমানে আয় করতে পারবেন।

এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা এই ব্যবসা করে নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়ে নিতে পেরেছেন।

তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে। সেটি হলো যদি আপনি শার্ট ও প্যান্টের পাইকারি ব্যবসা করতে চান। তাহলে কিন্তুু আপনার মোটা অংকের টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে।

কেননা, এই শার্ট বা প্যান্ট আপনি যতোই পাইকারি দামে কিনেন না কেন। আপনাকে অবশ্যই ৫-১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে।

তবে আপনি যদি চান যে, খুব স্বল্প পরিসরে শুধু ব্যবসাটা শুরু করবেন। তাহলে আপনি ১ লাখ টাকা ইনভেস্ট করেও উক্ত ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। 

#No-07: স্টেশনারি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা

আমরা যেসব দোকান থেকে খাতা, কলম, ফটোকপি ইত্যাদি কিনে নেই। সেইসব দোকান গুলোকে বলা হয়, স্টেশনারি। তো আপনি চাইলে এই ব্যবসা করেও বেশ ভালো পরিমানে টাকা আয় করতে পারবেন।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন। যারা মূলত বেকার অথচ শিক্ষিত। তাদের জন্য একটা মানসম্মত পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া হলো, স্টেশনারি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা করা।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কেন শিক্ষিত বেকারদের জন্য এই ব্যবসাটি উপযুক্ত? তাহলে শুনুন…..

এই ব্যবসাটি উপযুক্ত হওয়ার প্রধান কারন হলো, এটি অনেক কম ইনভেষ্টমেণ্ট দিয়েও শুরু করা সম্ভব। আর যারা মূলত বেকার যুবক, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেএে অধিক ইনভেস্টমেন্ট করা পসিবল হবে না।

তাই কম পরিমান ইনভেস্ট দিয়ে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো, স্টেশনারি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা।

#No-08: কসমেটিকস সামগ্রীর পাইকারি ব্যবসা

আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন, কারন বর্তমানে কসমেটিকস সামগ্রীর রমরমা পাইকারি ব্যবসা চলছে। আপনি পুরুষ হোন কিংবা মহিলা হোন, সবার জন্য উপযুক্ত একটি ব্যবসার নাম হলো, কসমেটিকস সামগ্রীর পাইকারি ব্যবসা।

যা থেকে আপনি প্রচুর পরিমানে মুনাফা লাভ করতে পারবেন।

আপনি হয়তবা জেনে থাকবেন যে, পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি কসমেটিকস পন্য গুলোর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এখন আপনি যদি সেই কসমেটিকস পন্য গুলোকে অনেক কম দামে কিনে।

তারপর সেগুলোকে বেশি দামে সেল করতে পারেন। তাহলে আপনি এই বিজনেস থেকে বিপুল পরিমান অর্থ ইনকাম করে নিতে পারবেন। 

#No-09: উপহার সামগ্রীর পাইকারি ব্যবসা 

এই ব্যবসাটি দেখতে অনেকটা সাধারন মনে হলেও, আপনি যদি সঠিকভাবে এই ব্যবসাটি করতে পারেন। তাহলে অন্যান্য ব্যবসার মতো এখানেও আপনি অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন।

তবে একটা কথা না বললেই নয়। সেটি হলো আপনি যদি উপহার সামগ্রীর ব্যবসা করতে চান। তাহলে আপনি একটি বা দুটি পন্য নিয়ে উক্ত ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারবেন না।

সেক্ষেএে আপনাকে ভ্যারাইটিজ পন্য নিয়ে এই বিজনস টি পরিচালনা করতে হবে। তাহলে আপনি মোটা অংকের টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

#No-10: ইলেকট্রিক পণ্যের পাইকারি ব্যবসা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইলেকট্রিসিটি। যা আমরা প্রতিদিন কাজে লাগিয়ে থাকি। আর এর ফলে আমাদের প্রতিনিয়ত ইলেকট্রনিক পন্য গুলোর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

তাই আপনি চাইলে পাইকারি ব্যবসাটি ইলেকট্রিক পন্য দিয়েও শুরু করতে পারবেন।

তবে আপনি যদি এই বিজনেস টি করতে চান ৷ তাহলে আপনি এখানে অনেক গুলো ক্যাটাগরি দেখতে পারবেন। এখন আপনি যদি বেশি ক্যাটাগরি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চান।

তাহলে আপনাকে মোটা অংকের টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে। অন্যথায় আপনি স্বল্প ক্যাটাগরির পন্য গুলোকে নিয়ে এই বিজনেস শুরু করতে পারবেন। যেমন, সুইচ, চক, ফ্যান, হিটার ইত্যাদি। 

#No-11: রেডিমেড চানাচুর এবং বিস্কুট

যদি আপনি কম ইনভেষ্ট থেকে বেশি মুনাফা লাভ করতে চান। তাহলে আপনার জন্য একটি উপযুক্ত ব্যবসা রয়েছে। সেটি হলো, রেডিমেড চানাচুর এবং বিস্কুট এর পাইকারি ব্যবসা করা ৷

আমরা মূলত অনেক উৎপাদন ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তুু এখানে আপনি চানাচুর এবং বিস্কুট তৈরি করে। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি পাইকারি রেটে কিনে নেয়ার পর।

আপনার জন্য আরো… 

সেগুলোকে অন্যান্য খুচরো দোকান গুলোতে বিক্রি করে বেশ ভালো পরিমানে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। 

#No-12: বাচ্চাদের খেলনার পাইকারি ব্যবসা (toys)

সচারচর এই ব্যবসাটি অনেক জনপ্রিয় হওয়ার সত্বেও আমাদের তেমন নজরে পড়ে না। কিন্তুু অবাক করা বিষয় হলো, এমন অনেকেই আছেন যারা মূলত বাচ্চাদের খেলনার পাইকারি ব্যবসা করে বেশ ভালো পরিমানে ইনকাম করে আসছেন।

যদি আপনার ইনভেষ্ট এর পরিমান বেশি থাকে। তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে এই বিজনেসটি শুরু করে দিতে পারবেন। এবং উক্ত সাপ্লাই ব্যবসা থেকে আপনিও অন্যদের মতো অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। 

নতুন পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া 2021

এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ধরনের পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। যেখানে আপনি কম বা বেশি ইনভেষ্ট করে বেশ ভালো পরিমানে মুনাফা লাভ করতে পারবেন। যেমনঃ 

  • ফার্নিচার ব্যবসা। 
  • চা পাতার ব্যবসা। 
  • রেডিমেট গার্মেন্টস ব্যবসা।
  • চকলেট এর পাইকারি ব্যবসা
  • মাছের পাইকারি ব্যবসা।
  • চালের পাইকারি ব্যবসা। 
  • থ্রি পিস এর পাইকারি ব্যবসা। 
  • ফলের ব্যবসা।
  • মৌসুমি ফসলের ব্যবসা। 

আমাদের শেষকথা

যদি আপনি আজকের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন। তাহলে আশা করা যায় আপনি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।

কেননা, এই আর্টিকেল এ আমি পাইকারি বিজনেস আইডিয়া গুলো নিয়ে বিষদভাবে আলোচনা করার চেস্টা করেছি।

এরপরও যদি আপনার পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকে। তাহলে ছোট্ট করে একটা কমেন্ট করবেন। আমি আপনার কমেন্ট এর অপেক্ষায় থাকবো।

বাংলা আইটি ব্লগের সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap