অ্যামাজন (Amazon ) কি ? অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করুন‌

অ্যামাজনঃ শুরুতেই একটা কথা বলে রাখি, যদি আপনার অ্যামাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে। যদি আপনি জানতে চান যে, অ্যামাজন এফিলিয়েট কি এবং কিভাবে অ্যামাজন এফিলিয়েট করতে হয়।

Amazon কি এই নিয়ে যদি সকল কিছু জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি শুধুমাএ আপনার জন্য। কারন আজকের আর্টিকেলে আমি অ্যামাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয় গুলো স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করবো।

আ্যামাজন‌ কি ? Amazon এফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যামাজন কি ? Amazon নিয়ে সকল তথ্য

সেজন্য পুরো আর্টিকেলটি মনযোগ সহকারে পড়বেন। নাহলে অ্যামাজন এফিলিয়েট রিলেটেড অনেক বিষয় আপনার অজানা থেকে যাবে।

আপনি জানলে অবাক হবেন, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় অনেকেই এফিলিয়েট প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত আছে। শুধুমাএ এফিলিয়েটকে ফোকাস রেখে নিত্য নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে।

এফিলিয়েটের মাধ্যমে বিপুল পরিমান ইনকামের আশায় এমন অনেকেই আছেন। যারা মোটা অংকের টাকা ইনভেস্ট করছে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে, যদি আপনিও এফিলিয়েটে নিজেকে যুক্ত করার সিন্ধান্ত নিয়ে থাকে।

তাহলে সেই সিন্ধান্ত নেহাৎ মন্দ হবে না। কেননা এফিলিয়েট এমন এক পদ্ধতি। যদি আপনি এর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে আপনি প্রচুর পরিমান ইনকাম করতে পারবেন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অবশ্যই ​অ্যামাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে জানবো ৷ তবে তার আগে আমাদের ২(দুই) টি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। যথাঃ

  1. এফিলিয়েট কি এবং 
  2. কিভাবে এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হয়

তো চলুন, এবার আমরা এই বিষয় গুলো ধাপে ধাপে জেনে নেই। 

এফিলিয়েট কি?

যখন আপনি একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ করবেন। এরপর আপনার সেই রিভিউ দেখে, কোনো কাস্টমার যদি সেই প্রোডাক্টটি কিনে নেয়।

তাহলে সেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে আপনাকে কিছু পরিমান কমিশন দেয়া হবে। মূলত এটিই হলো এফিলিয়েট প্রোগ্রামের মূল বিষয়বস্তুু। আরেকটু ক্লিয়ার করে বলি…

বর্তমানে Daraz হলো আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। মনে করুন আপনি Daraz এর একটি হেডফোনের রিভিউ করলেন।

আপনার জন্য আরো পোস্ট…

যেমন সেই হেডফোনটি দেখতে কেমন,দাম অনুযায়ী ভালো সাউন্ড আসে কিনা, সেই হেডফোনটি ব্যবহার করা ঠিক হবে কিনা ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে একটা রিভিউ করলেন।

এখন আপনার সেই রিভিউ দেখে যদি কেউ সেই হেডফোনটি কিনে নেয়। তাহলে Daraz আপনাকে কিছু পরিমান টাকা কমিশন হিসেবে প্রদান করবে। আপনি যে এই টাকা কমিশন হিসেবে পেলেন। মূলত এটিই হলো এফিলিয়েট।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, “আপনার রিভিউ দেখে যদি কেউ প্রোডাক্ট কিনে নেয়। সেটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিভাবে বুঝবে?” যদি আপনার মনেও সেই প্রশ্ন জেগে থাকে। তাহলে এরপরের আলোচিত বিষয়গুলো একটু মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

কিভাবে এফিলিয়েট করতে হয়?

এফিলিয়েট করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে ৷ যেখানে আপনি কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ লিখতে পারবেন।

এরপর আপনাকে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে হবে। তবে বলে রাখা ভালো যে, একেকটি অনলাইন শপের এফিলিয়েট করার জন্য, একেক রকমের রুলস মানতে হয়।

তো যখন আপনি এই সব রুলস মেনে কোনো কোনো অনলাইন শপের এফিলিয়েটে যুক্ত হবেন ৷ তখন আপনাকে প্রোডাক্টভেদে বিভিন্ন এফিলিয়েট লিংক (Link) প্রদান করা হবে।

এখন আপনাকে সেই প্রোডাক্টের লিংক গুলো বিভিন্ন সোর্সে শেয়ার করতে হবে। হতে পারে আপনার কোনো পারসোনাল ব্লগ বা ওয়েবসাইট অথবা আপনার কোনো ইউটিউব চ্যানেলে সেই এফিলিয়েট লিংক (Link) গুলোকে শেয়ার করতে হবে।

এরপর সেই এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে যখন কেউ প্রোডাক্ট কিনবে। তখন আপনি সেই প্রোডাক্ট বিক্রি করার কারনে কিছু পরিমান কমিশন পাবেন। মূলত এভাবে এফিলিয়েট করে ইনকাম করা হয়।

আশা করি এই স্বল্প আলোচনার মাধ্যমে, “এফিলিয়েট কি” এবং “কিভাবে এফিলিয়েট করতে হয়”- সে সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। তো এবার আমরা জানবো অ্যামাজন সম্পর্কে।

অ্যামাজন কি? (What is Amazon in bangla)

