অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার উপায় – বাংলা আইটি ব্লগ

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয়ঃ  সময় এগিয়ে যাচ্ছে, সাথে এগিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। সময়ের স্রোতে পুরনো সবকিছু হারিয়ে গিয়ে আসছে নতুন নতুন সব চমৎকার বিষয়। হ্যা এখন অনলাইনে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করা যায়। 

এইত সেকালের কথা প্রায়ই অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য স্টুডিও থেকে লোক ভাড়া করা হতো। সেই লোকগুলো বড় বড় ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়ে যেতো যথাস্থানে। সেই ছবি আবার সাথে সাথে দেখতে পাওয়া যেত না।

ওয়াশের পর দেখতে পাওয়া যেতো কাঙ্ক্ষিত ছবি মানে প্রায় সব অনুষ্ঠানে যেমনঃ বিয়ে, বনভোজন, ভ্রমণ, আড্ডা ইত্যাদি সব স্থানেই নিমিষেই অনেক ছবি তোলা হচ্ছে।

কেউ বা তুলছে সাধারণ  ক্যামেরায় ছবি আবার কেউবা তুলছে কয়েকশ সেলফি। কেবল মোবাইলে ভালো সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা আর মোবাইল ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ভালো  ধারণা থাকলেই তোলা যায় নানারকম ছবি।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয়
অনলাইনে ছবি বিক্রি কর আয়

ডিজিটাল ক্যামেরা থাকলে তো কথাই নেই। পাশাপাশি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নানারকম ছবির চাহিদা তো বেড়েই চলেছে ৷ দেশি-বিদেশি নানা মানুষ অনলাইনের মাধ্যমে ছবি কিনে নিচ্ছে বিক্রেতার কাছ থেকে।

কিভাবে অনলাইনে ছবি বিক্রি করে যে-কেউ টাকা উপার্জন করতে পারে, সে বিষয়েই আজকের আলোচনা। চলুন জেনে নেওয়া যাক ছবি বিক্রি করে ইনকাম করার উপায় সমূহ।

অনলাইনে ছবি বিক্রয় করে ইনকাম করার আগে আপনাকে একজন ভাল ফটোগ্রাফার হতে হবে। কারণ ভাল ভাবে ছবি না তুলতে পারলে কিভাবে মানুষ আপনার ছবি কিনতে চাইবে? তাহলে চলুন আগে জানি কিভাবে ফটোগ্রাফি শুরু করবেন।

কিভাবে ফটোগ্রাফি শুরু করব?

অনেকেই ভাবতে পারেন,শুধুমাত্র পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিকে বেছে নিলে হয়ত ভালো ছবি তোলা এবং তা বিক্রি করা সম্ভব। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তা নয়।

যেকোনো পেশার মানুষই ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখলে ছবি তুলতে এবং বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ভালো আইডিয়া পেতে হলে আপনি ভালো ফটোগ্রাফার এর সহযোগিতা নিতে পারেন।

তাছাড়া বর্তমানে অনলাইনে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ওয়েবসাইট ফটোগ্রাফি নিয়ে পেইড এবং নন-পেইড বিভিন্ন রকমের কোর্স চালু করেছে। এসব কোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিখে নিতে পারেন ফটোগ্রাফি এবং হয়ত পেয়ে যেতে পারেন একটি সার্টিফিকেট ও।

এছাড়া গুগল, ইউটিউবে ও ফটোগ্রাফি সংক্রান্ত অসংখ্য ভিডিও এবং আর্টিকেল রয়েছে যার মাধ্যমে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে পারেন।

কি কি লাগবে অনলাইনে ছবি বিক্রি করতে?

অনলাইনে ছবি বিক্রি করার জন্য বেশ কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন। প্রফেশনাল  ফটোগ্রাফার হোক বা শখের ফটোগ্রাফার, অনলাইনে উভয়েই উপার্জন করতে পারবেন।

তবে তার জন্য যা যা প্রয়োজন তা হলোঃ একটি ভালো ডিজিটাল ক্যামেরা (ডিএসএলআর), ইন্টারনেট সংযোগ এবং এডোবি ফটোশপ ব্যবহারের দক্ষতা।

আপনার জন্য আরো পোস্ট…

যাদের ডিজিটাল ক্যামেরা নেই, তারা বিকল্প হিসেবে ভালো ক্যামেরা রেজুলেশনযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন। তবে সব মার্কেটপ্লেসে স্মার্টফোনে তোলা ছবি বিক্রি করা যায় না, এই ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে।

কি ধরনের ছবি তুলতে পারেন?

প্রসঙ্গক্রমে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, কি ধরনের ছবি তোলা যায় এবং মার্কেটপ্লেসে দেওয়া যায়। সচরাচর কিছু ক্যাটাগরি রয়েছে যে ক্যাটাগরির ছবি যেকোন ধরনের মানুষই খুব বেশি পছন্দ করে। নিচে এই ধরনের ক্যাটাগরি গুলো আলোচনা করা হল।

প্রকৃতির ছবি

সাধারণত প্রকৃতির ছবিগুলোকে মানুষকে খুব বেশি আকৃষ্ট করে। বাংলাদেশ প্রকৃতিগত দিক থেকে বেশ মনোরম হওয়ায় আপনি খুব সহজেই প্রকৃতি নানা দৃশ্য, পাখপাখালি, নদী প্রভৃতির দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দী করে নিতে পারেন। কেননা আপনি যদি গুগলে এর সার্চ দেখেন তাহলেই বোঝতে পারবেন।

এবস্ট্রাকট ছবি

এই ধরনের ছবিগুলো সাধারণত খুব কাছ থেকে তোলা হয়ে থাকে। খুব সূক্ষ্ম জিনিসগুলো জুম লেন্সের সাহায্যে একেবারে কাছ থেকে তোলা হয়ে থাকে। এই ধরনের ছবি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।

 তাই এই রকম ছবি যদি তুলতে পারেন তাহলে অনলাইনে বিক্রি তারা তারি হতে পারে।

স্টাইল/ফ্যাক্ ছবি

বর্তমানে ফটোগ্রাফিতে ফ্যাশন কিংবা স্টাইল বিষয়টি বেশ জনপ্রিয়। যেকোনো মার্কেটপ্লেসেই এ ধরনের ফটোগ্রাফির জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিখ্যাত অভিনয় শিল্পী, মডেলদের ছবি তুলে যেকোনো অনলাইন বা অফলাইন যেকোনোভাবেই বিক্রি করতে পারেন।

 চিত্রাঙ্কন বা আর্ট ছবি

বিভিন্ন বিখ্যাত মিউজিয়ামে নানা ধরনের বিখ্যাত আর্টের ছবি রয়েছে। এই ধরনের ছবির প্রতি যেকোনো মানুষের আলাদা অনুভূতি থাকে। এই ধরনের ছবি বা নিজের হাতে আঁকা নানা ছবি ক্যামেরাবন্দী করে নিয়ে বিক্রি করতে পারেন।

ফুড ফটোগ্রাফি ছবি

আমরা প্রায়সময়ই নানা রেস্টুরেন্টে যাই। সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। এসব খাবারের ও চাইলে ফটোগ্রাফি করতে পারেন। নানা ধরনের দেশি-বিদেশি অনন্য খাবারেরও ছবি তুলে নিয়ে চাইলে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

ভ্রমণ স্থানের ছবি

আপনি যদি ভ্রমণপ্রিয় মানুষ হয়ে থাকেন তবে এই অপশনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পৃথিবীর  নানা বিখ্যাত ও দর্শনীয় স্থানের ছবি যদি সঠিকভাবে তুলতে পারেন তবে তা বেশ ভালো দামেই বিক্রি করতে পারবেন।

আর আপনার জন্য প্লাস পইন্ট হল প্রতিনিয়ত নতুন জায়গা আর নতুন ছবি সহজেই তুলতে পারবেন।

সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার ছবি

বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের মানুষের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ ও জীবন ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। আপনি যদি বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করে থাকেন সেক্ষেত্রে সেসব দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন। এ ধরনের ছবিগুলো মানুষ সংগ্রহে রাখতে বেশ পছন্দ করে।

আর অনলাইন মার্কেটে প্রচুর চাহিদা আছে। তাই আপনি এই ধরনের ছবি নিয়ে কাজ করলে ভাল সাড়া পাবেন।

ব্যবসায় বিষয়ক ছবি

বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নানা মানুষ কাজ করে থাকেন। তারা কিভাবে কাজ করে কিংবা তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মূহুর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানের লোকজন কি ধরনের মিটিং করছেন, অফিস ম্যানেজমেন্ট করছেন এসব নানা ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

বিনোদনমূলক ছবি

নানা বিখ্যাত এবং বিনোদনমূলক প্রোগ্রামের ছবি তুলতে পারেন। এই ধরনের ছবি যেকোনো মানুষই খুব উপভোগ করে থাকেন। বিনোদন বড় বা ছোট সকলেই পছন্দ করে থাকে। তাই এই রকম ছবি দিয়ে কাজ করলে মন্দ হয় না।

ভালোবাসা এবং আবেগপূর্ণ ছবি

ভালোবাসা ও আবেগপূর্ণ দৃশ্য মানুষকে সবসময় আবেগআপ্লুত করে। ছবিতে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা ফুটে উঠে এমন মুহুর্তের ছবি তুলতে পারেন। এইসব ছবি আপনি অনলাইনে বিক্রি করে ভালোমানের টাকা আয় করতে পারবেন।

কোনো মানুষের ছবি তোলা যাবে কিনা?

হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই মানুষের ছবি তুলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মডেল রিলিজ ফরম সংযুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ইডিটোরিয়াল ক্যাটাগরিতে ছবি আপলোড করেন তবে মডেল রিলিজ ফরম সংযুক্তির প্রয়োজন নেই। 

ডিএসএলআর ছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে ফটোগ্রাফি করা যাবে কি?

সাধারণত ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবির রেজুলেশন খুব ভালো আসে বিধায় এ ধরনের ক্যামেরাকে ছবি তোলার জন্য প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে আপনার ছবি তোলার দক্ষতা থাকলে এবং মোবাইলে ভালো ক্যামেরা রেজুলেশন থাকলে আপনি মোবাইলের মাধ্যমে অসংখ্য সুন্দর ছবি তুলতে পারেন।

এছাড়া ছবি তোলার পাশাপাশি ছবি ইডিটিং দক্ষতা ও থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এডোবি ফটোশপ সফটওয়্যার এর ব্যবহার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখতে হবে।

ফটোগ্রাফির অনলাইন বাজার কেমন?

বর্তমানে অনলাইনে দুনিয়ায় ফটোগ্রাফির চাহিদা খুব বেড়েছে। বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে, ব্লগ তৈরীতে, ভিডিও তৈরীতে প্রভৃতি কাজে ছবির বহুল ব্যবহার রয়েছে। ছবি বিক্রি করার জন্য বহু অনলাইন মার্কেটপ্লেস কিংবা ওয়েবসাইট রয়েছে।

এসব ওয়েবসাইটে নানা ধরনের ছবি বেচা-কেনা হয়। প্রত্যেক ওয়েবসাইটে কাজের ধরন ও শর্তাবলি ভিন্ন ভিন্ন হয়। প্রত্যেক ওয়েবসাইটেই হাজার হাজার ছবি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ক্রেতাদের প্রদর্শনের জন্য সজ্জিত থাকে।

শাটার স্টক, অ্যালামাই, আই-স্টক ফটো, ফটোলিয়া (অ্যাডোবি স্টক), বিগস্টকফটো, ক্রেস্টক, গেটি ইমেজেস,  ড্রিমসটাইমসহ ছবি বিক্রির জন্য আরও অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে।

অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ছবিগুলোর ক্রেতা কারা?

বর্তমানে যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত ছবি গুগলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে এই ছবিগুলো কারা কিনবে এই বিষয়ে অনেকের মনে সন্দেহ দেখা দেয়।

দেশী-বিদেশী উন্নত কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো গুগল হতে প্রাপ্ত ছবি তাদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে না। কারণ এইসব ছবি ব্যবহার করলে তাদের প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান সম্পর্কে সকলের মনে প্রশ্ন তৈরী হবে।

সেই কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট হতে নিজেদের পছন্দমতো দামে ভালো মানের ছবি কিনে থাকে। তাছাড়া ঐসব দেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের মত কপিরাইটযুক্ত ছবি ব্যবহার করতে পারে না। কারণ উন্নত দেশগুলোতে কপিরাইট আইন খুব কঠোরভাবে মানা হয়।

আপনি আরো পড়তে পারেন…

কপিরাইট ছবি ব্যবহার করার শাস্তিস্বরূপ অনেকগুলো টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। সে জন্য উন্নত দেশের মানুষজন গুগল হতে বা যেকোনো কপিরাইটযুক্ত ছবি ব্যবহার না করে মার্কেটপ্লেস থেকে কিনে ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার, ওয়েব ডেভেলপার, ব্লগার এমনকি বিজ্ঞাপনদাতা রাও আজকাল এসব মার্কেটপ্লেস থেকেই ছবি ক্রয় করে থাকেন।

কেন আপনার তোলা ছবিগুলো বিক্রি করবেন?

আমরা প্রতিনিয়ত শখের বশে কিংবা প্রয়োজনে নানা ছবি তুলে থাকি। এইসব ছবি কখনো কখনো  আমাদের মোবাইলের স্পেইস ধ্বংস করে। এইসব ছবিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে না রেখে যদি ক্রিয়েটিভ কাজে ব্যবহার করা যায় তাতে ক্ষতি কি!

আপনি চাইলে এইসব ছবিকে কাজে লাগিয়ে প্যাসিভ ইনকাম করতে পারেন।

অনলাইনে ছবিগুলো কিভাবে বিক্রি করবেন?

অনলাইনে ছবি বিক্রি করতে চাইলে আপনাকে যেকোনো একটি স্টক ইমেজ সাইটে  প্রথমে একটি প্রোফাইল তৈরী করতে হবে। প্রোফাইল তৈরীর সময় প্রয়োজনীয় তথ্য, আইডি কার্ড/পাসপোর্ট নম্বর ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

এরপর আপনার তোলা কিছু ছবি প্রোফাইলে সংযুক্ত করতে হবে। ওয়েবসাইট থেকে অনুমোদন প্রাপ্তি ঘটলে আপনি ধীরে ধীরে ওই ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

ছবি বিক্রির জন্য কিছু ভালো মানের মার্কেটপ্লেস নাম

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করা যায় এমন কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের নাম নিচে দেওয়া হল। এবং কি জন্য জনপ্রিয় কিভাবে বিক্রি করবেন এই বিষয়ে ছোট ডেসক্রিপশন নিয়ে আলোচনা করা হলো।

এছাড়াও অনলাইনে অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোতে আপনার উঠানো ছবি বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। তবে নিম্নের ওয়েবসাইট গুলো নিয়মিত পেমেন্ট করে এবং খুবই জনপ্রিয় বিদায় ওয়েবসাইটগুলো নিয়ে আপনার মাঝে আলোচনা করতেছি।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ইনকাম করার সেরা ওয়েবসাইট গুলা হলো…

Shutterstock.com

সাটারস্টক সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ  মানুষ এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে থাকেন। এখানে ক্লায়েন্টের সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে।

যেমন একজন নিয়মিত সাবস্ক্রাইবার যদি কোনো ছবি কেনেন তাহলে ছবি মূল্য তুলনামূলক কম হবে, আবার কেউ অনিয়মিত কেউ যদি সাটারস্টক থেকে ছবি কেনে তাহলে ছবির বেশি মূল্য পাওয়া যায়। সাটারস্টকে সর্বনিম্ন ০.১৫ ডলার থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করা যায়।

প্রথমেই তারা ১৫% রেভিনিউ দিলেও পর্যায়ক্রমে সেটি বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে মূল্য কম মনে হলেও এখানে ছবি বিক্রির সম্ভাবনা খুবই বেশি। এছাড়া সাটারস্টকের আরো কিছু সুবিধা রয়েছে।

সাটারস্টকের সকল ছবি নন এক্সক্লুসিভ লাইসেন্স যুক্ত হয় তাই আপনার ছবি আপনি অন্য ওয়েবসাইটেও আপলোড করতে পারবেন। আপনি সাটারস্টক থেকে স্ক্রিল এর মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেন। সাটারস্টক প্রায় ১৫ বছর সময় ধরে ছবি বিক্রি করে আসছে।

তাদের স্টকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও মিউজিক রয়েছে। এছাড়া রেফার করেও আয় করতে পারেন এই ওয়েবসাইট থেকে।

যখন কেউ আপনার রেফার করা লিংক থেকে সাইন আপ করবে, তখন আপনি তার আপলোড করা প্রতিটি ছবির ডাউনলোড এর জন্য কমিশন পাবেন। তাই সাটারস্টকে নিঃসন্দেহে অনলাইনে আয় করার জন্য একটি বেশ ভালো একটি ওয়েবসাইট।

Fotolia.com

ফটোলিয়া একটি স্টক ফটোগ্রাফি সাইট। এটি মূলত Adobe কোম্পানির একটি ওয়েবসাইট। ২০১৯ সালে ফটোলিয়া মার্কেটপ্লেসটির উদ্বোধন হয়। এই ওয়েবসাইটটি  Adobe কোম্পানির হওয়ার কারণে খুব অল্প সময়েই বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিয়েছে।

সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে, ফটোলিয়া এখনো নতুন হওয়ার কারণে খুব সহজেই ফটো আপলোড করার পর অনুমোদন পাওয়া যায়। এই ওয়েবসাইটে প্রতিমাসে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষ প্রবেশ করে থাকে।

এই ওয়েবসাইটের ফটোগুলো বেশ ভালোমানের হয়ে থাকে এবং এখানে ছবি বিক্রি করতে পারলে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়। জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি অল্প সময়ে সাটারস্টককে ছাড়িয়ে যাবে। কাজেই যে কেউ চাইলে এখানে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন।

Istock.com

আইস্টক হচ্ছে স্টক ইমেজ শেয়ারিং মার্কেটপ্লেস। গেটি ইমেজ নামক বিখ্যাত কোম্পানি এটিকে পরিচালনা করে থাকে। তবে এ মার্কেটপ্লেসে গেটি ইমেজের চাইতেও খুব সহজে প্রোফাইল অনুমোদন করানো সম্ভবপর হয়।

প্রথমে তারা আপানাকে তিনটি ইমেজ আপলোড করার অনুমতি দেবে। আপনার ছবির কোয়ালিটি যদি ভালো হয় তবে পরবর্তীতে তারা আনলিমিটেড ছবি আপলোড করে বিক্রি করার সুযোগ দেবে। সাধারণত আইস্টক ২০-৪৫% কমিশন ছবির মালিককে পরিশোধ করে থাকে।

Guttyimages.com

গেটি ইমেজ বেশ জনপ্রিয় একটি ষ্টক ইমেজ সাইট। এই ওয়েবসাইটেও প্রতিনিয়তই অনেক মানুষ ভিজিট করে থাকে। এখানে ছবির মূল্য তুলনামূলক বেশি। এখানে আপনার প্রোফাইল এপ্রুভ করে ছবি বিক্রি করতে পারলে ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবেন।

এই ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ মিলিয়ন এর বেশি মানুষ ভিজিট করে থাকে। সাধারণত এই ওয়েবসাইটে প্রাকৃতিক ও আবেগপূর্ণ ছবিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

তারা একজন ছবির মালিককে একটি ছবি বিক্রির ২০% কমিশন দিয়ে থাকে যা খুবই কম বলা যায়। কমিশন কম হওয়া সত্বেও ছবির মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার কারনে গেটি ইমেইজ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব হয়।

Dreamstime.com

ফটোগ্রাফির মার্কেটপ্লেস হিসেবে ড্রিমসটাইম এর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই ওয়েবসাইটে প্রতিমাসে প্রায় ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ভিজিট রয়েছে। ড্রিমসটাইম এর মতে, তারা প্রতিমাসে প্রায় ১ মিলিয়ন ছবি বিক্রি করে থাকে।

এর মধ্যে অধিকাংশ ছবি ইউরোপ ও আমেরিকাতে বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত ড্রিমসটাইম ছবির ফটোগ্রাফারকে ছবি বিক্রির ৩০-৪৫% কমিশন দিয়ে থাকে। এছাড়াও এখানে সহজে প্রোফাইল অনুমোদন পাওয়া যায়।

123rf.com

123rf.com ও বেশ জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। এখানে আপনি স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তুলেও আপলোড করতে পারেন। অনলাইনে আয়ের দিক থেকে ৩য় স্থানে রয়েছে এটি। একটি কারণে এই মার্কেটপ্লেসটি অন্য সব মার্কেটপ্লেস থেকে ভিন্ন।

কারণটি হলো এখানে সম্মানী নির্ভর করবে আপনার ছবি আপলোডের পরিমাণের উপর। প্রতিমাসে আপনি যত বেশি ছবি আপলোড করবেন তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন। এই সাইটে নিয়মিতভাবে কাজ করলে আপনি ৩০% থেকে ৬০% রেভেনিউ আয় করতে পারবেন।

Alamy.com

অ্যালামাই ফটোগ্রাফি মার্কেটপ্লেসের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে ২য় শীর্ষ অবস্থানে আছে এটি। এই ওয়েবসাইট। তাদের মোট ছবি বিক্রির ৫০% রেভিনিউ দিয়ে থাকে কনট্রিবিউটরদের।

এছাড়া স্টুডেন্টদের জন্য রয়েছে বিশাল সুযোগ কারণ তারা তাদের মোট ছবি বিক্রির ৬০-৭০% রেভিনিউ স্টুডেন্টদের দিয়ে থাকে।

রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য  আপনার নাম, ইমেইল এড্রেস, মোবাইল নম্বর এবং নিজের দক্ষতা সম্পর্কে কিছু সহজ কথা লিখে এপ্লাই করে ফেলতে পারেন Alamy.com এ।

adobestock.com

Adobe stock হলো বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি Adobe এর একটি স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট। প্রতিদিন অসংখ্য কোম্পানি, ফ্রীল্যান্সার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজন হাজার হাজার প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ছবি কিনে নেয় Adobe stock এর মাধ্যমে।

এখানেও আপনি ফ্রি তে প্রোফাইল খুলে ছবি এবং ভিডিও আপলোড করতে পারেন এবং আয় করতে পারেন। এই ওয়েবসাইটে যেকোনো একটি সাধারণ ছবি বা ভেক্টর ছবির ডাউনলোডের জন্য ৩৩% এবং ভিডিওর জন্য ৩৫% পর্যন্ত কমিশন পেতে পারেন।

তবে এখানকার ছবি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির হওয়া প্রয়োজন। এই ওয়েবসাইটে মাত্র ২৫ ডলার হলেই পেপাল কিংবা স্ক্রিল এর মাধ্যমে টাকা তোলা যায়। ফটোলিয়া এবং অ্যাডোবি স্টক একই কোম্পানি। এই সাইটের জন্য যত অসাধারণ এবং ভালো মানের ছবি তুলতে পারবেন, তত বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

ছবির আলোর পরিমাণ, প্রাকৃতিক মূহুর্ত, রঙ এই সব গুলোর সঠিক সংমিশ্রণ ছবিকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। Adobe stock মানসম্মত ফটোগ্রাফারদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ভাল প্লাটফর্ম ৷

অনলাইন ভাল একটা এমাউন্ট আয় করতে চাইলে আপনার তোলা সেরা ছবিগুলো বিক্রি করতে পারেন Adobe stock এ। 

Canstockphoto.com

Can stock photo ওয়েবসাইট প্রতিটি ছবি বিক্রির জন্য ৫০% কমিশন দিয়ে থাকে। আপনার আয় ৫০ ডলার হয়ে গেলেই আপনি টাকা উইথড্র করার অনুমতি পেয়ে যাবেন ৷ এই ওয়েবসাইটে অনুমোদন পেতে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না।

আপনি যদি প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত ছবি আপলোড করেন এবং আপনার একাউন্টে যদি প্রচুর পরিমানে ছবি থাকে তাহলে আপনার আয়ের পরিমানও বেড়ে যাবে ৷ কারন যতবেশি ভাল মানের ছবি তত বেশি ইনকাম করার সুযোগ।

এই ওয়েবসাইট এ রেজিষ্ট্রেশন করা খুবই সহজ। রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য আপনাকে তাদের কাছে একটি এপ্লিকেশন পাঠাতে হবে যেখানে কমপক্ষে তিনটি ছবিও থাকতে হবে।

আপনার ছবির মান ভাল হলে একদিনের মধ্যেই ওদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাবেন। তাই মানসম্মত কাজ করতে পারলে এই সাইটে আয় নিয়ে চিন্তার কোনো কারন নেই।

smugmug.com

Smugmug ওয়েবসাইটটি অনেকটা ফটোগ্যালারি কিংবা পোর্টফলিও এর মতো। এই ওয়েবসাইট ও ছবি বিক্রির সুবিধা দিয়ে থাকে। এই ওয়েবসাইটে ছবির দাম আপনি নিজে নির্ধারণ করতে পারবেন। এই ওয়েবসাইট ৮৫% পর্যন্ত সম্মানী দিয়ে থাকে ছবির মালিককে।

stockxpert.com

স্টকএক্সপার্ট অনলাইনে ছবি বিক্রি করার জন্য অন্যতম একটি ওয়েবসাইট। এটি নতুনদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। নতুন যারা ভালো একটি মার্কেটপ্লেস খুঁজছেন তারা এই ওয়েবসাইটে আসতে পারেন।

এদের সম্মানী প্রদানের পরিমাণ ও খুব একটা কম নয়। প্রতিটি ছবি বিক্রির জন্য ৫০% পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয় এই ওয়েবসাইটে।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

আপনি ছবি বিক্রি করা কতটা লাভজনক হবে সেটি নির্ভর করবে আপনার ছবির কোয়ালিটি এবং খানিকটা আপনি যে ওয়েবসাইটে ছবি বিক্রি করছেন সেই সাইটের উপর।

আপনি যত বেশি মানসম্মত ছবি আপলোড করবেন তত বেশি আপনার ছবির চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার আয়ও সেই হারে বাড়তে থাকবে।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে কিভাবে আয় করবেন?

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে মূলত কমিশন ভিত্তিক টাকা আয় করা যায়। অর্থাৎ আপনার প্রত্যেকটি ছবি যে মূল্যে বিক্রি হবে তার পুরো মূল্য আপনি পাবেন না।

আপনি যে ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন এর মাধ্যমে ছবি বিক্রি করবেন, ওই ওয়েবসাইট ছবি বিক্রির কিছু শতাংশ টাকা নিজেদের কাছে রাখবে এবং আপনাকে বাকি টাকাগুলো কমিশন হিসেবে দেবে।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে কত টাকা আয় করা যেতে পারে?

প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের নির্ধারিত কিছু শর্ত এবং নিয়ম-কানুন থাকে। বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই নানারকম সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের মাধ্যমে ছবি বিক্রি করে থাকে। ছবির সংখ্যার উপর ভিত্তি করে দিন কিংবা মাসব্যাপী প্যাকেজের মূল্য নির্ধারিত হয়।

নানা মার্কেটপ্লেস ভেদে ছবি বিক্রির টাকার ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছবির মালিককে সম্মানী হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সম্মানীর পরিমাণ কম হলেও যদি ছবি বিক্রির পরিমাণ বেশি হয় তবে মার্কেটপ্লেস থেকে বেশি আয় করা সম্ভব।

আরেকটি ভালো বিষয় হচ্ছে আপনার যেকোনো ছবি যতবার বিক্রি হবে ততবার টাকা পাবেন। অর্থাৎ আপনার কোনো ছবি ১০০০ বার বিক্রি হলে, আপনাকে প্রত্যেকবার বিক্রয়মূল্য হিসাব করে টাকা দেওয়া হবে।

আপনার জন্য আরো আর্টিকেল…

যদি আপনার ছবির দাম ৫ ডলার হয় এবং ছবিটি যদি ১০০০ বার বিক্রি হয়, ওয়েবসাইট আপনাকে ৩০%  করে কমিশন দিলে আপনি ৫ × ৩০% × ১০০০= ১৫০০ ডলার আয় করতে পারবেন।

এভাবে আপনার প্রোফাইলে থাকা ছবিগুলোর মাধ্যমে আপনি মাসে অনেক টাকা ফটোগ্রাফি করে আয় করতে পারবেন। 

পেমেন্ট কিভাবে হাতে পৌঁছবে?

সাধারণত আন্তর্জাতিকভাবে যেসব পেমেন্ট মেথড রয়েছে সে মেথড অনুসরন করেই পেমেন্ট হাতে পৌঁছাতে পারে। যেমনঃ পেপাল, স্ক্রিল কিংবা ব্যাংক একাউন্ট ইত্যাদি নানা পেমেন্ট মেথোডের সাহায্য পেমেন্ট সংগ্রহ করতে হয়।

পেমেন্ট উইথড্র করার জন্য বেশ কিছু ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইনকাম করতে হয়। আপনি ছবি বিক্রির সাইটের পেমেন্ট এর ব্যাপারে রিভিউ বা তাদের প্রয়োজনিয় পেজ থেকে জেনে নিতে পারেন।

অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় শুরু হতে কতদিন লাগবে

আপনি অনলাইনে মাকের্টপ্লেসে ছবি আপলোড করার পর আয় শুরু হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে কারণ আপনি ছবি আপলোড করার সাথে সাথেই মানুষজন তা কিনতে পারবে না।

ছবি আপলোড দেওয়ার পর প্রথমেই সাইট হতে আপনার আপলোড করা  প্রত্যেকটি ছবি যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ছবি যদি ভালো হয় তবে তারা অবশ্যই আপনার ছবি অনুমোদন করে নিবে।

অনুমোদন হওয়ার পর আপনার ছবি মানুষজন দেখতে পাবে এবং কারো পছন্দ হলে ছবি ক্রয় করবে। এ ক্ষেত্রে বিক্রয়কৃত ছবি হতে আপনি কমিশন আকারে কিছু টাকা আয় করতে পারবেন। 

কিভাবে স্টক ইমেজ প্রোফাইল তৈরী করবেন?

নানারকম স্টক ইমেজ সাইট থেকে আপনার উপযুক্ত এবং পছন্দসই একটি স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট খুঁজে বের করুন এবং একাউন্ট খোলার জন্য সাইন আপ করুন।

সাধারণত স্টক ইমেজ ওয়েবসাইটগুলোতে Sing Up  করতে  হলে সর্বপ্রথম সেল ইমেজ অথবা সাবমিট ইমেজ অপশন দুইটি কোথায় আছে তা দেখতে হবে।

এবার আসে রেজিষ্ট্রেশনের পালা। রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি প্রায় সব ওয়েবসাইটেই একই রকম। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার সার্টিফিকেট নেইম, ইউজার নেইম, সঠিক ইমেল এড্রেস ও একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড প্রয়োজন।

তাহলে বুঝতেই পাচ্ছেন যে, আপনি যেকোনো স্টক ইমেজ ওয়েবসাইটে কত দ্রুত এবং সহজে রেজিষ্ট্রেশন করে নিতে পারেন এবং আপনার তোলা ছবিগুলো বিক্রি করে ভালো প্রফিট পেতে পারেন।

একই ছবি একাধিক ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য আপলোড করা যাবে কি?

অনেক সময় জিজ্ঞাসা থাকে যে, একটি ছবি একাধিক মার্কেটপ্লেসে আপলোড করা যায় কিনা। এক্ষেত্রে উত্তর হলো, হ্যাঁ অবশ্যই যাবে। তবে আপনাকে Non-exclusive licence এর মাধ্যমে ছবি আপলোড করতে হবে। 

একজন বিক্রেতা যদি একটি নির্দিষ্ট ছবি শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইটে আপলোড করেন, তবে তুলনামূলক বেশি সম্মানী পাবেন। অপরদিকে, যদি একটি নির্দিষ্ট ছবি অনেকগুলো ওয়েবসাইটে বিক্রি করেন, সেক্ষেত্রে সম্মানীর পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে।

Exclusive এবং Non-exclusive Licence Photo কি?

এক্সক্লুসিভ লাইসেন্সযুক্ত ছবি হলো আপনি আপনার সেই ছবি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে বিক্রি করছেন। মনে করুন, আপনি ‘Alamy’ মার্কেটপ্লেসে Exclusive Licence এ একটি ছবি আপলোড করেছেন।

উক্ত ছবিটি আপনি অন্য কোথাও ব্যবহার করতে পারবেন না। ছবি আপলোডের সময় Exclusive বা Non-exclusive License সিলেক্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। এক্সক্লুসিভ লাইসেন্সযুক্ত ছবিতে লাভের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। 

অপরদিকে, নন-এক্সক্লুসিভ লাইসেন্সযুক্ত ছবি হলো সেই ছবি যেটি আপনি একাধিক ওয়েবসাইটে বিক্রি করছেন। নন-এক্সক্লুসিভ ছবিতে লাভ তুলনামূলক ভাবে কম হয়। তবে নন-এক্সক্লুসিভ লাইসেন্সে ছবি আপলোড করাই শ্রেয় কারণ এতে ছবি বেশি বিক্রি হয়  না। 

আমাদের শেষ কথাঃ

আপনি যদি ছবি তোলার ব্যাপারে খুব আগ্রহী হন এবং এই ব্যাপারে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন তবে সময় নষ্ট না করে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারেন।

এক্ষেত্রে একদিকে নিজের সৃজনশীলতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে অর্থনৈতিকভাবে ও লাভবান হতে পারবন। আশা করি এই ক্ষেত্রে আপনাকে এই লেখাটি যথেষ্ট সাহায্য করবে।

অনলাইনে আয় করা নিয়ে আমাদের বাংলা আইটি ব্লগ সাইটে আরো অনেক আর্টিকেল আছে। আপনি চাইলে সময় নিয়ে পরতে পাড়েন।

2 thoughts on “অনলাইনে ছবি বিক্রি করে আয় করার উপায় – বাংলা আইটি ব্লগ”

    1. নিজের ছবি আপলোড করার চেয়ে … কোন জিনিস বা সুন্দর যাইগার ছবি আপলোড করলে ভাল…

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap