ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকাম করার ১২ টি সহজ উপায়

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকামঃ বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। আর ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে মানুষ গতানুগতিক জব করার চেয়ে অনলাইনে ইনকাম করতেই বেশি আগ্রহবোধ করে।

তবে বর্তমানে অনলাইনে আয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করার এক সুবর্ণ সুযোগ। পড়ালেখার পাশাপাশি যদি নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচটা নিজেই জুগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে মন্দ হয়না বলুন?

অনলাইন ইনকাম ছাত্রদের জন্য
অনলাইন ইনকাম

এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা নিজেদের ভরনপোষণ করে, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খান।  এই অবস্থায় যদি ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই নিজেদের পড়াশোনার খরচটা অনলাইনে আয় করে চালিয়ে নেয়, তাহলে তো সব সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়।

তবে এর মানে এই না যে, অনলাইনে আয় শুধুমাত্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের অনলাইন আয় করে।  আমার মনে হয়, প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীরই নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে আয় করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়া উচিত।

বর্তমানে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে ইনকাম করে নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করে নিচ্ছে। আবার এমনও অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা এই অনলাইনে আয় করাকেই নিজেদের ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করছে।

আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন এবং অনলাইনে আয় করার উপায় খুঁজে থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আমরা এই আর্টিকেলে ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকাম করার যাবতীয় উপায় তুলে ধরবো।  

অনলাইনে ইনকাম করার ১২ টি সহজ উপায়

বর্তমানে ইন্টারনেটে আয় করার অনেক উপায় রয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দিন দিন এটি বিস্তার লাভ করছে। এখন যেকেউ চাইলেই কিছু বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে ঘরে বসেই খুব সহজে আয় করতে পারে লাখ লাখ টাকা।

অনলাইনে ইনকাম করতে যেহেতু ধরাবাঁধা সময়ের প্রয়োজন নেই, তাই ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সহজেই নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি এই অনলাইনে আয়  করতে সক্ষম হবে। আমরা শিক্ষার্থীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে ১২ টি সহজ ছাত্রদের অনলাইন আয় অনলাইনে ইনকাম এর উপায় তুলে ধরছি;

১. ব্লগিং করে ইনকাম করা

অনলাইনে ইনকাম এর সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক উপায় হচ্ছে ব্লগিং করে আয়। আপনার যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে এবং লেখালেখির উপরে মোটামুটি ভালো একটা দখল থাকে, তবে ব্লগিং আপনার জন্যই।

বর্তমানে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা ব্লগিং করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এর জন্য আপনার প্রয়োজন পরবে একটা ওয়েবসাইট বা ব্লগের। আপনি ফ্রিতে ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন।  আপনি আপনার ব্লগে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। 

আপনি আরো পড়ুন…

আর ছাত্রদের অনলাইন আয় নিয়ে আমাদের বাংলা আইটি ব্লগের আরো অনেক ইনকামের আর্টিকেল আছে । আপনি চাইলে আমাদের ব্লগ থেকে বাকি আর্টিকেল গুলা পড়তে পারেন।

তবে ব্লগে গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পেতে আপনাকে কিছু বিষয়ের উপর জোর দিতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিষয়গুলোঃ

  • আপনাকে আপনার ব্লগে ইউনিক এবং সম্পূর্ণ কপিরাইট ফ্রি আর্টিকেল পাবলিসড করতে হবে।
  • এমন আর্টিকেল লিখবেন যা অন্যদের উপকারে আসে।
  • মিনিমাম ১০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখতে চেষ্টা করবেন। শব্দ সংখ্যা যতো বেশি হবে ততোই ভালো। তবে শব্দ সংখ্যা বেশি করতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা নিয়ে আসবেন না যেনো।
  • এসইও অপটিমাইজড আর্টিকেল লিখার চেষ্টা করবেন।

আপনি ওয়েবসাইটটি খুলে সেখানে নিয়মিত ইউনিক এবং কপিরাইট ফ্রি আর্টিকেল লিখতে থাকুন। এবং গুগল এডসেন্সের জন্য আবেদন করে রাখুন।