এমাজন হলো একটি মার্কিন ইলেকট্রনিক বানিজ্যিক কোম্পানি। যার মূল সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের শিয়াটলে অবস্থিত। এমাজন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৃহৎ এবং জনপ্রিয় একটি অনলাইন ভিওিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।

যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে যে পন্যের দরকার হয়। সেই পন্য গুলো এমাজন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করা যায়।

তবে শুরুর দিকে অ্যামাজন এতোটা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলোনা, যতোটা আমরা আজকের দিনে দেখছি। ১৯৯৪ সালের ৫ই জুলাইয়ে একটি অনলাইনে বইয়ের দোকান দিয়ে অ্যামাজনের যাএা শুরু হয়েছিলো।

কিন্তুু কালের বিবর্তনে সেই অনলাইনে বইয়ের দোকানটি আজ গোটা বিশ্বের সামনে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছে ৷ বর্তমানে শুধু বইয়ের দোকান নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনীয় যাবতীয় পন্য সামগ্রর সবকিছুই এখন অ্যামাজনের পাওয়া যায়।

যেমন, ডিভিডি, সিডি, ভিডিও, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিকস, পোশাক, আসবাবপত্র, খাবার, গহনার মতো সবকিছুই অ্যামাজনের পাওয়া যায়।

আপনি জানলে অবাক হবেন কারন, এমাজন শুধৃমাএ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়। বরং গোটা বিশ্বব্যাপি তাদের বিস্তৃতি রয়েছে। যেমনঃ আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, জাপান, চীন,মেক্সিকো এবং আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও আমাজনের আলাদা আলাদা সার্ভিস চালু রয়েছে। 

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট কি? (What is Amazon affiliate) 

অ্যামাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রামকে বলা হয়, “Amazon Associates”. যার বাংলা অর্থ হলো, অ্যামাজনের সহযোগী। আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে খুব সহজেই এমাজন এফিলিয়েটের মাধ্যমে মনিটাইজ করিয়ে নিতে পারবেন।

আর আপনি এই পদ্ধতিতে আপনার ওয়েবসাইট কে একবারে বিনামূল্যে মনিটাইজ করতে পারবেন।

অ্যামাজন এফিলিয়েটে যুক্ত হওয়ার পদ্ধতিও তুলনামূলক ভাবে সহজ। সর্বপ্রথম আপনি www.amazon.com এ যাবেন। এরপর আপনি একটা Account Create করবেন। তারপর আপনার কাজ হলো, তাদের Affiliate Programme এ যুক্ত হওয়া।

যখন আপনি তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হবেন। তখন অ্যামাজন থেকে আপনাকে বিভিন্ন Products এর Affiliate Link দেওয়া হবে। আপনাকে সেই লিংক গুলোকে কোনো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রমোট করতে হবে।

এরপর কেউ যদি আপনার প্রমোট করা Affiliate Link এ ক্লিক করে সরাসরি এমাজন থেকে সেই প্রোডাক্ট কিনে নেয়। তাহলে আপনি প্রোডাক্ট ভেদে কিছু পার্সেন্ট কমিশন পাবেন।

তবে আমাজনের নিয়ম অনুযায়ী, আপনার রেফারেল লিংকে ক্লিক করে, যদি কেউ products কিনে নেয়। তাহলে আপনাকে সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত কমিশন পাবেন। মূলত এটিই হলো অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যামাজন এফিলিয়েট (একটিভ ইনকাম নাকি প্যাসিভ ইনকাম?)

যেহুতু আজকের আর্টিকেলে আমরা অ্যামাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে আলোচনা করছি ৷ সেহুতু আমাদের এই বিষয়টি জানা উচিত যে, কেন আপনার অ্যামাজন এফিলিয়েট করা উচিত।

কেননা আপনি যে পন্থা অনুসরণ করে ইনকাম করবেন। সেই পন্থার সুযোগ সুবিধা যদি আপনি না জানেন। সে সম্পর্কে যদি আপনার পরিস্কার ধারনা না থাকে। তাহলে আপনাকে বেশ বিপাকে পড়তে হবে।

এর কারন গুলো অবশ্যই আলোচনা করবো। তবে তার আগে আপনাকে একটিভ ইনকাম এবং প্যাসিভ ইনকাম সম্পর্কে জানতে হবে।  

একটিভ ইনকাম কি?

যদি আমরা একটিভ ইনকামকে সংঙ্গায়িত করি তাহলে বলা যাবে, “যখন আপনি কোনো কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পাদন করে, নির্দিষ্ট পরিমান ইনকাম করবেন। তখন তাকে বলা হয় একটিভ ইনকাম”।

যেমন, আপনি যখন কোনো একটি অফিসে চাকরি করবেন ৷ তখন সেই অফিসে কাজ করার পর, মাস শেষে নির্দিষ্ট পরিমানে বেতন পাবেন। মূলত এটিই হলো একটিভ ইনকাম।

তবে প্যাসিভ ইনকামের তুলনায় একটিভ ইনকামের বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন, এখানে আপনাকে পূর্বে নির্ধারন সময়ে কর্মরত থাকতে হবে।

অর্থ্যাৎ আপনাকে অফিস থেকে যে সময় নির্ধারন করে দেওয়া হবে। আপনাকে সেই সময় অবধি অফিসে কাজ করতে হবে। এছাড়াও অফিসে কাজ করতে হলে আপনার চাকরি চলে যাওয়ার এক প্রকার রিস্ক রয়েছে।

যদি আপনার অফিস কর্তৃপক্ষ আপনাকে চাকরিচ্যুত করে। তাহলে সেখানে আপনার কিছু করার খাকবে না। তাই আপনার চাকরি চলে যাওয়ার রিস্ক সর্বদাই থাকবে।

অপরদিকে একটিভ ইনকামের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো, আপনার পারিশ্রমিকের এক প্রকার সীমাবদ্ধতা থাকবে। যেমন, আপনি অফিসে চাকরি করার সময় যদি আপনার বেতন ২০,০০০/- হয়।

তাহলে আপনি প্রতি মাসে সেই সেই দশ হাজার টাকা বেতন পাবেন। এক্ষেএে আপনার বেতনের কোনো তারতম্য লক্ষ্য করতে পারবেন না।

আর আপনি যে এই নির্দিষ্ট পরিমান বেতন পাবেন। সেটার জন্যও আপনাকে অন্যের উপর নির্ভর করতে হবে। অর্থ্যাৎ আপনি যার উপর নির্ভর করবেন। সে যদি আপনাকে বেতন প্রদান না করে। সেক্ষেএে আপনার তেমন কিছুই করার থাকবে না। 

প্যাসিভ ইনকাম কি?

আমরা যদি প্যাসিভ ইনকামকে সংঙ্গায়িত করি, তাহলে বলা যাবে, “যখন আপনি কোনো কাজ নির্দিষ্ট একটা সময় নিয়ে করবেন। কিন্তুু পরবর্তীতে কাজ না করলেও সেখান থেকে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। তাকে বলা হয় প্যাসিভ ইনকাম”।

একটিভ ইনকামের সম্পূর্ন বিপরীত হলো প্যাসিভ ইনকাম। এখানে আপনাকে কোনো কাজে একবারে লেগে থাকতে হবেনা। যেমন ধরুন, আপনি একটি দোকান তৈরি করলেন। তারপর সেই দোকানটি কাউকে ভাড়া দিলেন।

এরপর সেই দোকানে কোনো প্রকার কাজ না করেই প্রতি মাসে সেই দোকান থেকে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। মূলত এটিই হলো, প্যাসিভ ইনকাম।

এটা হলো অফলাইন ইনকামের উদাহরন। অপরদিকে যদি আপনি অনলাইনের কথা বলেন, তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং, অনলাইন কোর্স, ইবুক, স্টক ফটোর কথা সবার আগে আসবে।

এই পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে আপনি যে কাজ করবেন। সেই কাজ গুলো আপনাকে প্রতিনিয়ত করতে হবেনা। বরং কোনো একটা সময় এই কাজগুলো সম্পন্ন করলে পরবর্তীতে আপনার অটোমেটিক ইনকাম জেনারেট হতে থাকবে।

আপনি আরো পড়ুন…

একটিভ ইনকামে যেমন অনেক প্রকার অসুবিধা রয়েছে। উল্টোদিকে প্যাসিভ ইনকামে আপনি বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু উদাহরনের মধ্য রয়েছে, কাজের স্বাধীনতা।

যখন আপনি কোনো অফিসে চাকরি করবেন। তখন আপনাকে আপনার উদ্ধর্তন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। অর্থ্যাৎ, আপনার বস অথবা স্যার  যেভাবে কাজ করতে বলবে। আপনাকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

অপরদিকে যদি আপনি প্যাসিভ ইনকামের সাথে যুক্ত থাকেন। তাহলে এই ঝামেলা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকবেন। এখানে আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন।

এছাড়াও প্যাসিভ ইনকামে আপনার ইনকামের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। যদি আপনি কাজের শুরুটা জোর দিয়ে করতে পারেন। তাহলে পরবর্তীতে আপনার ইনকামের দিক থেকেও বেশ তারতম্য লক্ষ্য করতে পারবেন। 

অ্যামাজন এফিলিয়েট কেন করবেন?

আশা করি এই স্বল্প আলোচনা থেকে একটিভ ইনকাম এবং প্যাসিভ ইনকাম কি। সে সম্পর্কে পুর্নাঙ্গ ধারনা পেয়ে গেছেন।

এখন আপনি একটা প্রশ্নের উওর দিন তো, “অ্যামাজন এফিলিয়েট কি একটিভ ইনকাম নাকি প্যাসিভ ইনকাম?

থাক আমি বলছি, অ্যামাজন এফিলিয়েট হলো প্যাসিভ ইনকাম। অর্থ্যাৎ আপনি উপরে আলোচিত প্যাসিভ ইনকামের যে যে সুবিধা গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি আপনি অ্যামাজন এফিলিয়েট করেন, তাহলে আপনি সেই সবগুলো সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

একবার ভেবে দেখুন, আপনি এমন একটা সেক্টরে কাজ করবেন। যেখানে আপনি নিজেই নিজের Boss (বস). এখানে আপনি সম্পূর্ন স্বাধীনতার সাথে কাজ করতে পারবেন।

আর যেদিন থেকে আপনি অ্যামাজন এফিলিয়েট করার হিডেন ট্রিকস গুলো জানতে পারেন। তাহলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। এই সেক্টরে আপনি এতো বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যা একটি চাকরির বেতনের সমান।

আপনি আশেপাশে একটু তাকালেই দেখতে পারবেন। বাংলাদেশে এমন অনেক ব্লগার আছে। যারা শুধুমাএ এমাজন এফিলিয়েট করেই লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।

যদি আপনি এই সেক্টরে কাজ করে, নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়তে চান। তাহলে অ্যামাজন এফিলিয়েট এ আপনাকে স্বাগতম।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট কারা করতে পারবে?

আমি সর্বদাই একটি কথা বলে আসছি, যে সবাই সব কাজ করতে পারেনা। বরং যোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। ঠিক তেমনি যদি আপনি এমাজন এফিলিয়েট করতে চান। তাহলে আপনার মধ্যে কিছু বিষয় বিরাজমান থাকতে হবে।

আমার দৃষ্টিকোন থেকে আপনার মধ্যে ৩ টি বিষয় গুলো থাকলে আপনি এমাজন এফিলিয়েট করতে পারবেন। যেমনঃ

  1. ইনভেষ্টমেণ্ট 
  2. মার্কেটিং স্ট্রাটেজি 
  3. মনিটরিং 

আপাততো আপনার মধ্যে এই তিনটি বিষয় বিদ্যমান থাকলে,আপনি নিজেকে অ্যামাজন এফিলিয়েটের জন্য উপযুক্ত হিসেবে গন্য করতে পারবেন।

এখন হয়তোবা আপনি ভাবছেন যে,এমাজন এফিলিয়েট করার জন্য কেন এই তিনটি বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ। এর উওর পেতে চাইলে আপনাকে একটু বিস্তারিত জানতে হবে। তাই চলুন এবার বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। 

ইনভেষ্টমেণ্ট

হয়তবা আপনি অবাক হচ্ছেন, কারন আপনি এফিলিয়েট করবেন। কিন্তুু আমি এখানে ইনভেস্টের কথা কেন বলছি। দেখুন, আমি এটা বলছি না যে এফিলিয়েট করার জন্য ইনভেস্ট বাধ্যতামূলক।তবে হ্যাঁ, অনেক ক্ষেএে ইনভেস্ট করার প্রয়োজন পড়বে।

কিন্তুু যে কাজ গুলোতে ইনভেস্ট করার প্রয়োজন পড়বে। সেই কাজ গুলো যদি আপনি নিজে থেকেই করতে পারেন। তাহলে আপনার ইনভেস্ট করার কোনো আবশ্যকতা থাকবে না।

তো এই কাজ গুলো আসলে কি, এবার সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আমি আর্টিকেলের শুরুতে এফিলিয়েট বলতে বুঝিয়েছি যে, যখন আপনি কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ করবেন ৷ তখন সেই রিভিউ দেখে আপনার রেফালের লিংক থেকে যখন কেউ সেই প্রোডাক্ট কিনে নিবে। তখন আপনি কিছু %(পার্সেন্ট) কমিশন পাবেন।

কমিশনের কথায় একটু পরে আসবো। তবে তার আগে ভাবুন আপনি যে প্রোডাক্টের রিভিউ লিখবেন,সেটি কোথায় লিখবেন। রিভিউ লেখার জন্য একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন হবে, তাইনা?

আর কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করতে একটি ডোমেইন এবং একটি ভালোমানের হোস্টিং এর প্রয়োজন হয়। এটা তো আমরা সবাই জানি। তো শুরুর দিকে আপনাকে এই ডোমেইন, হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট কাস্টমাইজেশনে বেশ ভালো পরিমানে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এবার একটু ভেবে দেখুন, আপনি যে অ্যামাজন এফিলিয়েট করবেন। তো আপনি কোন কোন দেশ গুলোকে টার্গেট করবেন। নিশ্চই US বা UK এর মতো উন্নত দেশ গুলোকে টার্গেট করবেন।

কারন এমাজন এশিয়া মহাদেশে পদার্পন করলেও, এশিয়া মহাদেশের মানুষ এখনও অনলাইন শপিংয়ে তেমন একটা অভ্যস্ত নয়।

তো যখন আপনি Us বা UK এর মতো দেশকে টার্গেট করে এফিলিয়েট করবেন। তখন আপনি যে Product এর রিভিউ লিখবেন, তা অবশ্যই ইংরেজিতে লিখতে হবে। এটা তো আপনি বুঝতেই পারছেন।

এখন কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ ইংরেজিতে লেখার জন্য আপনার একজন ভালোমানের কন্টেন্ট রাইটার এর প্রয়োজন পড়বে।

কারন উন্নত দেশ গুলোতে কেউ যখন কোনো প্রোডাক্ট অনলাইন থেকে কিনে নেয়। তার আগে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে সেই প্রোডাক্টের রিভিউ দেখে নেয়। তারপর তারা অনলাইন থেকে কোনো প্রোডাক্ট কিনে নেয়।

এখন আপনি এমন একটা রিভিউ লিখলেন যা তাদের বোধগম্য নয়। কিংবা আপনি রিভিউতে এমন কিছুই দিতে পারেননি, যাতে তারা আকৃষ্ট হয়। তাহলে কেউ আপনার রিভিউ দেখে কোনো প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করবে? -না, কেউ আগ্রহ প্রকাশ করবে না।

তারজন্য প্রয়োজন পড়বে একজন ভালোমানের কন্টেন্ট রাইটার এর ৷ যার লেখার মধ্যে বিশেষ গুনাগুন থাকবে, এমন কোনো রাইটারকে দিয়ে আপনাকে আপনার এফিলিয়েট ওয়েবসাইটের জন্য রিভিউ লেখাতে হবে।

আর একজন ভালোমানের কন্টেন্ট রাইটার এর পারিশ্রমিক কিন্তুু High Level এর হয়ে থাকে। এমন অনেক রাইটার আছে যারা প্রতি 1K Article লেখার জন্য মিনিমাম 20$-30$ (Dollar) নিয়ে থাকে।

তবে এই কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজটি যদি আপনি নিজে থেকেই করতে পারেন। তাহলে এই কাজের জন্য আপনাকে কোনো প্রকার ইনভেস্ট করতে হবে না।

আপনার জন্য দরকারি পোস্ট …

অ্যামাজন এফিলিয়েট করার জন্য ইনভেষ্টের সর্বশেষ ধাপ হলো, এসইও করা একটু ভেবে দেখুন, আপনি যে  অ্যামাজন এফিলিয়েট করবেন, তারমানে এই নয় যে আপনি শুধু একাই এই এফিলিয়েট করছেন। বরং আপনার মতো এমন হাজার হাজার মানুষ আছে, যারা এই কাজের সাথে যুক্ত আছে।

তো সবাইকে পেছনে ফেলে যেন আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের Top Position এ থাকে। আপনাকে অবিরাম সেই প্রতিযোগিতা করে যেতে হবে। আর এ প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য এসইও করার কোনো বিকল্প নেই।

আর যখন আপনি এই কাজের জন্য একজন এসইও এক্সপার্টকে হায়ার করবেন। তখন আপনাকে বেশ ভালো পরিমানে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

আশা করি, এমাজন এফিলিয়েট করার জন্য কেন ইনভেস্টের প্রয়োজন। সে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। তবে আমি আবারও বলছি যে, যদি আপনি উপরে আলোচিত বিষয় গুলো নিজে থেকেই করতে পারেন। তাহলে আপনার কোনো প্রকার ইনভেস্ট এর প্রয়োজন পড়বে না।  

মার্কেটিং স্ট্রাটেজি

অ্যামাজন এফিলিয়েট করার জন্য আপনাকে অবশ্যই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে জানতে হবে। দেখুন পৃথিবীতে অনলাইন শপের মধ্যে শুধু আ্যামাজন নয়। বরং আ্যামাজনের মতো আর অনেক অনলাইন শপ রয়েছে।

কিন্তুু এরপরও মানুষ কেন এমাজনকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়, কেন অ্যামাজন আজ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অনলাইন শপ?  – এর মূল কারন হলো, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠতা মার্কেটিং স্ট্রাটেজিকে আয়ও করতে পেরেছে।

সে বুঝতে পেরেছে যে, কোনো কৌশল গুলো অবলম্বন করলে মার্কেটে টিকে থাকা যাবে। ঠিক তেমনি যখন আপনি অ্যামাজন এফিলিয়েট করবেন। তখন আপনাকেও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে বুঝতে হবে।

এফিলিয়েট করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে, কোন Product গুলোর প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি। কোন দেশের মানুষ কি কি প্রোডাক্ট বেশি ব্যবহার করে। আপনার কোন বয়সের অডিয়্যান্সকে টার্গেট করতে হবে।

এছাড়াও আরও কিছু বিষয় আছে যে, আপনি কিভাবে কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রোডাক্টকে প্রমোশন করবেন। কিভাবে প্রোমোশন করলে আপনার রেফারেল লিংক থেকে বেশি ক্লিক আসবে। অ্যামাজন এফিলিয়েট করার আগে আপনাকে অবশ্যই এই বিষয় গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। 

মনিটরিং 

অ্যামাজন এফিলিয়েট করার জন্য মনিটরিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা,আপনি আপনার টার্গেট কতটুকু ফিলআপ করতে পারছেন। সেটা আপনি এই মনিটরিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

দেখুন, যখন আপনি আমাজন এফিলিয়েট করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। তখন আপনাকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করতে হবে। অর্থ্যাৎ আপনার যে অডিয়্যান্সকে টার্গেট করছেন।

সেই পরিমানে সঠিক অডিয়্যান্সকে পাচ্ছেন কিনা। কেমন CTR আসছে, কেমন Impression আসছে ইত্যাদি বিষয় গুলো সঠিকভাবে নজর রাখতে হবে।

এছাড়াও CTR ও Impression অনুযায়ী কিরকম সেল আসছে। ইত্যাদি বিষয়গুলো সঠিকভাবে মনিটরিং করার মতো আপনার দক্ষতা থাকতে হবে। যেন আপনি বুঝতে পারেন যে, আপনার এফিলিয়েট ওয়েবসাইটের গ্রোথ কেমন হচ্ছে। 

তো ধরে নিলাম যে আপনার মধ্যে উপরোক্ত গুগাগুন গুলি বিদ্যমান রয়েছে। এবার আমরা আসবো মূল টপিকে। সবার আগে আমরা জানবো যে, অ্যামাজন নিস কি  এবং একটি অ্যামাজন নিস সাইট তৈরি করার জন্য কি কি করতে হয়।

নিশ সাইট কি?

সহজ কথায় নিশ সাইট হলো, যখন আপনি কোনো ডেডিকেটেড বিষয়ের উপর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। তখন সেই ওয়েবসাইট একটি নিশ সাইট বলা যেতে পারে।

নিশ সাইটের জন্য তেমন কোনো রকেট সাইন্সের প্রয়োজন পড়ে না। অর্থ্যাৎ, আপনি যদি চান যে, কোনো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর, সেই ওয়েবসাইটে টানা ৫-৬ মাস কাজ করবেন।

এরপর আর সেই ওয়েবসাইটে তেমন কোনো কাজ করবেন না। তাহলে আপনার জন্য নিশ সাইট হবে সবচেয়ে উপযুক্ত।

তবে নিশ সাইটের বেশ এডভান্টেজ সম্পর্কে আপনার জেনে রাখা উচিত। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু এডভান্টেজ হলো, খুব দ্রুত সাইটকে Top Rank এ নিয়ে আসা। যখন আপনি কোনো একটি ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কভার করবেন।

তখন আপনি অন্যান্য সাইট যেমন অথোরিটি সাইটের তুলনায় আপনার নিশ সাইটকে দ্রুত Rank করাতে পারবেন। উদাহরন হিসেবে বলা যায়, আপনি একটা মোবাইল রিভিউ করার ওয়েবসাইট তৈরি করলেন।

এবং সেই ওয়েবসাইটে শুধুমাএ একটি মডেলের মোবাইলকে রিভিউ করলেন। যেমন ধরুন আপনি ঐ ওয়েবসাইটে শুধুমাএ “IPhone 10” মোবাইলটি সম্পর্কে রিভিউ করলেন।

এবং সেই ওয়েবসাইটে আপনার যতো গুলো আর্টিকেল পাবলিশ করলেন। সেই সবগুলো আর্টিকেল শুধুমাএ “Iphone 10” কে নিয়েই।

এরফলে আপনি একটি অথোরিটি সাইটের তুলনায় আপনার নিশ সাইটকে খুব দ্রুত Rank করাতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, একটি অথোরিটি সাইট তৈরি করতে আপনার যে পরিমান ইনভেস্ট করতে হয়।

সেই দিক থেকে তুলনা করলে, একটি নিশ সাইট তৈরি করতে তেমন ইনভেস্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। 

অ্যামাজন এফিলিয়েট নিশ সাইট কি?

যখন আপনি অ্যামাজনের কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্টকে ফোকাস রেখে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন৷ সেই ওয়েবসাইটকে উক্ত প্রোডাক্টের একটি নিশ সাইট বলা যাবে।

উদাহরন হিসেবে বলা যেতে পারে যে, আপনি এমন একটা সাইট তৈরি করলেন। যেখানে শুধুমাএ Children Books সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে। অর্থ্যাৎ সেই ওয়েবসাইটে আপনি যে যে কাজ গুলো করবেন।

সে সবগুলো কাজ শুধুমাত্র Children Books কেন্দ্রিক হবে। তাহলে আপনার সেই ওয়েবসাইট কে Children Books এর নিশ সাইট বলা হবে।

এখন যদি আপনি Children Books রিলেটেড ৪০-৫০ হাজারের আর্টিকেল আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করেন। সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট অটোমেটিক সার্চ ইঞ্জিনে Rank করতে শুরু করবে।

অ্যামাজন এফিলিয়েট নিশ সাইট তৈরি করতে কি কি জানতে হয়?

যারা এফিলিয়েট সেক্টরে একবারে নতুন। তারা না বুঝে হুটহাট করে আ্যামাজন নিশ সাইট তৈরি করে ফেলে। যাকে আমি শুরুতেই গলদ বলে মনে করি।

কেননা যদি আপনি কোনো প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই নিশ সাইট তৈরি করার জন্য ঝাপিয়ে পড়েন। তাহলে পথিমধ্যে আপনি যে হোঁচট খাবেন, এটা আমি শিওর।

হোক সেটা কোনো অথোরিটি সাইট কিংবা নিশ সাইট। এই সেক্টরে কাজ করতে হলে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে। সেই সময়ে আপনি সেই প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে না পারেন। তাহলে এফিলিয়েট সেক্টর থেকে আপনার ঝড়ে পড়ার সম্ভবনা অনেক গুন বেড়ে যাবে।

তাই কোনো নিস সাইট তৈরি করার আগে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। যেমন, 

প্রোপার স্ট্যাডি

এমন অনেকেই আছেন, যারা অন্যের সাকসেস দেখে নিজেও এফিলিয়েট করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। কারন আমরা শুধু সাকসেসকে ফোকাস করি ৷ কিন্তুু এই সাকসেস এর পেছনে যে কত পরিশ্রম রয়েছে। তা বিন্দুমাএ চিন্তা করিনা।

হয়তবা এমন অনেক মানুষকে খুজে পাবেন, যারা অ্যামাজন এফিলিয়েট করেই মাএ ৩-৪ মাসে 1000$ পর্যন্ত ইনকাম করেছে। কিন্তুু এর মানে এই নয় যে, সেই ব্যাক্তি শুধুমাএ ৩-৪ মাস অ্যামাজন এফিলিয়েট করছে।

একটু খোজ নিলেই দেখতে পারবেন যে সেই ব্যক্তি এর আগে কি পরিমান পরিশ্রম করে আজ এই সফলতা পেয়েছে।

আপনার জন্য দরকারি…

আজকের এই সফলতার জন্য তাকে কি পরিমান স্ট্যাডি করতে হয়েছে। শুধু সফলতা দেখেই অ্যামাজন এফিলিয়েট করতে আসলে ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই পাবেন না। তারমানে এই নয় যে, আমি আপনাকে এমাজন এফিলিয়েট করতে নিষেধ করছি ৷

আপনি এফিলিয়েট সেক্টরে আসতে চান, সেজন্য আপনাকে স্বাগতম। কিন্তুু এই সেক্টরে আসার আগে সর্বপ্রথম আমাজন এফিলিয়েট সম্পর্কে রিসার্চ করুন।

এই সেক্টরে কিভাবে সফলতা পাওয়া যাবে, তা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। আজকের দিনে যারা সফল, তাদের পেছনের দিনগুলোকে ভালোভাবে জানুন।

এরপর যদি আপনার মনে হয়, আপনিও তাদের মতো শ্রম দিতে পারবেন। আপনি এই সেক্টরের জন্য উপযুক্ত। তাহলে পুরোদমে লেগে পড়ুন আ্যামজন এফিলিয়েটে। 

ব্রান্ডেবল ডোমেইন

আ্যামাজন নিশ সাইট তৈরি করার জন্য একটি ব্রান্ডেবল ডোমেইন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যে Products নিয়ে এমাজন এফিলিয়েট করতে চান, সেই রিলেটেড কোনো ডোমেইন খুজে নেয়ার চেস্টা করুন।

হয়তবা এই টাইপের ডোমেইন খুজে পাওয়াটা খুব কষ্টকর। কিন্তুু কষ্টের ফল যে সুমিষ্ট হয়, সেটা আপনার থেকে আর কেউ ভালো জানে না।

হয়তবা আপনার মনে হতে পারে যে, এমন অনেক ওয়েবসাইট তো আছে ৷ যাদের নিশের সাথে ডোমেইনের কোনো মিল নেই। তারা তো ঠিকই এমাজন এফিলিয়েট করে ইনকাম করতে পারছে৷তাহলে আমি কেন ব্রান্ডেবল ডোমেইনের কথা বলছি।

দেখুন বিষয়টা এমন নয় যে, আপনার নিশ রিলেটেড ডোমেইন ছাড়া এফিলিয়েট করতে পারবেন না। আপনি ইচ্ছা করলে যেকোনো ধরনের ডোমেইন দিয়েই অ্যামাজন এফিলিয়েট করতে পারবেন।

কিন্তুু যদি আপনি আপনার নিশ রিলেটেড ডোমেইন কিনতে পারেন। তাহলে আপনি বেশ কিছু এডভান্টেজ পাবেন। যার সুবিধা একটা সময় ভোগ করতে পারবেন। 

নিশ সিলেকশন

আ্যামজন এফিলিয়েট করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিশ সিলেকশন। এই নিশ সিলেকশন এর মাধ্যমে জানতে পারবেন যে আপনি আসলে কোন দেশের অডিয়্যান্সকে টার্গেট করছেন। এবং আপনাকে কোন প্রোডাক্ট নিয়ে আর্টিকেল লিখতে হবে।

এমন অনেকেই আছে, যারা সেইসব নিশকে সিলেকশন করে। যেসব নিশের বিপুল পরিমানে চাহিদা রয়েছে। কিন্তুু এটা জেনে রাখা উচিত, যে নিশের চাহিদা বেশি। সেই নিশের প্রতিযোগীতাও কিন্তুু বেশি হয়ে থাকে।

তাই কোন নিশ সিলেক্ট করার আগে, সেই নিশের কম্পিটিটরদের ভালোভাবে রিসার্চ করতে হবে। তারা কিভাবে কাজ করছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

কম্পিটিরদের রিসার্চ করার পর যদি আপনার মনে হয় যে আপনি তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে পারবেন। তাহলে আপনি নিশ্চিতে সেই নিশকে সিলেকশন করতে পারবেন। 

এসইও করা

দেখুন এমন একটা সময় আসবে, যখন আপনার ওয়েবসাইটে টার্গেট অনুযায়ী আর্টিকেল পাবলিশ করা হয়ে যাবে। কিন্তুু এরপরও আপনি টার্গেটেড ভিজিটর নাও পেতে পারেন৷ সে সময়ে কি করবেন?

কারন অ্যামাজন এফিলিয়েট করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে শুধু ভিজিটর নিয়ে আসলেই হবেনা। বরং সেই ভিজিটরকে দিয়ে আপনার দেয়া রেফারেল লিংকে ক্লিক করিয়ে Product Buy করাতে হবে।

কিন্তুু আর্টিকেল পাবলিশ করার পর যদি আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড Rank না করে। তাহলে কিওয়ার্ডকে Rank করানোর জন্য আপনাকে এসইও করতে হবে।

আর এই সেক্টরে প্রতিযোগীতা কিন্তুু কোনো অংশে কম নয়। তাই আপনাকে এমনভাবে এসইও করতে হবে যেন আপনার ওয়েবসাইট গুগলের ২/৩ নং পেজে নয়।

বরং সার্চ রেজাল্টের ১ম পেজের প্রথম সারিতে থাকে। তাহলে আপনার CTR বাড়বে। আর সিটিআর বাড়লে আপনার Sell ও বাড়বে।

পরিকল্পনা

যেকোনো কাজের পূর্বে উওম কাজ হলো পরিকল্পনা করা। ঠিক তেমনি যখন আপনি কোনো অ্যামাজন নিশ সাইট তৈরি করবেন। তার আগে সেই সাইটকে কিভাবে গ্রো করবেন। তার একটা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে ৷

যেমন, আপনি কতদিন পর পর আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। মোট কত গুলো আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। কখন এসইও করবেন। কোন কোন দেশকে টার্গেট করবেন ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ব পরিকল্পনা করতে হবে।

তাহলে আপনি আপনার টার্গেট অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। এবং এর সাথে আপনার অ্যামাজন নিশ সাইটটি কি পরিমান গ্রোথ হচ্ছে। সে সম্পর্কে সহজেই বুঝতে পারবেন। 

বিপুল ধৈর্য

আমি শুরুতেই বলেছি যে প্রত্যেকটি সফল গল্পের পেছনে লুকিয়ে থাকে অঝোর পরিশ্রম। এখন আপনি যদি শুধু কোনো সফল ব্যক্তির সফলতাকে ফোকাস রেখে কাজ করেন ৷ তাহলে একটা সময় আপনি হাঁপিয়ে পড়বেন ৷

হতাশ হয়ে ভাবতে থাকবেন যে, তারা আজ হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। কিন্তুু আপনার সেইরকম ইনকাম কেন হচ্ছেনা।

এমন অনেকেই আছেন, যারা আমাজন এফিলিয়েট করতে এসে মাঝপথ থেকে পালিয়ে যায়। যা কখনই কাম্য নয়। বরং এই সেক্টরে কাজ করতে হলে আপনার ভেতরে অধোর ধৈর্য থাকতে হবে।

হযতবা আপনি তৎক্ষনাৎ সফলতা পাবেন না। তাই বলে মাঝপথ থেকে ফিরে যাবেন না৷ বরং কেন আপনি সফলতা পাচ্ছেন না, সেটিকে খুজে বের করতে হবে। জানতে হবে আপনার দুর্বলতা কোথায়।

এরপর আপনাকে পুনরায় সেই দুর্বলতাকে সবল করার জন্য রিসার্চ করতে হবে। তাহলে আপনি এমাজন এফিলিয়েট সেক্টরে সফলতা পাবেন। 

অ্যামাজন এফিলিয়েট শিখতে কতদিন লাগে?

আপনার অ্যামাজন এফিলিয়েট শিখতে মোট কতদিন সময় লাগবে। সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময় বলা মুশকিল। তবে আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে শেখার চেষ্টা করেন। তাহলে মোটামুটি লেভেল পর্যন্ত শিখতে আপনার সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ মাস সময় ব্যয় করতে হবে।

অপরদিকে যদি আপনি এফিলিয়েট এর সঠিকভাবে রিসার্চ করতে পারেন। রিসার্চ অনুযায়ী সঠিকভাবে স্ট্যাডি করতে পারেন। তাহলে মোটামুটি ৬ মাস সময় ব্যয় করলেই যথেষ্ট।

শুধু একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার শেখার আগ্রহ যতো বেশি থাকবে। আপনি ততো দ্রুত শিখতে পারবেন।

তবে একটা কথা শুনুন, এমাজন এফিলিয়েট খুব দ্রুত শেখার উপায় হলো, কোর্স করা। এই কাজে যদি আপনাকে কেউ হাতে-কলমে শিখিয়ে দেয়। তাহলে আপনি খুব দ্রুত এই কাজগুলো শিখতে পারবেন।

আর হাতে-কলমে শেখার জন্য “কোর্স”- এর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে এমাজন এফিলিয়েট নিয়ে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি তারা কোর্স সেল করে। এমন একজন ব্যক্তিকে খুজে নিন।

আর যাদের কাছ থেকে কোর্স কিনবেন। তাকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন যে, Live Support দিবে কিনা। যারা নতুন তাদের কাজ করার সময় নানা রকম সমস্যা হবে। এসবের সমাধানের জন্য Live Support খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

অ্যামাজন এফিলিয়েট থেকে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

সত্যি বলতে অ্যামাজন এফিলিয়েট থেকে কত টাকা ইনকাম করা যায়। এই প্রশ্নের উওরে আমি আপনাকেই প্রশ্ন করবো যে, “আপনি আসলে কত টাকা ইনকাম করতে চান”?

দেখুন এমন অনেকেই আছেন, যারা শুধুমাএ অ্যামাজন এফিলিয়েট থেকেই লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। আবার অনেকেই আছেন যারা ১ হাজার টাকাও ইনকাম করতে পারছেন না। এর কারন কি জানেন?

এর মূল কারন হলো, কেউ অ্যামাজন এফিলিয়েট এর স্ট্রাটেজিকে সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে। সে একটা সময় প্রচুর পরিমাণে স্ট্যাডি করে এই বিষয়টি শিখতে পেরেছে যে কিভাবে অ্যামাজন এফিলিয়েট থেকে ইনকাম করা যায়।

তাই সেই ব্যক্তি আজ সফলতার সাথে লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারছে। তাই যদি আপনিও তাদের মতো সফল হতে চান।তাহলে শুরুর দিকটা শুধুমাএ শেখার জন্য ব্যয় করবেন। সঠিকভাবে রিসার্চ করতে শিখুন।

আরো দেখুন…

আপনার রিসার্চ থেকে যে তথ্য গুলো আসবে ৷ সেগুলো নিয়ে প্রচুর স্ট্যাডি করুন। এরপর যে হিডেন টিপস গুলো পাবেন ৷ সেগুলো নোট করে রাখুন। এরপর সেই হিডেন টিপস গুলো প্রয়োগ করুন আপনার অ্যামাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইটে।

তাহলে দেখবেন একদিন আপনিও সফল হবেন। একদিন আপনিও নতুনদের কাছে মেন্টর হয়ে উঠবেন। আপনার সেই সফলতা দেখে নতুনরা অ্যামাজন এফিলিয়েটে যুক্ত হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে।

আমাদের শেষকথাঃ

মনে রাখবেন, অ্যামাজন এফিলিয়েট এমন একটা সেক্টর। যেখানে আপনি সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে একটা সময় অবশ্যই সফলতা পাবেন। আর একবার সফলতা আসলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবেনা।

সবশেষে এটাই বলবো যে, যদি আপনি অ্যামাজন এফিলিয়েট করতে চান। নতুন হিসেবে আপনি প্রায় কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখীন হবেন। যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা যথাসাধ্য চেস্টা করবো আপনাদের হেল্প করার।

আমি নিলয় হাসান-এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না !!
Scroll to Top
Share via
Copy link
Powered by Social Snap