আপনার ব্লগে ভিজিটর কিংবা ট্রাফিক মোটামুটি হলে গুগল এডসেন্স এপ্রুভাল পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগটি যদি জনপ্রিয় হয় তবে আপনি আপনার ব্লগে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারবেন। 

২. ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করা

বর্তমানে বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের আনাগোনা হয় এই ইউটিউবে।  ইউটিউবে শিক্ষণীয় ভিডিও থেকে শুরু করে গেমিং, পর্যটন বিষয়ক ভিডিও, বিনোদন বিষয়ক ভিডিও প্রায় সব ধরনের ভিডিওর ছড়াছড়ি। 

মানুষ তাঁদের ইচ্ছেমতো যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের ভিডিও পেয়ে যায় এই ইউটিউবে। মূলত এই কারণেই এখানে মানুষের এতো আনাগোনা।

আপনিও চাইলেই ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন ঘরে বসেই। এর জন্য আপনার প্রয়োজন পরবে একটি ইউটিউব চ্যানেলের। আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতেই একটি ইউটিউব চ্যানেল বানাতে পারবেন। 

এরপর আপনার কাজ হলো ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করা। তবে ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে আপনার কিছু বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কেঃ

  • আপনাকে আপনার চ্যানেলটিতে নিজের তৈরি ভিডিও আপলোড দিতে হবে। অন্য কারো ভিডিও, মিউজিক কিংবা কোনো ছবি কপি করতে পারবেন না।
  • এমন বিষয়ে ভিডিও বানাবেন যা দেখতে ভিউয়াররা বেশি আগ্রহী।  যার বর্তমান এবং ভবিষ্যতে চাহিদা রয়েছে। 
  • আপনি বিভিন্ন বিষয়ে ভিডি বানাতে পারেন। হতে পারে তা বিনোদন,  গেমিং,  যেকোনো বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা (যেমন; নাচ, গান,  ছবি আঁকা,  ক্র্যাফট ইত্যাদি),  শিক্ষণীয় ভিডিও।
  • তবে আপনি এমন বিষয়ে ভিডিও বানাবেন যে বিষয়ের উপর আপনার স্বাচ্ছন্দ বা আগ্রহ কাজ করে। নিজের উপর জোর কাটাতে হয়, এমন বিষয়ে ভিডিও না বানানোই ভালো। 
  • ভিডিও করার ক্ষেত্রে উপস্থাপনার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  যেকোনো বিষয় ভালোভাবে উপস্থাপনা করতে পারলে দর্শক বাড়বে।

এরপর আপনি আপনার ভিডিওতে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন আজীবন। তবে আপনার চ্যানেলটি মোটামুটি জনপ্রিয় হলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারবেন । 

৩.  ড্রপ শিপিং থেকে আয় করা

বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম করার একটি লাভজনক উপায় হচ্ছে এই ড্রপ শিপিং। এর জন্য আপনার নিজের কোনো পণ্যের প্রয়োজন পরবে না। ড্রপ শিপিং বলতে বুঝায় আপনি অন্য কোনো ই-কমার্স সাইটের পণ্য নিজে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আয় করবেন।

এর জন্য আপনার কোনো বিনিয়োগেরই প্রয়োজন পরবে না। তবে আপনার অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে।

চলুন একটি সহজভাবে বুঝিয়ে দেই৷ অ্যামাজন, আলীবাবা ইত্যাদি জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই?  আপনার কাজ হলো বিভিন্ন ই-কমার্সের পণ্য যে দামে বিক্রি করার কথা তার চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ঐ পণ্যটিকে নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করা।

এখন আপনি যতটুকু বেশি দাম দিয়ে পণ্যটা বিক্রি করলেন ঐ অতিরিক্ত মুনাফাটুকুই হবে আপনার লাভ।

৪. আর্টিকেল রাইটিং করে আয় 

আপনি কী লেখালেখি করতে ভালোবাসেন? লেখালেখির উপর মোটামুটি লেভেলের একটা দখল আছে আপনার? তাহলে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট রাইটিং নিয়ে ভাবতে পারেন।

মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুগলে সার্চ করে থাকে। আর সেজন্য বিভিন্ন ব্লগারের প্রচুর আর্টিকেলের প্রয়োজন পরে। তাই আপনার আর্টিকেল লেখা নিয়ে কাজের অভাব হবে না।

আপনার জন্য আরো…

বর্তমানে এতো এতো ব্লগ আছে যে, ঐসব ব্লগে নিত্যনতুন আর্টিকেলের প্রয়োজন পরে। আপনি আর্টিকেল লিখে প্রতিদিন খুব ভালোমানের আয় করতে পারবেন ঘরে বসেই। 

ছাত্র – ছাত্রীদের জন্য এই আর্টিকেল লিখাটা আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয় এবং সহজ উপায় মনে হয়।  প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করে বেশ মোটা অঙ্কের আয় করা যায় এই কন্টেন্ট রাইটিংয়ের মাধ্যমে। 

আপনার ইংরেজির উপর ভালো দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই আর্টিকেল লিখে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।  তবে বর্তমানে বাংলা আর্টিকেল লিখার জন্যও অনেক অনেক জনপ্রিয় সাইট রয়েছে।

৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত অথচ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের নাম শুনেন নি এমন কেউ আছেন নাকি? উত্তরটা অবশ্যই না। আমরা যারা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যুক্ত তারা সবাই মোটামুটি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সাথে পরিচিত।

বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম এর জনপ্রিয় এবং একটি লাভজনক উপায় হচ্ছে এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।  Affiliate marketing বলতে বুঝায় যেকোনো ই-কমার্স সাইটের পণ্য প্রমোট করে বিক্রি করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আয় করা। 

অর্থাৎ আপনার কাজ হলো যেকোনো ই-কমার্স সাইটের পণ্যকে বিভিন্নভাবে প্রচার করে ঐ পণ্যের বিক্রি করিয়ে দেওয়া। আর এর জন্য ঐসব সাইট আপনাকে কমিশন দেবে।

আপনি এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ঘরে বসেই অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।  আপনি আপনার নিজের যেকোনো ব্লগ, ইউটিউব ভিডিও কিংবা যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের পণ্যের লিংক শেয়ার করবেন। 

যখন কোনো কাস্টমার আপনার শেয়ার করা লিংকে প্রবেশ করে কোনো পণ্য কিনবে,  তখন ই-কমার্স সাইট থেকে আপনাকে কমিশন দেওয়া হবে। মূলত এইভাবেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন আপনি।

৬. ই-বুক লিখে আয় করা

ছাত্রদের জন্য অনলাইন ইনকামের সেরা উপায় হতে পারে এই ই-বুক লিখা। আপনার যদি লেখালেখির উপর দক্ষতা থাকে, তবে ই-বুক লিখে আপনি আয় করতে পারবেন সহজেই।

আপনি যেকোনো বিষয়ের উপর ই-বুক লিখতে পারবেন। তবে এমন বিষয়ে লিখার চেষ্টা করবেন, যে বিষয়ে পাঠকের আগ্রহ কাজ করে।

যেকোনো বিষয়ে লিখার পূর্বে সে বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে অনুসন্ধান করবেন এবং একটি স্বচ্ছ ধারণা নিয়েই লিখা শুরু করবেন। মনে রাখবেন আপনার লিখা যতো সুন্দর ও আকর্ষণীয় হবে পাঠক ততো বেশি হবে। আর আপনার ইনকামও তার সাথেই বাড়বে।

বর্তমানে ই-বুক লেখার জন্য অনেক জনপ্রিয় সাইট রয়েছে। “অ্যামাজনের কিন্ডল ডিরেক্ট পাবলিশিং ই-বুক” এমনই জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম, যেখানে আপনি আপনার ই-বুকটি পাবলিসড করে আয় করতে পারবেন। 

৭. অনলাইন ফটো বিক্রি করে আয়

আপনি কী ছবি তুলতে ভালোবাসেন? নিজের কিংবা বন্ধুদের সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে দেওয়ার জন্য আপনি ইতোমধ্যে ফটোগ্রাফার নামও পেয়ে গেছেন?

 আমরা প্রায় সবাই টুকটাক ছবি তুলতে অভ্যস্ত।  সেটা হোক নিজের, বন্ধুদের কিংবা প্রাকৃতিক কোনো ছবি। কিন্তু শখের বসে তোলা এই ছবিগুলো বিক্রি করে যদি কিছু আয় করা যায়, তবে কেমন হয় বলুন তো?

ছবি বিক্রি করে আয়? হা হা, মজা করছেন নিশ্চয়ই?  জি না, আমি পুরোপুরি সত্যি বলছি। বর্তমানে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা তাঁদের নিজেদের বিভিন্ন কাজে অনলাইনে বিভিন্ন সাইট থেকে ফটো কিনে থাকেন। আর যারা এই ফটোগুলো দিয়ে থাকেন, তাঁরা আপনার, আমার মতোই মানুষ।

আপনার যদি ভালো ফটো তোলার দক্ষতা থাকে তবে এই ফটো বিক্রি করেই আয় করতে পারবেন অনলাইন থেকে। অনলাইনে ফটো বিক্রির অনেক জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত সাইট রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি ফটো বিক্রির প্লাটফর্ম হলো আইস্টক, ফটোড্যুন, শাটারস্টক ইত্যাদি যেখানে আপনি আপনার তোলা ছবি বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। 

৮. গ্রাফিক ডিজাইন করে আয় করা

বর্তমানে অনলাইনে ইনকাম এর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং চাহিদাসম্পন্ন কাজ হলো এই  গ্রাফিক ডিজাইন৷ ঘরে বসে মোটা অঙ্কের আয় করার মাধ্যম এটি। তবে এর জন্য আপনার অবশ্যই বিভিন্ন ডিজাইনের উপর দক্ষতা থাকা লাগবে।

আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ জানেন তবে যেকোনো মার্কেটপ্লেসে নিজের করা ডিজাইন বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য আপওয়ার্ক,  ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার ইত্যাদি আরো অনেক জনপ্রিয় সাইট রয়েছে। প

তবে আপনার যদি গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকে, তবে আপনি চাইলে প্রথমে এ বিষয়টি শিখে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভালোমানের প্রতিষ্ঠানের, যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখিয়ে থাকেন। 

তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় বর্তমানে ইউটিউবে এ নিয়ে অনেক ভিডিও আছে। আপনি চাইলে ফ্রিতে ইউটিউব ভিডিও দেখেও গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে পারবেন। 

তবে এর জন্য আপনার নিয়মিত অনুশীলন করার অভ্যাস করতে হবে এবং ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে পারলে এ থেকে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে আয় করতে সক্ষম হবেন।

৯. ই-কমার্স থেকে ইনকাম করা

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকাম করার একটি লাভজনক উপায় হল এই E-commerce।  এখানে ই-মানে হলো ইলেকট্রনিক এবং কমার্স বলতে বুঝায় বিজনেস বা ব্যবসা৷ অর্থাৎ ই-কমার্স বলতে বুঝায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্য অনলাইনের মাধ্যমে বিজনেস করা।

অনলাইনে পণ্য বা সার্ভিস বেচা-কেনা এর আওতাভুক্ত। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ছোঁয়া মার্কেটেও পরেছে। মানুষ এখন ট্রাডিশনাল মার্কেট থেকে কিছু কেনার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছে।

এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে পারেন আপনি। ক্রেতারা পছন্দ করে এমন জিনিস দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার ই-কমার্স। এক্ষেত্রে এমন সব পণ্য আপনার ই-কমার্স সাইটিতে রাখবেন যার চাহিদা ক্রেতাদের কাছে প্রচুর।

আরো পড়তে পারেন…

তবে ই-কমার্স সাইটে সফল হতে হলে আপনাকে কিছু বিষয় ফলো করতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক সে-সম্পর্কে ;

  • অবশ্যই এমন পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করবেন যা কিনতে ক্রেতারা আগ্রহবোধ করে। 
  • অবশ্যই ভালোমানের পণ্য ক্রেতাদের সরবরাহ করবেন, এতে আপনার উপর ক্রেতাদের আস্থা জন্মাবে। ফলে পরবর্তীতেও ক্রেতারা আপনার থেকে কিনতে চাইবে।
  • প্রথম দিকে প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে অন্য সাইটের চেয়ে একটু সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে চেষ্টা করবেন। এতে ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে।

১০. সার্ভে কাজ করে আয়

ছাত্রদের জন্য সার্ভে করে আয় করা খুব সহজ একটা কাজ। সার্ভে মানে হলো মতামত দেওয়া, যা বাংলাতে জরিপ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন কোম্পানি তাঁদের নিজেদের পণ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মতামত নিতেই মূলত সার্ভেগুলো করে থাকে। বিভিন্ন সাইটকে এই সার্ভেগুলো করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সার্ভে করে আয় করার  অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনার কাজ হলো এই সাইটগুলোতে একাউন্ট খুলে বিভিন্ন সার্ভেতে অংশ নেওয়া।

আপনি এই সার্ভেগুলো প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিট ব্যয় করেই সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন।  প্রত্যেকটা সার্ভে করার জন্য আপনি কতো টাকা পাবেন তা সার্ভে করার শুরুতেই বলে দেওয়া হবে।

সার্ভে করা খুব কঠিন কিছু না। এর জন্য আপনার বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকারও প্রয়োজন নেই। খুব সাধারণ এবং সহজ টাস্ক দিয়েই করানো হয় এই সার্ভেগুলো। 

১১. অনলাইন শিক্ষকতা করে ইনকাম

বাসায় বাসায় গিয়ে টিউশন করানোটা প্রায় ছাত্রদেরই ইনকাম করানোর  একমাত্র উপায়। তবে বর্তমানে মানুষের যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন বলুন কিংবা কোনো বিষয় জানার হলেও মানুষ অনলাইনের সাহায্য নেয়।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অনলাইন শিক্ষকতা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশেও এর বিস্তার লাভ করছে দিন দিন। আপনি চাইলে ঘরে বসেই এখন টিউশনির কাজটা করে ইনকাম করতে পারবেন।

আপনার জন্য আরো আর্টিকেল-

এছাড়াও আপনার কোনো বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকলে সে বিষয়ের উপর ভিডিও কোর্স তৈরি করেও আয় করতে পারেন ঘরে বসেই। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

এমন বিষয়ের উপর কোর্স বানাবেন যা আসলেই অন্যদের উপকারে আসে। এবং যে বিষয়ে কোর্স তৈরি করবেন সেটি এমনভাবে করবেন যেনো অন্যরা সহজেই বুঝতে সক্ষম হোন।

১২. প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে আয় করা

এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার মেধা আর সাথে একটু চালাকি যোগ করলেই আয় করতে পারবেন ঘরে বসেই। আপনি যদি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন, যেমন; গণিত, ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি  তাহলে এই উপায়ে সহজেই ইনকাম করতে পারবেন আপনি।

আপনার কাজ হলো অন্যদের জিজ্ঞেস করা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া। আপনি যদি সঠিক এবং নির্ভুল উত্তর দিতে পারেন,  তবে বিভিন্ন সাইট থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করে আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। 

আপনি এই সাইটগুলোতে জয়েন হয়ে নিয়মিত মানুষের প্রশ্নের সমাধান দিয়ে সহজেই আয় করতে পারবেন।

আমাদের শেষ কথা

বর্তমান যুগ তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। আর এই তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ ঘরে বসে প্রতিনিয়ত ইনকাম করছে লাখ লাখ টাকা। অনেকে নিজেদের চাকরির পাশাপাশি পার্ট টাইম হিসেবে এই অনলাইন আয়কে বেছে নিয়েছে।

তবে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাও এখন তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি  অনলাইনে ইনকাম করে নিজেদের খরচ জোগিয়ে নিচ্ছে। আমরা এই আর্টিকেলে ছাত্রদের জন্য অনলাইনে ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ এবং লাভজনক কয়েকটি উপায় তুলে ধরেছি।

আপনার যদি অনলাইনে  আয় করার ইচ্ছা থাকে, তবে আমাদের দেওয়া উপায়গুলোর মধ্যে আপনার পছন্দমতো কাজটি বেছে নিয়ে কাজে লেগে পড়ুন। ধৈর্য্য আর একাগ্রতার সহিত লেগে থাকলে আপনিও অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। 

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের অনলাইনে আয় করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও আপনাদের কোনো বিষয় জানার থাকলে আমাদেরকে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। 

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap